ধর্মাধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্মাধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ধর্মাধর্ম - ৫/১১

 ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "

ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১  "

ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু -  " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "

ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "

ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "

 "ধর্মাধর্ম"  গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -

গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২

(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)

অথবা

+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।  

  

  


[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/১০ "]


৫.৩.২.২ বিষ্ণু - ভাগবত (আগের পর্বের পরে)

বামন অবতার – শ্রীবিষ্ণু বামন অর্থাৎ খর্বকায় ব্রাহ্মণরূপে জন্ম নিয়েছিলেন। তাঁর পিতা ঋষি কশ্যপ এবং মাতা দেবমাতা অদিতি। তিনি দানগর্বী দৈত্যরাজ বলির গর্ব খর্ব করেছিলেন। রাজা বলির গুরু ছিলেন শুক্রাচার্য এবং যজ্ঞের যাজক ঋষিরা ছিলেন ভৃগুবংশীয়। রাজা বলির প্রপিতামহ ছিলেন বিষ্ণু-বিদ্বেষী হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু, পিতামহ ছিলেন বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদ ও পিতা দানবীর বিরোচন। যিনি দেবতা জেনেও ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশী প্রার্থীদের নিজের আয়ু দান করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধে, প্রবল পরাক্রান্ত দৈত্যরাজ বলি স্বর্গ জয় করে দেবরাজ ইন্দ্রকে স্বর্গচ্যুত করেন, তারপর নর্মদার উত্তরতটের ভৃগুকচ্ছে অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করছিলেন। সেই অশ্বমেধ যজ্ঞে বামনরূপী বিষ্ণু যখন রাজা বলির থেকে মাত্র তিনপাদ ভূমি প্রার্থনা করলেন, রাজা বলি সানন্দে সেই দানের সম্মতি দিলেন। রাজা বলির সম্মতি পাওয়া মাত্র, শ্রীবিষ্ণু বিশ্বরূপে প্রকট হলেন। প্রথম পদে তিনি সসাগরা ধরিত্রী, দ্বিতীয় পদে স্বর্গলোক থেকে সত্যলোক পর্যন্ত আবৃত করলেন। এরপর, আর কোন স্থান অবশিষ্ট না থাকায়, নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে দৈত্যরাজ বলি নিজের মস্তকে শ্রীবিষ্ণুর তৃতীয় পদ ধারণ করলেন। অর্থাৎ সর্বস্ব হারিয়ে শ্রীবিষ্ণুর বশ্যতা স্বীকার করলেন।      

নৃসিংহ অবতার - নৃসিংহের জন্যে পুরাণকারেরা দুর্দান্ত একটি কাহিনী রচনা করলেন। কারণ ভগবান ব্রহ্মার বরে হিরণ্যকশিপু শর্ত সাপেক্ষে অবধ্য ছিলেন। শর্তগুলি হল, তাঁকে ঘরের ভেতরে বা বাইরে, দিনে বা রাত্রিতে, মাটিতে বা আকাশে কেউ মারতে পারবে না। কোন অস্ত্র বা শস্ত্রে তাঁকে বধ করা যাবে না। কোন নর কিংবা পশু তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। উপরন্তু, কোন প্রাণী বা প্রাণহীন এবং সুর, অসুর ও মহাসর্প ইত্যাদিও তাঁকে মারতে পারবে না। এই শর্তগুলি যেন জটিল এক ধাঁধা (puzzle), এই ধাঁধার সমাধান করতে পারলেই, হিরণ্যকশিপুকে বধ করা সম্ভব। যাই হোক অবতার নৃসিংহ, নর নন, পশুও নন, সুর বা অসুরও নন, তিনি নরপশু। তিনি দিন ও রাতের সন্ধি গোধূলি সময়ে, ঘরের ভিতরে বা বাইরে নয়, ঘরের চৌকাঠে, অস্ত্র বা শস্ত্র দিয়ে নয়, সিংহের নখে, মাটিতে বা আকাশে নয়, নিজের উরুতে রেখে হিরণ্যকশিপুর বক্ষ চিরে হত্যা করেছিলেন। অনার্য ভারতীয়দের এক দেবতাকে, হিন্দুধর্মে ইনকরপোরেট করার জন্য, পুরাণকারের যে মাথা খাটিয়ে এই ধাঁধার সৃষ্টি এবং সমাধান করেছিলেন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই।   

পরশুরাম অবতার – ঋষি জমদগ্নির পুত্র ব্রাহ্মণ পরশুরাম ভয়ংকর বীর যোদ্ধা ছিলেন, তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল পরশু অর্থাৎ কুঠার এবং তির ও ধনুক চালনাতেও ভীষণ পারদর্শী ছিলেন। হৈহয় বংশীয় ক্ষত্রিয় রাজা ও বিষ্ণু ভগবানের অংশাবতার দত্তাত্রেয়র পরমভক্ত কার্তবীর্যাজুন ঋষি জমদগ্নির কামধেনুটি জোর করে হরণ করেছিলেন। সেই ক্রোধে পুত্র পরশুরাম একাই কার্তবীর্যকে বধ করে হৈহয় বংশের বিনাশ সাধন করেন। প্রসঙ্গতঃ কার্তবীর্য ছিলেন নর্মদাতটের মাহিষ্মতীর রাজা – তিনি রাক্ষসরাজ রাবণকে অবহেলায় বন্দী করে আবার মুক্ত করে দিয়েছিলেন, এতটাই বীরত্ব ছিল তাঁর। রাজা কার্তবীর্যার্জুনের পুত্রেরা পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে পরশুরামের পিতাকে হত্যা করায় পরশুরাম মাহিষ্মতী নগরীতে গিয়ে সেখানকার সকল ক্ষত্রিয়কে হত্যা করেছিলেন। এর পরেও ক্ষত্রিয়রা অন্যায়বর্তী হলেই তিনি পিতৃহত্যার প্রতিশোধে পৃথিবীকে মোট একুশবার নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন।  

পরশুরাম সত্যযুগের মানুষ হলেও, ত্রেতা যুগে তাঁর সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের সাক্ষাতের কথা শোনা যায়, এবং দ্বাপর যুগের কাহিনী মহাভারতেও পরশুরামের কথা বেশ কয়েকবার এসেছে। আচার্য দ্রোণ তাঁর কাছে অস্ত্রশিক্ষা করতে গিয়েছিলেন। মহাবীর কর্ণ ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে পরশুরামের কাছে অস্ত্রশিক্ষা নিতে গিয়েছিলেন, কিছু ঘটনাচক্রে তিনি ধরা পড়ে যান এবং পরশুরাম তাঁর প্রবঞ্চনায় ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দিয়েছিলেন, তাঁর শেখানো সমস্ত বিদ্যাই চরম বিপদের সময় তিনি ভুলে যাবেন। সত্য যুগের মানুষ ত্রেতা যুগ পার করে, দ্বাপরে এসে পড়লেন!

শ্রীরাম অবতার – শ্রীরাম ঐতিহাসিক চরিত্র, তিনি অযোধ্যার রাজা ছিলেন, তাঁর মাতা কৌশল্যা, কোশলের এবং বিমাতা কৈকেয়ী কেকয় রাজকন্যা ছিলেন। তাঁর পত্নী সীতা ছিলেন বিদেহরাজ রাজর্ষি জনকের পালিতা কন্যা। তবে রাবণ রাক্ষসরাজ হলেন কী করে, সেটা বোঝা যায় না। তিনি স্বয়ং ব্রহ্মার প্রপৌত্র, সপ্তর্ষির অন্যতম পুলস্ত্যর পৌত্র এবং মুনি বিশ্রবার পুত্র এবং কুবেরের বৈমাত্রেয় ভাই। যদিচ তাঁর মাতা ছিলেন মুনি বিশ্রবার রাক্ষসী পরিচারিকা কৈকেশী বা পুষ্পোৎকটা। এমন বনেদি পিতৃকূল থাকা সত্ত্বেও, রাক্ষসী মাতার পরিচয়ে তিনি রাক্ষস হয়েছিলেন! কঠোর তপস্যা করে রাবণও ব্রহ্মার থেকে বর পেয়েছিলেন, মানুষ ছাড়া আর কেউ তাঁকে কোনদিন পরাস্ত করতে পারবে না। তিনি মানুষকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেননি, অতএব ভগবান বিষ্ণু নররূপেই শ্রীরাম হয়ে রাবণকে বধ করেছিলেন।

দুর্ধর্ষ এবং দেবতাদের অপরাজেয় রাবণকে বধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ব্রহ্মলোকে। দেবতাদের মুখপাত্র হয়ে হুতাশন অর্থাৎ অগ্নিদেব ব্রহ্মার কাছে গিয়ে বললেন, “ভগবন্‌, বিশ্রবা পুত্র মহাবীর রাবণের জন্যে স্বর্গে তো আর বাস করা যাচ্ছে না, কিছু একটা উপায় স্থির করুন, আমাদের রক্ষা করুন”। পিতামহ ব্রহ্ম বললেন, “ওহে অগ্নি, সে আমি আগেই ঠিক করে রেখেছি। চতুর্ভুজ বিষ্ণু নর রূপে মর্ত্যে অবতীর্ণ হবেন, তাঁর নাম হবে শ্রীরাম। তবে তার আগে তোমরা দেবতারা সবাই মর্ত্যে যাও, সেখানে ঋক্ষী ও বানরীদের গর্ভে মহাবীর পুত্রদের সৃষ্টি করো, যারা রাবণ বধের সময় বিষ্ণুর সহায় হবেন।” দেবতারা নিজেদের মধ্যে যখন মর্তে আসার পরিকল্পনা করছেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা গন্ধর্বী দুন্দুভিকে ডেকে বললেন, “দুন্দুভি, দেবকার্য সুষ্ঠু সম্পাদনের জন্যে তুমিও মর্তে যাও”। (বন/২৭৫)

এই দুন্দুভিই কুব্জা ও কুদর্শনা পরিচারিকা মন্থরা হয়ে, অযোধ্যার রাজা দশরথের অন্তঃপুরে রাণি কৈকেয়ীর  পরিচারিকা হয়েছিলেন। তিনিই রাণি কৈকেয়ীকে কুমন্ত্রণা দিয়ে শ্রীরামকে বনবাসে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তা না হলে, শ্রীরামের বনবাস এবং রাবণবধ কোনোটাই হয়তো ঘটতো না। তবে সুদর্শনা গন্ধর্বী দুন্দুভি, পিঠে কুঁজ নিয়ে কেন কুদর্শনা হয়েছিলেন, সেটা জানা যায় না। হয়তো তিনি মর্ত্যের রাজ-অন্তঃপুরের পরিচারিকাদের দুর্গতির কথা জানতেন (অধ্যায় ২.৫.৩), তাই কোনরকম ঝুঁকি নেননি।

দেবতারা মর্ত্যে এসে ঋক্ষী ও বানরীদের গর্ভে প্রচুর পরাক্রমী সন্তান উৎপাদন করলেন। যাঁরা রামচন্দ্রের সহযোগী বানরসেনা ও ভল্লুকসেনা (ঋক্ষ মানে ভালুক) হয়ে, রাবণবধ ও সীতা-উদ্ধারে সহায়তা করেছিলেন। বিজ্ঞানের জেনেটিক কোডের বিধান অনুযায়ী, মানুষ বানরী ও ভল্লুকীর গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে পারে না। অতএব স্পষ্টতঃ এই বানর ও ভল্লুক দুটিই অনার্য জনগোষ্ঠী, যাঁদের টোটেম বা আত্মা-দেবতা যথাক্রমে বানর ও ভল্লুক। প্রসঙ্গতঃ বানর গোষ্ঠীর হনুমান, শ্রীরামচন্দ্রের পরমভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অলৌকিক ক্রিয়াকাণ্ডে রামচন্দ্র বহুবার বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলেন। এই হনুমান সংকটমোচন দেবতা হিসাবে ভারতবর্ষের সর্বত্র হিন্দুদের পূজা পেয়ে থাকেন। এই প্রসঙ্গে আরও একটি আশ্চর্য ঘটনা হল, আমরা সকলেই জানি রাক্ষসরাজ রাবণের দশটি মুখ বা মাথা ছিল, কিন্তু মূল রামায়ণে সেকথার সমর্থন মেলে না। উপরন্তু তিনি ভগবান শিবের একান্ত ভক্ত ছিলেন; আরও শোনা যায় তিনি সর্ব শাস্ত্রে এবং চার বেদেও পণ্ডিত ছিলেন!   

৫.৩.২.৩ মহাভারতের কৃষ্ণ

দশ অবতারের মধ্যে সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ অবতার কৃষ্ণ। এমন সর্বগুণসম্পন্ন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ভারতীয় শাস্ত্রে আর কেউ নেই। বিষ্ণুর অবতার হয়েও, তাঁর অদ্ভূত ও আশ্চর্য লীলায় তিনি হিন্দুধর্মের স্বয়ংসম্পূর্ণ দেবতা হয়ে ভক্তদের মনে সর্বদাই বিরাজিত।

মহাভারতে কৃষ্ণের উপস্থিতি বেশ কিছুটা পরে, পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা দ্রৌপদীর স্বয়ংবর সভায়। দ্বারকাধীশ কৃষ্ণ ও তাঁর দাদা বলরাম স্বয়ংবর সভায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে উত্তর ভারতের রাজাদের প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন, এবং পাণ্ডবরাও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে। ছদ্মবেশে থাকলেও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিচক্ষণ কৃষ্ণ, পাণ্ডবদের চিনতে ভুল করলেন না। দুর্যোধনের ষড়যন্ত্রে মাতাকুন্তী সহ পাণ্ডবদের জতুগৃহে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর জনশ্রুতি তাঁর কানে এসেছিল, কিন্তু এভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে সেকথা তিনি বিশ্বাস করেননি। সেদিন স্বয়ংবর সভায় সুস্থ সবল পঞ্চপাণ্ডবদের দেখে তিনি যেমন নিশ্চিন্ত হলেন, তেমনি কিছুটা হতাশও হলেন। কারণ তাঁর মনে ক্ষীণ আশা ছিল কন্যারত্ন দ্রৌপদীকে তিনি হয়তো লাভ করতে পারবেন। কিন্তু এখন সে আশা তিনি ছেড়ে দিলেন, কারণ অর্জুন যেখানে উপস্থিত, সেখানে তাঁর কোন আশাই নেই।

দ্রৌপদীর আশা ত্যাগ করে তিনি যে দুঃখী হলেন, তাও নয়, কারণ শত কষ্টেও তিনি কখনো দুঃখী হন না, উদ্বিগ্ন হন না, তিনি সর্বদাই আস্যমুখ। বরং তিনি দ্রুত ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে শুরু করলেন। পাণ্ডবমাতা কুন্তী তাঁর পিসি, পঞ্চপাণ্ডবেরা তাঁর পিসতুতো ভাই এবং অর্জুন তাঁর সমবয়সী। অতএব তিনি ও বলরাম পাণ্ডবদের স্বাভাবিক আত্মীয় ও মিত্র। অন্যদিকে পাণ্ডবদের জন্ম-শত্রু দুর্যোধন এবং তাঁর নিরানব্বই জন ভাই; উপরন্তু কৃষ্ণের চরম-শত্রু জরাসন্ধ দুর্যোধনের প্রিয়সখা। অর্জুন যদি দ্রৌপদীকে লাভ করতে পারে, প্রতিপত্তিশালী দ্রুপদ ও তাঁর পুত্র বীর ধৃষ্টদ্যুম্ন হবে পাণ্ডবদের আত্মীয়। সেক্ষেত্রে আর্যাবর্তের রাজনীতিতে দুটি শক্তিশালী মেরু গড়ে উঠবে। স্বাভাবিক সম্পর্ক সূত্রে তিনি পাণ্ডবপক্ষেই যাবেন, তখন তাঁর চিরশত্রু, যাঁর জন্যে তাঁদের সবাইকে মথুরা এবং বৃন্দাবন ছেড়ে দ্বারকায় সরে আসতে হয়েছে, সেই জরাসন্ধের বিনাশও তাঁর পক্ষে সহজ হয়ে যাবে। তিনি দূরদর্শী, তিনি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন না, তিনি সুচিন্তিত পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ রচনা করেন। অতএব সেই স্বয়ংবর সভায় দুর্যোধন, জরাসন্ধ, শল্য, শাল্ব প্রমুখ বীর রাজাদের ব্যর্থ প্রয়াস দেখার জন্যে তিনি স্মিতমুখে বসে রইলেন নিশ্চিন্তে!

হিন্দুদের কাছে মহাভারতের ঘটনাবলী অতি পরিচিত, অতএব সে প্রসঙ্গে আর বাক্য বিস্তার করছি না। বরং কৃষ্ণ প্রসঙ্গে অন্য গ্রন্থাদির আলোচনায় যাওয়ার আগে, মহাভারতের ভয়ানক অশুদ্ধির দিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া যাক।

চলবে...


সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

ধর্মাধর্ম - ৫/১০

  ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "

ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১  "

ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু -  " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "

ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "

ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "

 "ধর্মাধর্ম"  গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -

গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২

(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)

অথবা

+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।  

  

  


[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/৯ "]

৫.৩.২.২ বিষ্ণু - ভাগবত

হিন্দুধর্মে সব থেকে বর্ণময় এবং জনপ্রিয় দেবতা বিষ্ণু, তিনি অনন্ত লীলাময়। বিষ্ণু ভক্তদের মতে তিনিই পরমপুরুষ, পুরুষোত্তম। তিনি অক্ষয়, অনাদি, অনন্ত ঐশ্বর্যবান, নির্বিকার ব্রহ্ম। তিনিই বেদস্বরূপ, তিনি চৈতন্যস্বরূপ, তিনিই এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের কারণ স্বরূপ। তিনি সকল কার্য ও ক্রিয়ার কারণ, কিন্তু তিনি কর্তা নন, কারণ তিনি কখনও কোন কর্মফল ভোগ করেন না, তিনি অব্যয় এবং অক্ষর। কর্তা না হয়েও, প্রকৃতির সঙ্গে যখন তাঁর সংশ্লেষ ঘটে, তখনই তাঁর কারণরূপে কার্যসকল ঘটতে থাকে। প্রকৃতির তিনগুণ, সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ। প্রকৃতির এই তিনগুণের আশ্রয় থেকেই সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশ হতে থাকে। সত্ত্বগুণের প্রভাবে যখন তিনি বিষ্ণু, তখন তিনি পালন করেন। রজোগুণের প্রভাবে যখন তিনি সৃষ্টি করেন, তখন তিনিই ব্রহ্মা। আবার তমোগুণের প্রভাবে যখন তিনি বিনাশ করেন, তখন তিনিই হর।

এতদিন ব্রহ্মলাভ অর্থাৎ মুক্তির উপায় ছিল যজ্ঞ, তপস্যা, ধ্যান। মন থেকে সমস্ত কামনা, বাসনা, ঘৃণা, হিংসা, ঈর্ষা, মোহ, অহংকার মুছে ফেলে নিরন্তর চিন্তন করতে হবে, এই দেহ আত্মা নয়। চরাচর বিশ্বে, যা কিছু আমরা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ করি, ব্রহ্ম সবকিছুর সঙ্গেই ওতপ্রোত জড়িত, কিন্তু সেগুলির কোনটিই তিনি নন। এই চিন্তা করতে করতে সাধক যখন নিজের আত্মা ও পরমাত্মার মধ্যে কোন প্রভেদ দেখতে পান না বরং পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মাকে একীভূত করতে পারেন, তখনই সাধকের পরমমোক্ষ লাভ হয়। সাধনার এই পথকে জ্ঞানযোগ বলে।

ব্রহ্মলাভের আরও একটি পথ কর্মযোগ। কর্মযোগেও জ্ঞানযোগের মতো মনের সমস্ত বিকার দূর করতে হয়। তারপর ফলের কামনা না করে যজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হয়। এই যজ্ঞ শুধুমাত্র অগ্নিতে ঘৃত আহুতি দেওয়া নয়, মনের সকল কামনা, বাসনা ও প্রত্যাশা ত্যাগের অগ্নিতে আহুতি দেওয়া। নিজের জীবন ধারণের জন্যে নিত্যকর্ম ছাড়া, অন্য সমস্ত কর্মই নিষ্পৃহ চিত্তে ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ করতে হয়। এই নিষ্কাম কর্ম সাধনা থেকেও সম্যক জ্ঞান উপলব্ধি হয়, জীবাত্মা ও পরমাত্মার রহস্য ভেদ করা যায়।

পৌরাণিক বা হিন্দু যুগে আরেকটি পথ এল ভক্তিযোগ। বলা হল, যেহেতু কলিযুগে একদিকে মানুষের আয়ু স্বল্প, অন্যদিকে জীবনে রয়েছে বহু বাধা-বিঘ্ন। উপরন্তু তারা বড়ো অলস ও মন্দবুদ্ধি। তাদের পক্ষে বহু শাস্ত্রের বহু জ্ঞান ও কর্মের উপদেশ মেনে ধর্মাচরণ করা সম্ভব নয়। অতএব তাদের পক্ষে অনেক সহজ এবং আশু ফলদায়ী পথ হল ভক্তিযোগ। এই ভক্তিযোগই হয়ে উঠল হিন্দু সাধারণ সমাজের প্রধানতম ধর্মপথ। সে কথায় আসছি একটু পরে।

এখানে খুব সহজ কথায় বলা হল, জীবনের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি ভাবনা-চিন্তা ঈশ্বরে সমর্পণ করো। সাধনা বা তপস্যা করতে পারলে ভাল, না পারলে পরমভক্ত হও। তাঁর কথা সর্বদা চিন্তা করো, যখনই মনে হবে, তাঁর মহিমার কথা অন্যকে শোনাও, নিজেও শোনো। তাঁর চিন্তা ছাড়া অন্য সব চিন্তা পরিত্যাগ কর। তাঁর কথা ছাড়া অন্য সব কথা বলা বা শোনা, বিষের মতো ত্যাগ কর। এভাবেই পরমভক্তিতে তাঁর শ্রীচরণে নিজেকে সমর্পণ করে দিতে পারলে, তিনি নিজেই এসে ধরা দেবেন ভক্তের হৃদয়ে। যেহেতু তিনি ভক্তপাবন, কোন ভক্তই তাঁর চোখের আড়ালে থাকে না। তিনি ভক্তের ভগবান, ভক্তের জন্যে তিনি বৈকুণ্ঠলোকের সুখ ও স্বস্তি ছেড়ে বারবার নেমে এসেছেন ধূলিমলিন পৃথিবীতে। ভক্তের আর্ত প্রাথনায় তিনি বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন এই ধরাতলে, অধর্মের বিনাশ করে, প্রতিষ্ঠা করেছেন ধর্ম।

এই সহজ সরল ভক্তিযোগের তত্ত্ব সর্বস্তরের মানুষের মনে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলল। সমাজে নানান বর্ণ থাক, নানান জাতি থাক, কিন্তু নিজের ঘরে বসে ভক্ত হতে তো কোন বাধা নেই। সেখানে কোন পুরোহিতের দরকার হয় না, যজ্ঞের বেদি বানাতে হয় না, কলসি কলসি ঘি ঢালতে হয় না। শুধু নাম জপ করতে হয়। সারাদিন যতবার খুশি।

ভক্তি যোগ এবং বিষ্ণু তত্ত্বের উদ্ভব সম্ভবতঃ ভাগবত শাখার জনপ্রিয়তা থেকে। নচেৎ বৈদিক ইন্দ্র, সূর্য, অগ্নি সকলকে ছাড়িয়ে আদিত্যদের সর্বকনিষ্ঠ বিষ্ণুকে নিয়ে ধর্ম তত্ত্ব রচনার চিন্তা আসবে কেন? ভাগবত শাখার দেবতার নাম হয়তো বিশদেব>বিশ্ ছিল, যার ফলে বিশ্‌কে – বৈদিক বিষ্ণুর সঙ্গে যুক্ত করতে বেগ পেতে হল না। যেভাবেই হোক এই মহিমা প্রচারের সাফল্য পণ্ডিতদের আরও বেশি উৎসাহী করে তুলল। তাঁরা ভাগবত শাখার বিস্তৃতির জন্যে আরও বহু অঞ্চলের বিভিন্ন অনার্য দেবতা, দেব-আত্মার প্রতীক (totem), পশু-পূজা (Zoolatry বা theriomorphism), পশু-মানব পূজা (anthropomorphism) এবং তাঁদের কাহিনীগুলি কিছু কিছু গ্রহণ করলেন, কিছু কিছু সম্পূর্ণ নতুন কাহিনী কল্পনা করে বিষ্ণুর সঙ্গে জুড়ে ফেললেন। এভাবেই এসে গেল ভগবান বিষ্ণুর অবতার কাহিনী।

আদিম ভারতের বিশেষ একটি অঞ্চলের তিনজন অনার্য দেবদেবীর কাহিনী আমি অনুমান করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই, বিস্তীর্ণ ভারতের ব্যাপ্ত অঞ্চলে এই দেবদেবী ও দেব-আত্মাদের সংখ্যা ছিল অজস্র। কারণ এক একটি অঞ্চলের সমাজগুলি বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছিল। দূর দূর অঞ্চলের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বণিকসম্প্রদায় ও তাদের বাণিজ্যের মাধ্যমে। কিন্তু তাতে পারষ্পরিক ধর্মীয় বিশ্বাস খুব একটা প্রভাবিত হয়নি, তার কারণ সেই যুগে কোন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। আর্যদের বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্য ধর্মও, আর্যাবর্তের বাইরের বিস্তীর্ণ অনার্য সমাজকে তেমন প্রভাবিত করতে পেরেছিল বলে মনে হয় না। কিন্তু হিন্দুধর্মের বিষ্ণু এবং শিব-তত্ত্ব সেটাই শুরু করল এবং সাফল্যের সঙ্গে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করল। হিন্দুধর্ম যত দূর দূর অঞ্চলে প্রসারিত হতে লাগল, সেখানকার সমাজের বিশ্বাস ও আস্থাকে তারা ততই নিজেদের ধর্মতত্ত্বে অন্তর্ভুক্ত করতে থাকল।

এবার বিষ্ণুর দশ অবতার তত্ত্বের দিকে একবার চোখ রাখা যাক। নিচের সারণিতে দশাবতারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলাম, মনে রাখতে সহজ হবে।

অবতার সারণি -  রিচয়, বিবরণ ও পৌরাণিক কাজ   

১. বরাহ - মালব, মধ্য প্রদেশ। এরান অঞ্চলে বরাহ মূর্তি পাওয়া গেছে। (সত্য যুগ) - রসাতল থেকে পৃথিবী উদ্ধার।

২. মৎস্য - পূর্বভারতের টোটেম, এই অঞ্চলে আজও মাছ অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য এবং যে কোন শুভ অনুষ্ঠানে মাছ শুভ প্রতীক। (সত্য যুগ) - প্লাবনের সময় বৈবস্বত মনুর নৌকা পরিচালনা।

৩. কূর্মসঠিক জানা যায় না, তবে বিশেষজ্ঞরা সিন্ধু সভ্যতায় কচ্ছপের প্রতীক এবং কচ্ছপের ছোট মূর্তি পেয়েছেন, পশ্চিম ভারতের ধর্মীয় প্রতীক হতে পারে। (সত্য যুগ) - সাগর মন্থনের সময় মন্দরপর্বতের আধার।  

৪. নৃসিংহএ.ডি.-র দ্বিতীয়-চতুর্থ শতাব্দীতে অন্ধ্রর বেশ কিছু নরসিংহ মন্দির থেকে ধারণা করা যায় ওই অঞ্চলে নৃসিংহ অনার্য দেবতা হিসেবেই পূজিত হতেন।  যদিও সমসময়ে উত্তর ও মধ্য প্রদেশেও নৃসিংহ মন্দির পাওয়া গেছে। (সত্য যুগ) - দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু বধ।

৫. বামনইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতার মাতা অদিতির পুত্র।  (সত্য যুগ) - বলির দর্প নাশ।

৬. পরশুরামমুনি জমদগ্নির পুত্র, মাহিষ্মতী নগরের কাছে আশ্রমবাসী। (সত্য যুগ) - ক্ষত্রিয়দের গর্ব নাশ। 

৭. শ্রীরামঅযোধ্যার রাজা, অনার্য বিজয়। (ত্রেতা যুগ) - রাবণ বধ, সীতা উদ্ধার।

৮. কৃষ্ণ মথুরা – দ্বারকা। (বিস্তারিত আলোচনা পরে)। (দ্বাপর যুগ) - ভূভারহরণ ও ধর্ম স্থাপন।

৯. বুদ্ধসব থেকে গুরুত্বহীন অবতার। (কলিযুগ)

১০. কল্কিএখনও আসেননি, অতএব মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। (কলিযুগ)

 বরাহ অবতার – পরমেষ্ঠী ব্রহ্মা, যখন বিষ্ণুর নির্দেশে জগতের সৃষ্টি কর্মে ব্যস্ত ছিলেন, তখন পৃথিবী তাঁর হাত থেকে পিছলে প্রবল জলের তোড়ে পড়ল গিয়ে রসাতলে। এমন অবস্থায় সৃষ্টি হতে থাকা সকল জীব ও জড়ের আশ্রয় কোথায় হবে? এই চিন্তায় তিনি যখন ব্যাকুল, তখন তাঁর নাক থেকে বেরিয়ে এলেন সূক্ষ্ম বরাহ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বরাহ বিশাল বলিষ্ঠ আকার ধারণ করলেন (ঠিক যেন মধ্যপ্রদেশের এরান জেলার বরাহ মূর্তির মত)। সেই বিশাল বরাহরূপী বিষ্ণু রসাতলের জলে নিমগ্ন পৃথিবীকে অনায়াসে তুলে নিলেন নিজের দুই দাঁতে। কিন্তু সেখানেও তাঁকে বাধা দিয়েছিলেন পাতালে[1]-র অধিপতি দৈত্যরাজ হিরণ্যাক্ষ। বরাহরূপী বিষ্ণু হিরণ্যাক্ষকে বধ করলেন এবং পৃথিবীকে স্বস্থানে প্রতিষ্ঠা করলেন।

মৎস্য অবতার – ব্রহ্মার দিবাবসানে এক একটি কল্পের অবসান হয় এবং রাত্রিতে তিনি নিদ্রামগ্ন হন। শ্রীহরি বর্তমান কল্পের শুরুতে ছোট্ট শফরী মাছ হয়ে আবির্ভূত হলেন রাজর্ষি সত্যব্রতর অঞ্জলিবদ্ধ জলে। সেই শফরী রাজর্ষিকে বললেন, “মাছেরা সাধারণতঃ নিজ নিজ জ্ঞাতিকে বধ ও ভক্ষণ করে, অতএব আপনি আমাকে আশ্রয় দিন, আমাকে রক্ষা করুন”। দয়ালু রাজর্ষি সত্যব্রত সেই মাছকে প্রথমে একটি ছোট পাত্রে রাখলেন, কিন্তু একরাত্রের মধ্যেই সেই মাছ এমনই বেড়ে উঠল সে পাত্রে তার সংকুলান হল না। এরপর রাজর্ষি মাছটিকে বড়ো পাত্র, তারপর সরোবর, বিশাল হ্রদে স্থাপনা করলেও, সেই মাছ অচিরেই এতটাই বেড়ে উঠতে লাগল যে সেই সব জলাশয়ও মাছটির পক্ষে সংকীর্ণ হয়ে উঠল। রাজর্ষি সত্যব্রত বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি নিশ্চয়ই কোন সাধারণ মৎস্য নন, আপনি কে? আপনিই কী ভগবান শ্রীহরি?”

মৎস্যরূপী শ্রীবিষ্ণু বললেন, “এখন ব্রহ্মার নিদ্রাকাল - আজ থেকে সাতদিন পরে সমস্ত ত্রিলোক প্রলয় সমুদ্রে ডুবে যাবে। সেই সময় এক বিশাল নৌকা তোমার সামনে উপস্থিত হবে। সেই নৌকায় তুমি সপ্তর্ষি ও সকল জন্তুদের নিয়ে চড়ে বসবে, সঙ্গে নেবে সমস্ত উদ্ভিদ ও শস্যের বীজ। প্রলয় সমুদ্রের আলোড়নে তোমার তরণী যখনই চঞ্চল হয়ে উঠবে, বাসুকি[2]-রূপ রজ্জু দিয়ে আমার শৃঙ্গে বেঁধে নেবে। যতদিন ব্রহ্মার রজনী থাকবে অর্থাৎ তিনি নিদ্রামগ্ন থাকবেন, ততদিন আমি প্রলয় সমুদ্রে তোমাদের পরিচালনা করব”। 

কূর্ম অবতার – সমুদ্রমন্থনের সময় মন্দর পর্বত হয়েছিল মন্থন দণ্ড এবং সর্পরাজ বাসুকি হয়েছিলেন মন্থন রজ্জু। দেব ও অসুরগণের মন্থনে যে প্রবল ঘর্ষণের সৃষ্টি হল, সেই ভার পৃথ্বী বহন করতে পারছিলেন না - মন্দর পর্বত ভূমিতে প্রোথিত হয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ভগবান বিষ্ণু কূর্ম হয়ে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করলেন এবং মন্দর পর্বতের আধার হয়ে তাকে নিজের পিঠে ধারণ করলেন।

পরের পর্ব - " ধর্মাধর্ম - ৫/১১ "              


[1] পৌরাণিক মতে পাতালের সাতটি বিভাগ আছে – অতল, বিতল, সুতল, তলাতল,  মহাতল, রসাতল, পাতাল – এই রসাতলেই পৃথ্বীর পতন ঘটেছিল! পাতাল ছিল দৈত্যদের রাজ্য – হিরণ্যাক্ষ, হিরণ্যকশিপু, প্রহ্লাদ, বিরোচন, বলি ও বাণ এই কয়েকজন বিখ্যাত দৈত্যরাজার নাম পুরাণে পাওয়া যায়।  

[2] বাসুকি সর্পরাজ বসুকের পুত্র। তাঁর বোনের নাম জরৎকারু (পরবর্তী কালে তিনিই মা মনসা), ভগ্নীপতি মুনি জরৎকারু এবং ভাগিনেয়র নাম আস্তিক। সর্পযজ্ঞের অনলে সকল সর্পকে বধ করা থেকে রাজা জন্মেজয়কে বিরত করেছিলেন এই আস্তিক মুনি। সর্পরাজ বাসুকিকে দু’বার রজ্জু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, একবার রাজা সত্যব্রতর নৌকা এবং আরেকবার সমুদ্রমন্থনের সময় মন্দর পর্বতকে বাঁধতে।


সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬

ধর্মাধর্ম - ৫/৯

 ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "

ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১  "

ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু -  " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "

ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "

ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "

 "ধর্মাধর্ম"  গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -

গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২

(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)

অথবা

+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।  

  

  


[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/৮ "]

পঞ্চম পর্ব /পর্বাংশ - ৯


৫.৩.১ ব্রাহ্মণ্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে রূপান্তর (শেষাংশ)

৬. অতএব অস্তিত্ব রক্ষা এবং হারিয়ে যাওয়া প্রতিপত্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদে ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে বেতসবৃত্তি অবলম্বন করতে হল। যাঁরা ক্ষমতার শীর্ষে অথবা যাঁরা প্রশাসনের উচ্চস্তরে অধিষ্ঠিত তাঁদের ঘনিষ্ঠ হতে ব্রাহ্মণ্য নিয়মকে শিথিল করতেই হল। রাজা যেই হোন, বৈশ্য, শূদ্র অথবা বিদেশী যবন বা ম্লেচ্ছ – ভিন্ন পরিচয়ে তাঁরাও ব্রাহ্মণ্য ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। আগে যাঁদের “পতিত-ক্ষত্রিয়” বা “সংকর-ক্ষত্রিয়” বলে অবহেলায় ব্রাহ্মণ্য সমাজ দূরে রেখেছিল, এখন তাঁরাই “ব্রহ্মক্ষত্রিয়”, “নাগক্ষত্রিয়”, “উগ্রক্ষত্রিয়” ইত্যাদি বিচিত্র নামে ব্রাহ্মণ্য সমাজে সসম্মানে প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করলেন। উপরন্তু পৌরাণিক কিছু বিখ্যাত রাজবংশ, যেমন সূর্য, চন্দ্র ইতাদির সঙ্গে যুক্ত করে, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতরা এই সব রাজাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তেও ঢুকে পড়তে সমর্থ হলেন। তাঁরা রাজাদের প্ররোচিত করলেন, রাজসূয়, বাজপেয় বা অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজনে। এই আয়োজনে একদিকে পূর্ণ হল রাজাদের আত্মশ্লাঘা এবং অন্যদিকে পুনর্প্রতিষ্ঠা পেল ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের প্রতিপত্তি ও বিপুল বিত্ত।

শুধুমাত্র রাজ-বৃত্তেও নয়, ব্রাহ্মণরা আরো নমনীয় হল অনার্য ধর্মবিশ্বাসের প্রতি। ততদিনে তারা চিনে ফেলেছে ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চল, বুঝে ফেলেছে দেশের আঞ্চলিক জনগনের মনোভাব। উপলব্ধি করতে পেরেছে, অনার্য মানুষের পরিশ্রমে উৎপন্ন শস্য এবং অজস্র সামগ্রী ছাড়া সমাজের অস্তিত্বই থাকবে না। অতএব অনার্য জনগণের বিদ্বেষ এবং বিতৃষ্ণা দূর করার লক্ষ্যে তাঁরা অনার্যদের প্রতিটি দেব-আত্মা, প্রতিটি ধর্মবিশ্বাস আত্মসাৎ করে নতুন উৎসাহে লেগে পড়লেন, সর্ব ভারতীয় ধর্মভাবনা রচনায়, যার নাম পুরাণ। তার জন্যে তাঁরা ধীরে ধীরে বৈদিক অনেক দেবতাকেই গুরুত্বহীন করে তুলতে এতটুকু দ্বিধা করলেন না। আবার কিছু কিছু বৈদিক দেবতাকে নব-রূপে মহিমান্বিত করে তুললেন, বেশ কিছু গৌণ বৈদিক দেবতাকে বসালেন প্রথম সারিতে। নতুন এই দেবতাদের নব নব মহিমাতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল আমাদের ধর্মধারণা  – যাকে আমরা হিন্দু ধর্ম বলে থাকি। 

সেই হিন্দু ধর্ম নিয়েই এবার আলোচনা করা যাক।          

 

৫.৩.২ হিন্দু দেব-দেবী

আর্যদের ভারতে প্রবেশ মোটামুটি ১৫০০ বি.সি.ই-তে, প্রাচীনতম ঋগ্বেদের সংকলনের সময় কাল ১০০০ বি.সি.ই-র কিছু আগে বা পরে এবং পরবর্তী ৫০০ বছরের মধ্যে সংকলিত হয়েছে ব্রাহ্মণ, উপনিষদ এবং আরণ্যক বিভাগ সহ আরও তিনটি বেদ। ঋগ্বেদের সময় দেবতাদের সংখ্যা ছিল মাত্র আট বা নয়, খুব জোর দশ জন। পরবর্তী বেদগুলিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। কিন্তু আরও তিনশ বছর পর অর্থাৎ মোটামুটি খ্রী.পূ. দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে এই দেবতাদের সংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটতে লাগল।

দেবদেবীরা শুধু যে সংখ্যাতেই বৃদ্ধি পেলেন, তা নয়, তাঁদের গুণগত পার্থক্য অর্থাৎ মহাবিশ্বের যাবতীয় বিষয়ে তাঁদের প্রভাব, প্রতিপত্তি, কর্তব্য, দায়িত্ব এবং অধিকার বেড়ে গেল বহুগুণ। এই পর্যায়ে যে তিনজন দেবতাদের মধ্যে প্রধানতম হয়ে উঠলেন, তাঁদের একত্রে ত্রিদেব বলা হয় – ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর। এই  তিন দেবতার নামই আমরা বৈদিক সাহিত্যে জেনেছি। বেদের ব্রহ্ম ছিলেন, সকল দেবতাদের দেবতা – যাঁর আরেক নাম হিরণ্যগর্ভ। আমরা জেনেছিলাম, তিনিই একমাত্র সত্য, তিনিই বিভক্ত হয়ে অন্যান্য দেব-দেবী হয়েছেন। এই ব্রহ্মের অধিষ্ঠান ছিল ব্রহ্মলোকে – দ্যুলোকের উচ্চতম স্তরে। [এই স্তরের ঊর্ধে কী আছে জিজ্ঞাসা করায় বাচক্‌নু-কন্যা গার্গীকে মুণ্ডপাতের হুমকি দিয়েছিলেন মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য, সে কথা আশা করি ভুলে যাননি (অধ্যায় ৪.৪.৯)]। বিষ্ণু ছিলেন বৈদিক সূর্য-দেবতা - দ্বাদশ আদিত্যের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ। বৈদিক সূর্য বা দ্বাদশ আদিত্য যেহেতু দ্যুলোকের দেবতা, অতএব বিষ্ণুর অধিষ্ঠান হল, দ্যুলোকের সর্বোচ্চ স্তরে, অর্থাৎ বৈকুণ্ঠলোকে। আর মহেশ্বর হলেন বৈদিক অগ্নির রুদ্ররূপ। তিনি পৃথ্বীলোকের দেবতা, অতএব তাঁর অধিষ্ঠান হল এই পৃথিবীর উচ্চতম স্তরে, হিমালয় পর্বতশ্রেণীর মধ্যে কৈলাস পর্বতে।

 

৫.৩.২.১ ব্রহ্মা

হিন্দুদের মধ্যে ব্রহ্মা খুব একটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর অন্যতম কারণ হয়তো, তাঁর নামের সঙ্গে পরমাত্মা ব্রহ্মের নাম-সাযুজ্য। পুরুষোত্তম ব্রহ্ম তথা হিরণ্যগর্ভ, বেদ ও উপনিষদের অব্যক্ত নিরাকার ঈশ্বর। তাঁকে বর্ণনা করা যায় না, ধারণা করা যায় না, তিনি অবাঙ্মনসোগোচর, তাঁকে শুধুমাত্র উপলব্ধি করা যায়। উপনিষদ এবং বেদান্তের ব্রহ্ম ধারণা এবং হিন্দু ধর্মের ব্রহ্মা ধারণা কিন্তু মোটেই এক বিষয় নয়। কারণ হিন্দুদের ব্রহ্মা সাকার। তাঁর চতুর্মুখ, মাথায় জটা। তিনি তাঁর চারটি অঙ্গ থেকে চতুর্বণের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর মন থেকে জন্ম নিয়েছেন সপ্তর্ষি সহ অনেক ঋষি ও নারদ, মনু – যাঁরা পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও উদ্ভিদের স্রষ্টা। কিন্তু এই অপার ঐশ্বর্য থাকলেও ভগবান ব্রহ্মা অত্যন্ত সরল দেবতা ছিলেন। দৈত্য, দানব, রাক্ষস ও মানুষদের অনেকেই তপস্যা করে ব্রহ্মাকে বেশ সহজেই সন্তুষ্ট করেছে এবং বহুবার এমন সব বর আদায় করে নিয়েছে, যার ফলে দেবতা এবং মানুষদের বারবার বিপদে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে হয় বিষ্ণু নয় শিবকে। তাঁর এই সারল্য এবং সহজেই সন্তুষ্ট হয়ে ওঠার কারণেই হয়তো তাঁর প্রভাব খর্ব হয়েছে, কমেছে জনপ্রিয়তা।

মহাভারত ও পুরাণগুলিতে বিষ্ণু বা শিবের মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে ব্রহ্মার উল্লেখ এসেছে বারবার, তার থেকেই তাঁর অনেক কাহিনী ও উপাখ্যান জানা যায়। এই প্রসঙ্গে হিন্দু পুরাণগুলি নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করে নেওয়া যাক। হিন্দুদের পুরাণ সংখ্যা ঠিক কতগুলি সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে, তবে আঠারোটি প্রধান পুরাণ গ্রন্থকে প্রায় সকলেই মেনে নিয়েছেন, সেগুলিকে মহাপুরাণ বলা হয়। এই মহাপুরাণগুলির সংক্ষিপ্ত পরিচয় এখানে দেওয়া হলঃ- 

মহাপুরাণ সারণি

মহাপুরাণের নাম             সংক্ষিপ্ত বিষয় পরিচয়                         প্রধান দেবতা

অগ্নি      নানা বিষয়ের আলোচনা, গাছ-পালা, উদ্ভিদ, বাস্তুশাস্ত্র ইত্যাদি।  অগ্নি

ভাগবত বিষ্ণুর অবতার বিবরণ, মহিমা গাথা ও ধর্মতত্ত্ব।              বিষ্ণু

ব্রহ্ম      নানান প্রাচীন কাহিনী, ধর্মতত্ত্ব, ব্রহ্মের কথা সামান্যই।          ব্রহ্মা

ব্রহ্মাণ্ড নানান কাহিনী, ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি, শাসন প্রণালী ইত্যাদি।     শিব

৫   ব্রহ্মবৈবর্ত প্রধানতঃ বিষ্ণুর নানান মহিমা গাথা ও ধর্মতত্ত্ব।               বিষ্ণু

গরুড় প্রধানতঃ বিষ্ণুর নানান মহিমা গাথা ও ধর্মতত্ত্ব।               বিষ্ণু

কূর্ম      বিষ্ণু ও শিবের উপাখ্যান, তীর্থ ব্যাখ্যা এবং ধর্মতত্ত্ব।          বিষ্ণু 

লিঙ্গ      লিঙ্গ অর্থাৎ শিবের মাহাত্ম্য, শৈব ধর্মতত্ত্ব।                    শিব

মার্কণ্ডেয় মহাভারত ও নানান পুরাণ নিয়ে আলোচনা ও ধর্ম তত্ত্ব।      বিষ্ণু ও শিব

১০ মৎস্য বিষ্ণুর দশ অবতারের উপাখ্যান।                             বিষ্ণু

১১ নারদ প্রধানতঃ বিষ্ণু মাহাত্ম্য।                                       বিষ্ণু

১২ পদ্ম      বিষ্ণু এবং শিবের নানানমাহাত্ম্য, তীর্থ কথা, বিবিধ তত্ত্ব।    বিষ্ণু ও শিব

১৩ শিব      শিবের মাহাত্ম্য।                                            শিব

১৪ স্কন্দ      কার্তিক ও শিবের মাহাত্ম্য।                                  শিব

১৫ বামন প্রধানতঃ বিষ্ণুর মাহাত্ম্য।                                       বিষ্ণু 

১৬ বরাহ প্রধানতঃ বিষ্ণুর মাহাত্ম্য।                                  বিষ্ণু 

১৭ বায়ু      প্রধানতঃ শিব মাহাত্ম্য ।                                       শিব

১৮ বিষ্ণু      প্রধানতঃ বিষ্ণু মাহাত্ম্য।                                       বিষ্ণু

             

উপরের সারণি থেকে বহুল প্রচলিত অষ্টাদশ মহাপুরাণগুলির বিষয়ভিত্তিক বিচার করলে, দেখা যায়, আঠারোটির মধ্যে বিষ্ণু-মহিমা বিবৃত মহাপুরাণের সংখ্যা নটি এবং শিব-মহিমার পাঁচটি। তাছাড়া একটি করে মহাপুরাণ ব্রহ্মা এবং অগ্নির। বাকি দুটি বিষ্ণু, শিব ও অন্যান্য নানান ঘটনা নিয়ে রচিত। অতএব মোট মহাপুরাণের শতকরা ৫০ ভাগ ভগবান বিষ্ণুর ভাগে, শতকরা ২৭.৭৮ ভাগ ভগবান শিবের ভাগে। ভগবান ব্রহ্মার ভাগে মাত্র শতকরা ৫.৫৫ ভাগ। এর থেকেই বোঝা যায়, ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত বিদগ্ধ পণ্ডিতরা ভাগবত ধর্মের প্রচারে কতটা নিষ্ঠাবান ছিলেন। আর উল্টোদিকে ভগবান ব্রহ্মার ভক্ত ভাগ্য খুবই সঙ্গীন।

ভারতবর্ষের মন্দিরের হিসাব থেকেও এই চিত্র পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ভগবান বিষ্ণু ও মহাদেবের বিখ্যাত মন্দিরগুলি ছেড়ে দিলেও, প্রতিটি হিন্দুপাড়ায় ছোট-ছোট মন্দির আছে অজস্র, সেক্ষেত্রে ব্রহ্মার মন্দিরের সংখ্যা গোটা ভারতবর্ষে সাকুল্যে মাত্র ছটি, একটি আজমীড়ে পুষ্কর সরোবরের তীরে; রাজস্থানের বারমের; খোখান, (কুলু, হিমাচল); কুম্ভকোনম (তাঞ্জাভুর, তামিলনাড়ু); পানাজি (গোয়া) এবং তিরুপাত্তুরে (তামিলনাড়ু)। 


পরের পর্ব - " ধর্মাধর্ম - ৫/১০ "

নতুন পোস্টগুলি

ধর্মাধর্ম - ৫/১১

 ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ " ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১   " ধর্মাধর্ম তৃতী...