বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১

এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ 

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ " 

এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "



এর আগে গীতার শেষ অধ্যায়ঃ মোক্ষযোগ গীতা - ১৮শ পর্ব "




প্রাককথা 

    ভারতীয় সনাতন ধর্মের অসংখ্য ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে বহু সংখ্যক পুরাণ প্রচলিত ছিল। তাদের মধ্যে অনেক পুরাণই কালপ্রবাহে অবলুপ্ত। অনেক পুরাণ অত্যন্ত অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার কারণে বর্জিত। সনাতনী পণ্ডিতগণ বর্তমানে আঠারোটি পুরাণকে মহাপুরাণের মর্যাদা দিয়ে থাকেন। এই মহাপুরাণগুলি হল, অগ্নি, ভাগবৎ, ব্রহ্ম, ব্রহ্মাণ্ড, ব্রহ্মবৈবর্ত, গরুড়, কূর্ম, লিঙ্গ, মার্কণ্ডেয়, মৎস্য, নারদ, পদ্ম, শিব, স্কন্দ, বামন, বরাহ, বায়ু, বিষ্ণু।  

    প্রত্যেকটি পুরাণেরই প্রধান বিষয় ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর। এছাড়াও নানান কাহিনী, বিচিত্র তত্ত্বকথা - সেগুলি প্রায়শঃ অবান্তর আবার কখনো কখনো পরষ্পরবিরোধী – বিষয় নিয়েও পুরাণগুলি বিরচিত। এই আঠারোটি মহা পুরাণের মধ্যে ভাগবত – যার পূর্ণ নাম শ্রীমদ্ভাগবত - সবথেকে জনপ্রিয়। প্রকৃতপক্ষে জনপ্রিয়তার বিচারে রামায়ণ-মহাভারতের পরেই থাকবে এই পুরাণ গ্রন্থটি।

    মূলতঃ শ্রীবিষ্ণুর মহিমাগাথা এই বিশাল পুরাণটি, রামায়ণ যেমন সাতটি কাণ্ডে ও মহাভারত যেমন আঠারোটি পর্বে, তেমনি বারোটি স্কন্ধে বিভক্ত। প্রতিটি স্কন্ধ অনুসরণ করে শ্রীবিষ্ণুর কীর্তিগাথা সহজভাষায় আন্তরিকভাবে আমি বর্ণনা করেছি, যদিও প্রতিটি অধ্যায়ের অন্তে থাকা শ্রীবিষ্ণুর সুদীর্ঘ মহিমাগাথা পাঠে পাঠকের জীবনে কী কী অত্যাশ্চর্য ফললাভ হবে – সেই পুনরুক্তিগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি বর্জন করেছি।

    আমার এই গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য ভক্তি-প্রচার নয় – বরং বিভিন্ন যুগে ভারতের সামাজিক বিন্যাস, রাজা ও প্রজার সম্পর্ক কিংবা উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের ভেদাভেদ এবং মানবিক মূল্যবোধসূচক ঘটনা বা কাহিনীগুলিই বর্ণনা করেছি। জন্মসূত্রে হিন্দু হওয়ার কারণে সুপ্রাচীন ও মহৎ এক ঐতিহ্যের অংশীদার হয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। কিন্তু আমাদের ধর্মগ্রন্থগুলির কোনটাই না পড়ে, না জেনে কট্টর হিন্দুত্ববাদী যেন হয়ে না উঠি - এটাই আমার এই প্রচেষ্টার প্রকৃত উদ্দেশ্য।         

       

 

প্রথম স্কন্ধ - প্রথম পর্ব 

গ্রন্থ পরিচয়

আমরা সত্যস্বরূপ সেই পরমেশ্বরকে প্রণাম করি। এই বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় যাঁর নিয়ন্ত্রণে, যিনি কারণরূপে অবস্থান করছেন বলে, নিখিল বস্তুর অস্তিত্ব সম্ভব হয়েছে; যাঁকে প্রকাশের জন্য অন্য আলোকের প্রয়োজন হয় না, বস্তুত যিনি নিজেকে নিজেই প্রকাশ করে থাকেন; যে বেদতত্ত্ব উপলব্ধি করতে জ্ঞানীগণের বুদ্ধিও পরাস্ত হয়, সেই বেদতত্ত্বকে আদি কবি ব্রহ্মার অন্তরে যিনি ব্যক্ত করেছিলেন; ত্রিগুণের অতীত হয়েও, যাঁর তমোগুণ থেকে ক্ষিতি, জল প্রভৃতি ভূতসমূহ, রজোগুণ থেকে সকল ইন্দ্রিয় ও সত্ত্বগুণ থেকে দেবতাগণ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা সত্যস্বরূপ সেই পরমেশ্বরের ধ্যান করি।

এই মনোহর শ্রীমৎভাগবত মহামুনি শ্রী নারায়ণ প্রথম সংক্ষেপে বলেছিলেন। এই গ্রন্থে শ্রীহরির আরাধানাই পরমধর্ম বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধর্মের বিশেষত্ব এই যে, অন্যান্য ধর্ম যে স্বর্গলাভকেই মুক্তি হিসেবে জীবের চরম লক্ষ্য বলে নির্দেশ করেছে, এই ধর্মে সেই মুক্তিকে, অনেক কামনার মধ্যে তুচ্ছ আরেকটি কামনার মতোই অবহেলা করা হয়েছে। যাঁরা সর্বদা জীবের হিতকামনায় নিরত, সেই সাধু ব্যক্তিরাই এই পবিত্র ধর্মের অনুষ্ঠান করেন। মায়াময় এই জগতে যিনি একমাত্র সত্য এবং যিনি নিরন্তর প্রাণীদের মঙ্গল সাধন করছেন, এই গ্রন্থ পাঠে সেই সত্য তত্ত্ব উপলব্ধি করা যায়। শ্রীভগবানের তত্ত্ব জানতে পারলেই জীবের সংসার জ্বালা দূর হয়ে যায়।

বেদ কল্পবৃক্ষ, শ্রীমৎভাগবত সেই বৃক্ষের ফল। শুকপাখির চঞ্চু থেকে যেমন মধুর ফল খসে পড়ে, তেমনই এই সুধাময় শ্রীমৎভাগবত ফল মহাযোগী শ্রীশুকদেবের মুখ থেকে জগতে আবির্ভূত হয়েছে। আম ইত্যাদি ফলের খোসা ও বীজ ফেলে দিয়ে ফলের রস আস্বাদন করতে হয়, কিন্তু এই ফলের কোন অংশই পরিত্যাগ করার যোগ্য নয়, এই ফলের সমগ্র অংশই রসস্বরূপ। হে রসজ্ঞ, ভাবুকগণ, আপনারা এই গ্রন্থের সুধারস পান করতে থাকুন। 

 

 একবার শৌনক প্রমুখ ঋষিগণ, ভগবানকে লাভ করার আশায় বিষ্ণুক্ষেত্র নৈমিষারণ্যে সহস্র বছর তপস্যায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে হঠাৎ এসে উপস্থিত হলেন রোমহর্ষণপুত্র সূত। সমবেত ঋষিরা তাঁকে সশ্রদ্ধ অভ্যর্থনা করে, সম্মানীয় আসন দান করলেন এবং বললেন, “হে মহাত্মন, আপনি বেদজ্ঞগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আপনি মহাভারত, ইতিহাস, পুরাণ ও অন্যান্য সকল শাস্ত্র পাঠ ও ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি ভগবান বেদব্যাস ও অন্যান্য মুনিদের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। উক্ত শাস্ত্রসমূহে জীবের পক্ষে আশু ফলপ্রদ ও একান্ত কল্যাণকর যে তত্ত্ব আপনি উপলব্ধি করেছেন, আপনি আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। এই কলিযুগে মানুষের আয়ু অত্যন্ত অল্প, তার উপর ব্যাধি ও বিঘ্নে মানুষ অত্যন্ত আকুল। অন্যদিকে নানাবিধ শাস্ত্রে নানান কর্ম ও ধর্মের নির্দেশ দেওয়া আছে; সুতরাং ওই সকল শাস্ত্রের যা সার, অর্থাৎ যা শুনলে জীবের মঙ্গল হয় ও চিত্ত প্রসন্ন হয়, সেই সার-সংক্ষেপ বর্ণনা করুন। শ্রীভগবানের নামের অপার মহিমা। ঘোর সংসারী পতিত অবস্থায়, অবশভাবেও তাঁর নাম গ্রহণ করলে, সেই ব্যক্তির শীঘ্র মুক্তি লাভ ঘটে। জীবকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে ও তাদের সুখের জন্যে ভগবান যুগে যুগে অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। তাঁর সেই সব লীলা কথা শুনতে আমরা সকলে উন্মুখ, আপনি দয়া করে বর্ণনা করুন”

রোমহর্ষণপুত্র সূত ঋষিদের এই অনুরোধে অত্যন্ত প্রীত হলেন, তিনি বললেন, “যাঁর কর্মের সকল বন্ধন অবসান হয়েছিল, সর্বভূতের অন্তর্যামী ব্যাসদেবপুত্র মুনি শুকদেবকে আমি প্রণাম করি। আমি আপনাদের কাছে শ্রীমৎভাগবত শোনাবো। এই গ্রন্থ সকল পুরাণের থেকেও শ্রেষ্ঠ। এই গ্রন্থ পাঠ করলে এবং শুনলে সকল বেদের সার তত্ত্ব জানা হয়ে যায়। সংসারের অজ্ঞান অন্ধকার থেকে মানুষকে উদ্ধারের জন্যে যিনি এই গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, মুনিদের গুরু সেই ব্যাসদেবপুত্র শুকদেবকে আমি প্রণাম করি। নর ও নরোত্তম নারায়ণ এই গ্রন্থের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। দেবী সরস্বতী এই গ্রন্থের শক্তি ও ব্যাস এই গ্রন্থের ঋষি। প্রথমেই এঁদের সকলকে প্রণাম করে, এই গ্রন্থ উচ্চারণ করা উচিৎ”

গুরু ও ইষ্টদেবতাদের প্রণাম করে, সূত আবার বললেন, “হে মুনিগণ, আপনারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিষয় প্রশ্ন করে, অত্যন্ত উত্তম কাজ করেছেন। এই বিষয়ে জগতের মঙ্গল হয়, চিত্ত সুশীতল হয়। আপনারা আরও জিজ্ঞেস করেছেন, সার ধর্মতত্ত্ব কী? আমি বলছি, আপনারা দয়া করে শুনুন। যে ধর্ম থেকে শ্রীভগবানে এমন ভক্তি উৎপন্ন হয় যে, সেই ভক্তিতে কোন কামনার লেশমাত্র থাকে না, কোন বিঘ্ন সেই ভক্তিকে অভিভূত করতে পারে না এবং সেই ভক্তিতে প্রাণে পরম শান্তি লাভ করা যায়; সেই ধর্মই জীবের পক্ষে উৎকৃষ্ট ধর্ম।

নিষ্ঠাভরে ধর্ম আচরণ করেও, যদি সেই ধর্মে ভগবানের কথা শুনে মনে হর্ষ ও প্রীতি অনুভব না করা যায়, তাহলে সেই ধর্ম আচরণ ব্যর্থ। ধর্ম অনুষ্ঠানের ফলে স্বর্গলাভ ইত্যাদি ফল পাওয়া যায় সত্য, কিন্তু সেই ফল যথার্থ ফল নয়। যে পুণ্যের বলে স্বর্গলাভ হয়, সে পুণ্য চিরদিন থাকে না, অতএব স্বর্গবাসও নিঃশেষিত হয়। শ্রী হরির চরণে ভক্তি হলে, বৈরাগ্য লাভ হয় এবং আত্মা কী সেই স্বরূপ উপলব্ধি হয়। জ্ঞানীরা এই অবস্থাকেই অপবর্গ অর্থাৎ মুক্তি বলে থাকেন। ভক্তি থেকে শুরু করে মুক্তি পর্যন্ত যে মার্গ, এই শাস্ত্রে তাকেই পরধর্ম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবের প্রাণধারণের জন্য অর্থ, কামনার বস্তু ও ইন্দ্রিয়সুখের বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঘটবেই, কিন্তু ওই সকল বিষয়ে আসক্ত না হয়ে, পদ্মপাতায় জলের মতো নির্লিপ্তভাবে ওই সকল বিষয়কে ভোগ করতে হয়। নানা রকম কর্মের অনুষ্ঠান করে স্বর্গলাভ করা এই ধর্মের উদ্দেশ্য নয়, তত্ত্ববিষয়ের অন্বেষণ ও জ্ঞান লাভই এই ধর্মের প্রধান উদ্দেশ্য।

যাঁরা তত্ত্বজ্ঞ, তাঁরা বলেন, এক অদ্বিতীয় জ্ঞানই এই তত্ত্ববিষয়। এই জ্ঞানকে জ্ঞানীগণ বলেন ব্রহ্ম, যোগীগণ বলেন পরমাত্মা আর ভক্তগণ বলেন ভগবান শ্রীহরি। মুনিগণ প্রথমতঃ শ্রদ্ধার সঙ্গে বেদান্ত শুনে আত্মার অস্তিত্ব জানতে পারেন। এই জ্ঞানকে পরোক্ষ জ্ঞান বলে। পরে বৈরাগ্য আশ্রয় করেন। অতঃপর জ্ঞান, বৈরাগ্য ও ভক্তি দিয়ে তাঁরা নিজের আত্মায় পরমাত্মাকে অনুভব করেন। সেই উপলব্ধিকেই প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলেন। ভক্তিহীন যে কোন ধর্ম আচরণই পণ্ডশ্রম মাত্র। অতএব একাগ্রমনে সর্বদা ভক্তবৎসল শ্রীহরির নাম, রূপ ও গুণের বিষয় শ্রবণ, কীর্তন, ধ্যান ও পূজা করাই এই তত্ত্বের সার অংশ।

কৃষ্ণকথা শুনলে ও কীর্তন করলে চিত্ত পবিত্র হয়। কৃষ্ণ সাধুগণের পরম বন্ধু। যে ব্যক্তি তাঁর কথা শোনে, ভগবান তার মনে অবস্থান করেন এবং তার মন থেকে কামনা ইত্যাদি দোষ দূর করে থাকেনতখন সেই ব্যক্তির রজঃ ও তমোগুণ থেকে উৎপন্ন কাম, লোভ, অহংকার ইত্যাদি ভাবসমূহ তার চিত্তকে আর বশ করতে পারে না। সুতরাং সত্ত্বগুণের প্রকাশ হওয়ায় মন প্রসন্ন হয় এবং চিত্তে শান্তি অনুভব হয়। এইভাবে ভক্তি যোগে মন প্রসন্ন হলে, মানুষ সমস্ত আসক্তি থেকে মুক্তি পায় এবং তখন ভগবানের তত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারে। মনের মলিনতা দূর করতে ভক্তির মতো উত্তম উপায় আর দ্বিতীয় নেই।

হে বিপ্রগণ, মাটি দিয়ে যেমন মাটির পাত্র, কলস ইত্যাদি তৈরি হয়, তেমনই যে বস্তু দিয়ে এই ব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়েছে তাকে প্রকৃতি বলে। সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ এই তিন প্রকৃতির গুণ। এই তিনটি গুণ আশ্রয় করে পরমপুরুষ ভগবান সৃষ্টি, পালন ও প্রলয় করে থাকেন। সত্ত্বগুণে যখন তিনি পালন করেন তখন তিনি বিষ্ণু, রজোগুণে যখন তিনি সৃষ্টি করেন, তখন তিনিই ব্রহ্মা এবং তমোগুণে যখন তিনি প্রলয় করেন, তখন তিনিই হর। মূলত এক হলেও এই তিন ঈশ্বর ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রূপে প্রকাশিত হন। এই তিনের মধ্যে সত্ত্বদেহ বাসুদেব বিষ্ণুই আমাদের মঙ্গলসাধন করেন। তার কারণ, তমোগুণ বস্তুকে অচেতন জড় করে রাখে। কাষ্ঠে তমোগুণ প্রবল, তাই জড়। রজোগুণ বিষয়কে অস্থির ও চঞ্চল করে। ধোঁয়াতে রজোগুণ প্রবল, তাই গতিশীল। সত্ত্বগুণ বস্তুকে প্রকাশ করে। অগ্নিতে সত্ত্বগুণ থাকায়, অগ্নি নিজে প্রকাশ হয় এবং অন্ধকারে অন্যকেও প্রকাশ করে। অতএব কাঠের থেকে ধোঁয়া এবং ধোঁয়ার থেকেও অগ্নি শ্রেষ্ঠ। সত্ত্বগুণ ব্রহ্মের প্রকাশক বলে, সত্ত্বতনু ভগবান বিষ্ণু বাসুদেবই, জীবের বিশেষ ভজনার পাত্র। পুরাকালে মুনিগণ বিশুদ্ধ সত্ত্বমূর্তি ভগবান অধোক্ষজের ভজন করতেন। অক্ষ অর্থাৎ ইন্দ্রিয় দিয়ে ভগবানকে অনুভব করা যায় না বলেই ভগবান বাসুদেবের নাম তাঁরা “অধোক্ষজ” রেখেছিলেন।

সংসারে দেখতে পাওয়া যায়, যাঁর যেমন প্রকৃতি তিনি সেই রকম দেবতার ভজনা করেন। যাঁদের প্রকৃতিতে রজো ও তমোগুণ প্রধান, তাঁরা ধন, ঐশ্বর্য ও সন্তান কামনায় দেবতাদের ভজনা করেন। বেদ, যজ্ঞ, আসন, প্রাণায়াম প্রভৃতি যোগশাস্ত্রের ক্রিয়া, জ্ঞানশাস্ত্র, ধর্মশাস্ত্র এবং দান ও ব্রত ইত্যাদির ফল স্বর্গলাভ। কিন্তু এই সকলেরই একমাত্র লক্ষ্য ভগবান বাসুদেব। ভগবান বাসুদেব কোন নির্দিষ্ট গুণের বশীভূত নন, তাই তিনি নির্গুণ। তন্তুরূপ কারণ থেকে যেমন বস্ত্ররূপ কার্য হয়, তেমনি সৃষ্টির আদিতে ভগবানের প্রকৃতি থেকেই এই বিশ্ব চরাচরের সৃষ্টি হয়েছিল। সকল বস্তু, বিষয় ও জীবের মধ্যে তিনি অন্তর্যামীরূপে বিরাজ করছেন। অগ্নি এক হলেও বহু কাঠের মধ্যে যেমন বহুরূপে প্রকাশ পায়, তেমনি বিশ্বের আত্মা ভগবান এক হয়েও অসংখ্য ভূত ও জীবের অন্তর্যামী হওয়ার কারণে, বহুরূপে বিরাজিত বলে মনে হয়।

চলবে...


 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

ধর্মাধর্ম - ৪/১০

  ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু -  "  ধর্মাধর্ম - ১/১  " ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - "  ধর্মাধর্ম - ২/১   " ধর্মাধর্ম ...