ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "
ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১ "
ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "
ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "
"ধর্মাধর্ম" গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -
গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২
(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)
অথবা
+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।
[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৪/১৮ "]
চতুর্থ পর্ব (০ থেকে ১৩০০ সি.ই.)
ঊণবিংশ পর্বাংশ
৪.৮.১২ মাদুরার পাণ্ড্য
পাণ্ড্যদের উৎপত্তি নিয়েও কাহিনী ও বিতর্কের শেষ
নেই। পৌরাণিক মতে তাঁরা কোরকাইয়ের তিনভাইয়ের বংশধর, যাঁদের থেকে পাণ্ড্য, চোল এবং
চেরা বংশের উৎপত্তি। আবার আরেকটি মতে তাঁরা মহাভারতের পাণ্ডবদের বংশধর। পাণ্ড্য
রাজারা যদিও নিজেদের চন্দ্র বংশের উত্তরসূরি বলে দাবি করেছেন। কাহিনী যাই হোক, পাণ্ড্যরা
দক্ষিণ ভারতের প্রাক-আর্য জাতি, পরবর্তী কালে দক্ষিণ ভারতে আর্যদের উপনিবেশ গড়ে তোলার সময়, তাঁরা
আর্যদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, নিজেদের গৌরব বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
পাণ্ড্যরা দক্ষিণভারতের দক্ষিণতম প্রান্তে এবং
তার পূর্ব উপকূলে রাজত্ব করতেন। যদিও পাণ্ড্য বংশের রাজাদের পরাক্রম অনুযায়ী
তাঁদের এই রাজ্যের সীমানা কখনো বেড়েছে, কখনো ছোট হয়েছে। সাধারণতঃ তাঁরা
আধুনিক তিনটি জেলা, মাদুরা, রামনাদ, তিন্নেভেল্লি
এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে রাজত্ব করেছেন। তাঁদের রাজধানী ছিল মধুরা (মাদুরা), যাকে
দক্ষিণের মথুরা বলা হয়ে থাকে। তাঁদের প্রাচীন বাণিজ্যিক বন্দর ছিল তাম্রপর্ণী নদীর
ব-দ্বীপ অঞ্চলের কোরকাই,
পরবর্তীকালে নদীর ভৌগোলিক পরিবর্তন হওয়াতে, কয়ল হয়ে ওঠে তাঁদের প্রধান বন্দর।
পাণ্ড্যদের ইতিহাস যথেষ্ট প্রাচীন, কাত্যায়নের
(বি.সি.ই চতুর্থ শতাব্দী) পাণিনি-ভাষ্যে পাণ্ড্যদের নাম প্রথম পাওয়া যায়। এরপর
রামায়ণ ও মহাভারতেও তাঁদের নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। সিংহলের “মহাবংশ” গ্রন্থ থেকে
জানা যায়, সিংহলের
রাজকুমার বিজয়ের সঙ্গে পাণ্ড্য রাজকুমারীর বিবাহ হয়েছিল, ভগবান
বুদ্ধের পরিনির্বাণের কিছুদিন পরেই। এরপর কৌটিল্যের “অর্থশাস্ত্র”-এ বিশেষ এক
ধরনের মুক্তার উল্লেখ করা হয়েছে, যার উৎস ছিল পাণ্ড্যকাবটক। আবার মেগাস্থিনিসের বিবরণ থেকে
পাওয়া যায়, পাণ্ড্যরাজ্য
নাকি পরিচালনা করতেন মহিলারা। তবে সব থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়, সম্রাট
অশোকের শিলালিপি থেকে। যেখানে বলা হয়েছে, মৌর্য সাম্রাজ্যের দক্ষিণতম সীমার
বাইরে পাণ্ড্যদের স্বাধীন রাজ্য ছিল। এরপর কলিঙ্গরাজ খারবেলের শিলালিপি থেকে জানা
যায়, পাণ্ড্য
রাজারা তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন এবং তিনি পাণ্ড্যদের থেকে ঘোড়া, হাতি, রত্ন, রুবি এবং
অজস্র মুক্তা উপহার পেয়েছিলেন। এরপর রোমান ঐতিহাসিক স্ট্রাবোর লেখায় “রাজা
পাণ্ডিয়ন”-এর উল্লেখ পাওয়া যায়, যিনি ২০ বি.সি.ই-তে রোম-সম্রাট অগাস্টাস সীজারের রাজসভায়
দূত পাঠিয়েছিলেন। এরপর গ্রীক পর্যটক টলেমির গ্রন্থেও দক্ষিণভারতে “পাণ্ডিনোই” নামে
এক রাজ্যের নাম পাওয়া যায়,
যাদের রাজধানী ছিল “মোদৌরা” (মধুরা) ।
অতএব প্রাচীন কাল থেকেই পাণ্ড্যরাজ্যের
গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব থাকলেও, তাঁদের সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন কিছু উল্লেখ ছাড়া, নির্দিষ্ট
ইতিহাস পাওয়া যায় না। ইতিহাসের পরিধিতে তাঁদের প্রথম প্রবেশ ষষ্ঠ শতাব্দীতে, পল্লবরাজ
সিংহবিষ্ণুর উত্থান এবং কালাভ্র গোষ্ঠীর হাতে তাঁদের পরাজয়ের ইতিহাস দিয়ে। শোনা
যায় ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষদিকে অথবা সপ্তম শতাব্দীর শুরুতে রাজা কাড়ুঙ্গন পাণ্ড্যরাজ্য
পুনরুদ্ধার করে, পাণ্ড্যরাজকে
শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। এই পাণ্ড্যরাজ
কাড়ুঙ্গন এবং তাঁর পুত্র মারবর্মন অবনিশূলামণির সঙ্গে পল্লবরাজ সিংহবিষ্ণুর বেশ
কয়েকবার যুদ্ধ হয়েছিল,
কারণ দুই পক্ষই তাঁদের রাজ্যের প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে নিয়োজিত ছিলেন। এরপর সপ্তম
শতাব্দীর মধ্যভাগে অরিকেশরী মারবর্মন, তাঁর উত্তরসূরি কোচ্চড়য়নরণধীর (সপ্তম
শতাব্দীর শেষ দিকে),
মারবর্মন প্রথম-রাজসিংহ এবং নেড়ুঞ্জড়য়ন প্রথম-বরগুণ, প্রধানতঃ
চোল এবং কেরালা রাজ্যের অংশ জয় করে পাণ্ড্য রাজ্যের সীমানা বিস্তার করেছিলেন। রাজা
নেড়ুঞ্জলয়ন কোঙ্গুদেশ (কোয়মবাটোর এবং সেলম জেলা) এবং বেনাড়া (দক্ষিণ ত্রিবাঙ্কুর); তাঁর পুত্র
শ্রীমারশ্রীবল্লভ (৮১৫-৬২ সি.ই.) সিংহল জয় করেছিলেন এবং পল্লব, গঙ্গ এবং
চোলদের সঙ্গে যুদ্ধ করে কুড়মুক্কু (কুম্বকোনম) অধিকার করেছিলেন। যদিও পাণ্ড্যরাজা
দ্বিতীয়-বরগুণ ৮৮০ সি.ই.তে চোলরাজ প্রথম-আদিত্যের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
এরপর থেকেই পাণ্ড্য রাজাদের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে
উঠেছিলেন চোল রাজারা। শোনা যায় পাণ্ড্যরাজা মারবর্মন দ্বিতীয়-রাজসিংহ, সিংহলের
রাজার সঙ্গে মিলিত শক্তিতে চোলরাজা প্রথম-পরান্তককে আক্রমণ করেছিলেন, কিন্তু
সুবিধে করতে পারেননি। বরং পরবর্তী চোলরাজ পাণ্ড্যরাজ্যের রাজধানী অধিকার করে, “মাদুরাইকোণ্ডা”
উপাধি নিয়েছিলেন। এভাবেই পাণ্ড্যরাজ্য মোটামুটি ৯২০ সি.ই.-তে চোলদের অধীন রাজ্য
হয়ে গেল এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত দক্ষিণভারতে পাণ্ড্যরাজ্য তার গুরুত্ব
হারিয়ে ফেলেছিল। যদিও পাণ্ড্যদের কয়েকজন রাজা বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট রাজ্য প্রতিষ্ঠা
করে, চোলদের
আধিপত্য খর্ব করার বারবার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু খুব একটা সফল হতে পারেননি।
চোলরাজ তৃতীয়-কুলোত্তুঙ্গের মৃত্যুর (১২১৬ সি.ই.) পর চোলরাজ্য যখন শক্তিহীন হয়ে
পড়ল, সেই
সময় পাণ্ড্যরাজাদের প্রতিপত্তি আবার বেড়ে উঠল।
মানচিত্র ঋণ ঃ https://www.mapsofindia.com
পাণ্ড্যরাজ জাতবর্মন কুলশেখর ১১৯০ সি.ই.-তে রাজা হওয়ার পর পাণ্ড্যরাজ্যের ভাগ্যের চাকা আবার অনুকূল ঘুরতে শুরু করেছিল। এরপর প্রায় শতাধিক বছর পাণ্ড্যরাজ্যের গৌরব অম্লান ছিল। জাতবর্মন কুলশেখরের পুত্র মারবর্মন সুন্দর প্রথম-পাণ্ড্য (১২১৬-১২৩৮ সি.ই.) চোলদের আক্রমণ করে, তাঁদের প্রধান দুই শহর তাঞ্জোর এবং উরায়ুর পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন, এবং চোলরাজ তৃতীয় রাজরাজ বশ্যতা স্বীকার করায়, তাঁকেই সিংহাসন ফেরত দিয়েছিলেন। তার পরের পাণ্ড্যরাজা ছিলেন মারবর্মন সুন্দর দ্বিতীয়-পাণ্ড্য (১২৩৮-১২৫১ সি.ই.), তাঁর সময়েও চোল–পাণ্ড্য–হোয়সল সম্পর্কের কোন পরিবর্তন হয়নি। তার পরের পাণ্ড্যরাজা জাতবর্মন সুন্দর পাণ্ড্য (১২৫১-১২৭২ সি.ই.) পরাক্রমী রাজা ছিলেন, তাঁর সময়েই পাণ্ড্যরাজ্য তার সমৃদ্ধির শীর্ষে উঠেছিল। তিনি চোলদের বিপর্যস্ত করে কাঞ্চী অধিকার করে নিয়েছিলেন, এবং চের রাজ্য এবং সিংহলেও আধিপত্য বিস্তার করেন। উপরন্তু তিনি হোয়সলরাজ বীর-সোমেশ্বরকে এবং কাকতীয়রাজ গণপতিকেও চূড়ান্ত পরাস্ত করে, তাঁদের বশ্যতা আদায় করেছিলেন। এভাবেই জাতবর্মন সুন্দর পাণ্ড্য দক্ষিণ ভারতের দক্ষিণতম প্রান্ত থেকে কুডাপ্পা এবং উত্তরের নেল্লোর পর্যন্ত অবিসম্বাদিত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে “মহারাজাধিরাজ-শ্রীপরমেশ্বর” উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর রাজা হয়েছিলেন মারবর্মন কুলশেখর
তিনিও বেশ কিছু নতুন অঞ্চল অধিকার করে সাম্রাজ্যের সীমানা অক্ষুণ্ন রাখতে
পেরেছিলেন। তাঁর রাজত্বকালে ১২৯৩ সি.ই.-তে ভেনেসিয় পর্যটক মার্কো পোলো দক্ষিণ ভারত
ভ্রমণে এসেছিলেন। তাঁর বর্ণনা থেকে পাণ্ড্য রাজাদের কথা, শাসন
ব্যবস্থা, শহর
ও গ্রামের জীবনযাত্রা সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তিনি পাণ্ড্যরাজাদের সমৃদ্ধি, সম্পদ ও
বাণিজ্য সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন।
মারবর্মন কুলশেখরের শেষ জীবন খুব একটা শান্তির
ছিল না। তাঁর দুই পুত্র,
তাঁদের মধ্যে একজন অবৈধ, বীর পাণ্ড্য এবং অন্যজন সুন্দর, বৈধ পুত্র
ছিলেন। দুজনেই দীর্ঘদিন– যথাক্রমে ১২৯৬ সি.ই. এবং ১৩০৩ সি.ই. থেকে পিতার প্রশাসনের
অন্যতম সহায় ছিলেন। পিতা মারবর্মন কুলশেখরের জীবনের শেষদিকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে
সিংহাসন নিয়ে তীব্র বিরোধ উপস্থিত হয়েছিল। শোনা যায় মারবর্মন কুলশেখর কোন এক
পুত্রের হাতে নিহত হন এবং তাঁর বৈধ পুত্র সুন্দর সিংহাসন অধিকার করার জন্যে
আলাউদ্দিন খিলজির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সত্য ঘটনা যাই হোক, পারিবারিক
এই বিবাদের মধ্যে, আলাউদ্দিন
খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুরের পক্ষে মাদুরা জয় করে পাণ্ড্যদের উচ্ছেদ করতে কোন বেগ
পেতে হয়নি। অতএব ১৩১০ সি.ই. এবং তার কয়েক
বছরের মধ্যে পাণ্ড্য সাম্রাজ্যের গৌরব ধূলিসাৎ হয়ে, মুসলিম আধিপত্য স্থাপিত হয়েছিল।
৪.৮.১৩ চের
চের বা কেরালাদের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোন বিতর্ক
শোনা যায় না। তাঁরা দক্ষিণ ভারতেরই প্রাক-আর্য অধিবাসী এবং তাঁদের রাজ্যের সীমানা
ছিল আধুনিক মালাবার,
ত্রিবাঙ্কুর এবং কোচিন জেলা। কখনো কখনো কোয়মবাটোর এবং সেলম জেলার দক্ষিণাংশও
তাঁদের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। চের রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে প্রাচীন কাল থেকেই
দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর ছিল। একটি পেরিয়ার নদীর মোহনায় মুজিরি এবং
বৈক্করাই। এ দুটির মধ্যে মুজিরি থেকেই অধিকাংশ বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালিত হত। সুদূর
গ্রীস, রোম
ও মেসোপটেমিয়ায় প্রাচীন কাল থেকেই নানারকমের মশলা, মুক্তা এবং রত্ন রপ্তানি হত, যার ফলে
অনেক গ্রীক ও রোমান বণিক এই অঞ্চলে বসবাস করতেও শুরু করেন এবং তাঁরা তাঁদের দেবতা
অগাস্টাসের মন্দিরও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই অঞ্চলে ইহুদীদেরও একটি উপনিবেশ ছিল, যাঁদের
চেররাজা ভাস্কর রবিবর্মন দশম শতাব্দীর শুরুতে সনদ দান করেছিলেন।
চের রাজ্যের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়, সম্রাট
অশোকের শিলালিপিতে, যেখানে
চোড় (চোল) এবং পাণ্ড্যদের সঙ্গে, তাঁদের কেরলপুত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। গ্রীক পর্যটক
টলেমির গ্রন্থেও চেরদের উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও এই সময়ের চেরদের ইতিহাস খুবই
অস্পষ্ট। তবে সেনগুট্টুবন নামে এক চের রাজার নাম পাওয়া যায় বিখ্যাত তামিল
“শিলপ্পাদিকরম” গ্রন্থে। শোনা যায় এই গ্রন্থ রচনা করেছিলেন তাঁর সন্ন্যাসী ভাই, ইলঙ্গবদিগল।
তাঁর গ্রন্থ থেকে অনুমান করা হয়, চেররাজা সেনগুট্টুবন হয়তো পাণ্ড্যরাজা নেড়ুঞ্জলয়ন এবং চোল
রাজা করিকালের নাতির সমসাময়িক।
অতএব রাজা সেনগুট্টুবনকেই প্রথম ঐতিহাসিক চের
রাজা বলা যায়। তাঁর পরবর্তী রাজাদেরও চোল ও পাণ্ড্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিরন্তর
লড়তে হচ্ছিল। কিন্তু তাঁদের কেউই সম্ভবতঃ পরাক্রমী বা উদ্যোগী রাজা ছিলেন না, অতএব বেশ
কয়েক শতাব্দী চের রাজারা গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের আবার প্রকাশ ঘটল অষ্টম
শতাব্দীর শুরুর দিকে। এই সময় জনৈক চেররাজার সঙ্গে পল্লবরাজ পরমেশ্বরবর্মনের যুদ্ধ
করতে দেখা গিয়েছিল। এই শতাব্দীর শেষ দিকে পাণ্ড্যরাজাদের সঙ্গেও তাঁদের যুদ্ধ করতে
হয়েছিল এবং তাঁদের দক্ষিণ ত্রিবাঙ্কুর হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল। এই সময়ে চেররাজাদের
সঙ্গে চোলরাজাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা গড়ে ওঠে, চোলরাজ প্রথম-পরান্তক চের রাজকুমারীর
পাণিগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু দশম শতাব্দীর শেষদিকে চেররাজাদের সঙ্গে চোল রাজাদের
সখ্যতা ভেঙে যায়, এবং
চোলরাজ প্রথম-রাজরাজ চেরদের রাজত্বের অনেকটাই অধিকার করে নিয়েছিলেন। এই সময় থেকে
দ্বাদশ শতাব্দীর শুরু অব্দি চের রাজ্য চোল রাজাদের অধীনে ছিল। দ্বাদশ শতাব্দীতে
চোল রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে চের রাজারা, বিশেষ করে ১২৯৯ সি.ই.তে রাজা
রবিবর্মনকুলশেখর, চের
রাজ্যকে স্বাধীন করলেন এবং তারপর পাণ্ড্য এবং চোলরাজাদের পরাজিত করে বেশ
প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই পরাক্রমও প্রতিরোধ করেছিলেন কাকতীয়
রাজা প্রথম-রুদ্র। সে যাই হোক, রাজা রবিবর্মনকুলশেখরের পর চেররাজ্য আবার গুরুত্বহীন হয়ে
পড়েছিল।
চলবে...