এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
আরেকটি ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ২০ "
২৭
সেদিন সন্ধের একটু পরে, ভল্লা
ঘরের বাইরে বসেছিল, রামালি পুকুরে গিয়েছিল জল আনতে। হঠাৎই চার-পাঁচজন মানুষের
পায়ের শব্দে ভল্লা সতর্ক হয়ে উঠল। যে পাথরে সে সাধারণতঃ বসে, তার ঠিক পিছনের দিকে
মাটির কাছাকাছি একটা বড়ো খোঁদলের মধ্যে রাখা আছে ছোট্ট একটা ভল্ল। খোঁদলের মুখে ঘন
ঝোপ-ঝাড়ের জন্যে সহজে তার সন্ধান পাওয়া যায় না। ভল্লা হাত বাড়িয়ে ভল্লটা ধরে থাকল।
কে হতে পারে লোকগুলো? এই সন্ধেয় তাদের কী দরকার? একটু পরেই বেড়ার বাইরে থেকে কেউ
ডাকল, “ভল্লামশাই, রয়েছেন নাকি? আমি বণিক অহিদত্ত”।
কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে ভল্লা
উঠে দাঁড়াল, বলল, "বণিকমশাই ওদিকে নয়, আপনি বাঁদিক দিয়ে ঘুরে আসুন। অনেকদিন পর,
কী ব্যাপার?”
অহিদত্ত উঠোনে দাঁড়িয়ে
চারপাশে তাকিয়ে দেখলেন, বললেন, “এই তাহলে আপনার নির্বাসনের বাসা?”
ভল্লা কিছু বলল না,
হাসল।
“আপনার সঙ্গে কিছু গভীর
কথা ছিল। এখানে কি নিরাপদ? তাছাড়া আমার সঙ্গে চারজন রক্ষীও রয়েছে...”।
এই সময়েই রামালি কলসিতে
জল ভরে ফিরে এল। উঠোনে অপরিচিত লোকটিকে দেখে একটু অবাক হল। ঘরে ঢুকে চর্বির প্রদীপ
জ্বালিয়ে বাইরে আনতে, ভল্লা বলল, “রামালি, ইনি অহিদত্ত। বিখ্যাত বণিক। তুই এখন
রান্নাবান্না করবি তো? আমি ওঁনার সঙ্গে দণ্ড দুয়ের জন্যে ঘুরে আসছি। বণিকমশাই এই
ছেলেটিকে চিনে রাখুন, রামালি। আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী। আমার সঙ্গেই থাকে। আপনার
রক্ষীদের বলুন, তারা এখানেই কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুক। চলুন, আমরা ঘুরে আসি”।
জঙ্গলের মধ্যে বেশ
কিছুটা গিয়ে ভল্লা অহিদত্তকে নিয়ে ফাঁকা একটা জায়গায় বসল। আশপাশে ছোটছোট ঝোপ ঝাড়,
কাছাকাছি কোন বড় গাছ নেই। গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে তাদের কথা কেউ শুনবে, সে
সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
“বাঃ জায়গাটা বেশ
বেছেছেন তো! চারদিকের জঙ্গল থেকে ঝিঁঝির যা আওয়াজ আসছে...এমনিতেই কিছু শোনা যাবে
না...”।
ভল্লা হাসল, বলল, “কী
সংবাদ বলুন। তার আগে আমার একটা অনুরোধ আছে, রাখতে হবে”।
“কী অনুরোধ?”
“আপনাদের ওদিক থেকে ভালো
কোন কবিরাজকে পাঠাতে পারবেন?”
“প্রধানমশাইয়ের চিকিৎসার
জন্যে?”
“শুনেছেন?”
“বাঃ শুনব না? কালকে
দুপুরে আস্থানের রক্ষীরা নোনাপুর আর সুকরা গ্রামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সে খবর তো
দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ভল্লামশাই। প্রধানমশাইকে যাচ্ছেতাই মেরেছে।
কবিরাজমশাইকে বন্দী করে নিয়ে গেছে। সুকরার ভীলকদাদাকেও বিচ্ছিরি মেরেছে কোন কারণ
ছাড়াই। আস্থানের রক্ষীদের ভয়ে সহজে কেউ আসতে চাইবে না হয়তো। তবু আমি পাঠিয়ে দেব,
কাল সকালেই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন”।
“প্রধানমশাই ছাড়াও, রামালির
কাকাকে একবার দেখতে হবে। আর সুকরার ভীলককাকাকেও...”।
“রামালি? যার সঙ্গে আপনি
এই মাত্র পরিচয় করিয়ে দিলেন?”
“হ্যাঁ ওর কাকা। ওঁনার
অবস্থা ততটা সঙ্গীন নয়, তবুও আপনাদের কবিরাজমশাই যাচ্ছেন যখন একবার দেখে এলে ভাল
হয়”।
“ঠিক আছে, হয়ে যাবে। আর
কিছু?”
ভল্লা হাসল, বলল, “নাঃ
আর কিছু না। এবার কাজের কথা বলুন”।
অহিদত্ত মুচকি হেসে
বললেন, “আপনি এদিকের পরিস্থিতি যে ভাবে পাকিয়ে তুলেছেন, তাতে আপনার অনেক
অস্ত্রশস্ত্র লাগবে তো?”
ভল্লাও হাসল, বলল, “শুধু
এদিকের না, আপনাদের দিকের ছেলেরাও অস্ত্র কিনতে চাইছে...আমার কাছে ওরা তিন-চারদিনের
মধ্যেই আসবে পাকা কথা শোনার জন্যে”।
“আমাদের দিকের ছেলেরা?
কী বলছেন, ভল্লামশাই?”
“আপনাদের রাজা নাকি,
প্রজাদের মঙ্গলের জন্যে রাস্তা-ঘাট না বানিয়ে, সেচব্যবস্থা না করে, গ্রামে গ্রামে
মন্দির বানিয়ে চলেছেন?”
“হুঁ, তা চলেছেন। আর সে
মন্দির বানানোর কাজ পাচ্ছে রাজধানীর জনা তিনেক বড়োবড়ো শ্রেষ্ঠী। বজ্জাতরা এক-একজন টাকার
কুমীর। রাজ্যের ছোট-বড়ো সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে জোটপাট করে, রাজ্যের সবদিকে তারা অজস্র
মন্দির বানিয়ে চলেছে। কিন্তু তার সঙ্গে গ্রামের সাধারণ ছেলেদের কী সম্পর্ক?”
“তারা নিজেদের আর
আশেপাশের গ্রামের ওই দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের জব্দ করতে চাইছে। তার জন্যে ওদের
অস্ত্র চাই”।
অহিদত্ত বেশ কিছুক্ষণ
চিন্তা করে বললেন, “আপনি কি জানেন, আপনাদের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে পুরোনো অস্ত্র কেনার
একটা দায়িত্ব আমি পেয়েছি? সে অস্ত্র আপনি আমার থেকেই পাবেন, এদিককার আন্দোলনের
জন্যে। কিন্তু আমাদের রাজ্যের ছেলেদের...না ভল্লামশাই, আমাদের রাজ্যের ছেলেদের
অস্ত্র দিলে আমি ভয়ানক বিপদে পড়ে যাবো। আমাদের
রাজধানীতে এই খবর একবার পৌঁছলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী বণিকরা আমার পিছনে লাগার দারুণ
সুযোগ পেয়ে যাবে। আধিকারিকদের সঙ্গে মিলে আমার ভিটেমাটি চাঁটি করে দেবে...”।
“তাহলে? ওরা অস্ত্র পাবে
না?”
“পাবে না কেন? আপনি ওদের দেবেন। আমি দেব
আপনাকে। তাতে সবারই শুভ লাভ হবে”।
“শুভ লাভ?”
“বুঝলেন না? ধরুন আমি
আপনাকে কিছু অস্ত্র দিলাম এক টাকার বিনিময়ে। আপনি ওদের দেবেন, সোয়া দুটাকা কিংবা আড়াই টাকা দরে। এক টাকায় আপনি
আমার দেনা শোধ করে দেওয়ার পরেও, আপনার হাতে থাকবে দেড়টাকা। আপনাদের খরচ-খরচা, আর ভবিষ্যতের
সঞ্চয়। আপনার দল বাড়লে তার খরচও তো বাড়বে ভল্লামশাই”।
“কিন্তু আপনাদের ছেলেরা
কতদিন আর অস্ত্র কিনবে, কতটুকুই বা কিনবে?”
বণিক অহিদত্ত অদ্ভূতভাবে হাসলেন, বললেন,
“আমি আপনাদের রাজধানীতেই অতি বিচক্ষণ একজন মানুষের কাছে, কিছুদিন আগেই, একটা কথা শুনলাম।
সেটাই আপনাকে বলি। আপনি আমার থেকেও অনেক বেশী প্রত্যক্ষদর্শী, বিচক্ষণ। ওঁনার কথাগুলোর মর্ম আপনি আমার
থেকেও ভালো ধরতে পারবেন।
উনি বলছিলেন, ক্ষমতার
মতো দুর্ধর্ষ নেশা আর হয় না। তার তুলনায় অর্থ, মদ, গাঁজা, চরস, ভাঙ, নারীর যৌবন
কিস্সু না। একবার যদি কেউ এই ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে, তার ফিরে আসার সব পথ
বন্ধ। এই ক্ষমতা সে কিভাবে অর্জন করতে পারে? প্রথমে ছোট করেই শুরু হবে...কিছু
সাঙ্গোপাঙ্গ জোটাবে, ছোটখাটো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে খুচখাচ কিছু চুরি, ডাকাতি
করবে...কিছু অর্থ উপার্জন করবে। সেই অর্থ দিয়ে তারা আরো অস্ত্রশস্ত্র কিনবে, আরও
বড়ো বড়ো ডাকাতি করবে। তার ক্রিয়াকলাপে আকৃষ্ট হয়ে আরো অনেক সাঙ্গোপাঙ্গ এসে জুটবে।
অর্থাৎ ধীরে ধীরে তার ক্ষমতার চারাগাছটি – মহীরূহে পরিণত হবে...। ব্যস্, এই
পরিস্থিতিতে তার কাছে সব আছে... ক্ষমতা, অর্থ, লোকবল। এখন সে একটা ছোট্ট অঞ্চলের
রাজাই বলা চলে।
কোন রাজার পক্ষেই রাজ্যের
আপামর জনসাধারণকে সমভাবে তুষ্ট রাখা অসম্ভব। তার কারণ প্রশাসনের গাফিলতি থাকতে
পারে। তার কারণ আঞ্চলিক পরিবেশ – মানে কোথাও সুজলা, সুফলা উর্বর, আবার কোথাও
রুক্ষ, ঊষর – হতে পারে। কোথাও প্রচুর খনিজ সম্পদ, আমাদের এদিকে যেমন সবই ঢুঢু।
সমুদ্র উপকূলবর্তী এবং নদীবহুল অঞ্চলে বাণিজ্যের যেমন সহজ প্রসার হয়, আমাদের এই
অঞ্চলে দেখুন, সে সম্ভাবনাও অপ্রতুল। অতএব নানান কারণে কোন কোন অঞ্চলের অধিবাসীরা
নিজেদের বঞ্চনার শিকার মনে করে ক্ষুব্ধ হতে থাকে।
সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে
ওই আঞ্চলিক রাজা এবার মূল প্রশাসনের সমান্তরালে, জনদরদী এক আঞ্চলিক প্রশাসন
গড়ে তুলতে শুরু করবে। এদের ঘনিষ্ঠ
সাঙ্গোপাঙ্গোরা হয়ে উঠবে ওই প্রশাসনের আধিকারিক। ক্ষুব্ধ প্রতিবাদী জনগণ হবে এদের অনুগামী
সমর্থক। তখন কিন্তু ওরা আর ডাকাত নয়, নিজেদের পরিচয় দেবে বিদ্রোহী, বিপ্লবী কিংবা সমাজ-সংস্কারক। উল্টোদিকে মূল রাষ্ট্র এবং প্রশাসন, তাদের নাম দেয় বিচ্ছিন্নতাকামী,
সন্ত্রাসবাদী – রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নাশক পরজীবী গোষ্ঠী।
এবার সে রাজ্যের রাজার
সঙ্গেই বিপ্লবে নামতে পারে। সরাসরি বিচ্ছিন্ন কিছু যুদ্ধেও নামতে পারে। আর সে
রাজ্যের রাজা যদি সাধারণ প্রজাদের অপছন্দের রাজা হয়, তাহলে তো কথাই নেই। দেখা
যাবে, ধীরে ধীরে সে রাজাকেই পরাস্ত এবং হত্যা করে – রাজ্যের অধীশ্বরও হয়ে উঠতে
পারে। অবিশ্যি সবাই যে অতদূর যেতে পারবে, তা নয়, ক্বচিৎ দু একজনই পারে। আপনি
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের নাম শুনেছেন?”
ভল্লা মাথা নাড়ল, না।
“আমিও শুনিনি। উনি কোন
এক সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের নাম বললেন। তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা ছিলেন এক ব্রাহ্মণ
পণ্ডিত, নাম চাণক্য। বহু যুগ আগে দুজনে মিলে পরাক্রমশালী নন্দবংশের সম্রাটকে
পরাস্ত করে মৌর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন”।
“তিনি তো সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠার জন্যে লড়াই করেছিলেন। তিনি বিদ্রোহী হতে পারেন, কিন্তু ডাকাত হতে যাবেন
কেন?”
“আমিও একই প্রশ্ন
করেছিলাম, ভল্লামশাই। তিনি উত্তরে বললেন, ইতিহাসে তিনি সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত নামেই প্রসিদ্ধ। শুরুর দিকে, যখন তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী
যুবক চন্দ্রগুপ্ত মাত্র, যখন নন্দ-সাম্রাজ্যের
সীমান্তবর্তী কিছু কিছু অঞ্চল তিনি নিজের আয়ত্তে আনছিলেন, রাজধানীতে নন্দরাজার সেনাপ্রধানরা, তাঁকে
ডাকাতই মনে করেছিল। তারা ভাবত, হতভাগা ডাকাতটাকে, একবার
ধরতে পারলে শূলেই চড়াবো। সেনাপ্রধানদের সে স্বপ্ন অবশ্য পূর্ণ হয়নি।
ওসব বড়ো বড়ো কথা ছেড়েই
দিন ভল্লামশাই। এখানেই দেখুন না, প্রশাসন আপনাকে এখানে পাঠিয়েছে, রাজার বিরুদ্ধে কিছু
বিদ্রোহ বানিয়ে তোলার জন্যে। আপনার ছেলেরা সবাই ভাবছে তারা বিদ্রোহ করছে। কিন্তু
আপনার প্রশাসন গতকাল গ্রামে গিয়ে, বিদ্রোহের
নয় - ডাকাতির তদন্ত করেছে। গ্রামের
বয়স্ক মানুষদের পীড়ন করেছে, ভয় দেখিয়েছে, যাতে তারা এই ধরনের ডাকাতি ভবিষ্যতে আর না
করে”।
অতএব, কে কি নামে ওদের
ডাকল, তাতে কিছু এসে যায় না, ভল্লামশাই। আসল কথাটা হল, ক্ষমতার নেশায় মজে থাকা এই
গোষ্ঠীগুলির নিয়মিত অস্ত্রের সরবরাহ না পেলে চলবে কী করে ভল্লামশাই? ও নিয়ে আপনি
নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন”।
ভল্লা চুপ করে বসে রইল
অনেকক্ষণ। তারপর বলল, “ঠিক কবে থেকে আপনি অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবেন?”
“রাজধানী থেকে গত পরশু রওনা
হয়েছে। আপাততঃ চারটি গোশকটে। আশা করি দিন দশেকের মধ্যে আস্থানে পৌঁছে যাবে”।
ভল্লা জিজ্ঞাসা করল, “অস্ত্র-শস্ত্রের
মূল্য কী রকম ধরছেন?”
অহিদত্ত হেসে বললেন,
“আমি কে মশাই? মূল্য তো আপনি ঠিক করে দেবেন। শষ্পকমশাই নির্দিষ্ট দিনে তাঁর লোক
পাঠাবেন...আমিও থাকব...সকলে মিলে বসে মূল্য ঠিক করা যাবে। কথায় কথায় অনেক রাত হয়ে
গেল ভল্লামশাই – আমি আজ উঠি – অনেকটা পথ যেতে হবে...। রাজধানীর অস্ত্র কাছাকাছি পৌঁছলেই
আমি আবার আসব...”।
ভল্লা উঠে দাঁড়াল, গম্ভীর
মুখে বলল, “হ্যাঁ চলুন এগোনো যাক – ভয়ংকর এক বিদ্রোহের দিকে...”।
অহিদত্ত ভল্লার মুখের
দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে হেসে বললেন, “নাঃ, সে
এখনও দেরি আছে। আপাততঃ আপনার বাসার দিকেই যাওয়া যাক...”।
চলবে...