বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫

যদি হও স্বজন

 



[এর আগের পর্ব "ধরে রাখাই ধর্ম"] 


মাস দুয়েকের মধ্যে আমাদের উপনয়ন অনুষ্ঠান সমাধা হয়ে গেল, পঞ্জিকা অনুসারে নির্দিষ্ট নির্বাচিত দিনটিতে।

সূর্যোদয় থেকে একের পর এক বিধিসম্মত আচার-অনুষ্ঠান, সুদীর্ঘ শাস্ত্রীয় পদ্ধতি ও একটানা যজ্ঞ শেষে ব্রহ্মচারীত্বে উত্তরণ হল সেই বালকের। সৌম্য ভিক্ষু বালক - মুণ্ডিত মস্তক, সূচ-বিদ্ধ কর্ণপরনে গৈরিক বসন, পায়ে কাঠের পাদুকা, হাতে অদ্ভূত আঁকাবাঁকা বেউল বাঁশের দণ্ড, কাঁধে গেরুয়া কাপড়ে বানানো বিশেষ ঝোলা। ভিক্ষুর বেশ, কিন্তু ভিক্ষা বৃত্তি করতে হবে না বরং একজায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আর সকলে আসবেন সেই ব্রহ্মচারী বালককে ভিক্ষা দেবার জন্যে। এই ভিক্ষা দান পুণ্যকর্মপ্রথম ভিক্ষা দেবেন মাতৃসমা কোন নারী, পরবর্তী জীবনে তিনিই হবেন ব্রহ্মচারী সেই বালকের সারাজীবনের দ্বিতীয় মা - ভিক্ষুমা। এক নারী জাগতিক জন্ম দিয়েছেন, উদ্ভাসিত করেছেন প্রাণ, আর এক নারীর হাতে দ্বিতীয় জন্ম হয়ে, উদ্ভাসিত হবে আত্মা। প্রথম নারী আমার মা, দ্বিতীয় নারী হলেন ভিক্ষুমা – আমার পূর্বাশ্রমে যিনি ছিলেন আমার বড়োমামীমা। 

“ভবতী ভিক্ষাং দেহি” এবং “ভবান ভিক্ষাং দেহি” বাক্য উচ্চারণ করে ভিক্ষা চেয়েছিল সেই বালক ব্রাহ্মণ, আর কাঁধের ঝোলা ফাঁক করে ভিক্ষা গ্রহণের পর “ওঁ স্বস্তি” উচ্চারণে ও হাতের বিশেষ ভঙ্গীতে সকলের মঙ্গল কামনা করেছিল এই সমগ্র অনুষ্ঠান সুদূর অতীতের বর্ণাশ্রম বিভাজিত সমাজের আনুষ্ঠানিক রীতিপ্রকরণের অনুসরণ। আজকের আধুনিক পরিস্থিতিতে বাস্তব অর্থে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক, কিন্তু এই অনুসরণ বারবার ফিরিয়ে আনে আমাদের সনাতন ঐতিহ্যের স্মরণ।

এসব কথা সে সময় আমার মোটেই মনে হয়নি। বরং আমার তীক্ষ্ণ লক্ষ্য ছিল ভরে উঠতে থাকা ভিক্ষার ঝুলির দিকে। চাল, আলু আর কিছু আনাজের সঙ্গে জমে উঠছিল সোনার আংটি আর বেশ কিছু নগদ টাকা। অন্য কিছু নয়, আমি তখন মনে মনে হিসেব করছিলাম কত টাকা জমা হল, আর এই টাকা দিয়ে কতগুলি বই কেনা যাবে।

আসলে প্রত্যেক বছর জন্মদিনে মা আমাদের হাতে টাকা দিতেন একটি করে বই কিনতে, আর সেই টাকা নিয়ে চলে যেতাম বঙ্কিম চাটুজ্জ্যে স্ট্রীটে দেব সাহিত্য কুটিরের দোকানে। যেখানে রয়েছে সুধীন্দ্রনাথ রাহার বাংলা অনুবাদে বিদেশী ক্ল্যাসিক উপন্যাসসমূহএভাবেই দশ-বারো টাকা দরে কিনে ফেলেছিলাম হাঞ্চব্যাক অফ নৎরদাম, ট্রেজার আইল্যান্ড, টয়লার্স অব দি সি... প্রত্যেকটি বইয়ের পিছনে থাকত আরো অনেক অনেক বইয়ের তালিকা, মনে হত বড় হয়ে যখন চাকরি করব, প্রথম মাসের টাকায় সব বই কিনে নেব, সব – থ্রী মাস্কেটিয়ার্স, রাউন্ড দি ওয়ার্ল্ড ইন এইট্টি ডেজ, লাস্ট ডেজ অব পম্পেই, দি কানেকটিকাট ইয়াংকি, ডা: জেকিল এন্ড মিঃ হাইড... কাজেই ভিক্ষার ঝুলি ঝেড়ে, হিসেব করে যখন তিনশ ছাপান্ন টাকা পেলাম, তখন আনন্দের সীমা ছিল না, গোটা দেব সাহিত্য কুটিরটিকে কিনে ফেলার আশ্চর্য স্পর্ধায় চনমনে হয়ে উঠেছিলাম সেদিন

সব মিলিয়ে সীমিত সাধ্য আর অপ্রয়োজনীয় বলেই, খুব ধুমধাম-জাঁকজমক হল না ঠিকই, কিন্তু মজার কোনো কমতি, আমি অন্ততঃ অনুভব করিনি। ঘনিষ্ঠ বৃত্তের আত্মীয়স্বজন সকলেই এসেছিলেন। কিন্তু একটু বহির্বৃত্তের স্বজনরা আমাদের বয়কট করে ফেললেন, আমাদের এই অধার্মিক অনাচারের জন্যে। তাঁরা পত্রদ্বারা বাবাকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন আধুনিক কালের এই হাল্কা চালের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে এমন অপকর্ম চাক্ষুষ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। কাজেই তাঁরা আসবেন না তাঁদের না আসার কথায় মন খারাপ করে মা ও বাবা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তখন আর নতুন ভাবে ভাবার সময় ছিল না, আর সঙ্গে মেজদাদুর স্থিত আশ্বাস থাকায় নতুন কোন ভাবনাও দানা বাঁধতে পারেনি। 

আমাদের উপনয়ন উপলক্ষে যেদিন প্রীতিভোজ ছিল, শুধু সেদিনই - মাত্র একদিনের জন্যেই রান্নার ঠাকুর ডাকা হয়েছিল। বাকি দিনগুলিতে মামীমা, মাসিমাদের সঙ্গে পিসিমা, কাকিমারা হাতে হাত মিলিয়ে সব কাজ করেছিলেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁদের কাজের অন্ত ছিল না, অথচ সারাটাক্ষণ তাঁদের মধ্যে চলছিল একে অন্যের পিছনে লাগা খুনসুটি। হাসি, হাসি আর আনন্দ, কোন ভুল বোঝাবুঝি ছিল না। মাসিমারা বাবার শ্যালিকা, কাজেই তাঁরা জামাইবাবু হিসেবে বাবার পিছনে লাগছিলেন খুব, আর আড়াল থেকে মাসিমাদের এই প্রগলভতা রীতিমতো উপভোগ করতে দেখেছিলাম কাকীমাদের – কারণ ভ্রাতৃবধূ হিসেবে তাঁরা বাবার সামনে আসতেন খুবই কমকোন কোন সময় এমনও দেখেছি কাকীমারাই মাসিমাদের প্ররোচিত করছেন বাবার পিছনে লাগার জন্যে! ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যেও মেজদাদু ও ঠাকুমা নীরবে উপভোগ করছিলেন সমস্ত পরিস্থিতি, দিদিমার অধরেও লাগাতার মৃদু হাসি – যদিও দু একবার দুর্বলভাবে আপত্তি জানাচ্ছিলেন তাঁর মেয়েদের বাচালতায় এর মধ্যে ভীষণ অভাব অনুভব হচ্ছিল অনুপস্থিত বড়োমামা আর বন্নিদিদির। বড়োমামা কী করে আসবেন, সব্বাই মিলে ঘরবাড়ি ফেলে আসা যায় - গরু-বাছুর, খেতখামার, কাজকর্ম কে সামলাবে? আর বন্নিদিদি চলে এলে বড়োমামার খাওয়াদাওয়া চলবে কী করে? কাজেই, ওরা নাচার, আসতে পারলেন না।

তবু সে যাই হোক, সব মিলিয়ে সে এক অদ্ভূত মধুর আত্মীয়তা। যার প্রতিটি পরতে আনন্দ এবং আনন্দ। তখন মনে হয়েছিল যাঁরা আমাদের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে অনুপস্থিত রইলেন, তাঁরা ধর্মের ধ্বজা হয়তো ধারণ করে রইলেন, কিন্তু অনুভব করতে পারলেন না – আত্মীয়তার অনবদ্য সহজ স্বভাবধর্ম।  

আমরা ছেলেরা ও বড়োরা যখন রাত্রে ম্যারাপ বাঁধা ছাদে শুতে যেতাম, তখন নীচেয় মহিলারা খেতে বসতেনতাঁদের গল্প আর হাসির আওয়াজ শুনতে শুনতে আমরা ঘুমিয়ে পড়তাম, আবার সকাল সকাল ছোট মাসিমা বড়ো ট্রেতে করে অনেক খালি কাপ আর বিস্কুট আর ঢাউস কেটলিতে চা নিয়ে ছাদে আসতেন – বেড টি দিয়ে বড়োদের ঘুম ভাঙাতে। আর আমাদের তুলে দিতেন মুখ ধুয়ে চটপট রেডি হয়ে নিতে – জল খাবার রেডি। বড়োদের অনেক কাজ – সমস্ত অনুষ্ঠান সুষ্ঠু সম্পন্নের জন্য যোগাড় যন্ত্র করতে হবে - ব্যবস্থা করতে হবে। সক্কাল সক্কাল উঠে সবাই বেরিয়ে পড়লেন বাজার করতেআজ সারাটা দিনে সমস্ত কাঁচা বাজার সেরে রাখতে হবে, কালকে সকালে বেরিয়ে শুধু মাছ, আর একটু বেলায় দই আর মিষ্টিকাজেই সারাটাদিন সকলের চরম ব্যস্ততা, বারবার বাজার যাওয়া আর আসা। বস্তা বস্তা মাল উঠে আসছে বাড়ির ছাদে। আলু থেকে শুরু করে কলাপাতা, মায় মাটির গেলাস পর্যন্ত - থরে থরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে ছাদের একধারে আর অন্য এক ধারে কয়লা, জ্বালানি কাঠ, ঘুঁটে, কেরোসিন আর বেশ কিছু ইঁট আর মাটি।

রান্নার ঠাকুর বিকেলে এসে ছাদের এক কোণে মাটি আর ইঁটের গাঁথনিতে বানিয়ে তুলল দু-দুটো উনুন, তার ভিতরে লোহার শিক দেওয়া। আজ সারারাতে মাটি শুকিয়ে উনুন রেডি হয়ে থাকবে – কালকে সকালে ঘুঁটে আর কয়লা পেটে নিয়ে, তারা জ্বলে উঠবে প্রায় শদেড়েক লোকের রান্নার আয়োজনে। সারাটা দিনের দৌড়োদৌড়ির পর রাত আটটা নাগাদ বড়োদের মিটিং বসল ছাদে, ফর্দ অনুযায়ী সব মাল এসেছে কি না, না এসে থাকলে এক প্রস্থ হৈ চৈ, নীচে মহিলামহলে চায়ের হুকুম, তারপর আবার নতুন ফর্দ বাকি জিনিষের, কাল সক্কালেই আবার বেরোতে হবে বকেয়া মাল কিনতে।

এদিকে নীচেয় রাত্রে বাড়ির লোকেদের রান্নায় ব্যস্ত মাসিমা আর কাকিমারা। দিদিমা আর মেজ ঠাকুমা পা ছড়িয়ে বসেছেন সবুজ পানপাতার জঙ্গল নিয়েকালকের নিমন্ত্রিতদের জন্যে পান বানাচ্ছেন। চারপাশে চূণের ডাব্বা, সুপুরির স্তূপ আর যাঁতি, তরল খয়েরের পাত্র, ধনের চাল, লাল-নীল রঙীন চিনির মোড়কে মৌরীআমার এক মাস্তুতো দিদি আর এক পিস্তুতো দিদি - খুব ভাব হয়ে গেছে দুজনে – গায়ে গা ঘেঁষে বসে, খোসা ছাড়িয়ে বের করছে ছোট এলাচের দানা। দুজনে নিজেদের মধ্যে নীচু স্বরে কি কথা বলছে কে জানে, ক্ষণে ক্ষণে হেসে গড়িয়ে পড়ছে একে অন্যের গায়ে...। দিদিমা স্নেহ মাখা কণ্ঠে তাদের বলছেন, ‘দ্যাকোদিকি কাণ্ডখানা, এ মেয়েদুটো যে হেসে একেবারে গড়াগড়ি, এত হাসির কি হল, বাছা’? মেয়েদুটি দিদিমার কথায় কিছুক্ষণ চুপচাপ এলাচ ভাঙল ঠিকই, কিন্তু সে আর কতক্ষণ – সামলে থাকা যায় নাকি? তারা আবার হেসে হেসে লুটিয়ে পড়তে লাগল আগের মতোই।

সবাই ব্যস্ত, একমাত্র আমি ছাড়া। একে আমি সদ্য পৈতে হওয়া বামুন – অন্যদিকে খুব একটা বড়োও নই আবার খুব একটা ছোটও নই। কাজেই কিছু কাজ করতে গেলেই কেউ না কেউ দৌড়ে আসছেন আমাকে আটকাতে, ‘এ হে হে হে, তুই কী করছিস এখানে, রাখ রাখ, এই কি তোর কাজ করার সময়’? কাজেই আমি সব মহলেই ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম সব কিছু, দেখতে লাগলাম এই আয়োজন। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ পরিশ্রম, পারষ্পরিক সম্পর্কের অদ্ভূত সংমিশ্রণ   

দুটি মাত্র ঘর, একটি মাত্র টয়লেট, অনেকটা খোলা ছাদে বাঁশ, তেরপল আর কাপড়ের ম্যারাপ আর বেশ কয়েকজন সজ্জন প্রতিবেশীর উদার সাহায্যে প্রায় জনা তিরিশেক স্বজনের দিব্ব্যি সংকুলান হয়ে গেল চার-পাঁচদিনের জন্যে। কিভাবে হয়েছিল ভাবলে আজও আশ্চর্য লাগে, কারণ আজকাল সব শহরেই বাজেট অনুসারি ছোটবড় উৎসববাড়ির অভাব নেই, আর দুঘরের বাসায় এমন অনুষ্ঠান করার কথা আজ আর কেউ স্বপ্নেও ভাবেন না। এসব হতে পেরেছিল কারণ - অনলস কাজের মধ্যে, ছোট বড় সবার প্রতি সমান নজর রাখতে রাখতে, বড়মামীমাকে অনেকবার বলতে শুনেছিলাম – “যদি হও স্বজন, তেঁতুল পাতায় নজন”

ঋণ করে সাধ্যাতীত ব্যয়ে অনেক বড়োসড়ো আয়োজন করাই যেত, কিন্তু সমানুপাতে আনন্দ বেশী হত, এমনটা মনে হয় না। বরং ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তার পিছুটান একটা থাকত অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তেই, সেটাতে আনন্দের রং অনেকটাই ফিকে হয়ে যেতে পারত।

মহাভারতে বকবেশী ধর্মরাজ, যুধিষ্ঠিরকে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল – বিশ্বে সবচেয়ে সুখী কারা? স্থিতপ্রজ্ঞ যুধিষ্ঠির জবাবে বলেছিলেন যিনি অঋণী আর যিনি অপ্রবাসী – তাঁরাই সবচেয়ে সুখী। আমাদের মেজদাদু তাঁর পাণ্ডিত্যের প্রায়োগিক প্রত্যয় দিয়ে আমাদের সুখী এবং বিপন্মুক্ত করেছিলেন। কারণ আমাদের এই উপনয়ন অনুষ্ঠানের প্রায় মাস সাত-আটেক পরেই, কোনদিন অসুস্থ না হওয়া আমার মা, হঠাৎই কঠিন অসুখে প্রায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়েছিলেন সুদীর্ঘ চিকিৎসার পর। কাজেই ঋণ করে আনন্দ অনুষ্ঠান, আমাদের এক চরম অনায়ত্ত বিপদের দিকে টেনে নিতে পারত। তা ঘটেনি, আমরা অঋণী ছিলাম বলে। তখন বারবার মনে হয়েছিল প্রকৃত গুরুজন হয়ে ওঠা বড়ো সহজ কাজ নয় – শুধু বয়েস নয় দরকার আরো অনেক কিছুর – সবচেয়ে বেশী দরকার প্রকৃত স্বজন হয়ে ওঠা।

--০০--

এর পরের পর্ব - " বাংলাদেশের হৃদয় হতে "

মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

গীতা - ১ম পর্ব

এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ 

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ " 





 [প্রত্যেকটি লেখা সরাসরি আপনার মেলে পেতে চাইলেডান দিকের কলামে "ফলো করুন" 👉

            বক্সটি ক্লিক করে নিজের নাম ও মেল আইডি রেজিস্টার করে নিন। এই ব্লগটি আপনি মোবাইলে ড়লে

              স্ক্রিন ডিসপ্লে মোডটি ডেস্কটপ মোডে চেঞ্জ করে নিলে ডানদিকের কলমটি নজরে আসবে।]


প্রথম অধ্যায়ঃ অর্জুনের বিষাদযোগ

 

এই সেই প্রান্তর, যেখানে প্রাচীন কালে মহারাজ কুরু, যিনি কুরুবংশের গোত্র রাজা, বহু যজ্ঞ পবিত্রভাবে সম্পন্ন করেছিলেন বলেই, তাঁর নাম অনুসারে এই প্রান্তরের নাম কুরুক্ষেত্র। বহু যজ্ঞের সুষ্ঠু আয়োজনে এই প্রান্তর ধর্মক্ষেত্রও বটে।

কুরুক্ষেত্রের এই প্রান্তরে যুদ্ধ শুরুর আয়োজন। কুরুবংশের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই যুদ্ধ, একদিকে দুর্যোধনের নেতৃত্বে কৌরববাহিনী এবং অন্যদিকে যুধিষ্ঠিরের নেতৃত্বে পাণ্ডববাহিনী। সমসাময়িক ভারতের প্রায় সমস্ত মহাবীর রাজন্যবর্গও বিরোধী দুই পক্ষকে সমর্থন করার জন্যে এসে মিলিত হয়েছেন এই যুদ্ধের প্রান্তরে। সবার উপরে আছেন দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণতিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, আসন্ন এই যুদ্ধে নিজহাতে অস্ত্র ধরবেন না, অর্জুনের রথের সারথি হয়েই তিনি পরিচালনা করবেন পাণ্ডবপক্ষের সকল রণকৌশল।

অবশেষে, দীর্ঘ প্রস্তুতির পর সেদিন যুদ্ধ শুরু করার জন্য কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে দুইপক্ষই সমবেত হয়েছে। চির অন্ধ মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র যুদ্ধের পরিস্থিতি কি জানার জন্যে উদ্গ্রীব হয়ে তাঁর দিব্যদৃষ্টিধারী মন্ত্রী সঞ্জয়কে বললেন,  

 

১/১

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ

ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ।

মামকাঃ পাণ্ডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয়ঃ।।

ধৃতরাষ্ট্র উবাচ

ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুৎসবঃ।

মামকাঃ পাণ্ডবাঃ চ এব কিম্‌ অকুর্বত সঞ্জয়ঃ।।

ধৃতরাষ্ট্র বললেন - আমাদের বাহিনী আর পাণ্ডবের সৈন্যসামন্ত, যুদ্ধ করার জন্যে পবিত্র এই কুরুক্ষেত্রে একত্র হয়ে এখন কে কি করছে, আমায় বিস্তারিত বলো, সঞ্জয়

 

১/২

সঞ্জয় উবাচ

দৃষ্ট্বা তু পাণ্ডবানীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনস্তদা।

আচার্যমুপসঙ্গম্য রাজা বচনমব্রবীৎ।।

সঞ্জয় উবাচ

দৃষ্ট্বা তু পাণ্ডব-অনীকং ব্যূঢ়ং দুর্যোধনঃ তদা।

আচার্যম্‌ উপসঙ্গম্য রাজা বচনম্‌ অব্রবীৎ।।

সঞ্জয় বললেন – হে মহারাজ, রাজা দুর্যোধন যুদ্ধক্ষেত্রে পাণ্ডবের কুশলী সেনাবিন্যাস দেখে আচার্য্য দ্রোণের কাছে গিয়ে বলছেন,

 

১/৩

পশ্যৈতাং পাণ্ডুপুত্রাণামাচার্য মহতীং চমূম্‌।

ব্যূঢ়াং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা।।

পশ্য এতাং পাণ্ডুপুত্রাণাম্‌ আচার্য মহতীং চমূম্‌।

ব্যূঢ়াং দ্রুপদ-পুত্রেণ তব শিষ্যেণ ধীমতা।।

 (দুর্যোধন বললেন) পাণ্ডবদের এই বিশাল সেনাবিন্যাস দেখছেন, গুরুদেব? আপনারই শিষ্য রাজা দ্রুপদের বুদ্ধিমান পুত্র (ধৃষ্টদ্যুম্ন) এটির পরিচালনা করছেন।

 

১/৪-৬

অত্র শূরা মহেষ্বাসা ভীমার্জুনসমা যুধি।

যুযুধানো বিরাটশ্চ দ্রুপদশ্চ মহারথঃ।।

ধৃষ্টকেতুশ্চেকিতানঃ কাশীরাজশ্চ বীর্যবান।

পুরুজিৎ কুন্তিভোজশ্চ শৈব্যশ্চ নরপুঙ্গবঃ।।

যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বীর্যবান।

সৌভদ্রো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব এব মহারথাঃ।।

অত্র শূরা মহা-ইষ্বাসা ভীম-অর্জুনসমা যুধি।

যুযুধানো বিরাটঃ চ দ্রুপদঃ চ মহারথঃ।। ৪

ধৃষ্টকেতুঃ চেকিতানঃ কাশীরাজঃ চ বীর্যবান।

পুরুজিৎ কুন্তিভোজঃ চ শৈব্যঃ চ নরপুঙ্গবঃ।। ৫

যুধামন্যুঃ চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাঃ চ বীর্যবান।

সৌভদ্রঃ দ্রৌপদেয়াঃ চ সর্ব এব মহারথাঃ।। ৬

এই সেনাবাহিনীর মধ্যে ভীম ও অর্জুনের মতো মহাবীর যেমন আছে, তেমনই আছেন মহাবীর সাত্যকি, মৎস্যরাজ বিরাট, মহাযোদ্ধা দ্রুপদআরো রয়েছেন শিশুপাল পুত্র ধৃষ্টকেতু, যদুবংশের সেরা বীর চেকিতান, বীর শ্রেষ্ঠ কাশীরাজ, কুন্তিভোজের পুত্র পুরুজিৎ, শিবিদেশের রাজা শ্রেষ্ঠ বীর শৈব্য, পাঞ্চালদেশের মহা পরাক্রমশালী যুধামন্যু ও উত্তমৌজা। এছাড়াও রয়েছে সুভদ্রার পুত্র অভিমন্যু এবং দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র, এরাও কিন্তু বীরত্বে কম যায় না।

 

 

১/৭

 

অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্নিবোধ দ্বিজোত্তম।

নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থ তান্‌ ব্রবীমি তে।।

অস্মাকং তু বিশিষ্টা যে তান্‌ নিবোধ দ্বিজ-উত্তম।

নায়কা মম সৈন্যস্য সংজ্ঞার্থ তান্‌ ব্রবীমি তে।।

আমাদের পক্ষে যাঁরা প্রধান এবং আমাদের বাহিনীর যাঁরা সেনানায়ক, তাঁদের কথাও আপনাকে বলে রাখি, গুরুদেব। তাঁদের সকলের নাম আপনার জেনে রাখা ভাল।

 

১/৮

ভবান্‌ ভীষ্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিঞ্জয়ঃ।

অশ্বত্থামা বিকর্ণশ্চ সৌমদত্তির্জয়দ্রথঃ।।

ভবান্‌ ভীষ্মঃ চ কর্ণঃ চ কৃপঃ চ সমিতিঞ্জয়ঃ।

অশ্বত্থামা বিকর্ণঃ চ সৌমদত্তিঃ জয়দ্রথঃ।।

আপনি নিজে আছেন, আর আছেন ভীষ্ম, কর্ণ, রণবিজয়ী কৃপ, অশ্বত্থামা, বিকর্ণ, সোমদত্তের পুত্র ভূরিশ্রবা এবং সিন্ধুরাজ জয়দ্রথ।

 

১/৯

অন্যে চ বহবঃ শূরা মদর্থে ত্যক্তজীবিতাঃ।

নানাশস্ত্রপ্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ।।

অন্যে চ বহবঃ শূরা মৎ-অর্থে ত্যক্ত-জীবিতাঃ।

নানা-শস্ত্র-প্রহরণাঃ সর্বে যুদ্ধবিশারদাঃ।।

এছাড়াও অনেক বীর আছেন যাঁরা আমার জন্যে প্রাণ দিতেও প্রস্তুত, তাঁরা সকলেই নানান অস্ত্রশস্ত্র চালনায় খুবই পারদর্শী এবং যুদ্ধবিদ্যাতে খুবই দক্ষ।

 

১/১০

অপর্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভীষ্মাভিরক্ষিতম্‌।

পর্যাপ্তং ত্বিদ্মেতেষাং বলং ভীমাভিরক্ষিতম্‌।।

অপর্যাপ্তং তৎ অস্মাকং বলং ভীষ্ম অভিরক্ষিতম্‌।

পর্যাপ্তং তু ইদং এতেষাং বলং ভীম-অভিরক্ষিতম্‌।।

হে আচার্য, পিতামহ ভীষ্মের বিশেষ পরিচালনায় আমাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী অপরাজেয়, আমাদের বিরুদ্ধে ভীমের অধীনে থাকা পাণ্ডবের সৈন্যদল কিন্তু আদৌ যথেষ্ট নয়।

 

১/১১

অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ।

ভীষ্মমেবাভিরক্ষন্তু ভবন্তঃ সর্ব এব হি।।

অয়নেষু চ সর্বেষু যথাভাগম্‌-অবস্থিতাঃ।

ভীষ্মম্‌ এব অভিরক্ষন্তু ভবন্তঃ সর্ব এব হি।।

অতএব আপনারা সকলেই প্রতিটি সেনাব্যূহে প্রবেশের দরজায়, নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব নিন এবং সব দিক থেকে ভীষ্মকে রক্ষা করুন

        

১/১২

তস্য সংজনয়ন্‌ হর্ষং কুরুবৃদ্ধ পিতামহঃ।

সিংহনাদং বিনদ্যোচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্নৌ প্রতাপবান্‌।।

তস্য সংজনয়ন্‌ হর্ষং কুরুবৃদ্ধ পিতামহঃ।

সিংহনাদং বিনদ্যচ্চৈঃ শঙ্খং দধ্নৌ প্রতাপবান্‌।।

এই কথা শুনে, কুরুকুলের মহাপ্রতাপশালী বৃদ্ধ পিতামহ ভীষ্ম সিংহের মতো গর্জন করে উঠলেন, আর দুর্যোধনকে খুশি করার জন্যে বজ্রস্বরে শাঁখ বাজাতে শুরু করলেন।

        

১/১৩

ততঃ শঙ্খাশ্চ ভের্যশ্চ পণবানকগোমুখাঃ।

সহসৈবাভ্যহন্যন্ত স শব্‌দস্তুমুলোভবৎ।।

ততঃ শঙ্খাঃ চ ভের্যঃ চ পণব-আনক-গোমুখাঃ।

সহসা এব অভ্যহন্যন্ত স শব্দঃ তুমুলঃ অভবৎ।।

সঙ্গে সঙ্গে চারিদিক থেকে বেজে উঠল অসংখ্য শাঁখ, ভেরী, ঢাক, মৃদঙ্গ, আর রণশিঙাতুমুল শব্দে ভয়ানক হয়ে উঠল রণস্থল।

 

১/১৪

 

ততঃ শ্বেতৈর্হয়ৈর্যুক্তে মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ।

মাধবঃ পাণ্ডবশ্চৈব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্নতুঃ।।

ততঃ শ্বেতৈঃ হয়ৈঃ যুক্তেঃ মহতি স্যন্দনে স্থিতৌ।

মাধবঃ পাণ্ডবঃ চ এব দিব্যৌ শঙ্খৌ প্রদধ্নতুঃ।।

তার ঠিক পরেপরেই অনেকগুলি সাদা ঘোড়ায় টানা একটি মহারথে বসে শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুন তাঁদের দুজনের অলৌকিক শঙ্খদুটি বাজালেন।

 


১/১৫

 

পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ।

পৌণ্ড্রং দধ্নৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ।।

পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশঃ দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ।

পৌণ্ড্রং দধ্নৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ।।

শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পাঞ্চজন্য, অর্জুন তাঁর দেবদত্ত আর মহাবলশালী ভীম তাঁর পৌণ্ড্র নামক বিখ্যাত শঙ্খের শব্দ তুললেন।       

 

 


/১৬

অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রো যুধিষ্ঠিরঃ।

নকুলঃ সহদেবশ্চ সুঘোষমণিপুষ্পকৌ।।

অনন্তবিজয়ং রাজা কুন্তীপুত্রঃ যুধিষ্ঠিরঃ।

নকুলঃ সহদেবঃ চ সুঘোষ-মণিপুষ্পকৌ।।

কুন্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির তাঁর অনন্তবিজয়, নকুল তাঁর সুঘোষ ও সহদেব তাঁর মণিপুষ্পক নামক শাঁখও একই সঙ্গে বাজিয়ে দিলেন।

 

        

১/১৭-১৮

কাশ্যশ্চ পরমেষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ।

ধৃষ্টদ্যুম্নো বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ।।

দ্রুপদো দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে।

সৌভদ্রশ্চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্‌  দ ধ্নুঃ পৃথক্‌ পৃথক্‌।।

কাশ্যঃ চ পরম-ইষ্বাসঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ।

ধৃষ্টদ্যুম্নঃ বিরাটঃ চ সাত্যকিঃ চ অপরাজিতঃ।।

দ্রুপদঃ দ্রৌপদেয়াঃ চ সর্বশঃ পৃথিবীপতে।

সৌভদ্রঃ চ মহাবাহুঃ শঙ্খান্‌  দ ধ্নুঃ পৃথক্‌ পৃথক্‌।।

হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র, মহা তীরন্দাজ কাশীরাজ, মহাবীর শিখণ্ডী, ধৃষ্টদ্যুম্ন, রাজা বিরাট, অপরাজেয় বীর সাত্যকি, রাজা দ্রুপদ, দ্রৌপদীর পুত্রেরা, সুভদ্রা পুত্র মহাবীর অভিমন্যু, এঁরা সকলেই নিজের নিজের শাঁখগুলি বাজাতে শুরু করলেন।

 

১/১৯

স ঘোষো ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়েৎ।

নভশ্চ পৃথিবীঞ্চৈব তুমুলোভ্যনুনাদয়ন্‌।।

স ঘোষঃ ধার্তরাষ্ট্রাণাং হৃদয়ানি ব্যদারয়েৎ।

ভঃ চ পৃথিবীং চ এব তুমুলঃ অভ্যনুনাদয়ন্‌।।

সেই সমবেত তুমুল শাঁখের ধ্বনি আকাশে এবং পৃথিবীর চারিদিকে প্রতিধ্বনি তুলে ধৃতরাষ্ট্রপুত্রদের হৃদয়ে আলোড়ন তুলে দিল।

 

১/২০

অথ ব্যবস্থিতান্‌ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্‌ কপিধ্বজঃ।

প্রবৃত্তে শস্ত্র সম্পাতে ধনুরুদ্যম্য পাণ্ডবঃ।

হৃষীকেশং তদা বাক্যমিদমাহ মহীপতে।।

অথ ব্যবস্থিতান্‌ দৃষ্ট্বা ধার্তরাষ্ট্রান্‌ কপিধ্বজঃ।

প্রবৃত্তে শস্ত্র সম্পাতে ধনুঃ উদ্যম্য পাণ্ডবঃ।

হৃষীকেশং তদা বাক্যম্‌ ইদম্‌ আহ মহীপতে।।

হে মহারাজ, এরপর আপনার পুত্রদের সকলকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত দেখে, অর্জুন তাঁর রথের কপিধ্বজা উড়িয়ে দিলেন এবং তির নিক্ষেপের জন্যে ধনুক হাতে প্রস্তুত হয়ে শ্রীকৃষ্ণকে বললেন,

                

১/২১-২৩

অর্জুন উবাচ

সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে রথং স্থাপয় মেঽচ্যুত।।

যাবদেতান্নিরীক্ষেঽহং যোদ্ধু কামানবস্থিতান্‌।

কৈর্ময়া সহ যোদ্ধব্যমস্মিন্‌ রণসমুদ্যমে।।

যোৎস্যমানানবেক্ষেঽহং য এতেঽত্র সমাগতাঃ।

ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বুদ্ধের্যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ।।

অর্জুন উবাচ

সেনয়োঃ উভয়োঃ মধ্যে রথং স্থাপয় মে অচ্যুত।।

যাবৎ এতান্‌ নিরীক্ষে অহং যোদ্ধু-কামান্‌ অবস্থিতান্‌।

কৈঃ ময়া সহ যোদ্ধব্যম্‌ অস্মিন্‌ রণসমুদ্যমে।।

যোৎস্যমানান্‌ অবেক্ষে অহং য এতে অত্র সমাগতাঃ।

ধার্তরাষ্ট্রস্য দুর্বুদ্ধেঃ যুদ্ধে প্রিয়চিকীর্ষবঃ।।

অর্জুন বললেন- হে কৃষ্ণ, দুই পক্ষের সৈন্যবাহিনীর মাঝখানে আমাদের রথ নিয়ে চলো। যাঁদের সঙ্গে আমাকে যুদ্ধ করতে হবে, তাঁদের সকলকে দেখব। দুষ্ট বুদ্ধি দুর্যোধনের হিতৈষী যে সব রাজা ও বীরগণ এসেছেন, তাঁদেরকেও আমি দেখতে চাই

                 

১/২৪-২৫

সঞ্জয় উবাচ

এবমুক্তো হৃষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত।

সেনয়োরুভয়োর্মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমম্‌।।

ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্‌।

উবাচ পার্থ পশ্যৈতান্‌ সমবেতান্‌ কুরূনিতি।।

সঞ্জয় উবাচ

এবম্‌ উক্তঃ হৃষীকেশঃ গুড়াকেশেন ভারত।

সেনয়োঃ উভয়োঃ মধ্যে স্থাপয়িত্বা রথ-উত্তমম্‌।।

ভীষ্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সর্বেষাং চ মহীক্ষিতাম্‌।

উবাচ পার্থ পশ্য এতান্‌ সমবেতান্‌ কুরূন্‌ ইতি।।

সঞ্জয় বললেন – হে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র, অতন্দ্র বীর অর্জুনের এই কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধের অপেক্ষায় থাকা দুই পক্ষের সেনা বাহিনীর মাঝখানে সবার সেরা তাঁদের সেই সুন্দর রথটি স্থাপনা করলেন ভীষ্ম, দ্রোণ এবং উপস্থিত কৌরবপক্ষের সমস্ত রাজন্যবর্গের সামনে রথ স্থাপনা করে শ্রীকৃষ্ণ বললেন – হে পার্থ, রণক্ষেত্রে উপস্থিত সমবেত কৌরবগণকে দেখে নাও।

 

১/২৬

তত্রাপশ্যৎ স্থিতান্‌ পার্থঃ পিতৄনথ পিতামহান্‌।

আচার্যান্‌ মাতুলান্‌ ভ্রাতৄ্ন পুত্রান্‌ পৌত্রান্‌ সখীংস্তথা।।

শ্বশুরান্‌ সুহৃদশ্চৈব সেনয়োরুভয়োরপি।।

তত্র অপশ্যৎ স্থিতান্‌ পার্থঃ পিতৄনথ পিতামহান্‌।

আচার্যান্‌ মাতুলান্‌ ভ্রাতৄ্ন পুত্রান্‌ পৌত্রান্‌ সখীং তথা।।

শ্বশুরান্‌ সুহৃদঃ চ এব সেনয়োঃ উভয়োঃ অপি।।

অর্জুন উভয় পক্ষের সেনাবাহিনীর মধ্যে পিতৃস্থানীয়, পিতামহস্থানীয়, আচার্য্য, মাতুল, পুত্র, পৌত্র, বন্ধু, শ্বশুর এবং সুহৃদ্‌ স্থানীয় সকলকেই দেখতে পেলেন।

 

১/২৭

তান্‌ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্‌ বন্ধূনবস্থিতান্‌।

কৃপয়া পরয়াবিষ্টো বিষীদন্নিদমব্রবীৎ।।

তান্‌ সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্বান্‌ বন্ধূন্‌ অবস্থিতান্‌।

কৃপয়া পরয়া আবিষ্টো বিষীদন্‌ ইদম্‌ অব্রবীৎ।।

রণক্ষেত্রে উপস্থিত, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, আদরের পরিজন ও প্রিয়বন্ধুদের দেখে অত্যন্ত কাতর হয়ে বিষণ্ণ অর্জুন বলে উঠলেন,  

   

১/২৮

অর্জুন উবাচ

দৃষ্ট্বেমান্‌ স্বজনান্‌ কৃষ্ণ যুযুৎসূন্‌ সমবস্থিতান্‌।

সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখঞ্চ পরিশুষ্যতি।।

অর্জুন উবাচ

দৃষ্ট্বা ইমান্‌ স্বজনান্‌ কৃষ্ণ যুযুৎসূন্‌ সমবস্থিতান্‌।

সীদন্তি মম গাত্রাণি মুখং চ পরিশুষ্যতি।।

অর্জুন বললেন - হে কৃষ্ণ, রণক্ষেত্রে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত আমার এই পরিজনদের দেখে, আমি অত্যন্ত অবসন্ন ও হতাশা বোধ করছি। আমার শরীরে অস্বস্তি হচ্ছে, আমার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছে

 

১/২৯

বেপথুশ্চ শরীরে মে রোমহর্ষশ্চ জায়তে।

গাণ্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্‌ চৈব পরিদহ্যতে।।

বেপথুঃ চ শরীরে মে রোমহর্ষঃ চ জায়তে।

গাণ্ডীবং স্রংসতে হস্তাৎ ত্বক্‌ চ এব পরিদহ্যতে।।

আমার সর্ব অঙ্গ কাঁপছে, আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। আমার অসাড় হয়ে আসা হাত থেকে ধনুক খসে পড়ছে, সর্ব অঙ্গে আমি তীব্র জ্বালা অনুভব করছি।

 

১/৩০

ন চ শক্নোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ।

নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব।।

ন চ শক্নোমি অবস্থাতুং ভ্রমতি ইব চ মে মনঃ।

নিমিত্তানি চ পশ্যামি বিপরীতানি কেশব।।

হে কেশব, আমি এই রণক্ষেত্রে আর থাকতে পারছি না। আমার মন অস্থির হয়ে উঠেছে। চারদিকে আমি অমঙ্গলের সমস্ত লক্ষণই দেখতে পাচ্ছি।

 

১/৩১

ন চ শ্রেয়োঽনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে।

ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ।।

ন চ শ্রেয়ঃ অনুপশ্যামি হত্বা স্বজনম্‌ আহবে।

ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ।।

এই যুদ্ধে স্বজন হত্যা করে, আমার মনে হচ্ছে না, আমাদের এতটুকুও মঙ্গল হবে। এমন জয় আমি চাই না, হে কৃষ্ণ, রাজ্যলাভের সুখও আমি চাই না।

        

১/৩২-৩৩

কিং নো রাজ্যেন গোবিন্দ কিং ভোগৈর্জীবিতেন বা।

যেষামর্থে কাঙ্ক্ষিতং নো রাজ্যং ভোগাঃ সুখানি চ।।  ইমেঽবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাংস্ত্যক্ত্বা ধনানি চ।

আচার্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তথৈব চ পিতামহাঃ।

মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ সম্‌বন্ধিনস্তথা।।

কিং নঃ রাজ্যেন গোবিন্দ কিং ভোগৈঃ জীবিতেন বা।

যেষাম্‌ অর্থে কাঙ্ক্ষিতং নঃ রাজ্যং ভোগাঃ সুখানি চ।। ৩২

ত ইমে অবস্থিতা যুদ্ধে প্রাণাং ত্যক্ত্বা ধনানি চ।

আচার্যাঃ পিতরঃ পুত্রাঃ তথা এব চ পিতামহাঃ।

মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্যালাঃ সম্‌বন্ধিনঃ তথা।। ৩৩

কী হবে রাজ্য জয় করে, কী হবে রাজ্য ভোগ করে? আর হে গোবিন্দ, বেঁচে থেকেই বা কী লাভ? যাঁদের জন্যে আমরা রাজ্য ভোগের সুখ কামনা করি, সেই গুরু, পিতৃব্য, পুত্র, পিতামহ, মাতুল, শ্বশুর, পৌত্র, শ্যালক এবং কুটুম্বজনেরা ধন ও প্রাণের মায়া ছেড়ে এখানে যুদ্ধ করার জন্যে সমবেত হয়েছেন।

        

১/৩৪

এতান্ন হন্তুমিচ্ছামি ঘ্নতোঽপি মধুসূদন।

অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে।।

এতান্‌ ন হন্তুম্‌ ইচ্ছামি ঘ্নতঃ অপি মধুসূদন।

অপি ত্রৈলোক্যরাজ্যস্য হেতোঃ কিং নু মহীকৃতে।।

এই পৃথিবী কিংবা তিন ভুবনব্যাপী রাজ্যলাভও আমার কাছে তুচ্ছ, এঁনারা যদি আমাদেরকে আজ হত্যাও করেন, তাও আমি এঁদেরকে নিধন করতে চাই না, হে মধুসূদন

 

১/৩৫

নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রান্‌ নঃ কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন।

পাপমেবাশ্রয়েদস্মান্‌ হত্বৈতানাততায়িনঃ।।

নিহত্য ধার্তরাষ্ট্রান্‌ নঃ কা প্রীতিঃ স্যাৎ জনার্দন।

পাপম্‌ এব আশ্রয়েৎ অস্মান্‌ হত্বা এতান্‌ আততায়িনঃ।।

হে জনার্দ্দন, বলতে পারো, দুর্যোধন ও ধৃতরাষ্ট্রের অন্যান্য পুত্রদের হত্যা করে আমাদের কী ধরনের সুখ মিলবে? এরা সকলেই আততায়ী ঠিকই, কিন্তু এদের হত্যা করলে আমাদেরও তো পাপ হবে!

[যে অন্যের ঘরে আগুন দেয়, যে অন্যকে বিষ দেয়, যে ধন অপহরণ করে, যে পরের স্ত্রীকে অসম্মান করে, আর যে অন্যকে হত্যার জন্যে অস্ত্র ধারণ করে – তারাই আততায়ী। দুর্যোধন ও ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা এই সব কটি অপরাধেই অপরাধী, অতএব আততায়ী।]

 

১/৩৬

তস্মান্নার্হাঃ বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্‌ সবান্ধবান্‌।

স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব।।

তস্মাৎ ন অর্হাঃ বয়ং হন্তুং ধার্তরাষ্ট্রান্‌ সবান্ধবান্‌।

স্বজনং হি কথং হত্বা সুখিনঃ স্যাম মাধব।।

অতএব ধৃতরাষ্ট্র পুত্র দুর্যোধনদের ও তাদের আত্মীয় পরিজনদের হত্যা করা আমাদের আদৌ উচিৎ হবে না। হে মাধব, স্বজন হত্যা করে কিভাবে আমাদের সুখ মিলবে?

 

১/৩৭-৩৮

যদ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্‌।।

কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্‌।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্জনার্দন।।

যদ্যপি এতে ন পশ্যন্তি লোভ-উপহত-চেতসঃ।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্‌।।

কথং ন জ্ঞেয়ম্‌ অস্মাভিঃ পাপাৎ অস্মাৎ নিবর্তিতুম্‌।

কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভিঃ জনার্দন।।

যদিও এঁনারা সবাই রাজ্যলোভে উন্মত্ত হয়ে, নিজেদের কুলক্ষয়, বংশনাশ ও মিত্র হত্যার মতো ভয়ংকর পাপ দেখতে পাচ্ছেন না, কিন্তু আমরা কেন জেনে বুঝেও এমন স্ববংশ ধ্বংসকারী পাপ কাজ থেকে বিরত হবো না, হে জনার্দন?

 

১/৩৯

কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ।

ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নমধর্মোঽভিভবত্যুত।।

কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধর্মাঃ সনাতনাঃ।

ধর্মে নষ্টে কুলং কৃৎস্নম্‌ অধর্মঃ অভিভবতি উত।।

কুলক্ষয় হলে সেই বংশের নিজস্ব কুলধর্ম নষ্ট হয়। ধর্ম নাশ হলে অধর্ম এসে কুলকে গ্রাস করে এবং ভবিষ্যৎ বংশধরগণও অধর্মাচারী হয়ে থাকে।

                                          



/৪০-৪১

অধর্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ।

স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।।

সঙ্করো নরকায়ৈব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ।

পতন্তি পিতরো হ্যেষাং লুপ্তপিণ্ডোদকক্রিয়াঃ।।

অধর্ম অভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রদুষ্যন্তি কুলস্ত্রিয়ঃ।

স্ত্রীষু দুষ্টাসু বার্ষ্ণেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ।। ৪০

সঙ্করঃ নরকায় এব কুলঘ্নানাং কুলস্য চ।

পতন্তি পিতরঃ হি এষাং লুপ্ত-পিণ্ড-উদক-ক্রিয়াঃ।। ৪১

হে কৃষ্ণ, অধর্মের সংস্রবে কুলস্ত্রীরা ব্যাভিচারিণী হয়, কুলনারী ব্যাভিচারিণী হলে বর্ণসংকরের জন্ম হয়। এই বর্ণসংকরের পিতৃকুল, পিণ্ড ও তর্পণের জলাঞ্জলি থেকে বঞ্চিত হয়ে নরকে পতিত হয়ে থাকেন। বর্ণসংকর নিজ কুলের এবং কুলনাশকারীরও নরকের হেতু হয়ে থাকে।

 

১/৪২-৪৩

দোষৈরেতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ।

উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাশ্চ শাশ্বতাঃ।।

উৎসন্নকুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন।

নরকে নিয়তং বাসো ভবতীত্যনুশুশ্রুম্‌।।

দোষৈঃ এতৈঃ কুলঘ্নানাং বর্ণ-সঙ্কর-কারকৈঃ।

উৎসাদ্যন্তে জাতিধর্মাঃ কুলধর্মাঃ চ শাশ্বতাঃ।। ৪২

উৎসন্ন-কুলধর্মাণাং মনুষ্যাণাং জনার্দন।

নরকে নিয়তং বাসো ভবতি ইতি অনুশুশ্রুম্‌। ৪৩

অতএব যারা কুলঘাতক তারা সমাজে বর্ণসংকর সৃষ্টি ক’রে সমাজের সনাতন ধর্ম থেকে সমাজকে বিচ্যুত করে। হে জনার্দন, শুনেছি উৎসন্নে যাওয়া কুলধর্মের কারণে মানুষের চিরদিন নরকবাস হয়ে থাকে।

 

১/৪৪

অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্‌।

যদ্‌ রাজ্যসুখলোভেন হন্তুং স্বজনমুদ্যতাঃ।।

অহো বত মহৎ পাপং কর্তুং ব্যবসিতা বয়ম্‌।

যৎ রাজ্য-সুখ-লোভেন হন্তুং স্বজনম্‌ উদ্যতাঃ।।

হায়, আমরা কি ভয়ংকর এক পাপ কাজের আয়োজন করতে চলেছি, সামান্য রাজ্যলাভের জন্য আমরা স্বজন হত্যার পরিকল্পনা করেছি।

                                                           

১/৪৫

যদি মামপ্রতীকারমশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ।

ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুস্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ।।

যদি মাম্‌ অপ্রতীকারম্‌ অশস্ত্রং শস্ত্রপাণয়ঃ।

ধার্তরাষ্ট্রা রণে হন্যুঃ তৎ মে ক্ষেমতরং ভবেৎ।।

ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রেরা নিরস্ত্র এবং অসহায় পেয়ে যদি আমাকে হত্যাও করে, তাও আমার পক্ষে অনেকবেশী মঙ্গলজনক হবে।

  

১/৪৬

সঞ্জয় উবাচ

এবমুক্ত্বার্জুনঃ সঙ্খ্যে রথোপস্থ উপাবিশৎ।

বিসৃজ্য সশরং চাপং শোকসংবিগ্নমানসঃ।।

সঞ্জয় উবাচ

এবম্‌ উক্ত্বা অর্জুনঃ সঙ্খ্যে রথ-উপস্থ উপাবিশৎ।

বিসৃজ্য সশরং চাপং শোক-সংবিগ্ন-মানসঃ।।

সঞ্জয় বললেন – অর্জুন এই কথা বলে ধনুক এবং তির ত্যাগ করে যুদ্ধ থেকে বিরত হলেন ও বিষণ্ণমুখে রথেই বসে রইলেন।    

 

অর্জুনের বিষাদযোগ সমাপ্ত


পরের পর্ব পাশের সূত্রে - " গীতা - ২য় পর্ব "

নতুন পোস্টগুলি

গীতা - ১৬শ পর্ব

  এই সূত্রে - "    ঈশোপনিষদ   "  এই সূত্র থেকে শুরু - "  কঠোপনিষদ - ১/১  " এই সূত্র থেকে শুরু - "  কেনোপনিষদ - খণ্ড...