এই সূত্রে - " ঈশোপনিষদ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "
এই সূত্র থেকে শুরু - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১ "
ধ্রুবর তপস্যা
এদিকে মধুবনে স্নান করে ধ্রুব
সমাহিত হয়ে সমস্ত রাত্রি উপবাসে রইলেন এবং দেবর্ষির উপদেশ মতো শ্রীহরির পরিচর্যা
করতে লাগলেন। প্রত্যেক তিন রাত্রি অন্তর শুধুমাত্র দেহধারণের জন্যে ধ্রুব বেল ও
কুল জাতীয় ফল খেয়ে শ্রীহরির অর্চনায় একমাস কাটিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় মাসে প্রতি ছদিন
অন্তর শাকপাতা খেয়ে কাটিয়ে দিলেন। তৃতীয় মাসে প্রতি নদিন অন্তর শুধুমাত্র জলপান
করে কাটিয়ে দিলেন। চতুর্থ মাসে প্রতি বারোদিন অন্তর বায়ুভক্ষণ করে সমাধিযোগে
ভগবানের ধ্যানে নিরত রইলেন। পঞ্চমমাসে শ্বাসজয় করে রাজপুত্র ধ্রুব একপায়ে স্থির
হয়ে দাঁড়িয়ে ভগবানের অবিচল ধ্যান করতে লাগলেন। ধ্রুব যখন একপায়ে দাঁড়িয়ে ধ্যানে
ডুবে রইলেন, ত্রিভুবন দুলে উঠল। হাতি নৌকায় উঠলে, তার ভারে নৌকা যেমন বামে ও
দক্ষিণে দুলতে থাকে, তেমনই ধ্রুবর একটি পায়ের ভারে, পৃথিবীর অর্ধাংশ ডাইনে বাঁয়ে
দুলতে লাগল। পৃথিবীর এই অবস্থায় দেবতা ও লোকপালেরা আতঙ্কিত হয়ে উঠলেন, তাঁরা এই
ঘটনার কোন কারণ বুঝতে না পেরে ভগবান শ্রীহরির শরণাপন্ন হলেন।
দেবতাদের আশ্বস্ত করে ভগবান
বললেন, “তোমরা আতঙ্কিত হয়ো না, মহারাজ উত্তানপাদের পুত্র ধ্রুব আমার বিশ্বরূপের
সঙ্গে একত্র হয়ে অবস্থান করছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমি তাকে এই তীব্র তপস্যা থেকে
নিরস্ত করবো। তোমরা ভীত না হয়ে, নিজ নিজ স্থানে ফিরে যাও”। দেবতারা নিশ্চিন্তমনে স্বর্গে ও
লোকপালেরা নিজেদের স্থানে ফিরে গেলে, ভগবান শ্রীহরিও তাঁর গরুড়ের পিঠে উঠে মধুবনের
দিকে রওনা হলেন।
৯
ধ্রুবর শ্রীহরি দর্শন
মধুবনে পৌঁছে শ্রীহরি দেখলেন,
বাইরে থেকে ধ্রুব স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সে তার হৃদয়ের মধ্যে শ্রীহরির
পরমরূপ দর্শন করছে। সামনে ভগবান স্বয়ং প্রত্যক্ষ উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ধ্রুব
তাঁকে দেখতে পেল না। তখন ধ্রুবর হৃদয় থেকে ভগবান নিজের রূপ তুলে নিতেই, ধ্রুব চোখ
মেলে তাকাল এবং সামনেই দেখতে পেল স্বয়ং ভগবানকে। ভগবানকে দেখে ধ্রুব তাঁকে দণ্ডবৎ
প্রণাম করল, তারপর জোড়হাতে ভগবানের স্তব করার ইচ্ছায় ব্যাকুল হয়েও কিছুই বলতে পারল
না। কারণ সে সময় ধ্রুব আনন্দে বাক্যহারা এবং কিভাবে ভগবানের গুণবর্ণনা করতে হয়,
তাও তার জানা ছিল না। করুণাময় ভগবান সবই বুঝতে পারলেন, তিনি স্মিতমুখে তাঁর
বেদশঙ্খ দিয়ে স্পর্শ করলেন ধ্রুবর দুই গাল।
ভগবানের স্পর্শে বালক ধ্রুব এখন ঈশ্বর ও জীবের তত্ত্ব উপলব্ধি করলেন এবং
ধ্রুব নামক অক্ষয় লোকের অধিকারী হলেন।
এরপর তাঁর মধ্যে ভগবানের
স্তুতিশক্তি সঞ্চারিত হল, তিনি বললেন, “অখিল শক্তিধর যিনি আমার মধ্যে চিৎশক্তিরূপে
আমার প্রাণ ও সমস্ত ইন্দ্রিয়কে সঞ্জীবিত করছেন, সেই অন্তর্যামী ভগবান, আপনাকে
প্রণাম। হে ভগবান, ত্রিগুণবিশিষ্ট মায়া আপনার শক্তি। আপনি এই মায়ার প্রভাবে চরাচর
সৃষ্টি করে, নিজেও তার মধ্যে সংযুক্ত রয়েছেন। অগ্নি যেমন নানান ধরনের কাঠে নানান
রূপে দেখা যায়, আপনিও অন্তর্যামীরূপে এক হয়েও, সমস্ত ইন্দ্রিয়ের মধ্যে ব্যাপ্ত
থেকে নানা রূপে দেখা দিয়ে থাকেন। হে নাথ, ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তি, জেগে উঠে যেমন
পূর্ব দিনের মতোই জগতকে দেখতে পায়, আপনার দেওয়া জ্ঞানেই আপনার শরণাপন্ন ব্রহ্মা এই
বিশ্বকে দর্শন করতে পেরেছিলেন। আপনি মুক্তদেরও আশ্রয়, আপনি জীবকে জন্ম-মৃত্যুর
বন্ধন থেকে মুক্তি দেন, আপনি কল্পতরু। হে অনন্ত, যাঁরা সর্বদা আপনাকে ভক্তি চিত্তে
মনে রাখেন, সেই সব মহাজন ব্যক্তিদের সঙ্গেই যেন আমার সঙ্গ হয়। কারণ তাঁদের মুখে
সর্বদা আপনার কথামৃত পান করে, আমিও এই বিপদসংকুল ভবসাগর খুব সহজেই পার হয়ে যেতে
পারব।
হে অজ, এই বিশ্বের নিখিল বস্তুর
মধ্যে আপনার যে স্থূলরূপ ব্যাপ্ত, আমি আপনার সেইটুকুই শুধু জানি। কিন্তু এই সব
কিছুর অতীত আপনার যে ঈশ্বররূপ, যা শব্দের অগোচর, সেই ব্রহ্মস্বরূপ সম্বন্ধে আমি
কিছুই জানি না। যে অদ্ভূত পুরুষ কল্পের অবসানে নিজের জঠরের মধ্যে ত্রিলোককে ধারণ
করে, অন্তর্দৃষ্টিতে অনন্তের কোলে শয়ন করেন । যাঁর নাভিমূল থেকে সঞ্জাত মৃণালের
মধ্যে হিরণ্যগর্ভ ব্রহ্মা আবির্ভূত হন,
আমি সেই পরমপুরুষকে প্রণাম করি। আপনার সঙ্গে জীবের অনেক বৈলক্ষণ আছে। যেমন আপনি
নিত্যমুক্ত, কিন্তু আপনার করুণায় জীব মুক্ত হয়। আপনি পবিত্র, জীব মলিন। আপনি
সর্বজ্ঞ, জীব অজ্ঞ। আপনি আত্মা, জীব জড়। আপনি নির্বিকার কূটস্থ, জীবের বিকার আছে।
আপনি অজ, জন্মরহিত আদিপুরুষ, জীবের জন্ম আছে। আপনি ভগ অর্থাৎ ঐশ্বর্যবান, জীব
ঐশ্বর্যহীন। আপনি ত্রিগুণের অধীশ্বর, কিন্তু ত্রিগুণের অতীত, জীব গুণের বশীভূত।
আপনি সমস্ত জীবের পালনকর্তা, আপনার কৃপা ছাড়া জীব নিজেকেও পালন করতে অক্ষম। আপনি
সকল যজ্ঞের অধিকর্তা, জীব যজ্ঞ কর্মের অধীন। আপনার অখণ্ড আত্মদৃষ্টি দিয়ে জীবের
সকল অবস্থার আপনিই সাক্ষী, জীবের দৃষ্টি তার অবস্থা ভেদে খণ্ডিত। যাঁর থেকে এই
বিশ্বের সৃষ্টি, সেই অখণ্ড অনন্ত, নির্বিকার আনন্দমাত্র ব্রহ্মের আমি শরণাপন্ন
হলাম। হে ভগবান, পরমানন্দই আপনার মূর্তি, আপনি আমাদের মতো দীন শরণাপন্ন মানুষকে
সংসারভয় থেকে রক্ষা করুন”।
ভক্তবৎসল ভগবান ধীমান ধ্রুবের এই
স্তুতিতে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, “হে রাজপুত্র, তোমার কল্যাণ হোক। আমি জানি, তোমার
মনের কি সংকল্প। হে সুব্রত, দুর্লভ হলেও আমি তোমার মনের সেই সংকল্প পূর্ণ করব। হে
বৎস, আমি তোমাকে এমন উৎকৃষ্ট লোক দান করব, যা নিত্যধাম, যা এর আগে অন্য আর কেউ লাভ
করতে পারেন নি। যাকে কেন্দ্র করে গ্রহ, নক্ষত্র সমন্বিত জ্যোতিশ্চক্র স্থাপিত
হয়েছে। ত্রৈলোক্য বিনষ্ট হলেও, যার বিনাশ হয় না। নক্ষত্ররূপী ধর্ম, অগ্নি, কশ্যপ,
ইন্দ্র ও সপ্তর্ষিমণ্ডল যাকে তারকাদের সঙ্গে প্রদক্ষিণ করেন, তোমাকে সেই উৎকৃষ্ট
লোক দান করলাম।
তোমার পিতা তোমার হাতে পৃথিবীর
ভার অর্পণ করে বনবাস করলে, তুমি তেষট্টিহাজার বছর পৃথিবীকে পালন করবে, কিন্তু
তোমার ইন্দ্রিয়শক্তি খর্ব হবে না। তোমার ভাই উত্তম, মৃগয়া করতে গিয়ে প্রাণত্যাগ
করবে এবং সেই শোকে পাগলিনী হয়ে তোমার বিমাতা সুরুচি দাবাগ্নিতে প্রবেশ করবেন। আমিই
যজ্ঞ, অতএব যজ্ঞ করেই তুমি আমার ভজনা করবে এবং প্রচুর দক্ষিণা দান করবে। তারপর
তুমি আমার ধামে যাত্রা করবে, সেই লোক সর্বলোকের বন্দনীয়, ঐ স্থানে গেলে সংসারে আর
ফিরে আসতে হয় না”।
[শ্রীহরি ধ্রুবকে তেষট্টিহাজার বছর রাজত্ব করার বর দিলেন - তাঁর সেই রাজত্ব আবার শুধু এই ভারতবর্ষ নয় সমগ্র পৃথিবী! পুরাণকাররা পুরাণ লিখতে বসে অল্পে সন্তুষ্ট হতেন না, তাঁরা বিশ্বাস করতেন, "মারি তো গণ্ডার, লুটি তো ভাণ্ডার" অথবা কল্পনার রন্ধনে ঘি যদি ঢালতেই হয় দু এক চামচ নয়, ঢালতে হবে কলসি কলসি। সব কিছুই মাত্রাছাড়া।]
ভগবান শ্রীহরি এই কথা বলে, বালক
ধ্রুবের সামনেই নিজের ধামে ফিরে গেলেন, কিন্তু ধ্রুব তাঁর কঠোর তপস্যার ফলস্বরূপ
শ্রীভগবানের বর পেয়েও খুব খুশী হতে পারলেন না। তিনি রাজপুরীতে ফিরে গেলেন এবং
চিন্তা করতে লাগলেন, “আমি মুক্তিপতি ভগবানের কৃপা পেয়েও মুক্তি চাইলাম না। সনন্দ
প্রমুখ কুমারেরা বহুজন্ম সমাধি অভ্যাস করে, যে পদ লাভ করতে পেরেছেন, আমি মাত্র
ছমাসের তপস্যায় সেই পদ লাভ করেছিলাম। শ্রীহরির চরণ লাভ করলে ভববন্ধন ছিন্ন হয়,
কিন্তু আমার ভেদদৃষ্টি ও মূর্খতার জন্যে আমি সংসারের মায়াই সংকল্প করে রইলাম।
বিমাতার বাক্যবাণ আমার হৃদয়ে এমনই ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, যে কঠোর তপস্যাতেও সেই ক্ষত আরোগ্য হয় নি। দৈবী
মায়ার বশে আমি বিমাতা ও বৈমাত্রেয় ভাইকে শত্রু কল্পনা করেছিলাম। আয়ু শেষে মরণাপন্ন
ব্যক্তির যেমন ওষুধ নিষ্ফল হয়, আমারও এই তপস্যা লব্ধ ফল ব্যর্থ হয়েছে। ভগবান
এসেছিলেন আমাকে তাঁর পরমানন্দ দান করতে, আর আমি আমার অহংকারের আরোগ্যের জন্যে তাঁর
কাছে রাজত্ব ও রাজ্য সংকল্প করলাম! হায়, আমার মূঢ়তার কোন সীমা নেই”।
মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন, “রাজা উত্তানপাদ, তাঁর পুত্র ধ্রুব ফিরে আসছে, প্রথমে এই সংবাদ শুনে বিশ্বাসই করতে পারলেন না। তারপর দেবর্ষি নারদের কথা মনে পড়ায়, তিনি আনন্দে অভিভূত হয়ে সেই সংবাদদাতাকে সোনার হার পুরষ্কার দিলেন। অমাত্য, ব্রাহ্মণসহ, সুনীতি ও সুরুচি দুই পত্নী এবং পুত্র উত্তমকে নিয়ে রথে চড়ে পুত্র ধ্রুবর সন্ধানে বের হলেন। কিছুদূর গিয়ে উপবনের সামনেই ধ্রুবকে দেখতে পেয়ে, রথ থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে বুকের মধ্যে পুত্র ধ্রুবকে জড়িয়ে ধরলেন। ধ্রুব পিতার চরণে প্রণাম করলেন, আনন্দ অশ্রুতে ভরে উঠল রাজা উত্তানপাদের দুই চোখ। ধ্রুব তাঁর দুই মাতাকেই প্রণাম করলেন। ভাই উত্তমকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। রাজর্ষি উত্তানপাদ পুত্র ধ্রুবের ভগবত তপস্যার অদ্ভূত প্রভাব শুনে ও দেখে বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং পিতার ভবনে ধ্রুব স্বর্গের দেবতার মতোই বসবাস করতে লাগলেন।
ধ্রুবর রাজ্যভোগ ও যক্ষ হত্যা
অনেক দিন পর, নিজের বার্দ্ধক্য
অনুভব করে এবং ধ্রুবর যৌবন উপস্থিত দেখে, তিনি প্রজাদের সম্মতি নিয়ে ধ্রুবকে নিজের
রাজ্যে অভিষিক্ত করলেন। তারপর বিষয়ভোগ ত্যাগ করে, ঈশ্বরচিন্তার জন্যে তিনি রাজভবন
ছেড়ে বনে চলে গেলেন।
পিতার সিংহাসনে আরোহণ করে, ধ্রুব
শিশুমারের কন্যা ভ্রমি ও বায়ুর কন্যা ইলাকে বিবাহ করেছিলেন। ভ্রমির গর্ভে কল্প ও
বৎসর নামে দুই পুত্র আর ইলার গর্ভে উৎকল নামে এক পুত্র ও এক কন্যার জন্ম হল। উত্তম
বিয়ে করলেন না। একবার মৃগয়া করতে গিয়ে তিনি হিমালয় প্রদেশের কাছে মহাশক্তিধর
যক্ষসেনার হাতে মারা গেলেন। সেই শোকে ব্যাকুল সুরুচি পুত্রের খোঁজে অরণ্যে প্রবেশ
করার পর দাবানলের মধ্যে প্রাণত্যাগ করলেন। এদিকে ভাই উত্তমের মৃত্যু সংবাদে মহারাজ
ধ্রুব প্রচণ্ড শোকে এবং ক্রোধে অভিভূত
হয়ে, প্রতিশোধের ইচ্ছায় যক্ষপুরী অলকার উদ্দেশে রওনা হলেন।
দীর্ঘদিন ধরে যক্ষদের সঙ্গে
ভয়ংকর যুদ্ধের পর, মহারাজ ধ্রুবর প্রবল পরাক্রমে অজস্র যক্ষ ও রাক্ষস সেনা হতাহত
হল। মহারাজের রণকৌশলে পর্যুদস্ত হয়ে একদিন রণক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ কাউকেই দেখতে
পেলেন না। তিনি একবার ভাবলেন শত্রু পরাস্ত হয়েছে, তাঁর ইচ্ছা হল পরাজিত যক্ষদের
রাজপুরীতে প্রবেশ করবেন। কিন্তু তিনি নিজেকে সংযত করে তাঁর রথের সারথিকে বললেন, “যক্ষরা
অনেক মায়া জানে, অতএব আমরা আরো কিছুক্ষণ সতর্ক হয়ে অপেক্ষা করি”। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না,
চারদিকে সমুদ্রের গর্জন শোনা গেল। প্রচণ্ড ধুলোর ঝড়ে চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে উঠল। আকাশ
মেঘে ছেয়ে গেল, আকাশে ভীষণ বিদ্যুৎ দেখা গেল, শোনা গেল মেঘের ভয়ঙ্কর গর্জন। সেই মেঘ থেকে অজস্র গদা, পাথর, খড়্গ বর্ষণ হতে
লাগল। অজস্র সাপ, উন্মত্ত হাতি, সিংহ ও বাঘ মহারাজ ধ্রুবের দিকে দৌড়ে আসতে লাগল।
ধ্রুবের প্রতি মায়াবী অসুরদের এই ভয়ংকর আক্রমণ দেখে মুনিগণ রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে
মহারাজ ধ্রুবকে বললেন, “হে উত্তানপাদতনয়, যাঁর নাম উচ্চারণ করলে বা শুনলে লোকে
সাক্ষাৎ মৃত্যুকেও অতিক্রম করতে পারে, আপনি সেই বিপদতারণ শ্রীহরির শরণাপন্ন হোন”।
চলবে...