শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

গীতা - ১৭শ পর্ব

 এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ 

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "



এর আগের ষোড়শ অধ্যায়ঃ দৈবাসুর-সম্পদ-বিভাগযোগ পাশের সূত্রে গীতা - ১৬শ পর্ব "


সপ্তদশ অধ্যায়ঃ শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ


অর্জুন উবাচ

যে শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতাঃ

তেষাং নিষ্ঠা তুম কা কৃষ্ণ সত্ত্বমাহো রজস্তমঃ।।

অর্জুন উবাচ

যে শাস্ত্রবিধিম্‌ উৎসৃজ্য যজন্তে শ্রদ্ধয়া অন্বিতাঃ।

তেষাং নিষ্ঠা তুম কা কৃষ্ণ সত্ত্বম্‌ আহো রজঃ তমঃ।।

অর্জুন বললেন- হে কৃষ্ণ, যাঁরা শাস্ত্রবিধি ত্যাগ করলেও নিষ্ঠার সঙ্গে যজ্ঞ উপাসনা করেন, তাঁদের সেই নিষ্ঠা কেমন, সাত্ত্বিক, রাজসিক না তামসিক?

 

শ্রীভগবানুবাচ

ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা।

সাত্ত্বিকী রাজসী চৈব তামসী চেতি তাং শৃণু।।

শ্রীভগবান্‌ উবাচ

ত্রিবিধা ভবতি শ্রদ্ধা দেহিনাং সা স্বভাবজা।

সাত্ত্বিকী রাজসী চ এব তামসী চ ইতি তাং শৃণু।।

শ্রীভগবান বললেন- মানুষের স্বাভাবিক শ্রদ্ধা তিন ধরনের, সাত্ত্বিকী, রাজসী ও তামসী। এই তিন শ্রদ্ধার কথা তোমাকে এখন বলছি, শোনো।

 

সত্ত্বানুরূপা সর্বস্য শ্রদ্ধা ভবতি ভারত।

শ্রদ্ধাময়োঽয়ং পুরুষো যো যচ্ছ্রদ্ধঃ স এব সঃ।।

সত্ত্ব অনুরূপা সর্বস্য শ্রদ্ধা ভবতি ভারত।

শ্রদ্ধাময় অয়ং পুরুষঃ যঃ যৎ শ্রদ্ধঃ স এব সঃ।।

হে অর্জুন, মানুষের স্বভাব সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিন প্রকারের হওয়ায়, সকল মানুষের শ্রদ্ধাও সেই অনুসারে তিন প্রকারের হয়। শ্রদ্ধাবান মানুষ, যিনি যেরূপ শ্রদ্ধাযুক্ত, তিনি সেই রূপই হন।

   

যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্‌ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।

প্রেতান্‌ ভূতগণাংশ্চান্যে যজন্তে তামসা জনাঃ।।

যজন্তে সাত্ত্বিকা দেবান্‌ যক্ষরক্ষাংসি রাজসাঃ।

প্রেতান্‌ ভূতগণাং চ অন্যে যজন্তে তামসা জনাঃ।।

সাত্ত্বিক মানুষ দেবতাদের পূজা করেন, রাজসিক ব্যক্তি যক্ষ ও রাক্ষসগণকে পূজা করেন। এবং তামসিক মানুষ ভূত, প্রেত ও অন্যান্যদের পূজা করেন।

 

৫,৬

অশাস্ত্রবিহিতং ঘোরং তপ্যন্তে যে তপো জনাঃ।       অশাস্ত্রবিহিতং ঘোরং তপ্যন্তে যে তপো জনাঃ।

দম্ভাহঙ্কারসংযুক্তা কামরাগবলান্বিতাঃ।।               দম্ভ-অহঙ্কার-সংযুক্তা কাম-রাগ-বল-অন্বিতাঃ।।

কর্শয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামমচেতসঃ।                কর্শয়ন্তঃ শরীরস্থং ভূতগ্রামম্‌ অচেতসঃ।

মাঞ্চৈবান্তঃশরীরস্থং তান্‌ বিদ্ধ্যাসুরনিশ্চয়ান্‌।।          মাং চ এব অন্তঃশরীরস্থং তান্‌ বিদ্ধি                                                               অসুরনিশ্চয়ান্‌।।

যে দাম্ভিক ও অহংকারী ব্যক্তিরা এবং কামনা, আসক্তি ও শক্তির মোহে আচ্ছন্ন বিবেকহীন ব্যক্তিরা শরীরের সমস্ত ইন্দ্রিয়কে এবং দেহের ভিতর আত্মস্বরূপ আমাকে অমান্য ক’রে শাস্ত্রবিরুদ্ধ তপস্যার ভয়ানক অনুষ্ঠান করে, তাদেরকে নিশ্চিতভাবে আসু্রিকবুদ্ধি বলে জানবে।

  

আহারস্ত্বপি সর্বস্য ত্রিবিধো ভবতি প্রিয়ঃ।

যজ্ঞস্তপস্তথা দানং তেষাং ভেদমিমং শৃণু।।

আহারঃ তু অপি সর্বস্য ত্রিবিধঃ ভবতি প্রিয়ঃ।

যজ্ঞঃ-তপঃ-তথা দানং তেষাং ভেদম্‌ ইমং শৃণু।।

এই তিন স্বভাবের মানুষের আহার তিন প্রকারের হয়, প্রিয় বস্তুও তিন প্রকারের হয়। যজ্ঞ, তপস্যা, দান এই সমস্তই তিন প্রকারের হয়। এই তিনের প্রভেদ তোমাকে এখন আমি বলব। 

 

আয়ুঃসত্ত্ববলারোগ্যসুখপ্রীতিবিবর্ধনাঃ।

রস্যাঃ স্নিগ্ধাঃ স্থিরা হৃদ্যা আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ।।

আয়ুঃ-সত্ত্ব-বল-আরোগ্য-সুখ-প্রীতি-বিবর্ধনাঃ।

রস্যাঃ স্নিগ্ধাঃ স্থিরা হৃদ্যা আহারাঃ সাত্ত্বিকপ্রিয়াঃ।।

যে আহার মানুষের আয়ু, উদ্যম, প্রাণশক্তি, সুস্বাস্থ্য, সুখ ও প্রীতি বৃদ্ধি করে; সরস, স্নিগ্ধ, পুষ্টিকর ও তৃপ্তিকর সেই আহারই সাত্ত্বিক ব্যক্তিদের প্রিয় আহার।

  

কট্বম্ললবণাত্যুষ্ণতীক্ষ্ণরুক্ষবিদাহিনঃ।

আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ।।

কটু-অম্ল-লবণা-অত্যুষ্ণ-তীক্ষ্ণ-রুক্ষ-বিদাহিনঃ।

আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকাময়প্রদাঃ।।

অত্যন্ত তিক্ত ও টক, তীব্র লবণাক্ত, অতি উষ্ণ ও অত্যন্ত ঝাল, অতি শুষ্ক ও তীক্ষ্ণ জ্বালাকর আহার দুঃখ, শোক ও অসুখের কারণ হয়, এই প্রকারের আহার রাজসিক ব্যক্তিদের প্রিয়।

 

১০

যাতযামং গতরসং পূতি পর্যুসিতঞ্চ যৎ।

উচ্ছিষ্টমপি চামেধ্যং ভোজনং তামসপ্রিয়ম্‌

যাত-যামং গতরসং পূতি পর্যুসিতং চ যৎ।

উচ্ছিষ্টম্‌ অপি চ অমেধ্যং ভোজনং তামস-প্রিয়ম্‌

অর্ধ সিদ্ধ, রসহীন, দুর্গন্ধময়, বাসী, উচ্ছিষ্ট ও নিষিদ্ধ খাদ্য তামসিক ব্যক্তিদের প্রিয় হয়।

 

১১

অফলাকাঙ্ক্ষিভির্যজ্ঞো বিধিদিষ্টো য ইজ্যতে।

যষ্টব্যমেবেতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ।।

অফল-আকাঙ্ক্ষিভিঃ যজ্ঞঃ বিধিদিষ্টঃ য ইজ্যতে।

যষ্টব্যম্‌ এব ইতি মনঃ সমাধায় স সাত্ত্বিকঃ।।

ফলের প্রত্যাশা না রেখে, ‘যজ্ঞ অনুষ্ঠানই একান্ত কর্তব্য’, মনে এই প্রত্যয় নিয়ে, সনিষ্ঠা শাস্ত্রবিধি পালন করে যজ্ঞের যে অনুষ্ঠান, সেই যজ্ঞই সাত্ত্বিক।

 

১২

অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভার্থমপি চৈব যৎ।

ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্‌।।

অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভ-অর্থম্‌ অপি চ এব যৎ।

ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্‌।।

কিন্তু হে অর্জুন, ফলের একান্ত অভিসন্ধিতে, নিজের দম্ভপ্রকাশের জন্যে যে যজ্ঞের অনুষ্ঠান, সেই যজ্ঞকে রাজসিক যজ্ঞ বলেই জানবে।

 

১৩

বিধিহীনমসৃষ্টান্নং মন্ত্রহীনমদক্ষিণম্‌।

শ্রদ্ধাবিরহিতং যজ্ঞং তামসং পরিচক্ষতে।।

বিধিহীনম্‌ অসৃষ্ট-অন্নং মন্ত্রহীনম্‌ অদক্ষিণম্‌।

শ্রদ্ধাবিরহিতং যজ্ঞং তামসং পরিচক্ষতে।।

শাস্ত্রের নিয়ম না মেনে, অন্নদান না করে, মন্ত্রের উচ্চারণ ছাড়া, দক্ষিণাহীন ও শ্রদ্ধাহীন যজ্ঞকে তামসিক যজ্ঞ বলা হয়।

 

১৪

দেবদ্বিজগুরুপ্রাজ্ঞপূজনং শৌচমার্জবম্‌।

ব্রহ্মচর্যমহিংসা চ শারীরং তপ উচ্যতে।।

দেব-দ্বিজ-গুরু-প্রাজ্ঞ-পূজনং শৌচম্‌ আর্জবম্‌।

ব্রহ্মচর্যম্‌-অহিংসা চ শারীরং তপঃ উচ্যতে।।

দেবতা, ব্রাহ্মণ, গুরুজন ও প্রাজ্ঞগণের পূজা, চিত্তের পবিত্রতা, সরলতা, ব্রহ্মচর্য ও অহিংসা – এইগুলিকে শারীরক বা কায়িক তপস্যা বলে।

 

১৫

অনুদ্বেগকরং বাক্যং সত্যং প্রিয়হিতঞ্চ যৎ।

স্বাধ্যায়াভ্যসনং চৈব বাঙ্ময়ং তপ উচ্যতে।।

অনুদ্বেগকরং বাক্যং সত্যং প্রিয়হিতং চ যৎ।

স্বাধ্যায়-অভ্যসনং চ এব বাঙ্ময়ং তপ উচ্যতে।।

যে বাক্য কারো মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে না, যে বাক্য সত্য, প্রিয় ও মঙ্গলকর এবং বেদ পাঠ ও শাস্ত্র আলোচনাকে বাঙ্ময় বা বাচিক তপস্যা বলে।

 

১৬

মনঃপ্রসাদঃ সৌমত্বং মৌনমাত্মবিনিগ্রহঃ।

ভাবসংশুদ্ধিরিত্যেতৎ তপো মানসমুচ্যতে।।

মনঃপ্রসাদঃ সৌমত্বং মৌনম্‌ আত্মবিনিগ্রহঃ।

ভাবসংশুদ্ধিঃ ইতি এতৎ তপঃ মানসম্‌ উচ্যতে।।

মনের প্রসন্নতা, সৌম্যভাব, বাক্‌সংযম, আত্ম নিয়ন্ত্রণ, চিত্তের ভাবশুদ্ধি – এই সকলকে মানসিক তপস্যা বলা হয়।

 

১৭

শ্রদ্ধয়া পরয়া তপ্তং তপস্তৎ ত্রিবিধং নরৈঃ।

অফলাকাঙ্ক্ষিভির্যুক্তৈঃ সাত্ত্বিকং পরিচক্ষতে।।

শ্রদ্ধয়া পরয়া তপ্তং তপঃ তৎ ত্রিবিধং নরৈঃ।

অফলাকাঙ্ক্ষিভিঃ যুক্তৈঃ সাত্ত্বিকং পরিচক্ষতে।।

ফলের কামনা শূণ্য, একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে, কায়িক, বাচিক ও মানসিক এই তিন প্রকারে যে তপস্যা করেন, তাকেই সাত্ত্বিক তপস্যা বলে।

 

১৮

সৎকারমানপূজার্থং তপো দম্ভেন চৈব যৎ।

ক্রিয়তে তদিহ প্রোক্তং রাজসং চলমধ্রুবম্‌।।

সৎকার-মান-পূজা-অর্থং তপঃ দম্ভেন চ এব যৎ।

ক্রিয়তে তৎ ইহ প্রোক্তং রাজসং চলম্‌ অধ্রুবম্‌।।

প্রশংসা, প্রতিপত্তি, পূজা ও অর্থ লাভের কামনায়, অহংকারের সঙ্গে যে তপস্যা করা হয়, তাকে রাজসিক তপস্যা বলে, এই তপস্যা ক্ষণস্থায়ী ও অনিশ্চিত।

 

১৯

মূঢ়গ্রাহেণাত্মনো যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ।

পরস্যোৎসাদনার্থং বা তৎ তামসমুদাহৃতম্‌।।

মূঢ়গ্রাহেণ আত্মনঃ যৎ পীড়য়া ক্রিয়তে তপঃ।

পরস্য উৎসাদনার্থং বা তৎ তামসম্‌ উদাহৃতম্‌।।

অসম্ভব বিষয়ের কামনায় এবং অপরের ক্ষতিসাধনের জন্যে নিজের শরীরের পক্ষেও একান্ত কষ্টকর যে তপস্যা করা হয়, তাকে তামসিক তপস্যা বলা হয়। 

 

২০

দাতব্যমিতি যদ্দানং দীয়তেঽনুপকারিণে।

দেশে কালে চ পাত্রে চ তদ্দানং সাত্ত্বিকং স্মৃতম্‌।।

দাতব্যম্‌ ইতি যৎ দানং দীয়তে অনুপকারিণে।

দেশে কালে চ পাত্রে চ তৎ দানং সাত্ত্বিকং স্মৃতম্‌।।

দানের পরিবর্তে কিছু পাবার আশা না করে, উপযুক্ত স্থানে, উপযুক্ত সময়ে এবং উপযুক্ত পাত্রে, ‘দান করা কর্তব্য’ এই চিন্তায় যে দান করা হয়, তাকেই সাত্ত্বিক দান বলা হয়।

 

২১

যৎ তু প্রত্যুপকারার্থং ফলমুদ্দিশ্য বা পুনঃ।

দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তদ্দানং রাজসং স্মৃতম্‌।।

যৎ তু প্রতি-উপকারার্থং ফলম্‌-উদ্দিশ্য বা পুনঃ।

দীয়তে চ পরিক্লিষ্টং তৎ দানং রাজসং স্মৃতম্‌।।

দানের পরিবর্তে কিছু পাবার আশায় অথবা পুণ্য ফলের প্রত্যাশায়, অনিচ্ছাসত্ত্বেও যে দান করা হয়, সেই দানকে রাজসিক দান বলে।

 

২২

অদেশকালে যদ্দানমপাত্রেভ্যশ্চ দীয়তে।

অসৎকৃতমবজ্ঞাতং তৎ তামসমুদাহৃতম্‌।।

অদেশকালে যৎ দানম্‌ অপাত্রেভ্যঃ চ দীয়তে।

অসৎকৃতম্‌ অবজ্ঞাতং তৎ তামসম্‌ উদাহৃতম্‌।।

অযোগ্য স্থানে, অসময়ে এবং অযোগ্য পাত্রে, দুর্ব্যবহার এবং অবজ্ঞার সঙ্গে যে দান করা হয়, সেই দানকে তামসিক দান বলে।

 


২৩

ওঁ তৎসদিতি নির্দেশো ব্রহ্মণস্ত্রিবিধঃ স্মৃতঃ।

ব্রাহ্মণাস্তেন বেদাশ্চ যজ্ঞাশ্চ বিহিতাঃ পুরা।।

ওঁ তৎ সৎ ইতি নির্দেশঃ ব্রহ্মণঃ ত্রিবিধঃ স্মৃতঃ।

ব্রাহ্মণাঃ তেন বেদাঃ চ যজ্ঞাঃ চ বিহিতাঃ পুরা।।

ওঁ, তৎ, সৎ - ব্রহ্মের এই তিনটি নাম নির্দেশ করা হয়ে থাকে। এই তিন নির্দেশ অনুসরণ ক’রেই পুরাকালে যজ্ঞের কর্তা ব্রাহ্মণ, যজ্ঞের কারণ বেদ এবং যজ্ঞের ক্রিয়া স্থির করা হয়েছে।

 

২৪

তস্মাদোমিত্যুদাহৃত্য যজ্ঞদানতপঃক্রিয়াঃ।

প্রবর্তন্তে বিধানোক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্‌।।

তস্মাৎ ওম্‌ ইতি উদাহৃত্য যজ্ঞ-দান-তপঃ-ক্রিয়াঃ।

প্রবর্তন্তে বিধান উক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্‌।।

সেই কারণেই ‘ওঁ’ এই শব্দ উচ্চারণ ক’রে ও শাস্ত্রবিধি অনুসরণ ক’রে, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ সর্বদা যজ্ঞ, দান ও তপস্যার অনুষ্ঠান করেন।

 

২৫

তদিত্যনভিসন্ধায় ফলং যজ্ঞতপঃক্রিয়াঃ।

দানক্রিয়াশ্চ বিবিধাঃ ক্রিয়ন্তে মোক্ষকাঙ্ক্ষিভিঃ।।

তৎ ইতি অনভিসন্ধায় ফলং যজ্ঞ-তপঃ-ক্রিয়াঃ।

দান-ক্রিয়াঃ চ বিবিধাঃ ক্রিয়ন্তে মোক্ষকাঙ্ক্ষিভিঃ।।

 ‘তৎ’ এই শব্দ উচ্চারণ ক’রে এবং কোন ফলের প্রত্যাশা না ক’রে, পরম মুক্তি লাভের জন্য জ্ঞানীব্যক্তিগণ নানান যজ্ঞ অনুষ্ঠান, দান ও তপস্যা করেন।

 

২৬

সদ্ভাবে সাধুভাবে চ সদিত্যেতৎ প্রযুজ্যতে।

প্রশস্তে কর্মণি তথা সচ্ছব্দঃ পার্থ যুজ্যতে।।

সৎ-ভাবে সাধু-ভাবে চ সৎ ইতি এতৎ প্রযুজ্যতে।

প্রশস্তে কর্মণি তথা স-শব্দঃ পার্থ যুজ্যতে।।

হে পার্থ, ‘সৎ’ এই শব্দ দিয়ে অস্তিত্ব ও সাধুতা বোঝানো হয়। আবার যে কোন মঙ্গলকর শুভ কর্মেও এই ‘সৎ’ শব্দ প্রয়োগ করা যায়।

 

২৭

যজ্ঞে তপসি দানে চ স্থিতিঃ সদিতি চোচ্যতে।

কর্ম চৈব তদর্থীয়ং সদিত্যেবাভিধীয়তে।।

যজ্ঞে তপসি দানে চ স্থিতিঃ সৎ ইতি চ উচ্যতে।

কর্ম চ এব তৎ-অর্থীয়ং সৎ ইতি এব অভিধীয়তে।।

যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানে যে পরম নিষ্ঠা তাকেও ‘সৎ’ বলা হয়ে থাকে, ‘তৎ’ অর্থাৎ পরমেশ্বরে নিবেদিত সমস্ত কর্মকেই ‘সৎ’ বলা হয়ে থাকে।

 

২৮

অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপস্তপ্তং কৃতঞ্চ যৎ।

অসদিত্যুচ্যতে পার্থ ন চ তৎ প্রেত্য নো ইহ।।

অশ্রদ্ধয়া হুতং দত্তং তপঃ তপ্তং কৃতং চ যৎ।

অসৎ ইতি উচ্যতে পার্থ ন চ তৎ প্রেত্য নো ইহ।।

হে পার্থ, যজ্ঞ, দান, তপস্যা কিংবা যে কোন কর্ম, অশ্রদ্ধায় অনুষ্ঠিত হলে, তাকে অসৎ বলা হয়ে থাকে। এই সমস্ত কর্ম থেকে না পরলোকে কোন ফললাভ হয়, না ইহলোকে। 


শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ সমাপ্ত

চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

মাথার পোকা

স্মৃতি মেদুর এই রম্যকথার শুরু - "  লিটিং লিং - পর্ব ১  " এর আগের পর্ব - "  পরিবর্তিনি সংসারে...  "   ১ ‘স্‌স্‌স্‌স্‌শি...