ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "
ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১ "
ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "
ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "
"ধর্মাধর্ম" গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -
গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২
(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)
অথবা
+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।
[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৪/১৯ "]
চতুর্থ পর্ব (০ থেকে ১৩০০ সি.ই.)
শেষ পর্বাংশ
৪.৮.৫ দীর্ঘ এই ভারত-পরিক্রমায় প্রাপ্তি
প্রায় সাড়ে ছশো বছরের ভারত-পরিক্রমা শেষ হল। এর
মধ্যেও বাকি রয়ে গেল আরও অনেক বংশ এবং রাজরাজড়াদের নাম। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই
নামমাত্র শোনা যায়, ইতিহাসে
তেমন কোন দাগ রেখে যেতে পারেননি। যাঁদের কথা বললাম, তাঁরাই বা কী এমন দাগ রেখে গেছেন, বেশ কিছু
সুন্দর আর অনবদ্য স্থাপত্য নির্মাণ ছাড়া? এঁরা সক্কলেই নিজেদের মধ্যে নিরন্তর
লড়াই করে, যুদ্ধ
করে, অপচয়
করেছেন জীবনীশক্তি, নিজেরা
দুর্বল হয়েছেন, প্রতিবেশীকে
দুর্বল করেছেন। প্রত্যেকটি রাজ্য জয় অথবা বিজয় অভিযানে তাঁরা অন্য রাজ্য থেকে লুঠ
করে এনেছেন সম্পদ, সেই
সম্পদে জমকালো মন্দির বানিয়েছেন অজস্র। তার পিছনে যত না ভক্তি, তার থেকে
অনেক বেশি ছিল, বৈভব
প্রদর্শনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজাদের ঈর্ষান্বিত করে তুলে, ক্ষমতার
উষ্ণতা উপভোগ করা। তারপর কিছুদিনের মধ্যে তাঁরা তাঁদের বানিয়ে তোলা বংশমর্যাদা
নিয়ে মিলিয়ে গেছেন, কালের
গহ্বরে। এমনই ঘটেছে বারবার,
প্রত্যেকটি রাজবংশের ক্ষেত্রে।
দীর্ঘ সাড়ে ছশ বছরের এই ইতিহাস থেকে আমাদের জাতীয়
রাজনৈতিক চরিত্র সম্বন্ধে আমার কয়েকটি উপলব্ধি হয়েছে, সেগুলি
সংক্ষেপে এখানে বর্ণনা করি।
১) বীর রাজারা তাঁদের প্রতিবেশী রাজাদের যত সহজে
বারবার পরাস্ত করতে পেরেছেন, সেই বীরত্ব বিদেশী আক্রমণের সময় বারবার লোপ পেয়েছিল তাঁদের
অদূরদর্শী কূপমাণ্ডুক্যের জন্যে।
উদাহরণে বলা যায়, গুপ্ত সম্রাটরা, বিশেষ করে
কুমারগুপ্ত ও স্কন্দগুপ্ত রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া
সত্ত্বেও প্রতিবেশী ছোট রাজ্যগুলির সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলেছিলেন। কিন্তু
তাঁরা বিদেশাগত দুর্ধর্ষ হুণ জাতিকে প্রতিরোধের জন্যে প্রাণপণ যুদ্ধ করেছিলেন,
সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল হচ্ছে জেনেও। কারণ তাঁদের কাছে খুব স্পষ্ট
ছিল – আন্তর্দেশিক প্রতিবেশী রাজ্যের শত্রুদের তুলনায় বহিরাগত হুণরা - ভারতের সাংস্কৃতিক,
ধার্মিক এবং সামাজিক পরিস্থিতির পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও দুর্ভাগ্যক্রমে
সম্রাট স্কন্দগুপ্তের অকাল মৃত্যুর কারণে হুণদের বিরুদ্ধে সেই প্রতিরোধ সফল হতে
পারেনি।
কিন্তু আলোচ্য সাড়ে ছশ বছরে, প্রতিবেশী রাজ্যের
সঙ্গে অহরহ যুদ্ধরত রাজন্যবর্গ মুসলিম আক্রমণের প্রকৃত বিপদটা কোথায় এবং কতটা
সুদূরপ্রসারী হতে পারে - সেটা উপলব্ধিই করতে পারেননি। তাঁরা বিশ্বাস রেখেছিলেন –
“যাক শত্রু পরে পরে” এই প্রবাদে এবং নিজ নিজ প্রতিবেশী-শত্রু যখন আক্রান্ত হয়েছে, তাঁরা মুচকি
হেসেছেন। আশ্চর্য হল,
আরেকটি প্রবাদ তাঁদের মাথায় আসেনি – “ঘুঁটে পোড়ে, গোবর হাসে”।
কয়েকটি উদাহরণ দিলে স্পষ্ট হবে।
ক) চৌহান বংশের রাজা পৃথ্বীরাজ যখন সুলতান
সিহাবুদ্দিন ঘোরীকে প্রতিরোধ করলেন, তখন প্রতিবেশী গাড়োয়াল বংশের রাজা
জয়চন্দ্র ব্যক্তিগত আক্রোশে উদাসীন রইলেন। আক্রোশের কারণ তাঁর অমতে রাজা পৃথ্বীরাজ
রাজা জয়চন্দ্রের কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। এই আক্রোশের হেতু কী তাঁর জ্যাত্যাভিমান, বংশমর্যাদা? তিনি ভুলে
গেলেন, কয়েকবছর
আগেই তাঁর পিতা রাজা বিজয়চন্দ্রকেও খুসরু মালিকের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে হয়েছিল। সে
সময় তিনি হয়তো যুবরাজ ছিলেন। তাঁর এই নির্বুদ্ধিতা ও অহংকারের মূল্য চোকাতে হয়েছিল, সুলতান
সিহাবুদ্দিনের হাতে নিজের প্রাণ ও রাজ্য খুইয়ে। (অধ্যায় ৪.৭.১.৪ ও ৪.৭.১.৫)
খ) চান্দেলরাজ ধঙ্গ নাকি “খেলার ছলে অধিকার
করেছিলেন, কালঞ্জর
(কালিঞ্জর দুর্গ –বুন্দেলখণ্ড, মধ্যপ্রদেশ), সুদূর মালব নদীতটের ভাস্বত (?), যমুনার তীর, চেদি
রাজ্যের সীমানা, এমনকি
গোপগিরি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল”। কিন্তু তিনি শাহী রাজা জয়পালের সঙ্গে যৌথ
প্রচেষ্টাতেও সবুক্তিগিনের কাছে পরাস্ত হয়েছিলেন। এরপর গজনির সুলতান মামুদের
আক্রমণের সময়, রাজা
ধঙ্গের পুত্র রাজা গণ্ড ও শাহী রাজা আনন্দপালের সঙ্গে যৌথ প্রয়াসও ব্যর্থ হয়েছিল।
(অধ্যায় ৪.৭.৭)
পরপর এই দুটি পরাজয়েও চান্দেলরাজ গণ্ড এবং
ভাটিণ্ডার শাহী রাজারা কিন্তু সতর্ক হলেন না। কেনই বা তাঁরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে
যুদ্ধে বারবার পরাস্ত হচ্ছেন, সেই বিশ্লেষণও করলেন না। উল্টে, সুলতান
মামুদের ভয়ে পলাতক কনৌজের প্রতিহাররাজ রাজ্যপালকে খুঁজে, তাঁর
কাপুরুষতার “উচিৎ শিক্ষা” দিতে তাঁকে হত্যা করলেন। এই সংবাদ পেয়ে গজনির সুলতান
মামুদ পরের বছর ফিরে এলেন রাজা গণ্ডকেই “উচিৎ শিক্ষা” দিতে। এবার রাজা গণ্ড নিজেই
ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে কোন ক্রমে প্রাণরক্ষা করলেন। কিন্তু নিস্তার পেলেন না, বছর তিনেক
পরে সুলতান মামুদ আবার ফিরে এসে তাঁকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করলেন এবং রাজা গণ্ডকে
বশ্যতা স্বীকার করিয়ে প্রচুর ধনরত্ন নিয়ে দেশে ফিরে গেলেন। (অধ্যায় ৪.৭.৭)
গ) গজনির সুলতান যখন গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের
সম্পদ লুঠ করতে এসেছিলেন,
তখন চালুক্য বা সোলাংকিরাজ প্রথম ভীম ভয় পেয়ে রাজধানী অনহিলওয়াড়া (গুজরাটের
আধুনিক পাটন) ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। সুলতান মামুদ সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করে এবং
সমস্ত সম্পদ নিয়ে যখন ভারত ছাড়লেন, রাজা প্রথম ভীম “সগৌরবে” রাজধানীতে
ফিরে সিংহাসনে বসলেন। এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেশী রাজ্য আবুর (রাজস্থান) সামন্তরাজাকে
আক্রমণ করে তাঁকে পরাস্ত করলেন! (অধ্যায় ৪.৭.৯)।
মোটামুটি সাড়ে ছশ’ বছরের ভারতীয় ইতিহাসে, এমনই অনেক
বীর রাজাদের কাহিনী আমাদের গর্বের হিন্দু রাজত্বের ঐতিহ্য!
২) এঁনাদের কূপমণ্ডুক বলেছি, তার কারণ
বারবার মুসলিম আক্রমণ থেকে তাঁরা কোনদিন কোন শিক্ষাই গ্রহণ করেননি। যুগের সঙ্গে
এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রণকৌশল, সামরিক দক্ষতা, সামরিক
সম্ভার কিছুই বদল করেননি। এই পর্যায়ে হিন্দু রাজত্বগুলির মুসলিম প্রতিরোধে
সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার কয়েকটি কারণ, আমার মনে হয়,
ক) ভারতের শস্য-শ্যামল, সম্পদ-সমৃদ্ধ
পরিবেশে হিন্দু রাজা এবং তাঁদের সেনাদল ছিল অনেকটাই নরম-সরম, শ্লথ, এবং বেশ
আত্মতুষ্ট। প্রতিবেশী সমমনস্ক সৈন্যদলকে পরাস্ত করতে পারলেই, নিজেদেরকে
বীরত্বের পরাকাষ্ঠা বলে মনে করতেন। অন্যদিকে মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার রুক্ষ ও ঊষর
অঞ্চলের মুসলিম যোদ্ধারা ছিলেন বিপরীত প্রকৃতির। তাঁরা একদিকে ছিলেন কষ্টসহিষ্ণু, নির্মম, ক্ষিপ্র, আর অনমনীয়
জেদের অধিকারী। তাঁরা অশ্বচালনায় যেমন দক্ষ ছিলেন, তেমনি তলোয়ার চালনাতেও ছিলে অত্যন্ত
নিপুণ। এমনকি তাঁদের তীক্ষ্ণ তলোয়ারগুলিও হত ভারতীয় অস্ত্রগুলির থেকে অপেক্ষাকৃত
হালকা, কিন্তু
অনেক বেশি ঘাতসহ।
খ) রণকৌশলেও মুসলিম যোদ্ধারা ছিলেন অত্যন্ত ধূর্ত।
তাঁরা প্রচলিত ভারতীয় রণনীতি এবং বিধি-বিধানের ধার ধারতেন না। সরাসরি যুদ্ধে তাঁরা
যেমন ভারতীয় রাজাদের অধিকাংশ সময়েই পর্যুদস্ত করেছিলেন, তেমনি শোনা
যায় অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা বিদেশী বণিকদলের বেশে রাজধানীতে ঢুকে কিছুদিন রাজধানীতে
বাস করতেন। তারপর একদিন আচমকা আক্রমণ করে, রাজধানীর সুরক্ষা-ব্যবস্থা ধ্বংস করে
দুর্গ ও তার সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে ফেলতেন। তারপর অসীম ধৈর্যে অপেক্ষা
করতেন সপ্তাহ এমন কি মাসাধিক কাল। দুর্গের সঞ্চিত রসদ ফুরিয়ে গেলেই, দুর্গের সকল
অধিবাসীদের প্রাণ রক্ষার জন্যেই রাজারা বাধ্য হতেন দুর্গের প্রধান দরজা খুলে দিয়ে
বশ্যতা স্বীকার করতে। এই সংবাদে প্রতিবেশী রাজ্যের রাজারা কখনো কাউকে সাহায্যের
হাত বাড়িয়েছিলেন, এমন
শোনা যায় না। বরং নিজেদের বিলাসী প্রাসাদে বসে তাঁরা অমাত্যদের সঙ্গে পরিকল্পনা
করতেন, মুসলিম
যোদ্ধারা লুঠপাট করে ফিরে গেলেই, ভগ্নকটি ওই দুর্বল রাজ্যের থেকে কোন কোন উর্বর অঞ্চল অতি
দ্রুত হস্তগত করে ফেলা যায়।
গ) এবারে অধ্যায় ৪.৪.২ অধ্যায় থেকে গুপ্ত রাজাদের
প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে একবার চোখ রাখা যাক। রাজধানীর বাইরের সাম্রাজ্যকে তাঁরা
কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করে,
নাম দিয়েছিলেন ভুক্তি। প্রত্যেকটি ভুক্তি বিভক্ত করেছিলেন কয়েকটি বিষয় অর্থাৎ
জেলায়। জেলার অধীনে থাকত গ্রাম পঞ্চায়েত বা গ্রামসভা। ধরে নেওয়া যায় গুপ্ত পরবর্তী
হিন্দু যুগেও এই প্রশাসনিক ব্যবস্থাই প্রচলিত ছিল।
রাজ্যের বা সাম্রাজ্যের রাজা যদি, প্রধান
অমাত্য ও সেনাধ্যক্ষদের নিয়ে সর্বদাই যুদ্ধে – সে নিজের রাজ্য রক্ষার জন্যেই হোক
অথবা অন্য রাজ্য জয়ের জন্যেই হোক – ব্যস্ত থাকেন, প্রদেশ থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রশাসনিক
ব্যবস্থায় দুর্বলতা আসতে বাধ্য। প্রশাসনিক দুর্বলতার পিছনে অবধারিতভাবে আসে
দুর্নীতি। অর্থাৎ প্রাদেশিক থেকে গ্রামিক আধিকারিকরা মিলিতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে
উঠে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে মগ্ন হয়ে পড়তেন। অতএব একদিকে যেমন প্রশাসনিক
আধিকারিকরা হয়ে উঠতেন অত্যাচারী আঞ্চলিক রাজা, অন্যদিকে সাধারণ প্রজাদের দুর্গতির
সীমা থাকত না। যুদ্ধের ফাঁকে ফাঁকে রাজা কখনো-সখনো রাজধানীতে বসে প্রজাদের খবরাখবর
জানতে চাইলে, প্রশাসনের
লোকজন রাজাকে নিশ্চিন্ত রাখত, বলত “আপনার শাসনে দেশে রাম-রাজত্ব চলছে, মহারাজ, প্রজারা
সুখে শান্তিতে, নিরাপদে
নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করছে”।
ঘ) আরও একটি বিষয় নিশ্চিত ভাবেই অনুমান করা যায়।
রাজধানীর সিংহাসনে দশ বা বিশ বছর অন্তর নতুন-নতুন রাজা বসলেও, এই
প্রশাসনিক কর্তাদের এতটুকুও ক্ষতি হত না, বরং লাভ হত। কারণ বিজয়ী রাজার পক্ষে, বিজিত
রাজ্যের প্রশাসনের সর্ব স্তরে, রাতারাতি নিজস্ব আধিকারিক নিয়োগ করা কখনোই সম্ভব ছিল না।
অতএব বিজয়ী রাজাকেও রাজধানীর বাইরের রাজ্য পরিচালনার জন্যে, পরাজিত
রাজার কর্মচারীদের ওপরেই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হতো। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে, প্রশাসনিক
আধিকারিকরাও অত্যন্ত নিশ্চিন্তে দুর্নীতির সাগরে ডুবে থাকতেন।
ঙ) ওপরের (খ) ও (ঘ) কারণের জন্যেই সফল গুপ্তচর
ব্যবস্থাও এই সময়কার রাজ-প্রশাসনে ভয়ংকর দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আমরা মৌর্য যুগে
চাণক্য রাজনীতিতে, প্রশাসনিক
কাজের সহায়ক যে নিবিড় গুপ্তচর চক্রের হদিস পাই, সে ব্যবস্থা নিশ্চয়ই গুপ্ত যুগেও
ছিল। তা নাহলে গুপ্ত সম্রাটদের পক্ষে এতদিন ধরে, এত বড়ো সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব
হত না। এই গুপ্তচর চক্র সক্রিয় না থাকার ফলেই, দেশের রাজারা কেউই মুসলিম যোদ্ধাদের
সম্যক শক্তি ও তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কোনদিনই বুঝতে পারেননি। যার ফলে তাঁরা
মুসলিমদের সঙ্গে অধিকাংশ যুদ্ধেই পরাজিত হয়েছেন, কখনো বা অতিরঞ্জিত গুজবে বিশ্বাস করে
আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছেন। এই কারণেই হয়তো আঠারো জন যোদ্ধা সঙ্গী নিয়ে বখতিয়ার খিলজি
– অশ্ব ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে ঢুকে নদীয়ার প্রাসাদ থেকে বাংলার রাজা লক্ষ্মণ সেনকে
পালাতে বাধ্য করতে পেরেছিলেন।
দেশ জোড়া টুকরো টুকরো অজস্র রাজ্য বা সাম্রাজ্যের
এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ (অর্থাৎ আমরা) এবং
নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র কর্মী বা শ্রমিক সমাজের মানুষের অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে
কোন স্পষ্ট ইতিহাস পাওয়া যায় না। তা না থাক, এ বিষয়ে অস্পষ্ট ধারণা তৈরি করাই
যায়। সে প্রসঙ্গ নিয়েই পর্যালোচনা করব পঞ্চম ও অন্তিম পর্বে।
চতুর্থ পর্ব সমাপ্ত।
চিত্র ঋণঃ https://commons.wikimedia.org/wiki
মানচিত্র ঋণঃ https://en.wikipedia.org/wiki
গ্রন্থ ঋণঃ
১. ধর্মপুস্তক – পুরাতন ও নূতন নিয়ম - The Holy Bible – Bengali – The
Bible Society of India, Bangalore.
২. The Unknown Life of Jesus Christ – Nicolas Notovitch –
translated in English by - J. H. Connelly and L. Landsberg.
৩. কাশ্মীর ও তিব্বতে – স্বামী অভেদানন্দ–
শ্রীরামকৃষ্ণ বেদান্ত মঠ,
কলকাতা।
৪. Jesus Lived in India (His unknown life before and after
the Crucifixion) – Holger Kersten.
৫. Schools and Sects of Buddhism – by P. V. Bapat and
Nalinaksha Dutta – from The Cultural Heritage of India (Volume I) – published
by Swami Lokeswarananda, The Ramkrishna Mission Institute of Culture, Kolkata
under the board of eminent scholars like, Dr. Sarvepalli Radhakrishnan
(Chairman), R.C. Majumdar, Suniti Kumar Chatterji, Humayun Kabir, U.N. Ghoshal,
A.D. Pusalker, Niharranjan Ray, et al.
৬. History of Ancient India – Rama Shankar Thripathi.
৭. Penguin History of Early India – Dr. Romila Thapar.
৮. The Wonder that was India – A. L. Basham.
৯. The Bŗhdāraņyak Upanișada – Translated by Swami
Madhavananda, Advaita Ashram, Mayavati, Almora.
১০. অপরূপা অজন্তা – শ্রী নারায়ণ সান্যাল।
১১. শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ – বাংলায় গদ্য অনুবাদ – তারাকান্ত কাব্যতীর্থ ভট্টাচার্য।
এর পরে আসবে - "ধর্মাধর্ম" - পঞ্চম পর্ব - পর্বাংশ ১