প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
দ্বিতীয় ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
তৃতীয় ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
চতুর্থ ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " শুধু _তুই .কম - পর্ব ১ "
পঞ্চম ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " স্বদেশী ডাকাত - পর্ব ১ "
সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "; "অচিনপুরের বালাই" ; " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "
এর আগের পর্ব - "শুধু _তুই .কম - পর্ব ২৬"
২৭
না সে সব কিছুই ঘটল না। আমি ওর মনের কথা বোঝার জন্যে ঘুরিয়ে
ফিরিয়ে অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। এবং আমার সঙ্গে অথবা ওর
দাদু-দিদার সঙ্গে ওর প্রাত্যহিক আচরণেও এতটুকু ব্যত্যয় লক্ষ্য করলাম না। যার থেকে
আন্দাজ করা যায় – ওর মনের মধ্যে কোন অভিমান রয়েছে, ক্ষোভ বা রাগ রয়েছে। এবার আমার
নিজের ওপরেই প্রচণ্ড হতাশা এল সুনুদা। আমি মা। আমি আমার একমাত্র সন্তানকেই বুঝতে
পারছি না। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই এগারো বছর তিনমাস, আমরা যে একসঙ্গে
রইলাম, তখনও কি বাম্বাইকে প্রকৃত অর্থে বুঝতে পেরেছিলাম? মনে হয় না। তাহলে আমি
কেমন মা?
আমি কি অত্যন্ত স্বার্থপর একজন মহিলা নই? নিজের পায়ে
দাঁড়ানোর জন্যে, এককথায় নিজের কেরিয়ার গড়ার জন্যে আমি এতটাই নিবিষ্ট হয়ে রয়েছি যে,
আমার নিজের সন্তানের সঙ্গে আমার সেভাবে কোন বন্ধনই গড়ে উঠল না?
অথবা এমনও হতে পারে বড়ো হতে হতে আমাদের সংসারের অনেক কিছুই
ও বুঝে গেছে। বহু সময়েই আমরা বয়স্করা নিজেদের মধ্যে নানান সমস্যা নিয়ে যখন কথা বলি,
সামনে বাম্বাইয়ের উপস্থিতিকে ইগনোর করেছি। ভেবেছি ও ছেলেমানুষ এসবের কী বুঝবে? আসলে
ছেলেমানুষরাও অনেক কিছু বোঝে – কখনো কখনো নিজের মতো করে বেশ গভীরেই বোঝে হয়তো। ওরা
আমাদের মতো তেমন আউপাতালেপনা করে না, কিন্তু প্রত্যেকটা ঘটনা প্রবাহ নিজের
মস্তিষ্কে সেভ করে রাখে এবং সময় সুযোগ মতো সেগুলিকে নিজের মতো বিশ্লেষণ করে থাকে।
সে বিচার-বিশ্লেষণ আমাদের মতো ঘরপোড়া গরুদের থেকে অনেকটাই আলাদা। এসবই আমার অনুমান
– ওর মনের মধ্যে কী আছে – সে কথা আমি ওর মা হয়েও জানতে পারিনি। ছেলেমানুষ বা
বাচ্চা বলে যাকে ধর্তব্যে আনিনি - হয়তো সেই হয়ে উঠেছে ম্যাচিওরড্, আমাদের সকলের
থেকে।
যাই হোক বাম্বাইয়ের বাইরে কোথাও পড়তে যাওয়ার কথাটা যখন মোটামুটি
ফাইন্যাল হয়ে উঠল। তখনই আমার মাথায় এল – কোথায়, কতদূরে, কোন স্কুলে ভর্তি করাবো, সে
কথা তো কিছুই চিন্তা করিনি। খরচই বা কত হবে, সেই ব্যয় সংকুলান করা আমার পক্ষে
সম্ভব হবে তো? তা নাহলে আমি আবার নতুন এক সঙ্কটের সম্মুখীন হব।
অতএব আবারও সেই শশাঙ্কেরই শরণাপন্ন হতে হল। শশাঙ্কর অনেক
জানাশোনা, অনেক যোগাযোগ। একদিন শশাঙ্ককে বলেই ফেললাম কথাটা।
আমার সব কথা মন দিয়ে শুনে বলেছিল, “সব দিক চিন্তাভাবনা করে
দেখে নিয়েছেন তো? এই সিদ্ধান্তের জন্যে কিছুদিন আপনার ও আপনার পুত্রের মন খারাপ
হবে, তা হোক, তাতে কোন ক্ষতি নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত যেন কখনও কোন অনুশোচনার
বিষয় না হয়ে ওঠে। তাতে যে ক্ষতি হবে – আপনাদের দুজনের পক্ষেই সেখান থেকে বেরিয়ে
আসা অত্যন্ত হতাশাজনক হয়ে উঠতে পারে”।
একটু সময় নিয়ে আমি উত্তর দিয়েছিলাম, “না, সেরকম কিছু হবে
না, আশা করি”।
শশাঙ্ক একটু চিন্তা করে বলল, “আমার এক খুড়তুতো ভাই, ক্লাস
ফাইভ-সিক্সে পড়ার সময়, পাড়ার কিছু বখাটে ছেলের পাল্লায় পড়ে ভীষণ দুরন্ত এবং অবাধ্য
হয়ে উঠেছিল। সে সময় কোন এক বন্ধুর রেকমেণ্ডেশনে আমার কাকা তাকে কার্সিয়াংয়ের এক
মিশনারি স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। প্রথম মাস দুই-তিন আমার ভাইয়ের ওখানে অ্যাডজাস্ট করতে কিছুটা
অসুবিধে হয়েছিল ঠিকই - কিন্তু আলটিমেটলি ওখানে ওর মন বসে যায়। এবং টাচ্-উড্ - ওখান
থেকে সেকেণ্ডারিতে খুব ভালোভাবেই পাশ করে কলকাতায় যখন ফিরে আসে, সে তখন একেবারেই অন্য ছেলে। দারুণ স্মার্ট, পোলাইট এবং
অবশ্যই ব্রিলিয়ান্ট। এখন সেই ছেলে জার্মানির একটি ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স পড়ায়।
আপনি চাইলে, ওই স্কুলের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করতে পারি। অ্যাডমিশন
নিয়ে মনে হয় না কোন সমস্যা হবে। আর খরচাপাতিও কলকাতার সাধারণ স্কুলের তুলনায় বেশি তো বটেই – তবে সেটা ইজিলি
অ্যাফোর্ডেব্ল্। আমার ওই ভাইয়ের রেকমেণ্ডেশন পেলে কোন দিক দিয়েই কোন অসুবিধে হবে
না। ঠিক কবে থেকে সুধন্বাকে শিফ্ট্ করাতে চাইছেন?”
“এই মিডসেশনেই ওকে ডিস্টার্ব করতে চাইছি না। নেক্সট সেশন, মানে
ক্লাস সিক্সের শুরু থেকে হলে বেটার”।
“গুড। হাতে প্রায় মাস চারেক সময় পাওয়া যাবে। আপনি ফাইন্যাল কনফার্মেশন দিলেই,
আমি সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন শুরু করে দেব”।
আমি মৃদু হেসে উত্তর দিয়েছিলাম, “ফাইন্যাল কনফার্মেশন
আপনাকে আজই দিয়ে দিলাম, শশাঙ্কবাবু। আমাদের বাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি থেকে একটু দূরত্ব
বজায় রাখলে, ওর পক্ষে মনে হয় ভালোই হবে”।
এই কথা হওয়ার দিন পনেরর মধ্যে আমার নামে অফিসের ঠিকানায় কার্সিয়াংয়ের
একটি স্কুল থেকে আমার কাছে বেশ বড়োসড়ো একটা ক্যুরিয়ার পোস্ট এল। খুলে দেখলাম, তার
মধ্যে অ্যাডমিশন ফর্ম, প্রসপেক্টাস এবং আরও কয়েকটা ব্রসিওর। তার মধ্যে স্কুলে
ভর্তি হওয়ার নিয়মকানুন যেমন ছিল, তেমনি ছিল ঝকঝকে কিছু ছবি। তার মধ্যে ছিল স্কুল
ক্যাম্পাস, প্লে-গ্রাউণ্ড, লাইব্রেরি, হস্টেল ফেসিলিটির নানান ছবি। তেমনি ছিল নানান
এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে পার্টিসিপেট করা উজ্জ্বল হাসিমুখের কিছু ছেলেমেয়ের
ছবি। আমার তো ভীষণ ভালো লাগল, আমাদের পরিচিত কলকাতার কাঠখোট্টা স্কুলের মতো নয়, যেন
স্বপ্নের দেশ। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ছবিগুলো দেখাতে বাম্বাইও খুব উত্তেজিত হয়ে উঠল। বলল,
“আমরা কবে যাবো, মা?”
ওর উৎসাহে মনে মনে আমি একটু কষ্ট পেলাম, বললাম, “দাঁড়া,
ওইসব স্কুলে ভর্তি হওয়া অত সহজ নাকি? ওখানে গিয়ে তোকে আমাকে পরীক্ষা দিতে হবে, ওদের
অনেক নিয়ম-কানুন আছে। সে সব কিছু ঠিকঠাক হলে, তবে না ভর্তি! এত তাড়া কেন বল তো, এখানকার
স্কুলে কি তোর মন টিকছে না?”
বাম্বাই খুব উদাস গলায় বলল, “তা নয়, তবে অমন সুন্দর কুয়াশা
মাখা পাহাড়ি জঙ্গল, সবুজ চা বাগান। স্কুল বিল্ডিং আর হস্টেল বাড়িগুলোও কি সুন্দর,
তাই না, মা? কলকাতায় আমার ভালো লাগছে না, মা।”
“সে কি? আমরা তো তোর বয়েসে স্কুলে যেতাম, বন্ধুদের টানে।
স্কুলবাড়ি কেমন, সেখানে টিচাররা কেমন পড়ান, সে কথা তো আমরা কোনদিন ভাবিইনি! এখানকার
স্কুলের বন্ধুদের তুই মিস করবি না?”
খুব গম্ভীর গলায় বাম্বাই বলল, “আমার এখানে কোন বন্ধু নেই,
মা”।
কথাটা শুনে আমি কেমন যেন বোবা হয়ে গেলাম। আমার মনে হল, আমার
জীবনটাই হয়তো এর জন্যে দায়ী। বাল্যাবস্থায় পরিবারের বাইরে একটি ছেলে বা মেয়ের কাছে
প্রথম বহির্জগৎ তো তার স্কুল। স্কুল বাড়ি, তার সামনে ছুটোছুটি করার জন্যে একটা
প্রশস্ত অঙ্গন। অঙ্গনের সীমানা ধরে কিছু কিছু গাছপালা। স্কুলের মাস্টারমশাই বা
দিদিমণিরা, শিক্ষাকর্মীরা। এবং সবার উপরে থাকে বহু সংখ্যক সহপাঠী এবং তাদের মধ্যে অন্ততঃ
সাত-আটজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই সব নিয়েই প্রায় আমৃত্যু আমরা বহন করে চলি আমাদের বাল্য
এবং শৈশবের অজস্র সুখস্মৃতি। আমার মায়ের মুখে শুনেছি। আমার বাবার মুখে শুনেছি। আমিও
সেই সুখস্মৃতি থেকে বঞ্চিত নই। বাম্বাইয়ের ক্ষেত্রে কি সেরকমটা ঘটেনি?
অথচ আমি তো কোনভাবেই টের পাইনি এতদিন। মনে পড়ল, ওর মুখে ওর
স্কুলের বন্ধুদের কথা, টিচারদের কথা, ক্বচিৎ কখনো শুনেছি। মনে পড়ল বাম্বাই গরমের
বা পুজোর ছুটিতে কোনদিন কোন বন্ধুর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্যে বায়না করেনি। ওর
বন্ধুদের মধ্যেও কেউ কোনদিন আমাদের বাড়ি আসেনি। অবশ্য একথাও ঠিক, দশ-এগারো বছর বয়সে স্কুলের বন্ধুদের
সঙ্গে নিজস্ব সময় কাটানোর বোধ আসে না। সেটা আসে ক্লাস এইট-নাইন থেকে।
অবশ্য শৈশবের পাড়ার সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গেও বাম্বাইয়ের বন্ধুত্বের
সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। সেটার কারণ অবশ্যই আমি। ডিভোর্সের পর আমাদের পাড়াতে আমি রীতিমতো
খ্যাতিময়ী মহিলা হয়ে উঠেছিলাম, আর সেই কারণেই আমার মনের মধ্যে একটা ভীতি ছিল। এই ভয়টা মনে কেন এসেছিল, তার কারণটাও বলি। বাবার সঙ্গে পথে
ঘাটে, অথবা বাজারে সমবয়সী প্রতিবেশীদের দেখা হলেই, তাঁরা বাবাকে নাকি গায়ে পড়ে প্রশ্ন
করতেন, “আপনার কন্যা এখন কী করছে?”
“চাকরি করছে, প্রাইভেট একটা কোম্পানিতে”।
“অ, চাকরি করছে? বেশ বেশ, তা ভালই করেছে। তাহলে তো বিয়ে-থা
হতে আর অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। আজকের যুগেও যতই আমরা নিজেদের মডার্ন বলে ক্লেম করি না
কেন, বিধবা আর ডিভোর্সি পাত্রীকে কোন পরিবারই সংসারে ঢোকাতে চায় না। তবে পাত্রী রোজগেরে
হলে, তার কদর একটু বাড়ে...”। বাবা যতই ব্যস্ততা দেখিয়ে, সেই ভদ্রলোককে এড়িয়ে যাওয়ার
চেষ্টা করুন না কেন, ওই ভদ্রলোকরা তাঁদের হিতাকাঙ্ক্ষা আর উপদেশের ভাণ্ডার নিঃশেষ
না হওয়া পর্যন্ত বাবাকে ছাড়তেন না। এসব কথা বাবা সরাসরি আমাকে কোনদিন বলেননি, মাকে
বলতেন। আমি শুনেছি মায়ের কাছে।
এই কারণেই আমার মনে হত,
পাড়ার বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে দিলে, অথবা প্রতিবেশীর বাড়িতে খেলতে পাঠালে, কেউ যদি কিছু
বলে! ওর মায়ের সম্পর্কে অবান্তর ও মনগড়া প্রশ্ন বা মন্তব্য শুনে বাম্বাইয়ের মন আমার
এবং আমার পরিবারের প্রতি যদি প্রতিকূল হয়ে ওঠে!
সব মিলিয়ে সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম, আশৈশব কলকাতায় থেকেও বাম্বাইয়ের
সেই অর্থে কোন বন্ধু হয়নি – না পাড়ায়, না স্কুলে। এবং সেই অভাবটা টের পেয়েই বাম্বাই
আমার প্রথম প্রস্তাবেই বাড়ি ছেড়ে দূরের স্কুলে পড়তে যেতে অনাগ্রহী হয়নি।
অতএব বাম্বাইয়ের সঙ্গ ছাড়া হয়ে থাকার ব্যাপারে আমার মাতৃ
হৃদয়ে যেটুকু দ্বিধা অবশিষ্ট ছিল, সেটুকুকেও বর্জন করলাম রাশি রাশি দীর্ঘশ্বাস
ফেলে। এবং খুব আন্তরিক ভাবেই কার্সিয়াংয়ের স্কুলে অ্যাডমিশনের ব্যাপারে আর এতটুকু
আলস্য করলাম না।
প্রচুর লটবহর নিয়ে ও বাম্বাইয়ের হাত ধরে, এপ্রিলের প্রথম
সপ্তাহে শশাঙ্কর সঙ্গে আমি যেদিন রওনা হয়েছিলাম, নিজের বুকের মধ্যে শেকড় ছেঁড়ার
শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম। আর তার যন্ত্রণাটা সহ্য করেছিলাম মুখ বুজে নীরবে। অবশ্য এর
আগেও আমরা আরও তিনবার গিয়েছিলাম। প্রথমবার গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ দিতে, সেবারও
শশাঙ্ক ছিল সঙ্গে। আর পরের দুবার আমি একলাই গিয়েছিলাম বাম্বাইকে নিয়ে। কোনবারই
ফ্লাইটে যাইনি, গিয়েছিলাম ট্রেনে – দার্জিলিং মেল, অথবা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।
ফ্লাইটটা তখন অ্যাভয়েড করেছিলাম, দুটো কারণে – প্রথমতঃ খরচের সাশ্রয়। স্কুলের
অ্যানুয়াল ফিজ ছাড়াও আনুষঙ্গিক খরচ কত হতে পারে সে ধারণা ছিল না, তাই সাবধানী
পদক্ষেপ। আর দ্বিতীয়তঃ বাম্বাইয়ের জীবনের শুরুতেই প্লেনে চড়ার অভ্যেস বানিয়ে তোলার
পক্ষপাতী আমি ছিলাম না। আসলে আমি নিজেও তখনও কোনদিন প্লেনে চড়িনি, কাজেই প্লেনে
চড়ার রহস্য ও আনন্দটা - ওর এবং আমার দুজনেরই - ভবিষ্যতের জন্যে তুলে রাখলাম।
আজও আমি মনে করি বিদেশ বা বহুদূরের যাত্রা না হলে অথবা
সময়াভাব না থাকলে, প্লেনে চড়াটা বিলাসিতার নামান্তর। আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা
সমূহের মধ্যে ট্রেন জার্নির মতো স্বস্তি আর কোথাও পাইনি। আট-দশ ঘন্টার জার্নিতে -
বসে, শুয়ে, হেঁটে-চলে বেড়িয়ে, বই-টই পড়ে, জানালার বাইরের নানান শহর-গ্রাম-প্রান্তর
দেখতে দেখতে, নিজের দেশকে জানতে জানতে, অথবা গভীর আলস্যে ঘুমোতে ঘুমোতে এমন পথ চলার
আনন্দ ট্রেন ছাড়া কোথায় পাব বলো তো সুনুদা?
তোমার কনি।
চলবে...