বড়োদের বড়োগল্প - " এক দুগুণে শূণ্য "
বড়োদের ছোট উপন্যাস - " অচিনপুরের বালাই "
বড়োদের ছোট উপন্যাস - " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "
বড়োদের নাটক - " চ্যালেঞ্জ - নাটক "
এর আগের ছোট গল্প - " একটি বাসি এবং বাজে ঘটনা "
১
নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে যত সুখ আমার...। বিশ্বাসবাবুরও তাই বিশ্বাস। তাঁর বাড়ির গলি থেকে বেরিয়ে
বড়ো রাস্তায় এসে দাঁড়ালে, ওপারেই যতো সুখের সন্ধান। শ্যামলের চপ-ফুলুরি-পেঁয়াজি-বেগ্নির দোকান।
কচুরি, সিঙাড়া, নিমকি আর হরেক মিষ্টির ট্রে নিয়ে বীণাপাণি মিষ্টান্ন ভান্ডার।
এমনকি বিহারি রামপূজনের ভূজিয়ার দোকানটাও ওপারে। বিকেলের দিকে রামপূজন যখন বড়
লোহার কড়ায় গরম বালিতে ছোলা ভাজে, সে গন্ধ এপারে তাঁর নাকে ঝাপটা মারে। জিভে জল
চলে আসে, যদিও এ বয়সে ছোলাভাজা খাওয়ার মতো দাঁতের জোর আর বিশ্বাসবাবুর নেই। তবু মনটা কেমন যেন উদাস
হয়ে যায়।
ফতুয়ার পকেটে পার্স নিয়ে বিশ্বাসবাবু
বেরিয়েছেন, মনে একটা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে। আজ যে করেই হোক, শ্যামলের চপ-ফুলুরি খেয়ে মুখের
তার বদলাবেন। সকালে দুধের সঙ্গে শুকনো মুড়ি কিংবা খই, দুপুরে করলাসেদ্ধ, ভাত আর
পেঁপে-কাঁচকলা-বেগুনের গুণপনাযুক্ত চারাপোনার ঝোল, টকদই। বিকেলে চারপিস শসা, কয়েক পিস পাকা
পেঁপের টুকরো, চিনি ছড়ানো একটু ছানা! রাত্রে রুটি আর পটলের তরকারি সঙ্গে একটু দুধ।
দিনের পর দিন এই খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু আনন্দে থাকতে পারে কী?
বিশ্বাসবাবুর বিশ্বাস, পারে না। আর এসবের জন্যে দায়ি নিষ্ঠুর – নির্মম একটি মেয়ে! মেয়েটি
একদিকে যতটা ভালো, অন্য দিকে ঠিক ততটাই নিষ্ঠুর। মেয়েটি তাঁর বৌমা। অবিশ্যি এটাও
ঠিক, বৌমার কড়া শাসনে তাঁর
শরীরের ভাবগতিক এখন বেশ ভালোই। অম্বল-টম্বল হয় না বহুদিন, খিদে পায়, রাত্রে ঘুম
হয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি পেটরোগা মানুষ, সে সময় তাঁর মা এবং পরবর্তী কালে তাঁর বউ,
কিছুতেই সেই রোগের স্থায়ী সুরাহা করতে পারেননি।
তার অবিশ্যি কারণও আছে। তাঁর মা
কিংবা স্ত্রী, কেউই তাঁকে এমন পরাধীন করতে পারেননি। ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুদের
সঙ্গে হজমি, বনকুল, আলুকাবলি, ফুচকা, চপ, সিঙাড়া...। বড় হয়ে কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে
রোল, মোগলাইপরোটা, মোমো, তেলচিটে নুড্ল্স্...! চাকরিস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে
বিরিয়ানি, লাচ্চা পরোটা, চিকেন ভর্তা...। কিন্তু রিটায়ারমেন্টের পর যখন থেকে এই হৃদয়হীনা
বৌমার পাল্লায় তিনি পড়েছেন, তাঁর সেই স্বাধীনতা চুলোয় গেছে। তবে নিয়মিত পেটখারাপের
ব্যাপারটা সুদূর অতীতে ফেলে আসা স্মৃতি হিসেবেই রয়ে গেছে।
ফুটপাথের কিনারায় দাঁড়িয়ে
রাস্তাটা পার হতে গিয়ে বারবার পিছিয়ে আসছেন বিশ্বাসবাবু। শহরের যতো গাড়ি এই সময়ে
এই রাস্তা দিয়ে যাবার জন্যেই যেন, একসঙ্গে দল বেঁধে বেড়িয়ে পড়েছে। বাস, প্রাইভেট
কার, হলুদ ট্যাক্সি, সাদা ট্যাক্সি, অটো, বাইক, স্কুটার, সাইকেল রিকশ, ঝাঁকে ঝাঁকে
আসছে আর তাঁর সামনে দিয়ে গড়িয়ে চলেছে। এতটুকু বিরাম নেই। ফুটপাথ থেকে রাস্তায় পা
দিলেই, বাইকওয়ালা ছোকরারা, তাদের পেছনে ছুকরি নিয়ে একদম ঘাড়ের ওপর চলে আসছে। ভয়
পেয়ে পিছিয়ে আসা ছাড়া বিশ্বাসবাবুর উপায় কী?
ঘড়ির কাঁটা ওদিকে ছুটছে যেন বনবন
করে। পৌনে চারটে বেজে গেল। নাতি বিট্টুকে নিয়ে বৌমা স্কুল থেকে ফিরবে চারটে কুড়ি
থেকে সাড়ে চারটের মধ্যে। তার আগে বাড়ি ফিরতে না পারলে বৌমার কাছে অনেক জবাবদিহি
করতে হবে। বৌমার সেসব প্রশ্নও আবার ভাববাচ্যে! কোথায় যাওয়া হয়েছিল? কী কিনতে? কিছু
কিনতে যদি নাই হয়, এসময়ে বেরোনোর কী দরকার ছিল? রাস্তায় অনেক গাড়িঘোড়া, একটা বিপদ
না ডেকে আনলে কী চলছে না? ভোরে বেড়াতে যেতে বললে, তখন তো নানান বাহানা খাড়া করা
হয়, কিন্তু এখন এমন কী দরকার পড়ল? বৌমার এই সব প্রশ্নে খুব অসহায় বোধ করেন
বিশ্বাসবাবু। এই বয়সে এসে একটু আজাদির জন্যে তিনি তৃষ্ণার্ত!
কিন্তু নাঃ, আর দেরি করলে সত্যিই
বৌমার খপ্পরে পড়তে হবে। এরপর আবার বলা যায় না, ওপারে গিয়ে হয়তো দেখবেন, শ্যামল
এখনো গামলায় বেসন ফ্যাটাচ্ছে, কড়াইতে তেল ঢেলেছে, কিন্তু স্টোভের আগুন জ্বালেনি। জিগ্যেস
করলে বলবে, একটু দাঁড়ান না, কাকু, এক্খুনি হয়ে যাবে, দু মিনিট। শ্যামলের আবার দু
মিনিট হয় আধঘন্টায়। কড়াইয়ের তেল দাউদাউ গরম হবে, তাতে গোটা বিশেক চপ ছাড়বে।
আধ-পাকা চপগুলো বড়ো ছান্তায় ছেঁকে কড়াইয়ের ধারে তুলে, আবার নতুন চপ ছাড়বে, সেগুলো
আধপাকা হলে, তার মধ্যে ডুবিয়ে দেবে পুরোনো চপগুলো। তারপর তেলের মধ্যে হাবুডুবু
দিতে দিতে চপের গায়ে আসবে আরশোলার রঙ। ততক্ষণ কড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকো, আর নিঃশব্দ
ঢোঁকে গিলতে থাকো জিভের জল!
একটু ফাঁক বের করতে পেরে কোনরকমে
আধখানা রাস্তা পার হয়ে বিশ্বাসবাবু, ডিভাইডারে দাঁড়ালেন। এখন পিছনের গাড়িগুলো
যাচ্ছে ডানদিকে, আর সামনের গাড়িগুলো বাঁদিকে। অপেক্ষা করতে করতে গলা তুলে একবার
ডানদিকে তাকালেন বিশ্বাসবাবু, এখান থেকে শ্যামলের দোকানটা ঠিক দেখা যায় না। চারটে
বাজতে পাঁচ। হাতে খুব সময় নেই। শ্যামলের চপ-টপ ভাজা যদি হয়েও থাকে, সেসব উবু
জ্বলন্ত চপ কিংবা ফুলুরি, খেতেও তো সময় লাগবে নাকি? ওসব কী আর গবগবিয়ে খাওয়া যায়?
ফুঁ দিতে দিতে ধীরে সুস্থে খেতেই না মজা! তারপর খাওয়ার পরে আঙুল আর ঠোঁটের তেল
মুছতে মুছতে “কত হল গো, শ্যামল?”, জিগ্যেস করার যে তৃপ্তি...তার কোন বিকল্প আছে? বিশ্বাসবাবু
হঠাৎ যেন শিউরে উঠলেন। না তেলেভাজা খাওয়ার আনন্দ কল্পনা করে নয়, তাঁর কানে এল
বৌমার ডাক।
“বাবা, বাড়ি চলো। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে
আছো এখানে?” ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন বিশ্বাসবাবু। দেখলেন তাঁর পিছনে বৌমা আর সঙ্গে
বিট্টু। বিট্টু অবাক চোখে তাকিয়ে আছে দাদুর দিকেই।
সমস্ত সংকল্প জলাঞ্জলি দিয়ে
বিশ্বাসবাবু হতাশ মুখে হাসি এনে বললেন, “খি ব্যাপার? আজ এত তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে
গেল?”
সে কথার উত্তর না দিয়ে বৌমা বললেন,
“তাড়াতাড়ি এসো না, বাবা, রাস্তাটা পার হয়ে যাই। গাড়ি ঘোড়ার যা ভিড়।”। ডিভাইডার থেকে নেমে
বিশ্বাসবাবু সুবোধ বালকের মতো বৌমার সঙ্গে রাস্তা পার হয়ে ফিরে এলেন। আশ্চর্য এখন
তাঁদের রাস্তা পার হতে দেখে সমস্ত গাড়িই ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেল, কেউ হর্ন বাজিয়ে
ধমকও দিল না। ফুটপাথে পা দিয়ে গভীর শ্বাস ফেললেন বিশ্বাসবাবু, পরাধীনতার গ্লানি
তাঁর সমস্ত মুখে।
২
বাড়ি ফিরে কেউ কোন কথা বললেন না।
বিশ্বাসবাবু বসার ঘরে গুম হয়ে বসে রইলেন। বিট্টুকে নিয়ে বৌমা গেলেন নিজেদের ঘরে, বিট্টু
স্কুলের জামাপ্যান্ট বদলাবে। বৌমাও। সোফায় বসে বসে একদিকে তাঁর যেমন রাগ হচ্ছে,
তেমনি ভয়ও হচ্ছে। অল্পের জন্য তপ্ত চপের আস্বাদ থেকে বঞ্চিত হবার জন্যে রাগ।
অন্যদিকে হাতে নাতে ধরা পড়ে যাওয়ার জন্যে বৌমার প্রশ্নমালার মুখোমুখি হওয়ার ভয়।
বিশ্বাসবাবু মনে মনে জম্পেশ একটা মিথ্যে অজুহাতের কথা চিন্তা করতে লাগলেন। আচ্ছা,
যদি বলা যায় ইলেক্ট্রিশিয়ান মিন্টুর কাছে যাচ্ছিলেন! কিন্তু বাড়িতে পাখা কিংবা
লাইটের কোন গণ্ডগোল তো নেই! গণ্ডগোল নেই তো কী হয়েছে? “কাকাবাবু, বছরে এক দুবার গোটা বাড়ির ওয়্যারিং
চেক করে নেওয়াটা খুব দরকার, তাতে হঠাৎ বিপদের ভয় থাকে না”, একথা বলেছিল বৌমারই ভাই
– পেশায় সে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। এ বাড়ির হেড হিসেবে, তিনি তো আর এতগুলো
প্রাণীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেন না!
তাই মিন্টুকে খবর দিতে যাচ্ছিলেন! কিন্তু সমস্যাটা হল, মিন্টুর
ইলেক্ট্রিকের দোকান, বড়ো রাস্তার এপারে, ওপারে নয়। কাজেই রাস্তা পার হওয়ার গল্পটা
ভাল দাঁড়াচ্ছে না...!
আচ্ছা, যদি বলা হয়, বিট্টুর জন্যে গল্পের বই
কিনতে যাচ্ছিলেন। ঠাকুমার ঝুলি, কিংবা, আবোল-তাবোল, অথবা ক্ষীরের পুতুল। হতে পারে না? লোকনাথ
গ্রন্থাগার দোকানটা রাস্তার ওপারে, সেদিক থেকেও কোন সমস্যা নেই। বৌমা যদি জিগ্যেস
করে, বিট্টুর জন্মদিন তো অনেক দেরি, সেই নভেম্বরে – এখন বই কেন? বিশ্বাসবাবু আবেগমথিত
স্বরে বলবেন, ইংরিজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ে বিট্টুটা বাংলা গল্প-সল্প তেমন কিছুই পড়ল
না। দাদু হিসেবে আমি কী দু-একটা বই নাতিকে উপহার দিতে পারি না? তার জন্যে
জন্মদিনের অপেক্ষা করতে হবে? এই কথায় বৌমা কী উত্তর দেবে, শুনি? বিশ্বাসবাবু বেশ
নিশ্চিন্ত হয়ে মনে মনে গুছিয়ে নিতে লাগলেন, বৌমার সম্ভাব্য প্রশ্ন এবং তার
উত্তরগুলি।
হঠাৎ তীব্র তেলেভাজার গন্ধে
বিশ্বাসবাবুর চিন্তায় বাধা পড়ল, তাকিয়ে দেখলেন, স্কুলে যাওয়ার শাড়ি-টাড়ি ছেড়ে বৌমা
কাপ্তান পরে সামনে দাঁড়িয়ে, তার হাতের প্লেটে অনেকগুলি তেলেভাজা, গন্ধটা আসছে
সেখান থেকেই। বৌমার হাতে আকাশের চাঁদ দেখলেও এতটা অবাক হতেন না, যতটা হলেন,
তেলেভাজা দেখে!
প্লেটটা হাত বাড়িয়ে নিতে নিতে
বললেন, “এসব কী? এসব আবার কেন? তেলেভাজা খেলে আমার আবার যদি পেট ভুটভাট...”
বৌমা মুখ টিপে হাসলেন, বললেন, “হুঁ,
তাই বৈকি! ছুটছিলে তো শ্যামলের দোকানে, তখন পেট ভুটভাটের কথা মাথায় আসেনি না? মিতালি বানিয়েছে, গরম গরম বেগুনি খেয়ে দেখো!”
মিতালি বিশ্বাসবাবুদের বাড়ি রান্নার কাজ করে, সকালে আর বিকেলে আসে। রান্নার হাত
বেশ ভালোই।
কিন্তু বৌমার সরাসরি অভিযোগে
বিশ্বাসবাবু একটু এলোমেলো হয়ে পড়লেন, তবুও সাহস সঞ্চয় করে বললেন, “আমি শ্যামলের
দোকানে ছুটছিলাম? কে বলল তোকে? যত্তোসব...তোরা সব একধাতের...তুই, তোর শ্বাশুড়ি মা,
তোর দিদিশ্বাশুড়ি...মনগড়া কথায় তোদের জুড়ি নেই!” বলতে বলতে গরম বেগ্নিতে হাল্কা
কামড় দিলেন, “বাঃ ...” তারপর ফুঁ দিতে দিতে বললেন, “ফুউউউ...ফুউউউ...তুই আমাকে কী
পেয়েছিস বল তো? বাচ্চা ছেলে? নিজের ভালো বুঝবো না?”
বৌমা বিশ্বাসবাবুর কথায় গুরুত্ব
না দিয়ে জিগ্যেস করলেন, “নুন-টুন ঠিক আছে?”
“হুঁ...ঠিকই আছে, ভালোই হয়েছে”।
“তুমি খাও, আরো আনছি”। বৌমা রান্নাঘরের
দিকে চলে গেলেন। আর তারপরেই বিট্টু ঢুকল হাতে প্লেট নিয়ে, দাদুর পাশে বসতে বসতে
বলল, “ও দাদু, আমি মাত্র দুটো বেগ্নি পেলাম”।
নাতির মুখের দিকে তাকিয়ে
বিশ্বাসবাবু বললেন, “শুরু কর না। দেখিস গরম আছে কিন্তু, জিভ পুড়ে যাবে। তোর মা আরো
আনতে গেছে। সেখান থেকে আরো পাবি”।
বিট্টু একটা কোণা কামড়ে দেখল খুব
গরম, প্লেটে আবার নামিয়ে রেখে ম্লান মুখে বলল, “না গো দাদু, মিতালিমাসি চারটে
দিয়েছিল, মা তার থেকে দুটো তুলে নিয়েছে! আমাকে আর দেবে না।”
নাতির বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে
বিশ্বাসবাবু, দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাকে কোলের আরো কাছে টেনে নিয়ে বললেন, “মায়েরা
বড়ো নিষ্ঠুর হয় রে, বিট্টু। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের প্রতি তাদের এতটুকু মায়াও যেন
থাকতে নেই!”
বিট্টু কী বুঝল কে জানে, সে দাদুর
মুখের দিকে তাকিয়ে সহানুভূতি মাখা স্বরে বলল, “কিন্তু তুমি তো আর ছেলে নও দাদু,
তুমি তো অনেক বড়ো !” বিট্টু আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখল, বেগনিটা অনেকটাই ঠাণ্ডা হয়েছে,
এবার খাওয়া চলবে। নাতি ও দাদু দুজনেই বিরস মুখে বেগ্নি চিবোতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর বিশ্বাসবাবু বললেন, “বড়ো
আর নেই রে, তোর মা আমাকে ছেঁটে তোর থেকেও ছোট্ট করে নিয়েছে”! এই সময়েই বউমা ঘরে
এলেন, এক প্লেট বেগনি আর ফুলুরি নিয়ে। বিশ্বাসবাবু এবং বিট্টুর প্লেটে আরো কখানা
তেলেভাজা দিয়ে, সামনের সোফায় বসলেন। তাঁর হাতের প্লেটেও কয়েকটা তেলেভাজা। সেগুলি খেতে
খেতে মুচকি হেসে বললেন, “আমার বিরুদ্ধে দাদু আর নাতি মিলে কী ষড়যন্ত্র হচ্ছিল,
শুনি?”
বিট্টু মায়ের থেকে আরো দুটো বেগনির
প্রশ্রয় পেয়ে খুব খুশি, বলল, “দাদু বলছিল, তুমি নাকি আমার থেকেও দাদুকে ছোট্ট করে
দিয়েছো?”
বৌমা বিশ্বাসবাবুর দিকে কিছুক্ষণ
তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, “আমায় মা বলে যে ডাকো - ছোট্ট হয়েই থাকো না, বাবা,
তাতে তোমাকে শাসন করতে আর প্রশ্রয় দিতে আমার সুবিধে হয় যে”!
বিশ্বাসবাবুর চোখদুটো ছলছল করে উঠল।
..০০..
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন