শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গীতা - ১৪শ পর্ব

 এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ 

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "



এর আগের ত্রয়োদশ অধ্যায়ঃ ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ পাশের সূত্রে গীতা - ১৩শ পর্ব "


চতুর্দশ অধ্যায়ঃ গুণত্রয়বিভাগযোগ


শ্রীভগবানুবাচ

পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানমুত্তমম্‌।

যজ্‌জ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিমিতো গতাঃ।।

শ্রীভগবান উবাচ

পরং ভূয়ঃ প্রবক্ষ্যামি জ্ঞানানাং জ্ঞানম্‌ উত্তমম্‌।

যৎ জ্ঞাত্বা মুনয়ঃ সর্বে পরাং সিদ্ধিম্‌ ইতঃ গতাঃ।।

শ্রীভগবান বললেন – সকল জ্ঞানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পরম জ্ঞানের তত্ত্বটি আরেকবার তোমাকে বলব। এই পরম জ্ঞান অর্জন করলে মুনিরা দেহান্তের পর পরম সিদ্ধিলাভ করে থাকেন।

 

ইদং জ্ঞানমুপাশ্রিত্য মম সাধর্ম্যমাগতাঃ।

সর্গেঽপি নোপজায়ন্তে প্রলয়ে ন ব্যথন্তি চ।।

ইদং জ্ঞানম্‌ উপাশ্রিত্য মম সাধর্ম্যম্‌ আগতাঃ।

সর্গে অপি ন উপজায়ন্তে প্রলয়ে ন ব্যথন্তি চ।।

এই পরম জ্ঞান আশ্রয় করে আমার স্বরূপ লাভ করা যায়। এরপর আর সৃষ্টিকালে জন্মগ্রহণ করতে হয় না এবং প্রলয়কালে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না।

 

মম যোনির্মহদ্‌ব্রহ্ম তস্মিন্‌ গর্ভং দধাম্যহম্‌।

সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততো ভবতি ভারত।।

মম যোনিঃ মহৎ-ব্রহ্ম তস্মিন্‌ গর্ভং দধামি অহম্‌।

সম্ভবঃ সর্বভূতানাং ততঃ ভবতি ভারত।।

হে অর্জুন, মহৎ ব্রহ্ম আমার যোনি, আমিই তার গর্ভাধান করি, সেখান থেকেই সর্বভূতের সৃষ্টি হয়।

[সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ – এই ত্রিগুণ সম্পন্ন প্রকৃতিই শ্রীভগবানের যোনিস্বরূপ। প্রকৃতি সকল কার্যের কর্তা তাই তিনি মহৎ ব্রহ্ম। ক্ষেত্রজ্ঞ জীবাত্মার ক্ষেত্রের সঙ্গে অর্থাৎ দেহের সঙ্গে সংযোজনই গর্ভাধান - এই বিশ্বজগতের সৃজন।]

 

সর্বযোনিষু কৌন্তেয় মূর্তয়ঃ সম্ভবন্তি যাঃ।

তাসাং ব্রহ্ম মহদ্‌যোনিরহং বীজপ্রদঃ পিতা।।

সর্বযোনিষু কৌন্তেয় মূর্তয়ঃ সম্ভবন্তি যাঃ।

তাসাং ব্রহ্ম মহৎ যোনিঃ অহং বীজপ্রদঃ পিতা।।

হে কুন্তীপুত্র অর্জুন, দেব, পিতৃ, মানুষ, পশু ইত্যাদি যে কোন যোনিতেই যে দেহ জন্ম নিক না কেন, মহৎব্রহ্ম প্রকৃতি তাদের মাতা আর আমিই চৈতন্যস্বরূপ বীজপ্রদ পিতা। 

 

সত্ত্বং রজস্তম ইতি গুণাঃ প্রকৃতিসম্ভবাঃ।

নিবধ্নন্তি মহাবাহো দেহে দেহিনমব্যয়ম্‌।।

সত্ত্বং রজঃ তম ইতি গুণাঃ প্রকৃতিসম্ভবাঃ।

নিবধ্নন্তি মহাবাহো দেহে দেহিনম্‌ অব্যয়ম্‌।।

হে মহাবীর অর্জুন, সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ প্রকৃতিজাত এই তিনগুণ, অব্যয় পরমাত্মাকে দেহের অভিমানে বদ্ধ করে রাখে।

 

তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ প্রকাশকমনাময়ম্‌।

সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চানঘ।।

তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ প্রকাশকম্‌ অনাময়ম্‌।

সুখসঙ্গেন বধ্নাতি জ্ঞানসঙ্গেন চ অনঘ।।

হে সদাচারী অর্জুন, এই তিনগুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ নির্মল, তাই স্বরূপের সুখে শান্ত থাকে এবং চৈতন্যভাব প্রকাশ করে। এই সুখের আসক্তি ও জ্ঞানের আসক্তিতে জীব আবদ্ধ হয়।

  

রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণাসঙ্গসমুদ্ভবম্‌।

তন্নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্‌।।

রজো রাগাত্মকং বিদ্ধি তৃষ্ণা-আসঙ্গ-সমুদ্ভবম্‌।

তৎ নিবধ্নাতি কৌন্তেয় কর্মসঙ্গেন দেহিনম্‌।।

হে কুন্তীপুত্র অর্জুন, জেনে রাখো রজোগুণ রাগাত্মক, মনে তৃষ্ণা ও আসক্তির সৃষ্টি করে। এই গুণ দেহীকে ফলের প্রত্যাশায় কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ করে।

[রঙের প্রভাবে যা অন্যকে রঙীন করে তোলে, তাই রাগাত্মক। গৈরিক বসনের প্রভাবে যেমন মনে বৈরাগ্যভাব আসে – শ্রীশ্রীশঙ্করভাষ্য।]

   

তমস্ত্বজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্‌।

প্রমাদালস্যনিদ্রাভিস্তন্নিবধ্নাতি ভারত।।

তমঃ তু অজ্ঞানজং বিদ্ধি মোহনং সর্বদেহিনাম্‌।

প্রমাদ-আলস্য-নিদ্রাভিঃ তৎ নিবধ্নাতি ভারত।।

হে অর্জুন, জেনে রাখো, অজ্ঞান থেকে কিন্তু তমোগুণ আসে আর সমস্ত দেহধারীর মনে মোহ সৃষ্টি ক’রে, ভ্রান্তি, আলস্য ও নিদ্রা দিয়ে আত্মাকে আবদ্ধ করে।

  

সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত।

জ্ঞানমাবৃতা তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়ত্যুত।।

সত্ত্বং সুখে সঞ্জয়তি রজঃ কর্মণি ভারত।

জ্ঞানম্‌ আবৃতা তু তমঃ প্রমাদে সঞ্জয়তি উত।।

হে অর্জুন, সত্ত্বগুণ সুখে আবদ্ধ করে, রজোগুণ কর্মে আর তমোগুণ জ্ঞানকে আচ্ছন্ন ক’রে, ভ্রান্তিতে আবদ্ধ করে।

 

১০

রজস্তমশ্চাভিভূয় সত্ত্বং ভবতি ভারত।

রজঃ সত্ত্বং তমশ্চৈব তমঃ সত্ত্বং রজস্তথা।।

রজঃ-তমঃ-অভিভূয় সত্ত্বং ভবতি ভারত।

রজঃ সত্ত্বং তমঃ চ এব তমঃ সত্ত্বং রজঃ তথা।।

হে অর্জুন, কখনো রজোগুণ ও তমোগুণকে অভিভূত করে সত্ত্বগুণ প্রবল হয়। কখনো সত্ত্ব ও তমোগুণকে অতিক্রম করে রজোগুণ, কখনো বা সত্ত্ব ও রজোগুণকে অভিভূত করে তমোগুণ প্রবল হয়ে থাকে।

 

১১

সর্বদ্বারেষু দেহেঽস্মিন্‌ প্রকাশ উপজায়তে।

জ্ঞানং যদা তদা বিদ্যাদ্বিবৃদ্ধং সত্ত্বমিত্যুত।।

সর্বদ্বারেষু দেহে অস্মিন্‌ প্রকাশ উপজায়তে।

জ্ঞানং যদা তদা বিদ্যাৎ বিবৃদ্ধং সত্ত্বম্‌ ইতি উত।।

যখন এই দেহের সকল ইন্দ্রিয়দ্বার জ্ঞানের প্রকাশে উদ্ভাসিত হয়, তখনই জানবে তোমার শরীরে সত্ত্বগুণ বেড়ে উঠেছে।

 

১২

লোভঃ প্রবৃত্তিরারম্ভঃ কর্মণামশমঃ স্পৃহা।

রজস্যেতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে ভরতর্ষভ।।

লোভঃ প্রবৃত্তিঃ আরম্ভঃ কর্মণাম্‌ অশমঃ স্পৃহা।

রজসি এতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে ভরতর্ষভ।।

হে ভরতকুলশ্রেষ্ঠ অর্জুন, রজোগুণ বৃদ্ধির সময় মানুষের লোভ, কর্মে প্রবৃত্তি, কর্মে উদ্যম, বিরামহীন কর্মের ইচ্ছা ও বিষয় লাভের অনুরাগ আসে।

 

১৩

অপ্রকাশোঽপ্রবৃত্তিশ্চ প্রমাদো মোহ এব চ।

তমস্যেতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে কুরুনন্দন।।

অপ্রকাশঃ অপ্রবৃত্তিঃ চ প্রমাদঃ মোহঃ এব চ।

তমসি এতানি জায়ন্তে বিবৃদ্ধে কুরুনন্দন।।

হে কুরুনন্দন, তমোগুণ বৃদ্ধিতে বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়, মানুষ উদ্যমহীন হয়, কর্তব্যে অবহেলা ও মূঢ় চিন্তা করে।

 

১৪

যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে তু প্রলয়ং যাতি দেহভৃৎ।

তদোত্তমবিদাং লোকানমলান্‌ প্রতিপদ্যতে।।

যদা সত্ত্বে প্রবৃদ্ধে তু প্রলয়ং যাতি দেহভৃৎ।

তৎ উত্তমবিদাং লোকান্‌ অমলান্‌ প্রতিপদ্যতে।।

সত্ত্বগুণ বৃদ্ধির সময় দেহত্যাগ করলে, ব্রহ্মবিদ উপাসকের যোগ্য অমলিন ব্রহ্মলোক পাওয়া যায়।

 

১৫

রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে।

তথা প্রলীনস্তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে।।

রজসি প্রলয়ং গত্বা কর্মসঙ্গিষু জায়তে।

তথা প্রলীনঃ তমসি মূঢ়যোনিষু জায়তে।।

রজোগুণ বৃদ্ধির সময় মৃত্যু হলে কর্মে আসক্তি নিয়ে মনুষ্যলোকেই ফিরে আসে, আর তমোগুণ নিয়ে মৃত্যু হলে মূঢ়যোনিতে পশু হয়ে জন্ম নিতে হয়।

 

১৬

কর্মণঃ সুকৃতস্যাহুঃ সাত্ত্বিকং নির্মলং ফলং।

রজসস্তু ফলং দুঃখমজ্ঞানং তমসো ফলম্‌।।

কর্মণঃ সুকৃতস্য আহুঃ সাত্ত্বিকং নির্মলং ফলং।

রজসঃ তু ফলং দুঃখম্‌ অজ্ঞানং তমসঃ ফলম্‌।।

মহর্ষিগণ বলেন – সাত্ত্বিক কর্মের ফল নির্মল সুখ, রাজসিক কার্যের ফল দুঃখ আর তামসিক কাজের ফল অজ্ঞানের অন্ধকার।

 

১৭

সত্ত্বাৎ সঞ্জায়তে জ্ঞানং রজসো লোভ এব চ।

প্রমাদমোহৌ তমসো ভবতোঽজ্ঞানমেব চ।।

সত্ত্বাৎ সঞ্জায়তে জ্ঞানং রজসঃ লোভ এব চ।

প্রমাদ-মোহৌ তমসঃ ভবতঃ অজ্ঞানম্‌ এব চ।।

সত্ত্বগুণ থেকে জ্ঞানের উদয় হয়, রজোগুণ থেকে লোভ আর তমোগুণ থেকে অজ্ঞান, ভ্রান্তি আর মোহ উৎপন্ন হয়।

 

১৮

ঊর্ধ্বং গচ্ছন্তি সত্ত্বস্থা মধ্যে তিষ্ঠন্তি রাজসাঃ।

জঘন্যগুণবৃত্তস্থা অধো গচ্ছন্তি তামসাঃ।।

ঊর্ধ্বং গচ্ছন্তি সত্ত্বস্থা মধ্যে তিষ্ঠন্তি রাজসাঃ।

জঘন্য-গুণ-বৃত্তস্থা অধঃ গচ্ছন্তি তামসাঃ।।

সত্ত্বগুণের অধিকারী ব্যক্তি ঊর্ধলোকে গমন করে, রজোগুণ প্রধান ব্যক্তি মধ্যলোকে দুঃখবহুল নরলোকে জন্ম নেয়, তমোগুণধারী নিকৃষ্ট জনেরা অধঃলোকে পতিত হয়।

 

১৯

নান্যং গুণেভ্যঃ কর্তারং যদা দ্রষ্টাঽনুপশ্যতি।

গুণেভ্যশ্চ পরং বেত্তি মদ্ভাবং সোঽধিগচ্ছতি।।

ন অন্যং গুণেভ্যঃ কর্তারং যদা দ্রষ্টা অনুপশ্যতি।

গুণেভ্যঃ চ পরং বেত্তি মৎ ভবং সঃ অধিগচ্ছতি।।

যিনি বুঝতে পারেন এই তিনগুণ ছাড়া আর কেউই সকল কার্য-করণের কর্তা নয়, তিনিই এই ত্রিগুণের অতীত পরমতত্ত্ব উপলব্ধি করেন এবং আমার স্বরূপ লাভ করেন।

 

২০

গুণানেতানতীত্য ত্রীন্‌ দেহী দেহসমুদ্ভবান্‌।

জন্মমৃত্যুজরাদুঃখৈর্বিমুক্তোঽমৃতমশ্নুতে।।

গুণান্‌ এতান্‌ অতীত্য ত্রীন্‌ দেহী দেহসমুদ্ভবান্‌।

জন্ম-মৃত্যু-জরা-দুঃখৈঃ বিমুক্তঃ অমৃতম্‌ অশ্নুতে।।

দেহের উৎপত্তিস্বরূপ এই তিনগুণকে অতিক্রম ক’রে, জন্ম-মৃত্যু-জরা-দুঃখের বন্ধন ছিন্ন ক’রে, জীব অমৃতস্বরূপ পরম মুক্তি লাভ করে।

   

২১

অর্জুন উবাচ

কৈর্লিঙ্গৈস্ত্রীন্‌ গুণানেতানতীত ভবতি প্রভো।

কিমাচারঃ কথং চৈতাংস্ত্রীন্‌ গুণানতিবর্ততে।।

অর্জুন উবাচ

কৈঃ লিঙ্গৈঃ ত্রীন্‌ গুণান্‌ এতান্‌ অতীত ভবতি প্রভো।

কিম্‌ আচারঃ কথং চ এতান্‌ ত্রীন্‌ গুণান্‌ অতিবর্ততে।।

অর্জুন বললেন – হে প্রভু, কি কি লক্ষণ থেকে এই ত্রিগুণাতীত মানুষ চেনা যায়। কি আচরণে এবং কি উপায়েই বা এই তিনগুণকে অতিক্রম করা যায়?

 

২২

শ্রীভগবানুবাচ

প্রকাশঞ্চ প্রবৃত্তিঞ্চ মোহমেব চ পাণ্ডব।

ন দ্বেষ্টি সম্প্রবৃত্তানি ন নিবৃত্তানি কাঙ্ক্ষতি।।

শ্রীভগবান্‌ উবাচ

প্রকাশং চ প্রবৃত্তিং চ মোহম্‌ এব চ পাণ্ডব।

ন দ্বেষ্টি সম্প্রবৃত্তানি ন নিবৃত্তানি কাঙ্ক্ষতি।।

শ্রীভগবান বললেন – হে পাণ্ডুপুত্র, এই ত্রিগুণের স্বাভাবিক প্রভাবে মনে প্রকাশ, প্রবৃত্তি ও মোহের উদয় হলেও, যিনি কোন দ্বেষ করেন না, অথবা এই তিনগুণের নিবৃত্তিও যিনি আকাঙ্ক্ষা করেন না, তিনিই ত্রিগুণাতীত।

 

২৩

উদাসীনবদাসীনো গুণৈর্যো ন বিচাল্যতে।

গুণা বর্তন্ত ইত্যেবং যোঽবতিষ্ঠতি নেঙ্গতে।।

উদাসীনবৎ আসীনঃ গুণৈঃ যঃ ন বিচাল্যতে।

গুণাঃ বর্তন্ত ইতি এবং যঃ অবতিষ্ঠতি ন ইঙ্গতে।।

যিনি এই ত্রিগুণে প্রভাবিত না হয়ে, সম্পূর্ণ উদাসীন থাকেন এবং শরীর ও চিত্তের উপর এই ত্রিগুণের প্রভাব স্বাভাবিক জেনেও, যিনি অচঞ্চল থাকতে পারেন, তিনিই ত্রিগুণাতীত।

 

২৪

সমদুঃখসুখঃ স্বস্থঃ সমলোষ্টাশ্মকাঞ্চনঃ।

তুল্যপ্রিয়াপ্রিয়ো ধীরস্তুল্যনিন্দাত্মসংস্তুতি।।

সম-দুঃখ-সুখঃ স্ব-স্থঃ সম-লোষ্ট-অশ্ম-কাঞ্চনঃ।

তুল্য-প্রিয়-অপ্রিয়ঃ ধীরঃ তুল্য-নিন্দা-আত্ম-সংস্তুতি।।

যিনি সুখে দুঃখে সমভাবে থাকেন; পাথর, মাটি আর সোনার মধ্যে যিনি কোন পার্থক্য দেখেন না, প্রিয় এবং অপ্রিয় বিষয়ে যিনি একইভাবে উদাসীন, নিন্দা ও প্রশংসাতেও যিনি অবিচলিত শান্ত থাকেন, তিনিই ত্রিগুণাতীত।

 

২৫

মানাপমানয়োস্তুল্যস্তুল্যো মিত্রারিপক্ষয়োঃ।

সর্বারম্ভপরিত্যাগী গুণাতীতঃ স উচ্যতে।।

মান-অপমানয়োঃ তুল্যঃ তুল্যঃ মিত্র-অরি-পক্ষয়োঃ।

সর্ব-আরম্ভ-পরিত্যাগী গুণ-অতীতঃ সঃ উচ্যতে।।

যিনি সম্মান ও অপমানে নির্বিকা্র, মিত্রপক্ষ ও শত্রুপক্ষে কোন পার্থক্য করেন না, যিনি ফলের প্রত্যাশী সমস্ত কর্মই ত্যাগ করেছেন, তিনিই ত্রিগুণাতীত।

 

২৬,

২৭

মাঞ্চ যোঽব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সেবতে।

স গুণান্‌ সমতীত্যৈতান্‌ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।।

ব্রহ্মণো হি প্রতিষ্ঠাঽহমমৃতস্যাব্যয়স্য চ।

শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সুখস্যৈকান্তিকস্য চ।।

মাং চ যঃ অব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সেবতে।

স গুণান্‌ সমতীত্য এতান্‌ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।। ২৬

ব্রহ্মণঃ হি প্রতিষ্ঠা অহম্‌ অমৃতস্য অব্যয়স্য চ।

শাশ্বতস্য চ ধর্মস্য সুখস্য ঐকান্তিকস্য চ।। ২৭

যিনি ঐকান্তিক ভক্তিযোগে আমার উপাসনা করেন, তিনিও এই ত্রিগুণের প্রভাব অতিক্রম করে ব্রহ্মস্বরূপ লাভ করে থাকেন। কারণ, আমিই অমৃতস্বরূপ অব্যয় ও অবিনাশী স্বয়ং ব্রহ্ম; আমিই শাশ্বত জ্ঞানযোগরূপ এবং ঐকান্তিক সুখস্বরূপ পরম ব্রহ্ম।   

 গুণত্রয়বিভাগযোগ সমাপ্ত

চলবে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ৮

    এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - "  সুরক্ষিতা - পর্ব ১  "  অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - "  এক দুগুণে শূণ্য   ...