এই সূত্রে - " ঈশোপনিষদ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "
এই সূত্র থেকে শুরু - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১ "
ধ্রুবর রাজ্যভোগ ও মুক্তিলাভ (আগের পর্বের পরে)
শ্রী মৈত্রেয় বললেন, “ঋষিগণের
উপদেশ শুনে, শ্রীহরিকে অন্তরে চিন্তা করে মহারাজ ধ্রুব আচমন করলেন এবং তাঁর ধনুক
থেকে নারায়ণ অস্ত্র প্রয়োগ করলেন। নারায়ণ অস্ত্র প্রয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে গুহ্যক
যক্ষদের সব মায়া দূর হয়ে গেল এবং সেই মারাত্মক অস্ত্রে শতশত যক্ষ হতাহত হতে লাগল।
মহারাজ ধ্রুবের অস্ত্রে যক্ষদের এই মহামৃত্যু দেখে, তাঁর পিতামহ মনু সেখানে
উপস্থিত হলেন, অন্যান্য ঋষিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বললেন, “হে বৎস, এই ভাবে নিরপরাধ
যক্ষদের হত্যা করা তোমার উচিৎ হচ্ছে না। তোমার ভাইয়ের হত্যাকারী একজনমাত্র যক্ষের
অপরাধে তুমি অনেক যক্ষকেই হত্যা করলে। এই অন্যায় কর্ম তোমাকে শোভা পায় না। তুমি
হৃষীকেশের তপস্যা করে, তাঁর শ্রীচরণ লাভ করেছ, দেবর্ষি নারদ তোমার মহান চরিত্রের
উদাহরণ সর্বত্র বর্ণনা করে থাকেন। সাধুব্যক্তিরা তোমার আচরণ অনুসরণ করেন, তাও তুমি
এমন অন্যায় কাজ কিভাবে করে চলেছ? ক্রোধ ত্যাগ করে, সংযত হও, এই যুদ্ধ সমাপ্ত
করো। বৎস ধ্রুব, যক্ষরাজ কুবেরকে মহাদেব
গিরীশ নিজের ভাই মনে করেন। নিরপরাধ যক্ষদের হত্যা করে তুমি মহারাজ কুবেরকে অপমান
করেছ। অতএব, এখনই যুদ্ধ বন্ধ করে মহারাজ কুবেরকে প্রণাম করো, তাঁকে প্রসন্ন করো”।
[পুরাণ বলে ষড় রিপু অর্থাৎ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য - জয় না করতে পারলে, পরমপুরুষ শ্রীহরির দর্শন লাভ অসম্ভব। তাহলে ধ্রুব কেন এত ক্রোধী হয়ে উঠতে পারলেন, নাকি ভগবান দর্শনের পরে তাঁর ক্রোধ আবার ফিরে এসেছিল?]
পিতামহের উপদেশে মহারাজ ধ্রুব
যুদ্ধ থেকে বিরত হলে, যক্ষরাজ কুবের সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি জোড়হাতে ধ্রুবকে
বললেন, “হে মহারাজ, পিতামহের আদেশে তুমি এই ভয়ংকর যুদ্ধ ত্যাগ করেছ, এই কারণে আমি
সন্তুষ্ট হলাম। আমাদের প্রতি তোমার শত্রুভাব পরিত্যাগ করো। মনে রেখো, কালই সকল
জীবের জন্ম ও মৃত্যুর নিয়ামক, অতএব তোমার ভাইকে যক্ষগণ কিংবা তুমিও কোন যক্ষকে
বিনাশ করো নি। জীবের অজ্ঞান থেকেই “আমি”, “তুমি” এই মিথ্যা মায়ার সৃষ্টি হয় এবং
সেই মোহবুদ্ধি থেকেই সংসারের দুঃখ অনুভব হয়। শুনেছি তুমি শ্রীহরির চরণলাভ করেছ,
অতএব তুমি ভববন্ধনখণ্ডনকারী শ্রীনারায়ণের ভজনা করো। তোমার মঙ্গল হোক, তুমি নিজের
ঘরে ফিরে যাও। তার আগে আমি তোমাকে বর দিতে চাই, তুমি নির্ভয়ে আমার থেকে তোমার
মনোমত বর প্রার্থনা করো”। মহারাজ
ধ্রুব, যক্ষরাজ কুবেরের কাছে সেই অবিচলিত হরিস্মৃতি লাভের বর প্রার্থনা করলেন, যার
প্রভাবে অন্তর থেকে অজ্ঞানের সব অন্ধকার দূর হয়ে যায়। কুবের প্রসন্নমনে ধ্রুবকে এই
বর দান করলেন, তারপর তিনি ফিরে গেলেন তাঁর রাজভবনে। মহারাজ ধ্রুবও ফিরে এলেন তাঁর
রাজপুরীতে।
নিজের রাজ্যে ফিরে এসে মহারাজ
ধ্রুব অনেক যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে যজ্ঞেশ্বরের আরাধনা করলেন ও প্রচুর দক্ষিণা দান করতে
লাগলেন। তাঁর প্রজারা তাঁকে পিতার মতো মনে করত। এইভাবেই মহারাজ ধ্রুব ভোগ করতে
করতে পুণ্যক্ষয় করলেন এবং যজ্ঞ অনুষ্ঠান করে অশুভক্ষয় করতে করতে ছত্রিশ হাজার বছর
রাজ্য শাসন করলেন। তারপর একদিন এই বিশ্বকে ভগবানের মায়ায় বিরচিত উপলব্ধি করে, তিনি
পুত্রের হাতে সিংহাসন তুলে দিলেন। নিজের দেহ, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, বন্ধুবর্গ,
সৈন্যদল, সমৃদ্ধ রাজকোষ, অন্তঃপুর এবং সসাগরা এই পৃথিবীকেও তাঁর অনিত্য মায়া মনে
হওয়ায়, সব কিছু ছেড়ে তিনি বদরিকাশ্রমে চলে গেলেন। সেখানে পবিত্র জলে স্নান করে
তিনি ইন্দ্রিয়কে সংযত করে, যোগাসনে বসলেন।
শ্রীহরির প্রতি পরমাভক্তিতে তিনি
প্রাণকে জয় করলেন, মন থেকে সমস্ত ইন্দ্রিয় ত্যাগ করলেন। পরম আনন্দে তাঁর হৃদয়
অভিভূত হল, তার দেহ পুলকিত হল, তিনি শরীরের অভিমান ত্যাগ করে নিজেকেও বিস্মৃত
হলেন। এইসময় তিনি দেখতে পেলেন নির্মল জোৎস্নার মতো চারিদিক উদ্ভাসিত করে, শ্রেষ্ঠ
বিমানে চড়ে দুই দেবশ্রেষ্ঠ নেমে আসছেন আকাশ থেকে। তাঁরা চতুর্ভুজ, শ্যামবর্ণ, বয়সে
কিশোর এবং পদ্মের মতো তাঁদের নয়ন। তাঁদের হাতে গদা, পরনে সুন্দর বস্ত্র, অঙ্গে
সুন্দর অলংকার, মাথায় মুকুট, কানে কুণ্ডল। তাঁরা মহারাজ ধ্রুবর কাছে এসে বললেন, “হে
রাজা, আমরা পদ্মনাভ শ্রীবিষ্ণুর দুই পার্ষদ সুনন্দ ও নন্দ। তোমার পরমমঙ্গলের কাল
উপস্থিত। মাত্র পাঁচ বৎসর বয়সে তপস্যা করে তুমি যাঁকে প্রসন্ন করেছিলে, অখিল জগতের
বিধাতা সেই ভগবান, তোমাকে সশরীরে ভগবৎ ধামে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাদের পাঠিয়েছেন।
চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র ও তারা যাঁকে প্রদক্ষিণ করছে, তুমি সেই পরম পদ লাভ
করেছ। অতএব তুমি এই বিমানে আরোহণ করো”।
ভক্তশ্রেষ্ঠ ধ্রুব, শ্রীহরির
পার্ষদ দুজনের এই অদ্ভূত বাণী শুনে স্নান ও নিত্যকর্ম সম্পন্ন করলেন। তারপর
উপস্থিত মুনিদের প্রণাম করে, সকলের আশীর্বাদ নিলেন। তারপর সেই দিব্য বিমান ও
পার্ষদ দুইজনকে প্রদক্ষিণ করে অর্চনা করে যখন বিমানে উঠলেন, চারদিক থেকে পুষ্পবৃষ্টি
শুরু হল, দুন্দুভি, মৃদঙ্গ, শঙ্খ বেজে উঠল।
বিমানে ওঠার পর, তাঁর মন মায়ের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল, “আমার দুঃখিনী মা
সুনীতিকে ত্যাগ করে, আমি দুর্লভ বিষ্ণুলোকে যাচ্ছি”। তাঁর মনের কথা বুঝে দুই পার্ষদ
বললেন, “দেবী সুনীতিও অন্য বিমানে আপনার আগে আগেই চলেছেন”। চলার পথে তিনি সকল গ্রহ দেখতে
পেলেন, তারপর ত্রিলোকী এবং সপ্তর্ষিমণ্ডল পার হয়ে পৌঁছে গেলেন বিষ্ণুধামে। এইভাবেই
ধ্রুবর ধ্রুব অর্থাৎ অক্ষয় গতি লাভ হল। যাঁরা সর্বদা শুভ আচরণ করেন, তাঁরাই এই
লোকে পৌঁছতে পারেন।
হে বিদুর, যিনি শিশুর খেলনা এবং
মায়ের কোল পরিত্যাগ করে বিষ্ণুর শরণাপন্ন হয়েছিলেন, সেই বিশাল কীর্তি বিখ্যাত
ধ্রুবর সজ্জনসম্মত চরিত্র আমি তোমার কাছে বর্ণনা করলাম। এই মহৎ চরিত্রের কথা জীবকে
ধন, যশ, আয়ু, পুণ্য, স্বর্গ এবং পরিশেষে ধ্রুবলোক প্রদান করে থাকে।
ধ্রুবর পরবর্তী বংশধরগণের পরিচয়
কুশারুপুত্র মহর্ষি মৈত্রেয়র
মুখে ধ্রুবর বৈকুণ্ঠপদ লাভের বর্ণনা শুনে বিদুরের মনে ভগবান অধোক্ষজে ভক্তিভাব
সঞ্চারিত হল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “হে মুনিবর, দেবর্ষি নারদ মহাভাগবত, তিনি
শ্রীহরির পরিচর্যাপ্রকার পাঁচরাত্রে লিখে ফেলেছিলেন। স্বধর্মশীল প্রচেতারা যখন
ভগবান যজ্ঞপুরুষের যজনা করছিলেন, তখন দেবর্ষি নারদ ভগবান শ্রীহরির স্তব করছিলেন।
এই প্রচেতারা কে এবং কার সন্তান? তাঁরা কোন বংশে জন্ম নিয়েছিলেন এবং কোথায় যজ্ঞ
সাধনা করেছিলেন, দয়া করে বর্ণনা করুন”।
মৈত্রেয় বললেন, “পিতা ধ্রুব
সংসার ত্যাগ করে বনে চলে যাওয়ার পর, তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র উৎকল রাজ্য ও রাজসিংহাসন
অধিকার করলেন না। তিনি জন্ম থেকেই শান্ত, নিঃসঙ্গ ও সকল বিষয়ে সমদর্শী ছিলেন। তিনি
তাঁর আত্মায় এই নিখিললোক এবং নিখিললোকে নিজের আত্মাকে সর্বদা প্রত্যক্ষ করতেন। সেই
কারণে রাজ্যের কুলবৃদ্ধেরা উৎকলের ছোট ভাই বৎসরকে রাজ্যে অভিষিক্ত করলেন। বৎসর ও
তাঁর প্রিয় পত্নী সুবীথীর ছয় পুত্র – পুষ্পার্ণ, তিগ্মকেতু, ইষ, ঊর্জ, বসু ও জয়। পুষ্পার্ণের প্রভা ও দোষা নামে
দুই পত্নী ছিলেন। প্রাতঃ, মধ্যন্দিন ও সায়ম এই তিনজন প্রভার পুত্র, আর প্রদোষ,
নিশীথ ও ব্যুষ্ট এই তিন দোষার পুত্র। ব্যুষ্টের পত্নী পুষ্করিণীর গর্ভে সর্বতেজা
নামে এক পুত্র হয়, তার আরেক নাম ছিল চক্ষুঃ। চক্ষুর পত্নী আকূতির গর্ভে চাক্ষুষ
মনু জন্মগ্রহণ করেন। মনুর পত্নী নড্বলা বারোটি শুদ্ধচরিত্র পুত্রের মাতা, তাদের
নাম, পুরু, কৃৎস্ন, ঋত, দ্যুম্ন, সত্যবান, ধৃত, ব্রত, অগ্নিষ্টোম, অতীরাত্র,
প্রদ্যুম্ন, শিবি ও উল্মুক। উল্মুকের ছয় পুত্র, অঙ্গ, সুমনাঃ, স্বাতি, ক্রতু,
অঙ্গিরা ও গয়। অঙ্গের পত্নী সুনীথার গর্ভে উগ্রস্বভাব বেণের জন্ম হয়। রাজর্ষি অঙ্গ
পুত্র বেণের অনাচারে বিরক্ত হয়ে বৈরাগ্য নিয়ে রাজপুরী ত্যাগ করেছিলেন। ক্রুদ্ধ মুনিদের অভিশাপে বেণের
প্রাণ বিয়োগ হয়, কিন্তু রাজ্যে প্রজাপালনের স্বার্থে মুনিগণ মৃত বেণের দক্ষিণ কর
মন্থন করলে, নারায়ণের অংশে পৃথুর জন্ম হয়”।
শ্রীবিদুর জিজ্ঞাসা করলেন, “মহারাজ
অঙ্গ সাধুচরিত্র, সদাচারী, ব্রাহ্মণভক্ত ও মহাত্মা ছিলেন, তাঁর পুত্র বেণ কিভাবে
এত অনাচারী হলেন যে, তাঁকে রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে হল? প্রজাপালক রাজা অপরাধী হলেও,
প্রজাদের অবহেলার পাত্র হতে পারেন না, কারণ তিনি লোকপালদের প্রভাব ধারণ করে থাকেন।
অতএব ধর্মজ্ঞ মুনিগণই বা কিসের কারণে তাঁর প্রতি ব্রহ্মশাপ প্রয়োগ করেছিলেন? আপনি
দয়া করে আমাকে সুনীথাপুত্র বেণের চরিত্র বর্ণনা করুন”।
শ্রীমৈত্রেয় বললেন, “একবার
রাজর্ষি অঙ্গ অশ্বমেধ মহাযজ্ঞের আয়োজন করলেন, কিন্তু ব্রহ্মবাদী যাজ্ঞিকগণ
দেবতাদের আহ্বান করলেও, দেবতারা সেই যজ্ঞে উপস্থিত হলেন না। সেই যজ্ঞে পবিত্র হবি
আহুতি নিবেদন এবং ব্রতশীল ব্রাহ্মণেরা শ্রদ্ধার সঙ্গে মন্ত্র উচ্চারণ করলেও, কোন
দেবতাই তাঁদের যজ্ঞভাগ নিতে এলেন না। এই
অভূতপূর্ব ব্যাপার দেখে মহারাজ অঙ্গ ব্যাকুল হয়ে সমবেত ব্রাহ্মণদের এর কারণ
জিজ্ঞাসা করলে, তাঁরা বললেন, “হে মহারাজ, এই জন্মে আপনার সামান্য পাপও অবশিষ্ট
নেই, কিন্তু আপনার জন্মান্তরের একটি অপরাধ রয়ে গেছে, যার কারণে আপনি এই জন্মে
অপত্যহীন। অতএব, আপনি পুত্রের কামনায় শ্রীহরির অর্চনা করুন, তিনি সন্তুষ্ট হলে
আপনার পুত্রলাভ নিশ্চিত। অপত্য লাভের জন্য যজ্ঞপুরুষ শ্রীহরির যজ্ঞে সকল দেবতাই
তাঁদের যজ্ঞভাগ গ্রহণ করবেন”।
“মানুষ যা কামনা করে, শ্রীহরি
তাই দান করে থাকেন। অতএব ব্রাহ্মণেরা পুত্রপ্রাপ্তির জন্যে বিষ্ণুর উদ্দেশে যজ্ঞে
আহুতি দিলেন। সেই যজ্ঞের আগুন থেকে এক দিব্য পুরুষ উঠে এলেন, তাঁর হাতে ধরা সোনার
পাত্রে পায়েস ছিল, সেই পুরুষের গলায় সোনার মালা, পরনে অমল বসন। ব্রাহ্মণদের অনুমতি
নিয়ে মহারাজ অঙ্গ সেই পায়েস দুইহাতে গ্রহণ করলেন এবং আনন্দের সঙ্গে তাঁর পত্নীর
হাতে তুলে দিলেন। সেই পায়েস খাওয়ার পর স্বামীর ঔরসে দেবী সুনীথা গর্ভধারণ করলেন ও
যথাসময়ে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন, তিনিই বেণ।
দেবী সুনীথার পিতা মৃত্যুর জন্ম
হয়েছিল অধর্মের অংশ থেকে। বালক পুত্র মাতামহের মতোই অধার্মিক হয়ে উঠতে লাগল। বালক
বেণ ব্যাধবেশে বনে গিয়ে অসহায় হরিণদের দলে দলে হত্যা করতে লাগল। খেলার সঙ্গী
বালকদের সে পশুর মতো নিষ্ঠুরভাবে বধ করতে লাগল। মহারাজ অঙ্গ পুত্রকে বহুভাবে শাসন
করতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোন রকমেই তাকে দমন করতে পারলেন না। কুপুত্র থেকে
মানুষের অখ্যাতি, অধর্ম, মানুষের সঙ্গে বিরোধ ও অশেষ মনোকষ্ট হয়। মহারাজ এই কথা
চিন্তা করতে করতে বিষণ্ণমনে একরাত্রে শুতে গেলেন, কিন্তু সারারাত তাঁর ঘুম হল না।
সারারাত চিন্তার পর তিনি বৈরাগ্যের সিদ্ধান্ত নিলেন, তারপর কাউকে কিছু না বলে
সকলের অলক্ষ্যে রাজপুরী ত্যাগ করলেন। মন্ত্রী
ও অমাত্যগণ পরদিন সকালে মহারাজ অঙ্গের অনেক সন্ধান করল, কিন্তু তাঁকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে ফিরে
এল। অবশেষে অরাজক রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আশায় ভৃগুপ্রমুখ মহামুনিগণ সকল
অমাত্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে রাণী সুনীথার উপস্থিতিতে বেণকেই রাজ্যে অভিষিক্ত
করলেন।
[ধার্মিক রাজা অঙ্গের পুত্র বেণ কেন অধার্মিক হয়ে উঠল? এই প্রশ্নের সহজ সমাধান করে ফেললেন পুরাণকারগণ। তাঁরা বেণের মাতৃকূলকেই দোষী সাব্যস্ত করে বললেন, তাঁরা নাকি অধর্মের অংশ! রাজা অঙ্গের বিয়ের আগে পাত্রী সন্ধানের সময় রাজজোতিষীরা দেবী সুনীথার বংশ পরিচয় জানতেন না, নাকি তাঁরা দেবী সুনীথার কোষ্ঠী বিচার করেননি? নাকি তাঁদের পুত্র অত্যাচারী হয়ে উঠতেই নিজেদের দোষ ঢাকতে মাতৃকূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেললেন!]
চলবে...