এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
শুরু হল নতুন ধারাবাহিক উপন্যাস - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
এই ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
[শ্রীমদ্ভাগবৎ পুরাণে পড়া যায়, শ্রীবিষ্ণুর দর্শন-ধন্য মহাভক্ত ধ্রুবর বংশধর অঙ্গ ছিলেন প্রজারঞ্জক ও অত্যন্ত ধার্মিক রাজা। কিন্তু তাঁর পুত্র বেণ ছিলেন ঈশ্বর ও বেদ বিরোধী দুর্দান্ত অত্যাচারী রাজা। ব্রাহ্মণদের ক্রোধে ও অভিশাপে তাঁর পতন হওয়ার পর বেণের নিস্তেজ শরীর ওষধি এবং তেলে সম্পৃক্ত করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তারপর রাজ্যের স্বার্থে ঋষিরা রাজা বেণের দুই বাহু মন্থন করায় জন্ম হয় অলৌকিক এক পুত্র ও এক কন্যার – পৃথু ও অর্চি। এই পৃথুই হয়েছিলেন সসাগর ইহলোকের রাজা, তাঁর নামানুসারেই যাকে আমরা পৃথিবী বলি। ভাগবৎ-পুরাণে মহারাজ পৃথুর সেই অপার্থিব আবির্ভাবের যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় (৪র্থ স্কন্ধের, ১৩শ থেকে ১৬শ অধ্যায়গুলিতে), তার বাস্তবভিত্তিক পুনর্নির্মাণ করাই এই উপন্যাসের উদ্দেশ্য।]
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১৬শ পর্ব "
৩০
বৈকালিক পদচারণা সেরে মহর্ষি ভৃগু যখন নিজের কক্ষে ফিরলেন, সন্ধ্যা আসন্ন প্রায়। তাঁর কক্ষে প্রদীপ জ্বলছে। কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করছিল শিষ্য বিশ্বপ্রভ। বিশ্বপ্রভ বিনীত কণ্ঠে বলল, “আচার্যগণ সকলেই এসে গেছেন, গুরুদেব, তাঁরা আপনার কক্ষে প্রতীক্ষা করছেন”। মহর্ষি ভৃগু স্মিতমুখে কক্ষে প্রবেশ করতেই, সকলেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন, মহর্ষিকে করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনার সর্বাঙ্গীণ কুশল তো, গুরুদেব? এর আগে নিরন্তর দশ দিবস আপনি রাজপ্রাসাদে কখনো অবস্থান করেননি”।
মহর্ষি আসন গ্রহণ করার পর সকলেই নিজ নিজ আসন গ্রহণ
করলেন।
মহর্ষি উত্তর দিলেন, “সংবাদ কুশল এবং এখনও পর্যন্ত
নির্বিঘ্ন। প্রাসাদের বিলাসে দীর্ঘদিন আমি স্বস্তি লাভ করি না, কিন্তু এবারের
পরিস্থিতি ভিন্ন। সকল কথা বলবো বলেই আজ আমি এই মন্ত্রণা সভার আহ্বান করেছি। আমার
অনুপস্থিতিতে এখানকার পরিস্থিতি কেমন, সে বিষয়েও পর্যালোচনা করবো। তারপর আমাদের
পরবর্তী পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা। আশা করি, তোমরা সকলেই বুঝতে পারছো, আমরা ক্রমশঃ
লক্ষ্যের কাছাকাছি চলে আসছি! অতএব আমাদের আজকের পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম”।
আচার্যদের কেউ কোন কথা বললেন না, সকলেই মহর্ষির মুখের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রইলেন।
তাঁদের সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে মহর্ষি বললেন, “মহারাণি
নিজেই রাজ্য পরিচালনা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি চেয়েছিলেন”।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানাচার্য সুনীতিকুমার অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা
করলেন, “কেন বলুন তো, গুরুদেব? উনি কি কিছু সন্দেহ করেছেন?”
“সঠিক জানি না, বৎস সুনীতি! মহারাণি বললেন, প্রশাসনিক
দায়িত্বে তিনি ক্লান্ত - পুত্রের সেবায় তিনি পূর্ণ মনোনিবেশ করতে চান। মন্ত্রীমণ্ডলীর
বিশেষ অধিবেশনে তাঁর সেই অভিলাষ অনুমোদিত হয়েছে, তিনি এখন দায়িত্ব মুক্ত!”
সমরাচার্য রণধীর বললেন, “মন্ত্রীমণ্ডলী এত সহজে তাঁকে
অব্যাহতি দিয়ে দিল? এ আপনার পক্ষেই সম্ভব, গুরুদেব”!
“না, না বৎস রণদেব, এর মধ্যে আমার কোন প্রভাব নেই,
মহারাণির বার্তা আমি মন্ত্রমণ্ডলীর সামনে উপস্থাপন করেছিলাম মাত্র। এক মহামন্ত্রী
ছাড়া মণ্ডলীর অন্য সদস্যরা খুব সহজেই পরিস্থিতি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাঁদের
সর্বসম্মতিতেই এই বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে মহামন্ত্রী আমাদের প্রতি সন্দিগ্ধ,
দ্বিধাগ্রস্ত। তাঁর প্রতি আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে”। সামান্য বিরতির পর
মহর্ষি আবার বললেন, “দাস-দাসীসহ রাজাবেণ এবং রাজমাতা এখন নতুন উদ্যানবাটিকায়
অবস্থান করছেন”।
সমরাচার্য রণধীর বললেন, “নতুন উদ্যানবাটিকায়? কেন? তাহলে
প্রবোধন যজ্ঞের অনুষ্ঠান কোথায় হবে?”
“নতুন উদ্যানবাটিকাতেই হবে! বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে,
এই স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আমিই গ্রহণ করেছি, বৎস! সঙ্গীতাচার্য সুনন্দর
চারণগীতিতে অধিকাংশ রাজ্যবাসীই মুগ্ধ – এমন কি মন্ত্রীমণ্ডলীর অধিকাংশ মন্ত্রীও
অভিভূত। অতএব রাজাবেণের দেহ থেকে মানসপুত্র ও কন্যার অবতীর্ণ হওয়ার বিরল দৃশ্য
চাক্ষুষ করার কৌতূহল আপামর জনসাধারণের পক্ষে অত্যন্ত স্বাভাবিক। তোমরা সকলেই জানো,
মহারাণি সুনীথার সঙ্গে তাঁর প্রজাদের মাতা-সন্তানের সম্পর্ক। সেক্ষেত্রে প্রবোধন
যজ্ঞে বিপুলসংখ্যক জনসাধারণের উপস্থিতি যদি রাজমাতা অনুমোদন করে দেন, আমাদের
পরিকল্পনার কী অবস্থা হবে ভেবে দেখেছো?”
উপস্থিত আচার্যদের সকলেই একবাক্যে বললেন, “সমস্ত
পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাবে, গুরুদেব”!
“ঠিক তাই। মহারাণি সপুত্র নতুন উদ্যান বাটিকাতেই অবস্থান
করবেন, আমরা সেখানেই প্রবোধন যজ্ঞের অনুষ্ঠান করবো। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায়
অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের বর্জন করা হবে। আয়ুর্বেদাচার্য বিশ্ববন্ধু, রাজবৈদ্য মৈত্রেয়,
সেবিকারা থাকবেন, থাকবেন রাজপুরোহিত, তাঁকে সাহায্য করার জন্য থাকবেন আমাদের
কয়েকজন মাত্র। আর কেউ নয়!”
“আর আপনি? আপনি থাকবেন না?” বাণিজ্যাচার্য রত্নশীল
জিজ্ঞাসা করলেন।
তার উত্তরে মহর্ষি বললেন, “আমি থাকবো রাজসভায়। যজ্ঞ সমাপ্তির
বার্তা দিয়ে, দ্রুতগামী অশ্বে বিশ্বস্ত দূত পাঠাবে রাজসভায়, তারপর তোমরাও পৃথু ও অর্চ্চিকে
নিয়ে বেরিয়ে আসবে, যত দ্রুত সম্ভব। রাজমাতার সঙ্গে তাদের আলাপ যত সংক্ষিপ্ত হয়,
ততই মঙ্গল। দূতের বার্তা পেয়ে মহামন্ত্রী বিমোহন এবং মন্ত্রীমণ্ডলীর সকলকে নিয়ে,
আমি তোমাদের প্রত্যুদ্গমনে যাবো! আমাদের সাক্ষাতের পর আমি ওঁদের সকলের সামনে পৃথুর
অবতারত্বের পরীক্ষা গ্রহণ করবো”।
“অবতারত্বের পরীক্ষা?” উপাধ্যক্ষ বিকচ বললেন, “সে কী
রকম?”
স্মিতমুখে মহর্ষি উত্তর দিলেন, “আমাদের শাস্ত্রে ভগবান শ্রীবিষ্ণুর
অবতার-শরীরে দৈবী লক্ষণের কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন দক্ষিণ করতলে রেখাঙ্কিত
চক্রচিহ্ন এবং দুই পদতলে অরবিন্দচিহ্ন! এই দুই লক্ষণ বিচার করে, পৃথুর অবতারত্ব
পরীক্ষিত হবে”!
আচার্য বেদব্রত উত্তেজিত স্বরে বললেন, “কিন্তু, অর্চন, অর্থাৎ যিনি রাজা পৃথু হবেন, তাঁর করতলে এবং পদতলে এরকম কোন চিহ্ন যদি
না থাকে?”
মহর্ষি হাস্যমুখে বললেন, “শান্ত হও বৎস বেদব্রত! জানি, অর্চনের
শরীরে এমন কোন চিহ্ন নেই! কিন্তু অস্থায়ী চিহ্ন কী বানিয়ে তোলা যায় না? বৎস
সুনন্দ, অঙ্গসজ্জার জন্যে, যাযাবর জাতি উল্লিখ ব্যবহার করে। আমরা তেমন কিছু করতে
পারিনা, সেই বিদ্যা আমাদের জানা নেই?”
শিল্পাচার্য সুনন্দ উত্তর দিলেন, “আমাদের জানা আছে,
গুরুদেব। একটু যন্ত্রণাদায়ক হবে, তবে এমন চিহ্ন বানিয়ে তোলা সম্ভব”।
মহর্ষি বললেন, “সেই চিহ্ন দুই তিন মাস স্থায়ী হলেই
আমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে। রাজা হিসাবে পৃথু একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে, কেউ তাঁর
শরীরের চিহ্ন পরীক্ষা করতে আসবে না, বৎস”!
আচার্য সুনন্দ বললেন, “ওরা এখান থেকে কবে প্রাসাদে যাবে,
গুরুদেব? উল্লিখ অঙ্কনে কিছুক্ষণ লাগবে, কিন্তু তার যন্ত্রণা থেকে যায় দু-তিনদিন।”
একটু চিন্তা করে মহর্ষি বললেন, “ধরো, কার্তিকের শুক্লা
অষ্টমীতে আমরা সকলেই যাবো, তুমিও যাবে”।
“তার আগেই আমি অর্চনকে প্রস্তুত করে দেব, গুরুদেব”।
“উত্তম, চিহ্ন যেন অতিরিক্ত বর্ণময় না হয়, অথচ চোখে পড়ার
মতো স্পষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়। আরেকটি দায়িত্ব তোমাকে নিতে হবে সুনন্দ, রাজা ও রাণির
উপযুক্ত অলংকার ও বস্ত্রসম্ভার সংগ্রহ! অত্যন্ত গোপন এই কার্যটিতে তুমি
বাণিজ্যাচার্য রত্নশীলের সহায়তা নেবে। কিন্তু এরাজ্যের কোন বণিক নয়, ভিন্ন রাজ্যের
সম্পন্ন বণিকের থেকে সংগ্রহ করাই বাঞ্ছনীয়। মনে রেখো প্রবোধিনী একাদশীর পূর্বেই
আমাদের এই বসন, ভূষণ সংগ্রহ করতে হবে!”
আচার্য সুনন্দ ও আচার্য রত্নশীল বললেন, “আপনি নিশ্চিন্ত
থাকুন মহর্ষি, একাদশীর আগেই সংগ্রহ হয়ে যাবে”।
স্মিতমুখে মহর্ষি ভৃগু উপস্থিত সকলের দিকে তাকিয়ে আবার বললেন,
“মন্ত্রীমণ্ডলীতে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রবোধন যজ্ঞের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের, রাজ্য
প্রশাসন অভিষেকের আয়োজন করবে! বৎস, রণধীর, যজ্ঞের আগেই আমাদের আশ্রমের বিশ্বস্ত
কিছু সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীকে, ওখানে নিযুক্ত করতে চাই। অন্ততঃ পঞ্চাশজন, অধিকতর
হলে অতি উত্তম। যজ্ঞের চারদিন আগে থেকে আমাদের রক্ষীগণ, উদ্যানবাটিকার নিরাপত্তার
সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে।” আচার্য রণধীর মাথা নত করে, দায়িত্ব স্বীকার করলেন। মহর্ষি
ভৃগু আবার বললেন, “বৎস রণধীর, পৃথু ও অর্চ্চিকে রাজপ্রাসাদে বহন করার মতো সুসজ্জিত
রথ, সঙ্গে পর্যাপ্ত অশ্বারোহী সশস্ত্র রক্ষী আবশ্যক। কিন্তু রথের সারথ্য কে করবে?”
আচার্য নিলয় উৎসাহের সঙ্গে বললেন, “আমি এই দায়িত্ব
নিলাম, গুরুদেব”।
মহর্ষি হাসলেন, আচার্য নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি
জানি তুমি অতি উত্তম সারথি, রথচালনায় অতীতে তুমি বহু পুরষ্কার অর্জন করেছো, কিন্তু
দীর্ঘদিনের অনভ্যাস...”।
“আপনি নিশ্চিন্তে হোন মহর্ষি, আমি পারবো”।
“বেশ, তোমার উপরেই আস্থা রাখলাম। এবার যজ্ঞের প্রসঙ্গে আসি, প্রবোধন যজ্ঞের দায়িত্ব আমি আচার্য যজ্ঞশীল, বেদব্রত ও ধর্মধরকে অর্পণ করতে চাই। তোমরা রাজপুরোহিতের সঙ্গে যজ্ঞের কাজ সুসম্পন্ন করবে। উপাধ্যক্ষ বিকচের দায়িত্ব যজ্ঞের অগ্নি থেকে অপরিমিত ধূম্রজাল সৃষ্টি করা, যার মধ্যে থেকে প্রকটিত হবেন, পৃথু ও অর্চ্চি”। মহর্ষি ভৃগু একটু থামলেন, সকলের দিকে তাকিয়ে, তাঁদের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করলেন, তারপর বললেন, “আশা করি সমস্ত বিষয়টি তোমাদের কাছে স্বচ্ছ হয়েছে! যদি কারো মনে কিছু প্রশ্ন বা প্রস্তাব থাকে জিজ্ঞাসা করতে পারো!”
আচার্য রণধীর বললেন, “গুরুদেব, আমি বলছিলাম, পৃথু, অর্চ্চি
এবং আমাদের বন্ধুবর নিলয়ের জন্যে লৌহকবচের ব্যবস্থা করে দিই। গানের মহিমায় মুগ্ধ
সহস্র জনগণ, ওদের দেখতে পথের দুপাশে সমবেত হবেই, সেই সমাবেশে গা ঢাকা দিয়ে
দুর্জনেরা আঘত হানতে পারে!”
মহর্ষি ভৃগু একবাক্যে সম্মত হয়ে বললেন, “অতি উত্তম
প্রস্তাব, বৎস রণধীর”।
আচার্য সুনীতিকুমার বললেন, “গুরুদেব, মহারাণি কি জানেন,
তাঁর পুত্র বেণের অঙ্গ থেকে পৃথু ও অর্চ্চি অবতীর্ণ হবেন?”
“জানেন, আমিই তাঁকে সবিস্তার জ্ঞাত করিয়েছি”।
“তিনি কী বললেন?”
“শুরুতে অবিশ্বাস করছিলেন, পরে যখন মহারাজ অঙ্গের
পূর্বসূরীদের ঐশ্বরিক সংযোগের কথা বললাম, তিনি নির্বাক হয়ে গেলেন”।
“মেনে নিলেন?”
“প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনন্যোপায় মানুষের মেনে নেওয়া
ছাড়া অন্য উপায় যে আর থাকে না, বৎস সুনীতি”! সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে মহর্ষি ভৃগু
আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের আর কোন জিজ্ঞাস্য আছে?”
আচার্য সুনন্দ বললেন, “গুরুদেব, আশ্রম কন্যাদের
তিন-চারজন অর্চ্চির সঙ্গীনী থাকা উচিৎ”।
“অবশ্যই বৎস। এ বিষয়ের উল্লেখই নিষ্প্রয়োজন! আর কোন
জিজ্ঞাস্য?” উপস্থিত সকলেই মহর্ষির মুখের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লেন, আর কোন
জিজ্ঞাস্য নেই।
মহর্ষি স্মিতমুখে বললেন, “উত্তম! আমাদের উদ্দেশ্য সফল
হোক। এতক্ষণ সকলেই কিছু না কিছু দায়িত্ব পেয়েছে, অবশিষ্ট আছে বৎস সুনীতি। কোন
দায়িত্ব না পেয়ে, বৎস সুনীতি তুমি কি ক্ষুণ্ণ?”
আচার্য সুনীতি হেসে বললেন, “আমাকে দায়িত্বহীন রাখবেন,
এমন হতে পারে না, গুরুদেব। আপনার নির্দেশের অপেক্ষা করছি”।
মহর্ষি উচ্চহাস্য করে উঠলেন, বললেন, “তোমাকে আগামীকাল
প্রত্যূষেই রাজভবনে যেতে হবে! আসন্ন যজ্ঞের অনুষ্ঠান ও অভিষেক পর্যন্ত তুমি
সেখানেই অধিষ্ঠান করবে। মহামন্ত্রী বিমোহন, মন্ত্রীমণ্ডলী এবং মহারাণির সঙ্গে
সর্বদা যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং সকলের প্রাত্যহিক মনোভাব উপলব্ধির চেষ্টা করবে।
অযাচিত কোন বিষয়কেই সামান্য জ্ঞানে অবহেলা করবে না, তৎক্ষণাৎ তার নিষ্পত্তি করবে।
সাহায্যের প্রয়োজন হলে, সংবাদ দেবে, আমিও উপস্থিত হবো। যোগ্য বিবেচনা করে, দুতিনজন
সহকারীকে সঙ্গে নিও। মনে রেখো, তোমার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তোমার
পর্যালোচনার উপর আমাদের পরবর্তী কার্য-পরিকল্পনার পরিবর্তন করতে হতে পারে!” আচার্য
সুনীতি মাথা নত করে, মহর্ষির নির্দেশ পালনের সম্মতি জানালেন।
সভার সমাপ্তি করে মহর্ষি বললেন, “বৎস বিশ্বপ্রভ, আমাদের
নৈশাহারের ব্যবস্থা কোথায় করেছিস? ধরণীকে বল, এখানেই পরিবেশন করুক। আহার করতে
করতেও যদি কোন বিষয়ে প্রশ্ন জাগে, তার মীমাংসা হয়ে যেতে পারে”!
“আমি, এখনই তার আয়োজন করছি, গুরুদেব”। বিশ্বপ্রভ কক্ষের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন