এই সূত্রে - " ঈশোপনিষদ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "
ষোড়শ অধ্যায়ঃ দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ
|
১-৩ |
শ্রীভগবান বললেন- যাঁরা দৈবী বিভূতি লাভের জন্য
জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের নির্ভয়, চিত্তের শুদ্ধি, জ্ঞান ও যোগে নিষ্ঠা, দান,
ইন্দ্রিয়ের সংযম, যজ্ঞ, বেদ ও অন্যান্য শাস্ত্র পাঠ, তপস্যা, সরলতা, অহিংসা,
সত্য, ক্রোধকে জয় করা, ত্যাগ, শান্তি, পরনিন্দা না করা, সর্বজীবে দয়া, নির্লোভী,
কুটিলতা ত্যাগ, কুকর্মে লজ্জা, অচপলতা, তেজ, ক্ষমা, ধৈর্য, মানসিক ও শারীরিক
শুচিতা, বিনয় ও অহংকারহীনতা – এই সকল সদ্গুণরূপ সম্পদ লাভ হয়ে থাকে। [দৈবী – দেবযোগ্য, সাত্ত্বিক] |
||
|
৪ |
হে পার্থ, দম্ভ, দর্প, অহংকার, ক্রোধ, নিষ্ঠুরতা ও
অজ্ঞান বিবেকহীনতা থেকেই ব্যক্তি আসুরী অবস্থা লাভ করে থাকে। |
||
|
৫ |
বলা হয়ে থাকে, দৈবী সদ্গুণ সংসারের বন্ধন থেকে
পরমমুক্তির উপায় এবং আসুরীগুণ সংসারের বন্ধনের কারণ। হে পাণ্ডুপুত্র অর্জুন,
দুঃখ করো না, তুমি দৈবী সম্পদ নিয়েই জন্ম গ্রহণ করেছ। |
||
|
৬ |
হে পার্থ, এই জগতে দৈব এবং আসুর, এই দুই প্রকার
স্বভাবেরই জীব ও মানুষ সৃষ্টি হয়েছে। দেবসুলভ মানুষের কথা তোমাকে আগেই সবিস্তারে
আমি বলেছি, এখন অসুরসুলভ মানুষের কথা বলছি, শোন। |
||
|
৭ |
আসু্রী মানুষের না ধর্মে প্রবৃত্তি থাকে, না অধর্মের
নিবৃত্তি জানে। তাদের শুচিতা থাকে না, সদাচার থাকে না, এমনকি সত্যও থাকে
না। |
||
|
৮ |
তারা বলে, জগৎ মিথ্যা, এখানে ধর্ম বা অধর্মের কোন
সংস্থান নেই এবং ঈশ্বরও নেই। এই জগৎ সৃষ্টিতে স্ত্রী ও পুরুষের পারষ্পরিক কাম
সংযোগ ছাড়া আর কি কারণ থাকতে পারে? |
||
|
৯ |
বিকৃত আত্মা, স্বল্পবুদ্ধি ও নিষ্ঠুর কর্মা এই
ব্যক্তিরা, এই দর্শন অনুসরণ ক’রে, জগতের অমঙ্গল ও বিনাশের জন্যেই জন্মগ্রহণ করে। |
||
|
১০ |
মনে অপূরণীয় কামনা নিয়ে, তারা অহংকার, অভিমান এবং
ঈর্ষায় সংযুক্ত থাকে আর বিবেকহীন অন্ধ মোহে তারা বীভৎস কর্মে লিপ্ত হয়। |
||
|
১১ |
তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, কাম উপভোগই জীবনের পরমকর্ম, আর
এই চিন্তাতেই মৃত্যু পর্যন্ত তারা সীমাহীন সময় পার করে দেয়। |
||
|
১২ |
আশার অজস্র বন্ধনে আবদ্ধ এবং কাম ও ক্রোধের বশীভূত
এই সব ব্যক্তি, বিষয় কামনা চরিতার্থ করার জন্যে অসৎ উপায়ে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা
করে। |
||
১৩ |
‘আজ আমার এই
লাভ হয়েছে, আমার মনোমত এই বিষয় কাল পাবো। আজ আমার এই সম্পদ আছে, আরো সম্পদ আমি
ভবিষ্যতে লাভ করবো’। |
||
|
১৪ |
‘আজ এই
শত্রুকে আমি হত্যা করেছি, অন্য শত্রুদেরও আমি বিনাশ করবো। আমিই সর্ব নিয়ন্তা
ঈশ্বর, আমিই ভোগী, আমিই সফল সিদ্ধ পুরুষ। আমি শক্তিশালী, আমি সুখী’। |
||
|
১৫ |
‘আমি ধনী ও
উচ্চবংশ জাত, আমার সমান আর কে আছে? আমিই যজ্ঞ করবো, দান করবো আবার আনন্দও করবো’,
এই সমস্ত অজ্ঞানের জন্যেই বিবেকহীন ব্যক্তিরা মুগ্ধ হয়। |
||
|
১৬ |
এই রকম বহু কামনায় বিক্ষিপ্ত, মোহ জালে ঢাকা,
বিষয়-বাসনা ভোগে আসক্ত যার মন, সে অপবিত্র কুৎসিত নরকে পতিত হয়। |
||
|
১৭ |
নিজেকেই যে ব্যক্তি মহৎ ভাবে, দুর্বিনীত এবং অর্থগৌরবে
অহংকারী সেই দাম্ভিক ব্যক্তি, শাস্ত্র নিয়ম না মেনে যে যজ্ঞ করে, সে যজ্ঞ
নামমাত্র। |
||
|
১৮ |
অহংকার, উৎপীড়নের ক্ষমতা, দর্প, কাম ও ক্রোধে
আচ্ছন্ন ব্যক্তি সাত্ত্বিক ব্যক্তিদের দোষবিচার করে এবং সমস্ত দেহের পরমাত্মা
স্বরূপ আমাকেই অবজ্ঞা করে। |
||
|
১৯ |
এই সমস্ত সাধু বিদ্বেষী, নিষ্ঠুর, সংসারের অমঙ্গলকারী
নিকৃষ্ট নরাধমকে আমি বারবার আসুর যোনিতে নিক্ষেপ করি। |
||
|
২০ |
হে কুন্তীপুত্র, এই রূপ মূর্খব্যক্তি জন্মে জন্মে
আসুরী যোনিতেই জন্ম লাভ করে এবং আমাকে লাভ করা দূরে থাক, তারা আরও নীচ জন্ম লাভ
করে। |
||
|
২১ |
কাম, ক্রোধ এবং লোভ – নরকের এই তিন প্রকার দ্বার
জীবাত্মাকে নীচ পথে চালনা করে। কাজেই এই তিনটি দোষকে সর্বদা ত্যাগ করা উচিৎ। |
||
|
২২ |
এই নরকের দ্বার স্বরূপ তিন তমোগুণ থেকে বিমুক্ত হলে,
মানুষ নিজের মঙ্গল আচরণে সমর্থ হয় এবং তারপর পরমমোক্ষ লাভ করে। |
||
|
২৩ |
যে শাস্ত্র বিধি না মেনে নিজের ইচ্ছামতো কর্মে
প্রবৃত্ত হয়, সে ব্যক্তি না সিদ্ধিলাভ করে, না সুখ পায় এবং পরম মুক্তিও লাভ করতে
পারে না। |
||
|
২৪ |
অতএব শাস্ত্রই হল তোমার কর্তব্য এবং অকর্তব্য কর্মের
একমাত্র প্রমাণ, কাজেই শাস্ত্রে বর্ণিত বিধি নিষেধ মেনেই কর্তব্য কর্ম করো। |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন