এই সূত্রে - " ঈশোপনিষদ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "
একাদশ অধ্যায়ঃ বিশ্বরূপদর্শনযোগ
|
১ |
অর্জুন
বললেন – আমাকে অনুগ্রহ করে অতিগুহ্য যে পরম অধ্যাত্মতত্ত্ব তুমি আমাকে বর্ণনা
করলে, তাতে আমার মনের সমস্ত ভ্রম দূর হয়ে গেছে।
|
||
|
২ |
হে
পদ্মপলাশলোচন, তোমার থেকেই সমস্ত জীবের জন্ম ও বিনাশ এবং তোমার অপার অক্ষয়
মাহাত্ম্যের অনেক কথাই সবিস্তারে শুনলাম।
|
||
|
৩ |
হে পরমেশ্বর, যেমন তোমার আত্মস্বরূপের তত্ত্ব আমার কাছে প্রকাশ করলে, সেই রকম তোমার অলৌকিক ঈশ্বরীয়রূপও আমার দেখতে ইচ্ছে হয়।
|
||
|
৪ |
হে
প্রভু, যদি আমাকে তোমার সেই রূপ দেখানোর যোগ্য বলে মনে করো, তাহলে হে যোগেশ্বর,
তোমার সেই অবিনাশী বিশ্বাত্মারূপ আমাকে দেখাও।
|
||
|
৫ |
শ্রীভগবান
বললেন- হে অর্জুন, আমার নানান প্রকারের, বিভিন্ন বর্ণ ও আকারের, শতশত,
সহস্রসহস্র অলৌকিক রূপ তুমি দর্শন করো। |
||
|
৬ |
হে ভরতকুলশ্রেষ্ঠ,
এই দেখ, দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, দুই অশ্বিনীকুমার এবং এই ঊণপঞ্চাশ
মরুৎ। অত্যন্ত আশ্চর্য এই দৃশ্য, যা আগে কেউ দেখেনি, তুমি দেখ। [পুরাণে ও মহাভারতে আছে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মহামহিম বিশ্বরূপ আরও দুবার দেখিয়েছেন। প্রথমবার তাঁর শৈশবে যশোদামাতাকে। তারপর উদ্যোগ পর্বে তিনি যখন কৌরব রাজসভায় গিয়েছিলেন সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে, উদ্ধত দুর্যোধন তাঁকে বন্দী করতে উদ্যত হওয়ায়, ক্রুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণ সভায় উপস্থিত সকলকে তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত এবং স্তম্ভিত করে দিয়েছিলেন। তবে সেই দুই রূপই ছিল আংশিক। কারণ পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী - শিশু কৃষ্ণের মুখ গহ্বরে সূর্য-চন্দ্র সহ সকল ব্রহ্মাণ্ড দর্শন করেছিলেন মাতা যশোদা - সে দৃশ্য মঙ্গলময়। আর ধৃতরাষ্ট্রের রাজসভায় দেখিয়েছিলেন তাঁর ভয়াল করাল রূপ - যেটুকু সেই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু অর্জুন দেখলেন তাঁর পূর্ণ বিশ্বরূপ - যে রূপ অদৃষ্টপূর্ব - আগে কেউ কখনও দেখেনি।] |
||
|
৭ |
হে
জিতনিদ্র অর্জুন, এই দেখ, আমার এই দেহের অঙ্গরূপে জগতের সকল স্থাবর ও জঙ্গম
একইসঙ্গে অবস্থিত, আরও যা কিছু দেখতে তোমার ইচ্ছা হয়, আজ দেখে নাও। |
||
|
৮ |
তোমার এই
জাগতিক চোখ দিয়ে তুমি কিন্তু আমার অলৌকিকরূপ দেখতে পারবে না, তোমার দুই চোখে আমি
দিব্য দর্শনের শক্তি সঞ্চার করব, যাতে তুমি আমার যোগ ঐশ্বর্যের স্বরূপ দেখতে
পাও। |
||
|
৯ |
সঞ্জয় বললেন – হে রাজা ধৃতরাষ্ট্র, এই কথা বলে মহাযোগেশ্বর শ্রীহরি, পার্থকে তাঁর অনুপম ঐশ্বরিক রূপ দেখালেন।
|
||
|
১০ |
অনেক মুখ
ও চোখ, অনেক অদ্ভূত দর্শন আকার, অনেক দিব্য অলংকারে সজ্জিত, অনেক উদ্যত দিব্য
অস্ত্রশস্ত্র খচিত অদ্ভূত সেই রূপ। |
||
|
১১ |
দিব্য
মালা ও বস্ত্র পরিহিত সেই অঙ্গ, দিব্য গন্ধে সংলিপ্ত, অত্যন্ত আশ্চর্যজনক সেই
রূপ দেবদ্যুতিময়, অনন্ত এবং সর্ববিশ্বব্যাপী।
|
||
|
১২ |
আকাশে যদি
হাজারটা সূর্য একসঙ্গে উদয় হয়, তাদের সেই একত্র প্রভা আর দীপ্তির সঙ্গে, ভগবানের
এই প্রভার তুলনা করা যেতে পারে। |
||
|
১৩ |
তারপর,
পাণ্ডুপুত্র অর্জুন, সেই অলৌকিক দেহে সমস্ত দেবতাদের বিভিন্নরূপ, নানান ভাগে
বিভক্ত তাঁর সেই অনুপম শরীরে সমস্ত বিশ্বকেই একত্র দেখতে পেলেন। |
||
|
১৪ |
এই দৃশ্য দেখে অর্জুন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে, তাঁর শরীরে রোমাঞ্চ অনুভব করলেন, তারপর নতমস্তকে প্রণাম করে, সেই বিশ্বরূপধারী ভগবানকে করজোড়ে বললেন।
|
||
|
১৫ |
অর্জুন
বললেন – হে দেব, আপনার এই বিশ্বরূপময় দেহে, আমি সমস্ত দেবতা, এই চরাচর বিশ্ব,
সকল ঋষি, সকল নাগ, এমনকি পদ্মাসনে উপবিষ্ট ব্রহ্মাকেও দেখতে পাচ্ছি।
|
||
|
১৬ |
অনেক
বাহু, অজস্র উদর, মুখ ও চোখ বিশিষ্ট আপনার এই সীমাহীন রূপ সবদিকেই দেখতে পাচ্ছি।
হে বিশ্বেশ্বর, আপনার বিশ্বরূপে আদি, মধ্য অথবা অন্ত কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
|
||
|
১৭ |
মাথায়
মুকুট, হাতে গদা ও চক্র নিয়ে উজ্জ্বল তেজে আপনি এমনই দীপ্তিমান, আপনার দিকে তাকিয়ে
থাকা যায় না। জ্বলন্ত অগ্নি ও সূর্যের মতো উজ্জ্বল প্রভাময় আপনার এই রূপ একইভাবে
সর্বত্র দেখতে পাচ্ছি। |
||
|
১৮ |
আপনি
অক্ষর ব্রহ্ম, আপনিই পরমজ্ঞান। আপনি এই সমগ্র বিশ্বের পরম আশ্রয়। অনন্তকাল ধরে,
আপনি সনাতন ধর্মের রক্ষক। আমার বিশ্বাস, আপনিই সেই সনাতন পরম পুরুষ। |
||
|
১৯ |
আমি দেখছি, আপনার কোন আদি, মধ্য ও শেষ নেই। অনন্ত আপনার শক্তি, অসংখ্য আপনার বাহু, চন্দ্র ও সূর্য আপনার দুই চোখ, জ্বলন্ত আগুনের মতো দীপ্ত আপনার মুখ। নিজের তেজ দিয়ে আপনি সমস্ত বিশ্বকে সংযত রেখেছেন।
|
||
|
২০ |
হে ভগবান,
স্বর্গ থেকে মর্ত্য এবং তার মধ্যবর্তী সমস্ত ভুবনে এমনকি দশ দিকের সর্বত্র,
একমাত্র আপনিই ব্যাপ্ত রয়েছেন। আপনার এই আশ্চর্য উগ্র রূপ দেখে তিন ভুবনের সমস্ত
জীব অত্যন্ত ভয় পাচ্ছে।
|
||
|
২১ |
অমৃতের
অধিকারী সকল দেবতারা সমবেতভাবে আপনার মধ্যেই শরণ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ
ভয় পেয়ে, করজোড়ে আপনার গুণকীর্তন করছেন। মহর্ষি ও সিদ্ধজ্ঞানীজনেরাও সমবেতভাবে
‘স্বস্তি’ বচন করছেন এবং প্রচুর স্তুতিবাক্যে আপনার স্তব করছেন। |
||
|
২২ |
রুদ্র,
আদিত্য ও সমস্ত বসুগণ, সাধ্য নামক দেবগণ, বিশ্ব নামক দেবতাগণ, দুই অশ্বিনীকুমার,
সমস্ত মরুৎগণ ও পিতৃগণ, গন্ধর্ব, যক্ষ, অসুর, সিদ্ধ মুনিগণ সকলেই আশ্চর্য হয়ে
আপনার এই রূপ দর্শন করছেন। |
||
|
২৩ |
হে
মহাবীর, আপনার এই বিগ্রহে বহু মুখ, বহু নয়ন, অনেক হাত, উরু ও অনেক পা, অনেক উদর
এবং অজস্র দাঁত, আপনার এই মহাকরাল রূপ দেখে সমস্ত জীব এবং আমিও অত্যন্ত ভয়
পাচ্ছি।
|
||
|
২৪ |
হে
বিষ্ণু, আকাশচুম্বী, ভীষণ দ্যুতিময়, নানান বর্ণময়, ব্যাদিত মুখ আর আপনার ওই
উজ্জ্বল চোখের দিকে তাকিয়ে, আমার অন্তর অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। না আমি ধৈর্য রাখতে
পারছি, আর না পাচ্ছি শান্তি।
|
||
|
২৫ |
হে
দেবেশ, আপনার ভয়ংকর ঐ দন্তরাজি আর কাল-অগ্নির মতো মুখের দিকে তাকিয়ে আমরা
দিশাহারা হয়ে পড়ছি, এতটুকুও শান্তি পাচ্ছি না, আপনি প্রসন্ন হোন কারণ আপনিই
জগন্নিবাস, এই জগতের আশ্রয়।
|
||
|
২৬-২৭ |
ধৃতরাষ্ট্রের
সমস্ত পুত্র এবং তাদের সহযোগী রাজন্যবর্গের জোট, এমনকি ভীষ্ম, দ্রোণ এবং
সূতপুত্র কর্ণের মতো বীরেরা এবং আমাদের পক্ষেরও অনেক প্রধান যোদ্ধা, দ্রুতবেগে
দৌড়ে আপনার মুখের বীভৎস দাঁতের ভয়ানক গ্রাসে প্রবেশ করছে, তাদের মধ্যে কাউকে
দেখতে পাচ্ছি, ভাঙা মাথা, খন্ডিত দেহে আপনার দাঁতের ফাঁকে আটকে রয়েছে। |
||
|
২৮ |
যেমন
নদীসমূহের অজস্র জলধারা সমুদ্রের অভিমুখে গিয়ে, সমুদ্রেই প্রবেশ করে, তেমনই এই
বীরপুরুষেরাও, নিজেদের মৃত্যুর জন্যেই, সর্বদা জ্বলতে থাকা আপনার মুখবিবরে
প্রবেশ করছে। |
||
|
২৯ |
পতঙ্গ
যেমন মরবার জন্যেই জ্বলন্ত আগুনের দিকে প্রবল বেগে দৌড়ে যায়, সেইরকম এই লোকগুলিও
মৃত্যুর কারণেই আপনার মুখ গহ্বরের দিকে তীব্রগতিতে ধাবমান। |
||
|
৩০ |
ধৃতরাষ্ট্রের
পুত্রগণ ও অন্য সকলকে গ্রাস করার জন্যে চারদিকে আপনার জ্বলন্ত মুখের লেলিহান শিখা
লকলক করছে, হে বিষ্ণু আপনার তীব্র তেজপ্রভায় ব্যাপ্ত এই সমগ্র জগৎ সন্তাপিত
হচ্ছে।
|
||
|
৩১ |
হে
দেবশ্রেষ্ঠ, আপনাকে প্রণাম করি, আপনি প্রসন্ন হোন, আর আমাকে বলুন আপনার এই
উগ্ররূপের স্বরূপ কি? এই জগতের আদিপুরুষ, আপনাকে আমি জানতে চাই। আপনার এই
প্রচেষ্টার তাৎপর্যও আমি বুঝতে পারছি না। |
||
|
৩২ |
শ্রীভগবান
বললেন- আমিই লোক ধ্বংসকারী প্রবৃদ্ধ কাল। আমি এখন লোকসংহারের কাজেই প্রবৃত্ত
হয়েছি। তুমি যদি যুদ্ধ নাও করো, অর্জুন, তবু তোমার বিপক্ষদলের বীর যোদ্ধারা কেউ
বাঁচবে না। |
||
|
৩৩ |
অতএব,
তুমি যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হও, যশ লাভ করো, শত্রুদের হারিয়ে রাজ্য ও সমৃদ্ধি
অর্জন করো। তোমার বিপক্ষের যোদ্ধারা আমার হাতে আগেই মারা গিয়েছে, হে সব্যসাচী,
এখন তুমি শুধু উপলক্ষ হও।
|
||
|
৩৪ |
দ্রোণ,
ভীষ্ম, জয়দ্রথ, কর্ণ এবং অন্যান্য বীর যোদ্ধাদের আমি আগেই হত্যা করেছি। তুমি সেই
মৃতদের হত্যা করো। ভয় পেয়ো না, দুঃখ ক’রো না, যুদ্ধে তুমিই শত্রুদের জয় করবে,
অতএব যুদ্ধ করো।
|
||
|
৩৫ |
সঞ্জয়
বললেন – শ্রীকৃষ্ণের এই কথা শুনে, কম্পিত কলেবর অর্জুন, ভয়ে ভয়ে করজোড়ে প্রণাম
করলেন, তারপর গদগদভাবে শ্রীকৃষ্ণকে আবার বললেন,
|
||
|
৩৬ |
অর্জুন
বললেন - হে হৃষীকেশ, আপনার মাহাত্ম্য বর্ণনায় সমস্ত জগত আনন্দ পায় এবং আপনার
প্রতি অনুরক্ত হয়। রাক্ষসেরা ভয় পেয়ে দিকে দিকে পালিয়ে যায় এবং সিদ্ধযোগীরা
আপনাকে নমস্কার করেন। এই সবই যুক্তিযুক্ত। |
||
|
৩৭ |
মহাত্মা
জনেরাও আপনাকে কেন নমস্কার করবেন না? হে অনন্ত, হে দেবেশ, হে জগন্নিবাস, আপনি
ব্রহ্মের থেকেও মহান এবং জগতের আদি কারণ। সৎ ও অসৎ এবং এই দুইয়ের অতীত যে অক্ষর
সে সবই আপনি। [যা কিছু
ব্যক্ত, তাই সৎ; যা অব্যক্ত তাই অসৎ] |
||
|
৩৮ |
হে
অনন্তরূপ, আপনিই আদিদেব, আপনিই চিরন্তন পুরাণপুরুষ, আপনিই এই বিশ্বের পরম অন্তস্থান,
আপনিই সর্বজ্ঞ জ্ঞানী এবং আপনিই আরাধ্য জ্ঞান। আপনিই পরম আশ্রয় স্বরূপে এই
বিশ্বের সর্বত্র ব্যাপ্ত রয়েছেন।
|
||
|
৩৯ |
আপনিই
বায়ু, যম, অগ্নি, আপনিই বরুণ, শশাঙ্ক। আপনিই প্রজাপতিরূপ লোকপিতা, আপনি পিতামহ
ব্রহ্মেরও পিতাস্বরূপ। অতএব আপনাকে প্রণাম করি। আবার প্রণাম করি।
আপনাকে
বার বার, সহস্রবার প্রণাম করি। |
||
|
৪০ |
সমস্ত
জীবের আত্মা স্বরূপ, হে সর্বাত্মা, আপনার সামনে প্রণাম, আপনার পিছনে প্রণাম,
আপনার সমস্ত দিকে সর্বদা প্রণাম। হে অনন্তবীর্য, আপনার সীমাহীন শক্তিতে আপনি
সমস্ত বিশ্বে ব্যাপ্ত রয়েছেন, অতএব আপনিই সর্বস্বরূপ।
|
||
|
৪১ |
আপনার এই
বিশ্বরূপ ও মহিমা সম্পর্কে আমার কোন ধারণা না থাকায়, আপনাকে আমি মনের ভ্রমবশতঃ
কিংবা আপনার প্রতি একান্ত ভালোবাসাবশতঃ আপনাকে বন্ধু চিন্তা করে, কখনো হে কৃষ্ণ,
হে যাদব, হে সখা, এই রকম অবিনীত সম্বোধনে ডেকেছি, |
||
|
৪২ |
হে
অচ্যুত, ভ্রমণকালে, শয়নকালে, অবসরকালে, ভোজনকালে, আপনার সামনে কিংবা আপনার
আড়ালে, আপনার সঙ্গে একান্তে অথবা সকলের মাঝখানে পরিহাসছলে আপনার যে অমর্যাদা
করেছি, হে অপ্রমেয়, তার জন্যে আমি ক্ষমা চাইছি। |
||
|
৪৩ |
হে
অসীমপ্রভাব, আপনি এই জগত ও এই চরাচরের স্রষ্টা পিতা। আপনি পূজনীয় এবং গুরুরও
গুরু। ত্রিলোকে আপনার সমতুল্য কেউ নেই, অন্যত্রই বা আর কে আছে? |
||
|
৪৪ |
হে দেব,
আপনিই জগতের আরাধ্য ভগবান, অতএব, আমি আপনাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি, আপনি আমার
উপর প্রসন্ন হোন এবং পিতা যেমন পুত্রের, বন্ধু যেমন বন্ধুর, পতি যেমন পত্নীর,
তেমনি আপনিও আমার অপরাধ ক্ষমা করুন। |
||
|
৪৫ |
হে দেব, আগে
কোনদিন না দেখা আপনার এই রূপ দেখে আমি যেমন আনন্দ পেয়েছি, তেমনি অত্যন্ত ভয়ে মনে
যন্ত্রণা অনুভব করছি। হে দেবেশ, হে জগতের আশ্রয়, জগন্নিবাস, আপনি আপনার সেই
আগেকার রূপেই আমাকে দর্শন দিন, আপনি প্রসন্ন হোন।
|
||
|
৪৬ |
মাথায়
মুকুট, হাতে গদা ও চক্র নিয়ে আপনার সেই আগের রূপই আমি দেখতে চাই। আপনার এই
সহস্রবাহু বিশ্বরূপ নয়, আপনি আবার সেই চতুর্ভুজ রূপই ধারণ করুন। [ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ সাধারণের কাছে দ্বিভুজ রূপে দেখা দিলেও, তাঁর মহাভক্তসখা অর্জুন তাঁকে
চতুর্ভুজ রূপেই দেখতে পেতেন।] |
||
|
৪৭ |
শ্রীভগবান
বললেন- হে অর্জুন, তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েই, আমার অলৌকিক যোগপ্রভাবে, আমি
তোমাকে আমার এই তেজস্বী, বিশ্বব্যাপী, অনন্ত আদি, পরম স্বরূপ দেখালাম। তুমি ছাড়া
এর আগে আমার এই রূপ আর কেউ দেখে নি।
|
||
|
৪৮ |
হে
কুরুশ্রেষ্ঠ, বেদপাঠ, যজ্ঞের অনুষ্ঠান, দান, অগ্নিহোত্র ক্রিয়া, কঠোর তপস্যা
করেও নরলোকে আমার এই রূপ তুমি ছাড়া অন্য কেউ প্রত্যক্ষ করতে সমর্থ হয় নি।
|
||
|
৪৯ |
আমার এই
ভয়ংকর বিশ্বরূপ দেখে তুমি কষ্ট পেও না, ব্যাকুল হয়ো না। মন থেকে ভয় দূর করো,
প্রসন্ন চিত্ত হও, আমার আগেকার রূপ দর্শন করো। |
||
|
৫০ |
সঞ্জয়
বললেন- অর্জুনকে এই কথা বলে, বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ আগেকার নিজ মূর্তিতেই আবার দর্শন
দিলেন। তাঁর মহান সৌম্যমূর্তি দেখিয়ে,
অর্জুনের মন থেকে ভয় দূর ক’রে, তাকে আশ্বস্ত করলেন। |
||
|
৫১ |
অর্জুন
বললেন – হে জনার্দন, তোমার এই সৌম্য মানব রূপ দেখে এখন আমি প্রকৃতিস্থ হলাম, আমি
আমার মনে শান্তি ও প্রসন্নতা অনুভব করছি।
|
||
|
৫২ |
শ্রীভগবান
বললেন- তুমি আমার এই যে অতি দুর্লভ বিশ্বরূপ প্রত্যক্ষ করলে, দেবতারাও সর্বদা
আমার এই রূপ দেখতে অভিলাষ করেন।
|
||
|
৫৩ |
আমার
স্বরূপ তুমি যেমন প্রত্যক্ষ করলে, শুধুমাত্র বেদ পাঠ ক’রে, তপস্যা ও দানধ্যান ক’রে
কিংবা হোম, যা্গ, যজ্ঞ ক’রে আমার এই বিশ্বরূপ প্রত্যক্ষ করার যোগ্য হওয়া যায়
না।
|
||
|
৫৪ |
হে
অরিদমন অর্জুন, শুধুমাত্র একনিষ্ঠ অনন্য ভক্তি দিয়েই আমাকে জানা, আমার স্বরূপ
প্রত্যক্ষ দর্শন করা এবং শেষে আমার আত্মাতেই বিলীন হওয়া সম্ভব। |
||
|
৫৫ |
হে
পাণ্ডব, যিনি আমার উদ্দেশেই কাজ করেন, আমার শরণাপন্ন হন, আমার ভক্ত হয়ে সমস্ত আসক্তি
থেকে মুক্তি পান এবং সর্বভূতে যাঁর কোন শত্রুভাব নেই, তিনিই আমাকে লাভ করতে
পারেন। |
|
| |
বিশ্বরূপদর্শনযোগ সমাপ্ত পরের পর্ব পাশের সূত্রে " গীতা - ১২শ পর্ব " |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন