ছোটদের সম্পূর্ণ রহস্য উপন্যাস ও পাঠ - " হেমকান্ত মীন (রহস্য গল্প) "
ছোটদের রহস্য উপন্যাস - " পেত-ন-তাৎ-তিক (ভৌতিক রহস্যগল্প) "
ছোটদের শিকার কাহিনী - " কিরণাগড়ের বাঘ "
ছোটদের কল্পবিজ্ঞান উপন্যাস - " লিলিপুট "
আগের প্রবন্ধ গল্প - " অস্ত্রের ঝংকার "
এর আগের ছোটদের প্রবন্ধ-গল্প - " লিখিব পড়িব - পর্ব ১ "
এর আগের পর্ব - " মুদ্রা ও টাকাকড়ি - পর্ব ২ "
তৃতীয় পর্ব
মৌর্য পরবর্তী ভারতীয় মুদ্রা
আগের পর্বে মৌর্য যুগের মুদ্রা
নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেছিলাম এবং এও বলেছিলাম সম্রাট এবং রাজাদের প্রচলন করা সোনা,
রূপো বা তামার মুদ্রার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে বিকল্প মুদ্রা হিসাবে কড়িরও
বহুল প্রচলন ছিল। এবারে মৌর্যদের পরবর্তী
যুগের মুদ্রা নিয়েও কিছু আলোচনা করা যাক।
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর বিশাল
মৌর্য সাম্রাজ্যটিকে দুর্বল আঞ্চলিক রাজারা ছোট ছোট রাজ্যে ভেঙে নিয়ে রাজ্য শাসন
করতে শুরু করল। এই ডামাডোলের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ঢুকতে শুরু করল
নানান জাতি, যেমন গ্রীক, ব্যক্ট্রিয়ান ইত্যাদি এবং তাদের পিছনে পিছনে প্রবেশ করতে
লাগল মধ্য এশিয়ার নানান উপজাতিও যেমন পার্থিয়ান বা পহ্লব, কুষাণ, শক ইত্যাদি –
এদের সকলেই ছিল যাযাবর ও পশুপালক গোষ্ঠী।
গ্রীক এবং ব্যাক্ট্রিয়ানরা বালুচিস্তান,
আফগানিস্তান থেকে আধুনিক ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশ পর্যন্ত বেশ বড়-সড় সাম্রাজ্য
বিস্তার করে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে খ্রিস্টিয় প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি
পর্যন্ত রাজত্ব করেছিল। ইতিহাসে তাদের পরিচয় ইন্দো-গ্রীক (Indo-Greek)। তাদের প্রবর্তিত রূপোর মুদ্রার একটি নমুনা নীচেয় দেখা যাবে। এটির সোজা পিঠে গ্রীসের কোন না
কোন দেব-দেবীর ছবি আর উল্টোদিক থাকত যে রাজার নামে মুদ্রা প্রচলিত হয়েছিল, তাঁর
ছবি।
৭৮ সি.ই.তে ইন্দো-গ্রীক রাজাদের হারিয়ে শক রাজারা ভারতে সাম্রাজ্য
প্রতিষ্ঠা করে। এই ৭৮ সি.ই. থেকেই শকাব্দ গণনার শুরু এবং স্বাধীন ভারতের জাতীয় ক্যালেণ্ডারে
এই বর্ষ গণনাকেই মান্যতা দেওয়া হয়। ইতিহাসে এই শকদের পশ্চিম-ক্ষত্রপও বলা হয়ে
থাকে। শকদের মুদ্রার সঙ্গে ইন্দো-গ্রীক মুদ্রার অনেকটাই মিল ছিল। রূপোর মুদ্রার
একদিকে রাজার ছবি থাকত আর উল্টোদিকে, প্রথম দিকে গ্রীসের দেবদেবীর ছবি থাকলেও,
পরবর্তী কালে বৌদ্ধ স্তূপ বা চৈত্যের ছবি থাকত। মুদ্রার বিবরণ সাধারণতঃ গ্রীক,
ব্রাহ্মী এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে খরোষ্ঠীলিপিতে লেখা হত। গুপ্ত সাম্রাজ্যের
উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের ইতিহাস থেকে এই শক বা পশ্চিমক্ষত্রপদের প্রভাব খর্ব
হয়ে যায়।
গুপ্তযুগের ভারতীয় মুদ্রা
ভারতের ইতিহাসে গুপ্তযুগকে ঐতিহাসিকরা সুবর্ণযুগ বলে বর্ণনা করেন। তার কারণ এই সময়কালে সর্ব বিষয়েই ভারতের চরম উৎকর্ষ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। রাজনীতি ও রাজ্যশাসন, বাণিজ্য ও অর্থনীতি, সাহিত্য- সংস্কৃতি ও নৃত্য-গীত-নাট্যকলা, বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ চর্চা, শিল্প-ভাস্কর্য-স্থাপত্য – এক কথায় ভারতীয় ঐতিহ্য ও পরম্পরা বলতে আমরা আজ যা কিছু বুঝি, তার সব কটি ক্ষেত্রই পূর্ণ বিকশিত হয়ে উঠেছিল। এমত পরিস্থিতিতে আমাদের মুদ্রা বিজ্ঞান পিছিয়ে থাকবে এমন হতে পারে?
মগধ অঞ্চলে গুপ্তবংশের রাজ্যপাটের
সূচনা হয়েছিল শ্রীগুপ্তর হাত ধরে, মোটামুটি ২৭৩ সি.ই.-তে। কিন্তু সে রাজ্যকে শক্তিশালী
সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিলেন প্রথম চন্দ্রগুপ্ত (৩২০-৩৩৫ সি.ই.), সমুদ্রগুপ্ত (৩৩৫-৩৭২
সি.ই.) এবং দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্য (৩৭৫-৪১৫ সি.ই.)। তারপরে উল্লেখযোগ্য
সম্রাটরা হলেন কুমারগুপ্ত (৪১৫-৪৫৫ সি.ই.) এবং স্কন্দগুপ্ত (৪৫৫ – ৪৬৭ সি.ই.)। স্কন্দগুপ্তের
অকালমৃত্যু এবং হুণদের প্রবল আক্রমণের কারণে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন দ্রুত ঘনিয়ে
আসে।
প্রথম চন্দ্রগুপ্ত থেকে
স্কন্দগুপ্ত পর্যন্ত গুপ্তবংশের সকল সম্রাট, নিজ নিজ রাজত্বকালে নতুন নতুন মুদ্রার
প্রচলন করেছিলেন। প্রধানতঃ স্বর্ণমুদ্রা হলেও, তাঁরা রূপো ও তামার মুদ্রারও প্রবর্তিত
করেছিলেন। গুপ্ত সাম্রাজ্যের স্বর্ণমুদ্রাগুলি মূলতঃ কুষাণ ও পশ্চিম-ক্ষত্রপদের
মুদ্রাসমূহের অনুসারী হলেও, গুণমানে এবং লিপি ও শিল্প সুষমায় প্রত্যেকটি অনন্য। বিবিধ
ঘটনা উপলক্ষে এবং বিচিত্র চিত্রসজ্জার মুদ্রা প্রচলনে গুপ্ত সম্রাটরা বিশেষ উৎসাহী
ছিলেন। নীচের চিত্রে অপূর্ব সুন্দর সেই মুদ্রাগুলির কথাই এখন বলব। মুদ্রার ছবিগুলিতে বাঁদিকের চিত্রটি মুদ্রার সামনের দিক (Obverse বা Head) এবং ডানদিকেরটি মুদ্রার পিছন দিক (Reverse বা Tail) দেখানো হয়েছে।
মুদ্রার
ওজন ৭.৪৬ গ্রাম, ব্যাস – ২০ মিমি।
বাঁদিকে যজ্ঞবেদীতে উৎসর্গরত সমুদ্রগুপ্ত, তাঁর হাতে রাজদণ্ড, তাঁর বাঁহাতের নীচে ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা “সমুদ্র”। ডানদিকে সিংহাসনে বসে আছেন লক্ষ্মীদেবী – তাঁর মাথায় মুকুট এবং হাতে ধনভাণ্ডার। ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা “পরাক্রমঃ”।
মুদ্রার ওজন ৭.৪৪ গ্রাম, ব্যাস – ২০ মিমি।
বাঁদিকে লিচ্ছবি রাজকুমারী রাণি
কুমারদেবী এবং প্রথম চন্দ্রগুপ্ত। ব্রাহ্মীলিপিতে
রাণির বাঁদিকে লেখা “কুমারদেবী” এবং রাজার ডানদিকে “চন্দ্রগুপ্ত”। ডানদিকে সিংহের
পিঠে উপবিষ্টা দেবী (সম্ভবতঃ দুর্গা), তাঁর মাথায় মুকুট। দেবীর ডানদিকে ব্রাহ্মীলিপিতে
লেখা “লিচ্ছবায়া”।
প্রসঙ্গতঃ চন্দ্রগুপ্ত লিচ্ছবির
রাজকুমারী কুমারদেবীকে বিবাহ করেছিলেন, যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়,
এই স্বর্ণমুদ্রা থেকে এবং চন্দ্রগুপ্তের পুত্র সমুদ্রগুপ্ত তাঁর
শিলানির্দেশে নিজেকে “লিচ্ছবিদৌহিত্র” বলে উল্লেখ করেছেন।
মুদ্রার ওজন ৭.২৭ গ্রাম, ব্যাস – ১৯ মিমি।
বাঁদিকে জনৈক অনুচর সহ রাজার ছবি –
দুজনের হাতেই পরশু দণ্ড। ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা “কৃ”। ডানদিকে সিংহাসনে বসে আছেন লক্ষ্মীদেবী
– তাঁর মাথায় মুকুট এবং হাতে ধনভাণ্ডার। ব্রাহ্মী লিপিতে লেখা “কৃতান্তপরশু”। কৃতান্ত
মানে যম বা মৃত্যু, পরশু মানে কুঠার, যুদ্ধাস্ত্র। এটি সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা,
তিনিই দীর্ঘ যুদ্ধবিজয়ের পর গুপ্ত সাম্রাজ্যের বিস্তার বাড়িয়েছিলেন।
মুদ্রার
ওজন ৭.৪৬ গ্রাম, ব্যাস – ২১ মিমি।
এটিও সমুদ্রগুপ্তের মুদ্রা, তিনি
দীর্ঘ যুদ্ধবিজয় করে সাম্রাজ্যবিস্তারের পর অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন। বাঁদিকে
যূপ-কাষ্ঠের সামনে বলিপ্রদত্ত ঘোড়া দাঁড়িয়ে আছে, তার পেটের নীচে লেখা “সি” – যার
অর্থ হতে পারে সিদ্ধম্। ডানদিকে রাণি দাঁড়িয়ে
আছেন, তাঁর ডানহাতে চামরদণ্ড এবং বাঁহাতে বস্ত্রখণ্ড। রাণির ডানদিকে ব্রাহ্মীতে লেখা
“অশ্বমেধপরাক্রম”।
মুদ্রার ওজন ৭.৮৫ গ্রাম, ব্যাস -২০ মিমি।
এই মুদ্রায় রয়েছে বীণাবাদনরত সমুদ্রগুপ্তের
ছবি (বাঁদিকে), তিনি উচ্চপিঠ যুক্ত আসনে বসে আছেন, তাঁর কোলে শোয়ানো রয়েছে বীণাটি।
ডানদিকে একটি টুল বা (বাঁশ বা বেত দিয়ে বোনা) মোড়ায় বসে আছেন লক্ষ্মীদেবী – তাঁর
মাথায় মুকুট এবং হাতে ধনভাণ্ডার। দেবীর ডানদিকে লেখা রয়েছে “সমুদ্রগুপ্ত”।
মুদ্রার ওজন ৭.৫৮ গ্রাম, ব্যাস – ২০ মিমি।
রাজার বাঁদিকে থাকা একটি বাঘের
দিকে, ডানহাতে ধরে থাকা ধনুক থেকে রাজা তির ছুঁড়ছেন। তাঁর ডানদিকে লেখা আছে “ব্যাঘ্রপরাক্রম”।
আর ডানদিকে মকর-বাহনা গঙ্গাদেবীর ডান হাতে যেন রাজদণ্ড এবং বাঁহাতে দীর্ঘ মৃণালসহ
একটি পদ্মফুল। দেবীর ডানদিকে লেখা আছে “সমুদ্রগুপ্ত”।
মুদ্রার ওজন ৭.২৯ গ্রাম, ব্যাস – ১৯ মিমি।
অনবদ্য এই মুদ্রাটি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তর। হাঁ করে তেড়ে আসা সিংহের বুকে তির ছুঁড়ছেন রাজা (বাঁ দিকে)। এই মুদ্রায় সিংহ ও রাজা উভয়ের চিত্রই আশ্চর্য রকমের গতিশীল, আগের মুদ্রাগুলির চিত্রর মতো আড়ষ্ট নয়। ডানদিকের সিংহের পিঠে অধিষ্ঠিতা দেবী মূর্তিটিও (হয়তো দুর্গা) অত্যন্ত প্রাণবন্ত। দেবীর ডানদিকে লেখা আছে “সিংহবিক্রম”।
মুদ্রার ওজন ৭.৬১ গ্রাম, ব্যাস - ২১ মিমি।
এই মুদ্রায় বাঁদিকে ঘোড়ার পিঠে
বসা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের যুদ্ধযাত্রার ছবিটিও অদ্ভূত গতিময় ও প্রাণবন্ত। ডানদিকে
দেবী লক্ষ্মীর মাথায় মুকুট এবং বাঁহাতে দীর্ঘ মৃণাল সহ পদ্মফুল। দেবীর ডানদিকে লেখা
“অজিতবিক্রম”।
গুপ্ত পরবর্তী ভারতীয় মুদ্রা
মৌর্য সাম্রাজ্যের পর যেমন ঘটেছিল,
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পরও একই ঘটনা ঘটল – ছোট ছোট দুর্বল রাজ্যে ভাগ হয়ে গেল সমগ্র
সাম্রাজ্য। সেই রাজ্যগুলির শক্তি ও প্রশাসনিক দক্ষতা না থাকার দরুন, অবনতি ঘটতে
লাগল শাসন ব্যবস্থার, অর্থনীতির এবং মুদ্রা শিল্পেরও। যে উৎকর্ষতায় পৌঁছেছিল গুপ্তযুগের
মুদ্রা ব্যবস্থার – অচিরেই তার পতন ঘটল। কয়েকটি উদাহরণ দিলেই তফাৎটা সহজেই টের
পাওয়া যাবে।
মুদ্রার
ওজন ২.০৭ গ্রাম, ব্যাস - ১২ মিমি।
কলচুরি রাজ কৃষ্ণরাজা (৫৫০-৫৭৫
সি.ই.)-র প্রচলিত রৌপ্য মুদ্রার নাম ছিল রূপক বা দ্রাখমা। বাঁদিকে রাজার মাথার
চিত্র, ডান দিকে উপবিষ্ট নন্দীর (শিবের বাহন) চিত্র। তাকে ঘিরে ব্রাহ্মীতে লেখা “পরম
মহেশ্বর মাতা পিতৃ পদানুধ্যাতা শ্রীকৃষ্ণ”।
হর্ষবর্ধনের (৬০৬ – ৬৪৭ সি.ই.) রৌপ্যমুদ্রা।
একদিকে মাথায় চন্দ্রচিহ্ন নিয়ে হর্ষবর্ধনের মুখ। আর উলটো দিকে মুক্ত পেখম গরুড়
(ময়ূর?)।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত
উত্তর ভারতের খণ্ড-বিখণ্ড ছোট-বড়ো প্রতিবেশী রাজ্যগুলি নিজেদের মধ্যে নিত্য নতুন
যুদ্ধে ব্যতিব্যস্ত থাকত এবং সেই যুদ্ধে এতই শক্তিক্ষয় এবং অর্থক্ষয় হত, শক্তিশালী
প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হত না। তার প্রতিফলন পাওয়া যায় সমসাময়িক রাজ্যগুলিতে
বৈচিত্রহীন এবং কিছুটা যেন দায়সারা-কাজচলা গোছের মুদ্রার প্রচলন দেখে। প্রসঙ্গতঃ আরো
একটি কথা বলে রাখা ভাল, এই পর্যায়ে স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন অতি সামান্য – অধিকাংশ মুদ্রাই
ছিল হয় রূপোর বা তামার। অতএব জনসাধারণকে মুদ্রার বিকল্প হিসেবে কড়িকেই ব্যবহার
করতে দেখা গেছে আরও বেশি করে – যে কথা আগের পর্বেই বলেছি।
উত্তর ভারতের এই পর্যায় শেষ করার
আগে আমাদের বাংলার পালরাজাদের মুদ্রা নিয়েও দুচার কথা বলিঃ-
- ওজন ৭.৫৯
গ্রাম, ব্যাস – ২১ মিমি।
পাল
যুগের একমাত্র স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন করেছিলেন ধর্মপাল (৭৭৫-৮৩০ সি.ই.)। বাঁদিকে ঘোড়ার
পিঠে রাজা ধর্মপাল কোন এক পশুকে বর্শাবিদ্ধ করছেন – হয়তো কোন মৃগয়ার দৃশ্য। তাঁর বাঁদিকে
ব্রাহ্মীতে লেখা “শ্রীমান ধর্মপাল”। ডানদিকে পদ্মাসনে উপবিষ্টা লক্ষ্মীদেবী দুই
হাতে দুটি পদ্ম ধরে আছেন। তাঁর মাথার বাঁদিকে ব্রাহ্মীতে লেখা আছে “শ্রী”।
পাল রাজত্বে বহুল প্রচলিত নানা ধরনের
রৌপ্যমুদ্রার নমুনা – অধিকাংশই কালের প্রভাবে মসৃণ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ ভারতের মুদ্রা
দক্ষিণ ভারতীয় মুদ্রায় প্রধানতঃ রাজবংশের প্রতীক ও নকশা ব্যবহৃত হত। যেমন চালুক্যদের প্রতীক ছিল বরাহ, পল্লবদের ষাঁড়, চোলদের বাঘ, পাণ্ড্য বা আলুপা-দের মাছ, চেরাদের তির-ধনুক এবং হোয়সলদের সিংহ। দেবগিরির যাদবরা “পদ্মটংক” নামে একটি স্বর্ণমুদ্রার প্রচলন করেছিল – যার সামনের দিকে ছিল অষ্টদল পদ্ম, কিন্তু উল্টোদিকে কোন মুদ্রিত চিত্রই ছিল না। মুদ্রা-প্রচলনকারী রাজাদের নাম ও উপাধি মুদ্রাগুলির গায়ে আঞ্চলিক লিপি ও ভাষায় লেখা হত।
|
|
|
১১শ-১৩শ শতাব্দীর চেরাদের রৌপ্য মুদ্রা। |
|
|
|
১১শ-১৩শ
শতাব্দীর চেরাদের রৌপ্য মুদ্রা। |
|
|
|
৯ম-১৩শ
শতাব্দীর চোলদের স্বর্ণ মুদ্রা। |
|
|
|
১১শ-১৩শ
শতাব্দীর উদিপির আলুপাদের স্বর্ণমুদ্রা। |
|
|
|
১২শ-১৪শ
শতাব্দীতে দেবগিরির যাদবদের পদ্মটংক স্বর্ণ মুদ্রা। |
দক্ষিণ ভারতের এই সময়কালের মুদ্রাগুলিতে
কোন রকম অলংকরণ কিংবা দেব-দেবীদের চিত্র প্রায় থাকতই না। মুদ্রাগুলির এই বৈশিষ্ট্য
প্রথম পাওয়া যায় মধ্যযুগের বিজয়নগর সাম্রাজ্যের (চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী সি.ই.)
মুদ্রাগুলিতে। সে আলোচনা আসবে পরবর্তী পর্বে।
চলবে...
কৃতজ্ঞতাঃ
https://coinindia.com,
https://www.rbi.org.in/commonman/english/Currency/Scripts/Ancient.aspx
এবং Wikipedia.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন