অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ছেলেমানুষ

 



এর আগের অণুগল্প - " গিরগিটি "


সুতনু বেরোচ্ছিল।

সুধীরবাবু ছেলে সুতনুকে বললেন, “বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে যাচ্ছো বাবা, তা যাও, তবে পাকামি করে বাইরের হাবিজাবি খেও না যেন। পেটের গণ্ডগোল বাধিয়েছিলে, এই সবে সেরে উঠলে। বেশ কদিন কলেজ কামাই হল। সামনেই পরীক্ষা মনে থাকে যেন”।

সুতনু অধৈর্য হয়ে বলল, “আমাকে কি তুমি ছেলেমানুষ পেয়েছ, বাবা?”

সুধীরবাবু মুখ তুলে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তা নয়তো কি?”

 

সুধীরবাবু বেরোচ্ছিলেন।

“এই ভোরে কোথায় চললে, বাবা? পার্কে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প জমাতে? তা যাও, কিন্তু আবার যেন ঠাণ্ডা লাগিও না। বুকে ঠাণ্ডা বসিয়ে কদিন নিজেও ভুগলে, আমাদেরও ভোগালে। মনে থাকে যেন”। সুতনুবাবু বাবাকে বললেন।

সুধীরবাবু বিরক্ত হয়ে বললেন, “নিজের ভালোটা আমি বুঝব না? আমাকে কি তুই ছেলেমানুষ পেয়েছিস?”

সুতনুবাবু মুখ তুলে বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তা নয়তো কি?”     

 


মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

নতুন চাল

 এর আগের বড়োদের গল্প - " প্রসাদী ফুল "








অন্যদিন সন্ধে ছটায় ছুটি হলেও, শনিবার আমাদের আপিসে হাফ-ছুটি। মানে বিকেল চারটে নাগাদ ঝাঁপ পড়ে যায়। কিন্তু মাত্র দুঘন্টার তফাতে পুরো দিনের মধ্যে কেন হাফ-ছুটি বলা হয়, আজ পর্যন্ত  বুঝিনি। তবে ওই দিন চারটে নাগাদ আপিস থেকে বেরিয়ে যে হাঁফ ছেড়ে বাঁচি – সে কথাটা সত্যি। সেদিক থেকে দেখলে কথাটা হাঁফ-ছুটি অর্থাৎ হাঁফ নেওয়ার ছুটি বলাটাই বেশ যুক্তিযুক্ত। সে যাগ্‌গে, আসল কথায় আসি।

এই শনিবার আড়াইটে নাগাদ আমরা তিনজন শীদ্দার চেম্বারে গেলাম একটা আরজি নিয়ে। শীদ্দা, মানে শীতাংশুদা আমাদের কোঅর্ডিনেটর, অর্থাৎ ইমিজিয়েট বস। তিনজনের মধ্যে আমিই নাটের গুরু, তাই চেম্বারে ঢুকে বললাম, “শীদ্দা, আজকে একটু আগে ছেড়ে দেবেন – এই সোয়া তিনটে নাগাদ? আমরা তিনজন নবান্নে যাবো”।

রীতিমতো চমকে উঠে শীদ্দা বলল, “তার মানে? এসব হুজুগ তোদের মাথায় কে ঢোকালো? নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মারতে চলেছিস – এ আমি বলে দিলাম...। ছুটির তো কোন প্রশ্নই নেই – বরং অফিস কেটে তোরা নবান্ন যাওয়ার হিড়িক তুলেছিস বলে, আমি হেড-অফিসে কমপ্লেন করব। সুখে থাকতে তোদের ভূতে কিলোয় না?”

নবান্নে যাওয়ার কথায় শীদ্দার কেন এত আপত্তি, আমাদের মাথায় ঢুকল না। নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে – আমরা চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। শীদ্দা আবার বলল, “আর যদি যেতেই হয়, আজকের দিনের জন্যে ব্যাকডেটে ছুটির দরখাস্ত কর – তিনজনেই। তারপর যেখানে খুশি যা, যা খুশি কর - নবান্ন গিয়ে টিয়ার গ্যাস খা, পুলিশের লাঠির বাড়ি খা, জেলে যা – অফিসের কিচ্ছু যাবে আসবে না। পুলিশ ইনভেস্টিগেট করতে এলে বলব, “তোরা আজ ছুটিতে – ছুটির দিনে কোন এমপ্লয়ি কোথায় কোন অভিযান করছে, তার দায় অফিসের নয়...”।

আমাদের মধ্যে নীলু, মানে নীলকান্ত একটু একরোখা ধরনের। রেগে গেলে বসকেও দু কথা শুনিয়ে দিতে ছাড়ে না। একটু রাগী স্বরে বলল, “শীদ্দা, আপনি কোন নবান্নের কথা বলছেন? আমরা যাব বিজনের গ্রামের বাড়ি...। ওদের ওখানে এই অঘ্রাণের শেষে নতুন ধান ওঠা শুরু হয় – নতুন ধান দিয়ে নবান্ন পুজো হয় – নতুন চালের পিঠে-পুলি পায়েস হয়...। সেখানে টিয়ার গ্যাস খাওয়ার কথা আসছে কোথা থেকে? পুলিশের লাঠিই বা খেতে যাবো কোন দুঃখে?”

এবার শীদ্দার অবাক হবার পালা। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আমাকে বললেন, “বিজন, তোদের গ্রামের বাড়ি কোথায়?”

“গঙ্গার ওপাড়ে...”।

“কিন্তু গঙ্গার ওপাড়েই তো নবান্ন...”।

আমি এতটুকু আমতা-আমতা না করে, দৃঢ় স্বরে বললাম, “আজ্ঞে হ্যাঁ, শীদ্দা - গঙ্গার ওপাড়েই আমতায় আমাদের গ্রামের বাড়ি। এসপ্ল্যানেড থেকে চারটে নাগাদ একটা বাস আছে, সেটা ধরতে পারলে বাড়ি পৌঁছে যাবে সন্ধ্যে নাগাদ। কাল রোববারটা থেকে, সোমবার সকালে আমরা তিনজন সরাসরি অফিসে আসব। তবে সেদিন আসতে একটু দেরি হবে, এই ধরুন এগারোটা...। সেটা বলতে আর পারমিশান নিতেই আপনার কাছে আসা...”।    

শীদ্দা কিছু বলল না, হতবাক মুখে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। একটু পরে আমি আরও বললাম, “সেখানে সব বাড়িতেই এখন নবান্ন উৎসব শুরু হয়েছে। আর শুধু আমাদের ওদিকেই বা কেন? গঙ্গার দুপাড়ের গ্রামে গ্রামে – হিন্দু-মুসলিম সব বাড়িতেই এখন চলছে নবান্ন উৎসব – ঘরে ঘরে নতুন চালের সুবাস। সে চাল এক্কেবারে সেকুলার চাল, শীদ্দা। এই নবান্নে অন্য কোন চাল চলেই না...”।

 --০০— 

এর পরের বড়োদের গল্প - " একটি বাসি এবং বাজে ঘটনা "

বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

গিরগিটি

 




[আগের অণু গল্প - "পুরানা বিক্রি"]


রাম দৌড়তে দৌড়তে এসে হাঁফিয়ে থামল, বলল, “ওগো বাবাগো, ঝোপ থেকে বেরিয়ে, এত্তো বড়ো কী একটা এসে আমার পায়ে কুটুস কামড়ে দিল”!

যদু বলল, “কী একটা কি রে? কী কামড়াল, তাকিয়ে দেখিসনি?”

“মাথাটা ঘুরে উঠতে, দেখতে আর পেলাম কই? তবে রঙটা যেন গেরুয়া...”

মধু বলল, “আমাকেও সেদিন ঘাড় নেড়ে নেড়ে মুখ ভেঙাচ্ছিল...তবে তার রঙ ছিল সবুজ”।

শ্যাম বলল, “উঁহু, লাল। গত মঙ্গলবার হাটে যাওয়ার সময়, সামনের রাস্তাটা কেটে দিয়ে পাশের ঝোপে ঢুকে পড়ল, আর আমিও ঘাসের ডগায় হোঁচট খেয়ে পড়লাম আর বাঁ-পায়ের গোড়ালি মচকালাম”।

যদু বলল, “ধুর ব্যাটা, ওটা তো গিরগিটি। আগে “বহুরূপী” বলে খুব নাম করেছিল। এখন আমাদের দেখে হিংসেয় জ্বলছে, রঙ বদলানোয় আমরা বেশ ক'বছর হল, ওদের হারিয়ে দিয়েছি যে!”

--০০--

এর পরের অণুগল্প - " ছেলেমানুষ "

     

শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৪

পুরানা বিক্রি (অণু গল্প)

 

    


পুজোর আগে ঘরদোর সাফ করাটা সংসারের একটা বড় কাজ। দেয়ালে, সিলিংয়ে, পাখার ব্লেডের ঝুল ঝাড়া। খালি আচারের শিশি, সসের বোতল জমে উঠেছে খাবার টেবিলের একধারে। সব ফেলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অবান্তর জিনিষ - সব বাতিল। ও হ্যাঁ, গতবার মায়ের ভোগ কিনে খাওয়া হয়েছিল, ওরা দিয়েছিল মাটির নকশা করা পাতিল  – সেটাও এবার বাতিল। পুরোনো খবরের কাগজগুলোর গতি করতে ডাকলাম পুরোন কাগজ বিক্রিওয়ালাকে। বারো কেজি কাগজ, সঙ্গে ছ কেজি বই।

কাগজওয়ালা তার বিশাল বস্তায় ভরে নিল সবকিছু, গেঁজ থেকে টাকা বের করতে করতে জিজ্ঞাসা করল, “পুরোনো লোহা-লক্কড় নেই?” 

না । 

“পুরোনো ঘড়ি, ইনভার্টার নেই”? 

“না নেই”। 

“পুরোন মেরুদণ্ড?” 

“মেরুদণ্ড? আছে বৈকি - কত দাম পাওয়া যাবে?” 

--০০--       


এর পরের অণুগল্প - " গিরগিটি "    

নতুন পোস্টগুলি

গীতা - ১৬শ পর্ব

  এই সূত্রে - "    ঈশোপনিষদ   "  এই সূত্র থেকে শুরু - "  কঠোপনিষদ - ১/১  " এই সূত্র থেকে শুরু - "  কেনোপনিষদ - খণ্ড...