হায়ার
সেকেণ্ডারির রেজাল্ট বের হবার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ায় ভাসতে থাকা স্বপ্নের বুদবুদটি
ফেটেই গেল। একদম নিঃশব্দে। কিন্তু বড়ো ব্যথা দিয়ে গেল ফেটে যাওয়ার কালে। শূণ্যে
ভাসতে থাকা হাল্কা শরীরটা যে মোটেই হাল্কা নয়, টের পাওয়া গেল মাটিতে সপাট আছাড়ে।
জয়েন্টের ফলও তথৈবচ। কাজেই যে
রসায়নবিদ্যার থেকে কোন রস আমি নিংড়ে বের করতে পারিনি কোনদিন, সেই রসায়নেই সসম্মান
স্নাতক হবার জন্যে কলেজে দাখিল হলাম। যাদেরকে এই দুবছর অনেক তুচ্ছতাচ্ছিল্য
করেছিলাম “ভালো ছেলে” বলে, তারা দিব্যি ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার হবার “চরম” সাফল্যের
পথে ঢুকে পড়ল। আর আমার সান্ত্বনার মধ্যে রইল “একবার না পারিলে দেখ শতবার”
আপ্তবাক্যখানি।
কাজেই
প্রস্তুত হতে থাকলাম। এবং প্রথম বারের ভুল ভ্রান্তি কিছুটা শুধরে একই পথের সন্ধান
জুটে গেল পরের বার। লাভের মধ্যে হাল্কা হওয়া গেল বেশ খানিকটা। মনের মধ্যে যে অলীক
স্বপ্ন আর অদ্ভূত দর্পের দায় জমে উঠেছিল ভীষণ বোঝা হয়ে, সে সব পড়ল খসে। রসায়নের
সম্মান ছেড়ে পোঁটলা আর ব্যাগ নিয়ে রওনা হয়ে পড়লাম ইঞ্জিনীয়ার হওয়ার হস্টেলের দেশে।
প্রথম
দিন লটবহর নিয়ে সরাসরি কলেজে জয়েন করতে হল। কলেজে অ্যাডমিশান, হস্টেল অ্যালটমেন্ট,
ইন্ট্রোডাকসন এইসব করতে করতে বিকেল গড়িয়ে গেল। সারা রাতের ট্রেন জার্নি সেরে বাস
জার্নি, তারপর সারাটা দিন কলেজের কাজকম্ম সেরে বিকেলের দিকে রুমে গিয়ে থিতু হব
ভাবছিলাম, কিন্তু হস্টেলে ঢোকার মুখেই ডাক এল - “অ্যাই, ছানা, কি নাম রে তোর”?
প্রথম
সম্বোধনেই চিত্ত চমকে উঠল। প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া আমরা সবাই ছানা। যতদিন র্যাগিং
চলবে আমাদের কোন ব্যক্তিগত নাম নেই, আমাদের একটাই নাম – ছানা। ছানা হিসেবে
পরিচয়পর্ব শুরু হল হস্টেলের মেন গেটে। সঙ্গের লটবহর হাতছাড়া হয়ে পৌঁছে গেল আমার
নির্দিষ্ট রুমে, কিন্তু রুমে যাওয়ার অনুমতি মিলল না। কতদিন চলবে এই র্যাগিং –
সঠিক কেউ বলতে পারে না। কেউ বলে একমাস, কেউ বলে দুমাস, কেউ বলে পুরো ফার্স্ট ইয়ার!
”কেমন লাগছে রে জায়গাটা”? পাঁচ-ছজন সিনিয়ারের একটি গ্রুপের
একজন জিগ্যেস করল।
”বেশ জায়গা, ভালই লাগছে”। ভয়ে ভয়ে বললাম আমি।
”মাঠে কি সুন্দর গরু চড়ছে, বল”?
”হুঁ”।
”গরু চড়া দেখেছিস, এর আগে, কলকাতায় বাড়ি না তোর”?
”হুঁ”।
”কোথায়”?
”দেশের বাড়িতে, বর্ধমান জেলায়”।
”গুড। তবে তো তুই সব জানিস। তাহলে যা, ওই যে গরুটা, বাঁদিকে
শামলা রংযের – ওর পোঁদে একটা চুমু খেয়ে আয়”।
উক্ত গরুটিকে লক্ষ্য করলাম, বেশ নোংরা এবং পিছনে চাপ চাপ
শুকনো গোবর লেগে আছে তার লোমের গোড়ায়। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম, আর অবাক হয়ে
দেখতে লাগলাম আমার সিনিয়ারদের।
”কি রে, যাবি না? দাঁড়িয়ে কী দেখছিস”?
আমি চুপ করে দাঁড়িয়েই রইলাম। আমার হাতে কাঠের টি ছিল, সেই
সিনিয়ার সেটা নিল আমার হাত থেকে, বলল
“কোথা থেকে কিনলি এটা? কলকাতা থেকে”?
”হুঁ”। এই টি-টা আমি বাড়িতে যেদিন কিনে আনলাম, মা খুব খুশি
হয়েছিলেন, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেছিলেন, ছেলের ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ওঠার গর্বে উজ্জ্বল তাঁর
মুখটি আমার মনে পড়ল।
”এখানে পাওয়া যায় না”?
”জানি না। লেখা ছিল এ গুলো কলেজে আসার সময় আনতে হবে।”
”কলকাতার মাল যখন ভালই হবে, কি বলিস, দেখব ট্রাই করে”? বলে
সে দু হাতে সেটাকে ধরল ঠিক লাঠির মতো, উদ্যত হল আমাকে মারতে। বলল, ”যা বললাম করবি,
নাকি এটা তোর ওপর ট্রাই করব, কতক্ষণে ভাঙে”।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একজন সুস্থ ছেলে, কোন কারণ ছাড়া এমন একটা কাজ কেনই বা করতে বলছে আর সেটা না করলে সে মারবে? এতে সে মজা পাবে, তার রগড় হবে খুব? আদৌ সুস্থ কি – অন্ততঃ মানসিক দিক থেকে? তার চোখ দেখে মনে হল না, সে নিছক ভয় দেখাচ্ছে। আমি চিন্তা করে দেখলাম, বিকৃত মস্তিষ্ক এই ছেলেটার হাতে মার খাওয়ার চেয়ে, গরু অনেক নিরাপদ। কাজেই এগিয়ে চললাম।
হস্টেলের মাঠে বেশ কটা গরু চড়ছিল। তার মধ্যে ছিল সেই শামলা
গাইটাও। ল্যাজ নাড়িয়ে মাছি তাড়াতে তাড়াতে সে ঘাস খাচ্ছিল এক মনে। আমি কাছে যেতেই
সন্দেহ নয়নে আমার দিকে তাকাল। কি বুঝল কে জানে, পাত্তা দিল না, আবার মন দিল ঘাস
খাওয়ায়। কাছে গিয়ে আমি তার গায়ে হাত রাখলাম। লেজ দিয়ে আমার হাতে একটা ঝাপটা মারল
আর কাঁপিয়ে তুলল তার চামড়া। কিন্তু কিছু বলল না। মনে পড়ল মামাবাড়ির গৌরী গাইয়ের
কথা।
আরো ঘনিষ্ঠ হলাম, ভীষণ দ্বিধায় নীচু হতে, আরেকজন কেউ ডাকল, ”অ্যাই ছানা, এদিকে আয় অনেক হয়েছে, শ্লা, চাঁট-ফাঁট মেরে দিলে কেলো হয়ে যাবে”। বলতে বলতে সে দৌড়ে এল আমার কাছে, খুব শক্ত করে আমার গলা ধরে নিয়ে, একই ভাবে আবার দৌড়ে চলল হস্টেলের ভিতরে, আগের ছেলেটাকে বলল, ”আমি এই ছানাটাকে আমার ঘরে নিয়ে যাচ্ছি গুরু, তুই অন্য ছানা ধর”।
আমাকে সে ধরে নিয়ে এল তার নিজের রুমে। তিনজনের রুম। তার
বিছানায় বসিয়ে বলল, ”বোস। ওখানে থাকলে তোকে ক্যালাত, হারামজাদাটা। খিদে পেয়েছে?
দাঁড়া। জুতো মোজা খুলে বোস। আমি এক মিনিটে আসছি। কেউ ডাকলেও আমার নাম বলবি”। বলে
বেরিয়ে গেল ঘর থেকে দরজাটা ভেজিয়ে। আমার মনে তখন আতঙ্ক। যদিও কথাবার্তা থেকে মনে
হচ্ছে না – কিন্তু কে জানে এ আবার কি নতুন র্যাগিং চালু করে! একটু পরেই আবার
ফিরল, পিছনে আরেকটি ছেলে – তবে স্টুডেন্ট নয়, তার হাতে ডিম টোস্টের প্লেট।
”এখনো জুতো খুলিস নি? ভয় লাগছে, নাকি? আগে খেয়ে নে। এ
আমাদের ক্যান্টিনের ছেলে, বলাই। চিনে রাখ”। প্লেটটা আমার হাতে ধরিয়ে বলাই
বেরিয়ে গেল।
”তুমি খাবে না?”
”খা না তুই। আর শোন তোকে আমি কিছু কাজ দোবো, এই ঘরে বসে
তুই সেগুলো করতে থাক। আমার কাছে থাকলে তোকে কেউ কিছু করবে না। এই নে এই জগে খাবার
জল, খাবি তো খা। দুপুরে কিছু খেয়েছিলি”?
”হ্যাঁ, কলেজ মোড়ে, মাছের ঝোল ভাত”।
”যাক তাও ভালো। তুই খা ততক্ষণ, আমি আসছি। আর ইচ্ছে হলে
একটু শুয়েও নিতে পারিস। কোন ব্যাপার না, বুঝলি, শুধু কেউ জিগ্যেস করলে বলবি তুই
আমার ছানা, ব্যস। আমার নাম বলেছিলাম, মনে আছে”?
খুব সংকোচের সঙ্গে ঘাড় নাড়লাম, তার উত্তর পেলাম, ”বোকা** একটা, আমার নাম বিজয়। বলবি বিজয়দার ছানা।
গালাগালটা খেয়ে একটু দমে গেলাম ঠিকই, কিন্তু ডিম টোস্ট আর
এক পেট জল খেয়ে আমার ধড়ে যেন প্রাণ এল। কিছুক্ষণ বসে অপেক্ষা করার পর, খুব ঘুম
পেতে লাগল। ক্লান্ত শরীরে ক্ষুধা নিবৃত্তির পর চোখ আপনি বুজে আসতে লাগল। কিছুক্ষণ
ইতস্ততঃ করে শুয়েই পড়লাম এবং তৎক্ষণাৎ ঘুম।
কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানি না। বিজয়দা ধাক্কা দিয়ে তুলে দিতে,
উঠে বসলাম। বেশ কিছুক্ষণ কোথায় আছি মনেই পড়ল না, এমনই ঘুমের ঘোর।
”অ্যাই ছানা, ওঠ ওঠ, শিগ্গির উঠে চেয়ারে বোস, যা”। বিজয়দা
জোর করেই প্রায় ঠেলে বসিয়ে দিল টেবিলের সামনে একটা চেয়ারে। তারপর একটা খাতা পেন
ধরিয়ে দিল আমার হাতে, আর মেলে ধরল একটা বই। বইয়ের নির্দিষ্ট একটা পাতা খুলে বলল, ”এই
চ্যাপ্টারটা পুরো চোতা মার। দেখি তোর হাতের লেখাটা কেমন”।
আমার লেখা একটা লাইন দেখে খুশী হল না রেগে গেল বুঝলাম না,
বলল, ”এই তোর হাতের লেখা গাণ্ডু, এ লেখা পেলে তো তোকে কোন পাব্লিক ছাড়বে না, বে।
বানান ভুল করিস নাকি, বাল”?
উত্তর দিলাম, ”বোধহয়, না”।
আমার উত্তর শুনে খুব একচোট হ্যা হ্যা করে হাসল, বলল, “উরেল্ল্ল্ল**ড়া। “বোধহয় না”, খুব কায়দার উত্তর দিচ্ছিস। হেব্বি ঘ্যাম তোর না? বাইরে দেখাস না যেন, ক্যালানি খেয়ে যাবি। যাক, যেটা বলি মন দিয়ে শোন, প্রায় ঘন্টা খানেক ঘুমিয়েছিস, আর যেন ঘুমোস না। এইবার সক্কলে হস্টেলে ফিরতে শুরু করবে, অনেকে মাল খেয়েও আসবে। তারা কিন্তু ঘরে ঘরে ছানা খুঁজবে। তোকে যদি দ্যাখে তুই ** উল্টে ঘুমোচ্ছিস, আমার চোদ্দ গুষ্টিও তোকে বাঁচাতে পারবে না। উল্টে আমারই ** মেরে দেবে। মনে রাখিস কথাটা। পাশের ঘরে আছি, দরকার পড়লে চলে যাবি”।
বিজয়দা বেরিয়ে গেল। স্কুলে পড়ার সময় আমাদের মধ্যে কয়েকজন বন্ধু ছিল, যারা এভাষায় কথা বলায় অভ্যস্ত ছিল, আমরা তাদের এড়িয়ে চলতাম। তাদের ওই ভাষা শুনলে খুব অস্বস্তি হত। অথচ আজ হস্টেলের প্রথম দিনেই বিজয়দার এই ভাষার ফোয়ারা শুনে খারাপ তো লাগলই না উল্টে মজাই পেলাম। আমি চোখের ঘুম ছুটিয়ে বইয়ের থেকে খাতায় কপি করতে করতে ভাবতে লাগলাম। বিজয়দা এমন ভাবে কথাগুলো বলছে, যেন ওগুলো ওর কথার লব্জ।
বিজয়দার কথা সত্যি হয়ে গেল, বেশ কিছুক্ষণ বাদে বাদে ধড়াম
করে দরজা খুলে এক একটা দল আসছে, ”অ্যাই ছানা, একলা ঘরে কি ছিঁড়ছিস, বে, **ড়া”?
“বিজয়দা, এটা কপি করতে বলে গেল...” আমি মিনমিন স্বরে উত্তর
দিলাম।
“তুই বিজয়ের ছানা? বিজয়বাঁ*টা কোথায়?”
“পাশের ঘরে”। তারা বেড়িয়ে গেল ঘর থেকে। এরপর
সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এক একটা দল আছড়ে পড়তে লাগল ঘরের দরজার ওপর। সাড়ে নটা নাগাদ,
আরেকদল এল। তাদের আচরণে এবং ঘ্রাণে বোঝা যাচ্ছিল তারা ড্রিংক করে রয়েছে, একজন
জিগ্যেস করল, ”তুই, ছানা”? আমি ভয়ে ভয়ে সম্মতির ঘাড় নাড়লাম।
“কি করছিস বে, তুই এখানে ঘাপটি মেরে”?
“বিজয়দা, বলল এটা কপি করতে-”
“বিজয় কে? সেকেণ্ড ইয়ার, সিভিল না? তুই বিজয়ের ছানা হয়ে
গেলি? বিজয় কি করে বাঁ* এখন ছানা পোষে? বিজয় বাল, যা খুশি করবে আর আমরা **ড়া
চুষবো? কোথায় বিজয়”?
“পাশের ঘরে বলল”। আমি ভয়ে ভয়ে বললাম।
দলের আরেকজন কেউ পাশের ঘরে বিজয়দাকে ডাকল। শুনতে পেলাম, ”অ্যাই, বিজয়, তুই বাঁ* ছানা পুষছিস। এই ছানাটা
তোর”?
বিজয়দা ঘরে এল, বলল, “শ্যামলদা, এ ছানাটাকে নিও না, বস।
মালটাকে আমি নোট চোতা করতে দিয়েছি। অনেক নোট, বস”।
“ধূর বাঁ*। সে তুই চোতা করা না। কিন্তু আলাপ করবো না?
কলেজে ছানা এসেচে? অ্যাই ছানা, কি নাম রে তোর”? আমার সামনের বিছানায় বসে শ্যামলদা
জিগ্যেস করল। নাম বললাম।
“বাড়ি কোথায়”? বললাম।
আমার মুখের কাছে মুখ এনে, খুব গোপন কথা বলার মতো জিগ্যেস
করল, ”বাড়িতে কচি ঝি আছে”?
আমি প্রশ্নটা ঠিক বুঝতেই পারলাম না।
“ধ্যার বাঁ*। এটা কোতাকার মাল, রে? কচি ঝি বুঝলি না? ডবকা
ছুঁড়ি- এবার বুঝলি”?
আমি তাকিয়ে রইলাম চুপচাপ। আমার মুখের দিকে নেশাগ্রস্ত
ঢুলুঢুলু চোখ করে বলল, ”বল না, **ড়া, টিপেছিস? বাড়িতে নেই? আমি তো খুব টিপি”।
হতবাক আমি বসে রইলাম, শ্যামলদার মুখের দিকে তাকিয়ে। বিছানায় ঢলে পড়তে পড়তে বলল, “এ
**ড়াটা একদম বাজে ছানা, মাইরি। আমাকে দেখছে দ্যাখ, আমি যেন বাঁ*, বোকা** একখান...”
বলতে বলতে শুয়েই পড়ল বিছানায়।
বিজয়দা আর অন্যান্যরা মিলে তাকে ধরে ওঠালো।
“অ্যাই শ্যামল, তুই আউট হয়ে গেছিস, বাল। চল রুমে চ”-।
“কোন খা**র ছেলে বলল রে, আমি আউট হয়ে গেছি। শ্যামল হালদার
কোনদিন আউট হয় না, বাঁ*, বলে দিলাম”।
“এই শ্যামলদা, তুমি আবার কবে আউট হলে? মাল তোমাকে খায়
নাকি? তুমিই তো মাল খাও”। বিজয়দা অবস্থা সামাল দিতে বলে উঠল।
“বিজয়, তুই **ড়া, ঠিক চিনেছিস আমায়। বাকিরা সব **রভাই, কেউ
চিনল না, *ড়া। তোকে আমি হাম খাবো, এদিকে আয়”।
“শ্যামলদা, এখন থাক। পরে হবে”।
“না, আমি হাম খাবো, তোর ছানাটা ভাল মাল মাইরি। তুই খেতে না
দিলে, তোর ছানাকে হাম খাবো”। বলতে বলতে আমার গালে সত্যি সত্যি হাম খেয়ে দিল চকাস
করে। তারপর বলল, ”তুই খুব ভাল রে, ছানা। আমি খুব হারামি **ড়া একটা, না রে, আমি
একটা লম্পট, বল”?
আমি গালে হাত বোলাতে বোলাতে বললাম, ”না, না, ঠিক আছে”।
এরপর সকলে মিলে শ্যামলদাকে টেনে নিয়ে চলে গেল, ”অনেক ক্যাওড়ামি করেছিস, শ্যামল এবার চল, আর মাল ছড়াস না, বাল, রুমে চল...”।
আজ সকালে কলেজের প্রথম ক্লাসে ইন্ট্রোডাকটরি লেকচারে
প্রফেসর বলেছিলেন “ইউ অল আর গোয়িং টু বি দি ফার্স্টক্লাস সিটিজেন্স্ অব দি নেশান
আফটার ফোর ইয়ার্স...”। ঘর থেকে সকলে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি অনুভব করলাম প্রথম
শ্রেণীর দায়িত্ববান নাগরিক হয়ে ওঠার যথার্থ পাঠ আমার শুরু হয়ে গেছে – এবং এটা চলবে
টানা চার বছর!
--00--
এর পরের পর্ব - " নবীন বরণ "
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন