এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
আরেকটি ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১০ "
১৭
সকালে মাঠ থেকে ফিরে, সে সোজা গিয়েছিল, সেই দুই গাছের নীচে। যে দুই গাছের ওপরের মাচায় রাখা আছে কালকের
আনা অস্ত্রশস্ত্রগুলো। মাচা থেকে একটা দা কোমরে গুঁজে নিল, তারপর চারটে বাঁশ নামাল
নীচেয়। ওখানেই বসে বাঁশগুলোকে ছেঁটে বানিয়ে ফেলল একজোড়া রণপা।
বাঁশের নীচের প্রান্ত থেকে হাত দেড়েক ওপরে একটা করে শক্ত ফেঁকড়ি
রাখা আছে। দুহাতে দুটো-দুটো বাঁশ ধরে, দুদিকের ফেঁকড়িতে পা রেখে সে চড়ে পড়ল রণপায়।
তারপর দ্রুত দৌড়ে চলল নিজের কুটিরের দিকে। বহুদিন পর এই রণপা তাকে এনে দিল স্বাচ্ছন্দ্য
আর আত্মবিশ্বাস।
নিজের কুটিরে এসে দুজোড়া রণপা সে লুকিয়ে ফেলল, গভীর ঝোপের ভেতর।
তারপর একটু বিশ্রাম করে সামান্য কিছু রান্না করল। স্নান সেরে খাওয়াদাওয়া করে, সে কুটিরের
সামনে বসল। এখন আর কোন কাজ নেই ভল্লার। বসে বসে চিন্তা করা ছাড়া।
নোনাপুর গ্রামের পরিস্থিতি এখন কেমন হতে পারে, সেটাই চিন্তা
করছিল ভল্লা। তাজা জোয়ান এক ছেলের সাপের দংশনে মৃত্যু হলে, সে পরিবারটি মানসিক দিক
থেকে ধ্বস্ত হয়ে যায়। কমলিমা ও জুজাকেরও দুই ছেলে সাপের ছোবলে মারা গিয়েছিল। ভয়ংকর
এই অভিঘাতে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-পরিজনও বেশ কিছুদিন নির্মোহ উদাসীন হয়ে ওঠে। কোন
জীবনই যে নিত্য নয়, সে কথা কে না জানে। কিন্তু এমন এক একটা ঘটনা যেন চোখে আঙুল দিয়ে
সকলকে বুঝিয়ে দেয়। জীবন এই আছে, এই নেই। তারা যেন অনুভব করতে পারে, আড়ালে বসে থাকা
ভাগ্যদেবতার ক্রূর হাসি। ভল্লার ধারণা হানোর এই মৃত্যু-শোক তার ছেলেদের পক্ষে কিছুটা
হলেও রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াল। ছেলেরা সত্যিই রামকথা দেখতে গিয়েছিল
কিনা। নাকি তারাই আস্থানে ডাকাতি করতে গিয়েছিল। এসব ভাবনা চিন্তা করার মতো সুস্থির
মতি গ্রামের অধিকাংশ মানুষেরই আপাতত নেই। এই বিষণ্ণতা কাটিয়ে, সকলে যখন স্বাভাবিক অবস্থায়
ফিরবে, ততদিনে আস্থানের ডাকাতির ঘটনা গুরুত্ব হারাবে। তবে ভল্লার ভয়
কবিরাজমশাই এবং গ্রামপ্রধান জুজাককে। দুজনেই অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং বহুদর্শী।
ভল্লা সতর্ক হল। কিছুক্ষণ থেকেই কুটিরের পিছন দিক থেকে সে চার-পাঁচজনের
পায়ের শব্দ পাচ্ছিল। আর কানে আসছিল তাদের চাপা কথাবার্তার আওয়াজ। এই অসময়ে কে হতে পারে?
আস্থানের রক্ষীরা? তাদের তো এখানে আসার কথা নয়। “ভল্লাদাদা ঘরে
আছো?” এবার অপরিচিত গলার ডাক শুনতে পেল ভল্লা। আস্থানের রক্ষীরা তাকে নিশ্চয়ই ভল্লাদাদা বলে পীরিত দেখাতে আসবে না। সামনের পথ ঘুরে পাঁচজন ছোকরা এসে
দাঁড়াল ভল্লার সামনে। ভল্লা কোন কথা বলল না, জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে রইল তাদের দিকে।
“আমরা আসছি, পাশের রাজ্য থেকে ভল্লাদাদা।
আমাদের গ্রামের নাম বটতলি। আমরা পাঁচজন বন্ধু তোমার কাছে সাহায্যের
জন্যে এসেছি। আমি মিলা, এরা ভট্টা, জনা, পুনো আর সুরো”।
ভল্লা বিরক্তির সঙ্গে বলল, “আমি সকলকে অকাতরে সাহায্য বিতরণ
করে থাকি, এ সংবাদ তোমাদের কে দিল? যাই হোক, বসো। নিজের রাজ্য ছেড়ে আমার কাছে এসেছ
সাহায্য চাইতে, এ খবর চাপা থাকবে না। বিপদে পড়বে – সেটা জানো তো?”
জনা খুব দৃঢ় স্বরে বললে, “বিপদকে আমরা ভয় পাই
না”।
ভল্লা তাচ্ছিল্যের হাসি মুখে নিয়ে বলল, “খুব
আনন্দ পেলাম শুনে। আসন্ন বিপদকে যদি কেউ বুঝতেই না পারে, সে বিপদকে ভয় পাবে কেন?
একটি শিশু যখন জ্বলন্ত প্রদীপের শিখা ধরতে যায়, তাকে সাহসী বলব, না বীর বলব, আমি
আবার ঠিক বুঝে উঠতে পারি না”।
মিলা চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ভল্লার দিকে,
তারপর বলল, “এই জন্যেই তো আমরা তোমার সাহায্য চাইতে এসেছি”।
ভল্লা বলল, “কিসের সাহায্য?”
মিলা বলল, “আমাদের অঞ্চলে পাশাপাশি অনেকগুলি
গ্রাম মিলে আমরা একজোট হয়ে উঠছি। আমরা লড়তে চাই”।
ভল্লা বলল, “গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে লড়াই?
বাস্রে। কার বিরুদ্ধে”?
“কেন? আমাদের রাজার বিরুদ্ধে! রাজাকে তো সামনে
পাবো না, তার প্রতিনিধি বিষয়পতির বিরুদ্ধে”। মিলা বলল।
“বুঝলাম। কিন্তু হঠাৎ তোমরা রাজার ওপর এমন খেপে
উঠলে কেন? যতদূর জানি, তোমাদের রাজা বেশ ধার্মিক রাজা। প্রজাদের নিজের সন্তানের
মতোই মনে করেন। তোমাদের রাজ্যে কোথাও কোন বিদ্রোহ বা অসন্তোষের কথাও কোনদিন শুনিনি”।
“ঠিকই, এতদিন আমরাও আমাদের রাজাকে খুবই
শ্রদ্ধা-ভক্তি করতাম। কিন্তু ইদানীং তাঁর যে উপসর্গ উপস্থিত হয়েছে, তাকে মতিভ্রম ছাড়া
আর কী বলা যায়, আমরা জানি না”।
ভল্লা বলল, “বলো কী? এই বয়সে
নারীতে আসক্তি?”
মিলা জিভ কেটে বলল, “ছি ছি, তা নয়। বরং ধর্মাচরণে
অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়েছেন”।
“আচ্ছা? অতিধার্মিক রাজাও এখন তোমাদের গাত্রদাহ? বেশ,
সে কী রকম, শুনি?”
মিলা তার চার সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বলল, “ভল্লাদাদা,
এই দিকের গ্রামগুলিতে চাষবাসের অবস্থা যেমন তুমি দেখছ, আমাদের গ্রামগুলিতেও একই
অবস্থা। কোথাও কোথাও আরও সঙ্গিন। আমরা গ্রামিকদের মাধ্যমে বিষয়পতির কাছে বার বার
অনুরোধ করেছি – কিছু কিছু কুয়ো বানিয়ে যদি সেচ ব্যবস্থার সুরাহা করা যায়। কিংবা
বৃষ্টির জল ধরে রাখার জন্যে যদি কিছু পুকুর বানানো যায়। কিন্তু সে কথায় কেউ কোনদিন
কর্ণপাতই করল না। অথচ বিগত দু তিন বছরে, গ্রামে গ্রামে ধর্মস্থান এবং দেবালয়
বানানোর ধুম পড়ে গেছে। ভল্লাদাদা, মানুষের পেটে দুবেলা দুমুঠো অন্ন যদি না জোটে,
তারা দেবালয় নিয়ে কী করবে বলো তো?”
“ওই সব দেবালয়ে কোন দেবতার পুজো হচ্ছে?”
“দেবরাজ ইন্দ্রের। তিনি নাকি বৃষ্টির দেবতা!
গ্রামে গ্রামে তাঁর পুজো হলে, তিনি সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের প্রচুর বৃষ্টি দিতে
পারেন”।
“ভালই তো। দেবতারা এত ধরনের কৃপা-বর্ষণ করতে
পারেন, আর দুমুঠো মেঘ এনে সাত-কলসি বৃষ্টি-বর্ষণ করতে পারবেন না? তা এই মন্দির
কারা বানাচ্ছে, তোমাদের গ্রামের মানুষরাই তো?”
“না ভল্লাদাদা। গ্রামের মানুষদের কাছে পয়সা
কোথায়? এই মন্দির বানিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন”।
“তাতেই বা মন্দ কি? গ্রামের মানুষ কাজ পাচ্ছে,
কিছু মানুষের উপার্জন হচ্ছে...”।
“হ্যাঁ কিছু মানুষ কাজ পাচ্ছে, শ্রমিকের কাজ। সে
তো সামান্য। আমরা মন্দির নির্মাণের কী জানি? মন্দিরের আসল কাজ তো করছে বাইরে থেকে
আসা শিল্পী ও কুলিকরা। এমনকি আমাদের মাটি ভাল নয় বলে, এখানকার ইঁটও ব্যবহার করা
হচ্ছে না। ইঁট বানিয়েও কিছু মানুষের উপার্জন হতে পারত। আমাদের কোন জমির মাটিতে ইঁট
বানালে, সে জমিতে ছোটখাটো একটা পুকুরও গড়ে উঠতে পারত। কিন্তু না, মন্দিরের ইঁট,
পাথর, চূণ, সুরকি, বালি - অন্যান্য যাবতীয় উপকরণ সবই আসছে বাইরে থেকে। রাজধানীর
বড়ো বড়ো বণিকরা সেই সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে”।
মিলা চুপ করে কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে বসে রইল। ভল্লা কোন কথা বলল না। উদাস চোখে ধৈর্য ধরে উপস্থিত পাঁচজনের
মুখভাব লক্ষ্য করতে লাগল মন দিয়ে।
মিলা একটু পরে বলল, “রাষ্ট্রীয় অর্থের এই বিপুল
অপচয় আমরা যতই দেখছি, আমাদের রক্তে আগুন জ্বলছে, ভল্লাদাদা। মন্দির নির্মাণের
নামে, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত - প্রশাসনের সর্বস্তরের সঙ্গে বণিকদের গড়ে উঠেছে
ভয়ানক এক বোঝাপড়ার জাল। আমাদের গ্রাম-মণ্ডলের সদস্য থেকে গ্রামিক, বিষয়পতিরা দ্রুত
অবস্থাপন্ন হয়ে উঠছে। পাশের বাড়ির প্রতিবেশীরা যখন অর্ধাহারে কাল কাটাচ্ছে, ওরা প্রচুর
আহার, আমোদ ও উল্লাসে উচ্ছৃঙ্খল”।
মিলা সামান্য বিরতি দিতেই, ভল্লা একটু ঠাট্টার
সুরে বলল, “তোমরাই মণ্ডল-সভার সদস্যদের নির্বাচন করো, গ্রামিককেও নির্বাচন করো,
তাই না? তারা কিনা তোমাদের ভাগ না দিয়ে উপরি-উপার্জনে আহ্লাদ করছে? ওদের প্রতি
তোমাদের ঈর্ষা এবং রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক”।
মিলা এবার হতাশ সুরে বলল, “আমাদের বিদ্রূপ করছ, ভল্লাদাদা?
ঈর্ষা যে করছি না, তা নয়। কিন্তু তার থেকেও বেশি, আমরা ভয় পাচ্ছি। গ্রামের পরিবেশটাই
বিষিয়ে উঠছে প্রতিদিন। পরিশ্রমী কৃষক, কর্মকার, কুম্ভকার সকলেই
হতাশাগ্রস্ত। তাদের ধারণা হচ্ছে পরিশ্রমের কোন মূল্য নেই। মূল্য আছে শুধু শঠতা,
তঞ্চকতা আর বঞ্চনার। এভাবে চললে গ্রামগুলি আর গ্রাম থাকবে না। হাতে গোনা কিছু উদর-সর্বস্ব
বিলাসী মানুষের শোষণে ও শাসনে, গ্রাম হয়ে উঠবে মরণাপন্ন হতে থাকা শীর্ণ-কংকালসার অজস্র
হতদরিদ্র মানুষের আবাস”।
মিলা চুপ করে গেল। অনেকক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না।
ভল্লাও কোন উত্তর দিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর মিলা হঠাৎই উঠে দাঁড়াল,
বলল, “সন্ধে নামছে, আমরা এখন চলি, ভল্লাদাদা। অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম...”।
মিলার কথায় অন্য চারজনও উঠে দাঁড়াল। উঠে দাঁড়াল
ভল্লাও, মিলার দু-কাঁধে হাত রেখে বলল, “তোরা যে কাজের সংকল্প করেছিস, তাতে এত সহজে
হতাশ হলে চলবে, মিলা? নাকি ঝট করে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? তোদের ভল্লাদাদা তো
আর দেবরাজ ইন্দ্র নয়। সে তোদের মতোই জীবনের আগুনে দগ্ধ হতে থাকা
জলজ্যান্ত মানুষ...”। ভল্লার “তুই” সম্বোধনের আন্তরিকতা এবং সহানুভূতির কথায় ওরা
পাঁচজনেই উচ্ছ্বসিত আবেগে বলে উঠল, “ভল্লাদাদা...”।
ভল্লা বলল, “ঠিক কী ধরনের সাহায্য তোরা আমার থেকে
চাইছিস খুলে বল তো”।
মিলা উৎসাহ নিয়ে বলল, “এদিককার ছেলেদের তুমি যেমন
লড়াকু বানিয়ে তুলছ, আমাদেরও সেভাবে তৈরি করে তোল। আমরা লড়তে চাই, ভল্লাদাদা”।
“সে না হয় শিখলি, কিন্তু খালি হাতে তো আর লড়াই করা
চলে না। অস্ত্রশস্ত্র চাই তো, সে সব পাবি কোথায়?”
“আমাদের গ্রাম থেকে চার ক্রোশ দূরে
সীমান্তরক্ষীদের স্থায়ী শিবির আছে। সেখান থেকে লুঠ করে আনব”।
“পাগল হয়েছিস? আত্মহত্যা করার এতই যখন শখ, তখন
জলে ডুবে মর না, কিংবা বিষ খেয়ে। খালি হাতে সীমান্ত রক্ষীদের শিবির থেকে অস্ত্র
লুঠ করতে যাবি? একজনও সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবি? ভেবেছিলাম, তোরা অনেককিছু ভেবেচিন্তে
এসেছিস – কিন্তু এ তো একেবারেই ছেলেমানুষী...। তোদের বা আশেপাশের গ্রামে ধনী
মানুষদের টাকা-পয়সা কেমন আছে? ডাকাতি করে লাভ হবে? নাকি ছুঁচো মেরে শুধু হাতেই
গন্ধ হবে?”
“তা আছে। অন্ততঃ দশ-বারো ঘর তো আছেই যাদের বিস্তর
টাকা”।
“তাদের দিয়েই শুরু কর না। অস্ত্রশস্ত্র যোগাড়ের জন্যে
টাকা চাই। টাকা যোগাড় হলে, অস্ত্রের ব্যবস্থা আমি করে দেব। আরও একটা উপায় আছে। রাজধানীর বণিকরা মন্দির বানানোর সামগ্রী পাঠাচ্ছে বলছিলি না? কিসে
পাঠাচ্ছে – নিশ্চয়ই গোরু বা ঘোড়ার শকটে? তার থেকেও কিছু টাকাকড়ি আয় করা যায় – ধরা
যাক প্রতি পাঁচ গাড়ি পাথর বা ইঁটের জন্যে একটা তামার মুদ্রা”।
মিলারা পাঁচজনেই উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল, “বাঃ এ তো
খুব সহজ”।
ভল্লা মুচকি হেসে বলল, “কোনটাই সহজ নয় বৎস। তোদের
হাতে টাকা তুলে দেওয়ার জন্যে বণিকরা সর্বদা মুখিয়ে রয়েছে – এরকম
ভাবছিস কেন? এ সবের জন্যেও সাহস লাগে – কৌশল জানতে হয়। ঠিকঠাক পরিস্থিতি তৈরি করতে
পারলে – গাড়ি-পিছু তোদের পাওনা বণিকরাই নিয়মিত মিটিয়ে দেবে”।
মিলা বলল, “তুমি আমাদের শিখিয়ে দাও ভল্লাদাদা”।
ভল্লা বলল, “সে না হয় দিলাম। কিন্তু এমন যদি হয়,
এরকম বেশ কিছু পয়সা জমিয়ে তোরা নিজেরাই ধনী হয়ে উঠলি। তোরাই গ্রামমণ্ডল গড়ে – তোদের
মধ্যে একজন কেউ গ্রামিক হয়ে উঠলি। তারপর পায়ের ওপর পা তুলে রাজার হালে দিন কাটাতে
শুরু করলি। লড়াই-টড়াই সব গেল চুলোর দুয়োরে। গ্রামের সকলের মঙ্গলের জন্যে তোদের এই বিপ্লব
করার স্বপ্ন পড়ে রইল পথের ধারের আস্তাকুঁড়ে! কাঁচা টাকা বড়ো সাংঘাতিক – সে টাকা যদি
সোনা বা রূপোর হয় - তার ঝিলিকে চোখ, মন এবং মাথা ঘুরে যায় রে...”।
মিলা কিছু একটা বলতে চাইছিল, ভল্লা ঠোঁটে আঙুল রেখে বলল, “এখন আর কোন কথা নয় – যা যা বললাম, ভাবনা-চিন্তা করে, পাঁচ-সাতদিন পরে আসিস – রাত হয়েছে, এখন বাড়ি যা”।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন