প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাসের শুরু - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
দ্বিতীয় ধারাবাহিক উপন্যাসের শুরু - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
তৃতীয় ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
চতুর্থ ধারাবাহিক উপন্যাসের শুরু - " শুধু _তুই .কম - পর্ব ১ "
পঞ্চম ধারাবাহিকের শুরু - " স্বদেশী ডাকাত - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "; "অচিনপুরের বালাই" ; " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ৩৭ "
৪৩
“খিদেয় পেট জ্বলে গেল রে, মা। কখন খেতে দিবি?”
বেড়ার ওপাশ থেকে ভল্লা চেঁচিয়ে উঠল। তারপর দরজা দিয়ে ঢুকেই দেখল কমলিমা কোমরে হাত
দিয়ে দাঁড়িয়ে।
দরজা থেকে হাঁকডাক করে বলা ভল্লার ছদ্ম অভিযোগ
কমলিমা বেশ উপভোগ করলেন। বহুদিন পর তিনি যেন সংসারের কেন্দ্রে অধিষ্ঠিতা হয়েছেন। হোক
না সে সংসার বাউণ্ডুলেদের সংসার। তাঁর চোখে ভ্রূকুটি – কিন্তু মুখে হাল্কা হাসির
আভাসটুকু টের পাওয়া যাচ্ছে। ভল্লা এবং রামালি দুজনেই যেমন আশ্চর্য হল, তেমন খুশিও
হল।
কমলিমা কোমরে হাত রেখে গম্ভীর গলায় বললেন, “বেলা সাড়ে
তিন প্রহরে বাবুদের খাওয়ার কথা মনে পড়ল? যা গিয়ে মুখ-হাত-পা ধুয়ে আয়, আমি খাবার
বাড়ছি”।
গতকাল রাত্রে কমলিমাকে তারা যে অবস্থায় দেখেছিল –
একরাত্রেই তাঁর আমূল পরিবর্তন। একলা ঘরে যে মানুষটি শোকাচ্ছন্ন হয়ে, বেঁচে থাকার
অর্থ হারিয়ে ফেলেছিলেন – সেই মানুষটিই আজ নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন। ভল্লা আর রামালি ব্যাকুল
হয়ে তাঁর কাছে মাতৃত্বের আশ্রয় দাবি করেছিল। দাবি বললেও ভুল হবে – গায়ের জোরে সে
মাতৃত্ব তারা আদায় করার চেষ্টা করেছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাত্রের অন্ধকারে
তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলেন, ভোর হলেই তিনি ফিরে
যাবেন নিজের ঘরে। কিন্তু ভোরের আলো। স্নিগ্ধ বাতাস। গাছের
নিবিড় পাতায় পাতায় মর্মরধ্বনি। অজস্র পাখির ডাক। উঠোনে ঘুমিয়ে থাকা দুরন্ত ভল্লার
মুখ। আশৈশব মায়ের মমতা-বঞ্চিত রামালির ঘুমন্ত মুখের সরলতা। এই...এই
সমস্ত কিছু নিয়ে উদয় হচ্ছে নতুন একটি দিন...। তাঁর অন্ধকার এবং অবসন্ন মনটিও যেন জেগে উঠল। মনে হল, যেতে তো হবেই... সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। ঈশ্বর
তাঁকে জীবন দিয়েছেন, দিয়েছেন খুশি, আনন্দ এবং পাশাপাশি তীব্রতম শোকসমূহ। দেখাই যাক না, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর জন্যে
কী রেখেছেন ঈশ্বর? তার জন্যে এত তাড়াহুড়ো
কিসের?
গতকাল রামালির বাঁধা পুঁটলি খুলে তিনি কাচা শাড়ি আর গামছা নিয়ে
নিঃশব্দে পুকুরে গিয়েছিলেন। নিত্যকর্ম সেরে ফিরে এসেছিলেন জল-ভরা কলসি নিয়ে। বেড়ার
দুয়ারে জলছড়া দিয়ে তিনি ডেকেছিলেন, ভল্লা ওঠ। রামালি উঠে পড় –
আর কতক্ষণ ঘুমোবি, বাবা?
ভল্লা আর রামালি পাশাপাশি বসে খাচ্ছিল। সামনে বসে পরিবেশন করছিলেন কমলিমা। খেতে খেতে ভল্লা বলল, “রামালি কিন্তু ভালই রান্না করে, জানিস মা? ছেলের অনেক গুণ, হ্যাঁ। তবে যাই বলিস রামালি – মায়েদের হাতে রান্নার যে স্বাদ খোলে – তেমনটি হয় না”।
কমলিমা ভল্লার পাতে একটা রুটি আর একটু ব্যঞ্জন তুলে
দিয়ে বললেন, “হয়েছে, আমাকে ভালাই বুলিয়ে লাভ নেই, ভল্লা। তাড়াতাড়ি খেয়ে ওঠ – বিকেল
হতে আর বাকি নেই”।
“ওই দ্যাখ আবার রুটি দিলি? বেশি হয়ে গেল। কিন্ত আমি
বলি কি মা, তুইও আমাদের সঙ্গে বসে পড় না মা। সবাই মিলে গল্প করতে করতে খাওয়া
যাবে”।
“ঠিক। জেঠিমা, তুমিও বসে যাও – সত্যিই বেলা তো
পড়ে এল”। রামালিও বলে উঠল।
“তোদের হোক আমি খেয়ে নেব”।
ভল্লা থালা থেকে হাত তুলে নিয়ে বলল, “আমি আর খাবোই
না। তুই খেতে শুরু কর, তারপর আমিও খাবো, নয়তো এই উঠলাম থালা ছেড়ে”।
কমলিমা যেন খুব বিরক্তভরেই থালায় রুটি আর ব্যঞ্জন
বাড়লেন নিজের জন্যে। তারপর এক গ্রাস মুখ তুলে বললেন, “খুশি? সব ব্যাপারেই এমন জেদ
করিস না ভল্লা, আমার একদম ভাল্লাগে না”।
ভল্লা গম্ভীর মুখ করে বলল, “কোনটা ভাল্লাগে না,
রুটি-ব্যঞ্জন নাকি আমাদের দুজনকে?”
রাগ করতে গিয়েও হেসে ফেললেন কমলিমা – হেসে উঠল
ভল্লা এবং রামালিও।
মাঠে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ সকলের মহড়া দেখল ভল্লা। খুশিই হল ভল্লা। সকলকে ডেকে বলল, “চল আজকে আরেকবার আমাদের সেই পরিকল্পনাটা নিয়ে বসি। আজ কে আঁকবি – বাপালি আঁক – দেখি তোর কেমন মনে আছে?”
সকলে গোল হয়ে বসল মাঠের একধারে। সবার মাঝখানে
নকশা আঁকল বাপালি। ভল্লা দেখে বলল, “বাঃ একবারেই ঠিকঠাক এঁকেছিস তো! কিন্তু এখানে
একটা বিষয় জুড়তে হবে – আস্থানে আমাদের হানা দেওয়ার পর, চার কোনায় চারটে প্রহরা
স্তম্ভ খাড়া করেছে উপানু। বারো হাত উঁচু মাচাতে দাঁড়িয়ে রাত্রে চারজন চার কোনা
পাহারা দেয়। এটা আমরা জানতাম না, এখন জেনেছি। অতএব আমাদের পরিকল্পনায় কিছু
পরিবর্তন করতে হবে।
গত দুদিনের আলোচনায় আমাদের পরিকল্পনাটা মোটামুটি ঠিক
হয়েই গেছে, তবু আরেকবার খুব সংক্ষেপে আমরা সেটা আলোচনা করে নিই।
১। পূবদিকের দরজা দিয়ে আমরা ঢুকব। অতএব পূবদিকের দুই
স্তম্ভের দুই প্রহরীকে আগে মারতে হবে। কাজটা যে করবে – তার নাম এখন আমি বলব না – ধরা
যাক গোলোক। আমাদের দলের বন্ধু। আমাদের সঙ্গেই সে থাকবে।
২। এই দুই স্তম্ভে উঠে যাবে আমাদের দুজন আহোক আর কিশনা। ওরা
উঠে সব দিক দেখে সংকেত দেওয়ার পরে পূবের দরজা দিয়ে ঢোকা হবে।
৩। আমরা চারজন – সুরুল, মইলি, রামালি, আমি – পূবের দরজা
দিয়ে ঢুকে ওখানকার প্রহরীদের শেষ করব।
৪। প্রহরীদের থেকে চাবি নিয়ে দরজার তালাটা খুলে রাখব –
কিন্তু দরজাটা হাট করে খুলে রাখব না। অন্য দিকের প্রহরীরা দেখতে পেলে তারা সন্দেহ
করবে।
৫। উত্তর-পূর্ব কোনের স্তম্ভের প্রহরীকে গোলোক মারবে – স্তম্ভে উঠে যাবে মিকানি। মিকানি এবং আহোক সংকেত দিলে,
৬। ডানদিকে রক্ষীদের ঘরের দরজায় শিকল তুলে দেব – পরে সব
ঘরেরই শিকল তুলে দেব।
৭। উপানুকে – সে নিজের ঘরে বা অন্য ঘরে যেখানেই থাকুক, দরজা
খুলিয়ে তাকে শেষ করবো। তারপর আমরা সংকেত দেব।
৮। পশ্চিম দিকে রাস্তার ওপারে ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে থাকবে
বিনেশ, দীপান, অমরা, বিশুন, বিনাই, কিরপা, বিঠল আর সুদাস। ওদের একটু পিছনে ঝোপঝাড়ের
আড়ালে থাকবে আরও সাতজন। এদের কাজ হবে বিনেশদের মধ্যে কেউ আহত হলেই তার স্থানে একজন
চলে যাবে। ওদের আরও একটু পেছনে থাকবে বাকি দশজন। এদের মধ্যে থেকে দুজন সঙ্গে সঙ্গে
আহত ছেলেদের খাটুলায় তুলে – দ্রুত রওনা হয়ে পড়বে। কোথায় যাবে সে কথা পরে বলছি।
৯। আমাদের সংকেত পেলে গোলোক দক্ষিণ-পশ্চিম কোনের প্রহরীকেও মারবে এবং সেখানে উঠে যাবে বাপালি। আর গোলোক বিনেশদের সঙ্গে যোগ দেব।
১০। বাপালি আর মিকানির থেকে সংকেত পেলে বিনেশরা ঝোপের মধ্যে
থেকেই পশ্চিমের তিন বা চার - যত জনকে হয় মারবে বা গুরুতর আহত করবে। ওপর থেকে বাপালি
এবং পিছন থেকে আমরা ওদের একই সঙ্গে আক্রমণ করবো।
১১। পশ্চিম দরজার প্রহরীদের শেষ করে, আমরা বন্দীশালায় ঢুকব।
কবিরাজমশাইকে মুক্ত করে আনব। এর মধ্যে বিনেশরা
সামনে চলে আসবে। গোলোক দরজা টপকে ঢুকে চাবিটা বের করবে – ও জানে চাবি কার কাছে
থাকে। দরজা খুলে আমরা বেরিয়ে আসব। আমরা বেরিয়ে এলেই স্তম্ভের চারজনও দ্রুত নেমে এসে
আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। তারপর রণপা চড়ে আমরা নোনাপুরের দিকে নয় – যাবো অন্যদিকে। কোনদিকে
যাবো, এবং কোথায় গিয়ে আমরা গা ঢাকা দেব – সে জায়গাটা আমরা কাল দেখতে যাবো”।
কথা শেষ করে ভল্লা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
ছেলেদের কিছুটা সময় দিল, তারপর জিজ্ঞাসা করল, “কারো মনে কোন প্রশ্ন আছে?”
দীপান বলল, “কে কোথায় থাকবে যখন তুমি
নাম ধরে ধরে বললে, তখন আমার একটু রাগ হয়েছিল – আমাকে কেন তোমাদের দলে রাখলে না? তারপর
পুরোটা শুনে বুঝতে পারলাম – সবাই মিলে ভিতরে ঢুকে গুঁতোগুঁতি করে লাভের থেকে ক্ষতিই
হবে বেশি… ভেতরে বাইরে সকলের অবস্থানই সমান গুরুত্বপূর্ণ”।
ভল্লা হাসল, বলল, “তোদের প্রত্যেকের ওপরে
আমাদের প্রত্যেকের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করবে দীপান। সামান্য ভুল হলেই পুরো পরিকল্পনাটা
ভেস্তে যাবে – আমাদের অনেককেই হয়তো প্রাণ দিতে হবে। আর কেউ আহত হলে
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে সে যেন চিকিৎসা পায় – সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আমি আমার একজন ছেলেকেও হারাতে চাই না। আর কেউ কোন প্রশ্ন করবি?”
সুরুল বলল, “উপানুকে কে মারবে, ভল্লাদাদা, তুমি?”
ভল্লা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “নাঃ। সে
পুণ্য কাজটা রামালি আমায় করতে দেবে না। রামালি বলছে ও মারবে”।
সুরুল বলল, “রামালিদাদা কেন মারবে? ওর
সঙ্গে উপানুর কিসের শত্রুতা? আমি ওকে মারব না রামালিদাদা – ওর
মুখ আমি থেঁৎলে দেব – ভীলককাকাকে কীভাবে মেরেছিল আমি চোখের সামনে দেখেছি যে”।
রামালি সুরুলের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল
কিছুক্ষণ, বলল, “ঠিক আছে – তুই তোর মতো কর, আমি শুধু ওর হাত দুটো কাটবো, যে হাত দিয়ে
ও আমাদের প্রধানমশাই, ভীলককাকা, কবিরাজমশাইকে মেরেছে – সে হাতদুটো আমি নেব”।
সুরুল রামালিকে বলল,
“এইবার ঠিক হয়েছে, তারপর হতভাগা বাঁচবে কি মরবে, সে তার ভাগ্য”।
সুরুল আর রামালির এই নিষ্ঠুর আলোচনার
মধ্যে ভল্লা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করছিল অন্যান্যদের মুখভাব। বিকেলের মরা আলোয় ঠিক
বোঝা গেল না – কিন্তু সকলেরই চোয়াল শক্ত এবং সকলেই সুরুল আর রামালির মুখের দিকে তাকিয়ে
ওদের বিবাদের বিষয় শুনছিল মন দিয়ে।
ভল্লা বলল, “সুরুল, রামালি, তোদের দুজনকেই
বলছি। উপানু কিন্তু দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং ধূর্ত রক্ষী – তোরা যত সহজ ভাবছিস – ততটা সহজ
নাও হতে পারে। তোদের কারও বিপদ দেখলে আমি কিন্তু হাত চালাবো…উপানু মরবেই – কিন্তু সে
যেন মরার আগে কোন মতেই চিৎকার করে ওর রক্ষীদের সতর্ক করতে না পারে - তাতে আমরা মরবো…
মনে রাখিস”।
সুরুল বলল, “নিশ্চয়ই”। রামালি বলল, “সে
তুমি যা ভালো বুঝবে”।
“পরিকল্পনা নিয়ে আমার এখন আর কিছু বলার
নেই। কাল আবার আলোচনা…ও না কাল আমরা তো সকলে মিলে আমাদের গোপন আস্তানা দেখতে যাবো…
হ্যাঁ জায়গাটা দেখে কিছু হয়তো পরিবর্তন করতে হতে পারে। কিন্তু এখন আমি কয়েকটা ভীষণ
গুরুত্বপূর্ণ নিয়মের কথা বলব, সকলেই খুব মন দিয়ে শুনবি,
আমরা কেউ কারো নাম ধরে ডাকবো না…আমরা
সবাই সবাইকে “জুজাক” বলে ডাকবো – আমিও “জুজাকদাদা” নই – শুধু জুজাক। গোলোকেরও নাম হবে
- জুজাক। আমরা এখন থেকেই অভ্যাস শুরু করব। কেন? কোনভাবেই আমাদের আসল নাম বা পরিচয় আস্থানের কেউ যেন জানতে না পারে। ঠিক আছে?
আমরা সকলেই কালো ধুতি পড়ব। আমাদের সকলের
কোমরে গোঁজা থাকবে দা – পেটের দিকে নয় – পিঠের দিকে। শত্রু কাছাকাছি চলে এলে দা চালাতে
আশা করি তোদের অসুবিধে হবে না।
আমরা সকলেই মুখে কালিঝুলি মাখব – যাতে
আমাদের মুখগুলো চট করে কেউ মনে রাখতে না পারে।
রণপা নিয়ে আমরা সবাই যাবো – একটু দূরে
নির্দিষ্ট জায়গায় সেগুলো রেখে পায়ে হেঁটে আস্থানের কাছাকাছি যাব। ফিরে এসে সেখান থেকেই
যার যার রণপা নিয়ে দ্রুত ফিরে আসব।
চার-পাঁচটা কাঠের হাল্কা খাটুলি বানাতে হবে – কে দায়িত্ব নিবি? কবিরাজমশাইকে বয়ে আনতে হবে –
উনি হাঁটতে পারছেন না। তাছাড়া আমাদের মধ্যেও যদি কেউ আহত হয় – তাকেও ফেলে আসা যাবে
না”।
সুরুল বলল, “বুঝেছি জুজাক, আমাদের গ্রামের
ছেলেরা বানাবে – কাল দুপুরের মধ্যে দিয়ে যাবে – পাঁচখানা”।
“বাঃ। কিন্তু জুজাক – খাটুলিটা একটু অন্যরকম
বানাতে হবে – রণপা চড়ে চারজনের কাঁধে খাটুলি বওয়া সম্ভব হবে না। মাঝখানটা ঠিক থাকবে
– কিন্তু মাথার দিকটা ছোট হয়ে আসবে – যাতে একজনেরই দুই কাঁধে ঠিকঠাক বসে যায়। বোঝা
গেল? চারজন নয় – সামনে পিছনে দুজন খাটুলি কাঁধে একসাথে দৌড়বে”।
সুরুল বলল, “বুঝে গেছি, ওভাবেই বানিয়ে
দেব”।
ভল্লা বলল, “তোদের বাড়িতে পরিষ্কার পুরোনো
কাপড় আছে? পারলে কালকেই সবাই একটা করে নিয়ে আসবি। সাদা যেন না হয় – গভীর রঙ - কালো
হলে খুব ভালো। ওগুলো ছিঁড়ে মোটা ফালি করে আমরা সবাই মাথায় মুখে বাঁধব – আবার প্রয়োজনে
কারো ক্ষতও বাঁধা যাবে”।
আমাদের চলাফেরা, গোপনে বসে থাকা যতটা
নিঃশব্দে করতে পারবো, আমরা ততই নিরাপদ থাকবো। অতএব হাঁচি, কাশি,
আওয়াজ করে হাঁই তোলা, ঢেঁকুর তোলা, বাতকম্মো করা - সব নিষিদ্ধ।
ধরা যাক প্রহরী স্তম্ভে আমাদের যে জুজাক বসে আছে – সে হঠাৎ হ্যাঁচ্চো
করল – নীচেয় আমরা চমকে উঠবো, আর প্রহরীরা সতর্ক হয়ে উঠবে”।
ভল্লা একটু থেমে বলল, “আজ এই অব্দিই
থাক। বেশি দেব না, মাথা ঝিমঝিম করবে”।
রামালি বলল, “হ্যাঁ জুজাক, আমাদেরও এবার
ফিরতে হবে, বালিয়া আসবে, বড়্বলা এসে বসে থাকবে”।
ভল্লা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আস্থানের নকশাটা মুছে ফেল। বেশি রাত করিস না। বাড়ি ফিরে ঘুমটাও জরুরি। চলি রে, কাল সকালে আসব, আর একটু বেলা করে আমরা যাব আমাদের গোপন আস্তানা দেখতে”।
চলবে...