এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
আরেকটি ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
৫
রাতের খাওয়াটা নিয়মরক্ষা
হিসেবেই হল। সুনেত্র দুটো রুটি আর একটু চিকেন নিল। শশাঙ্ক নিজের প্লেটে দু পিস
চিকেন নিয়ে একটু ঠোকরাল বলা চলে, আর কিছু নিল না। আর সুকন্যার তো পাখির আহার।
খাওয়া দাওয়ার পর সুকন্যা সুনেত্রকে বলল, “তুমি কি আরেকটু বসবে, না এখনই শুয়ে পড়বে”?
“শুয়ে পড়লেই হয়। অবিশ্যি তোদের
যদি কোন প্রোগ্রাম না থাকে”।
“একটু বসবেন না, কোন আলাপই তো
হল না আপনার সঙ্গে”! শশাঙ্ক বলল।
“না, না আর বসতে হবে না, আলাপ
তো কত হবে জানা আছে, তোমার সঙ্গে বসা মানেই বোতল পুজো আর সঙ্গে তোমার প্রলাপ, তার
চেয়ে সুনুদা শুয়ে পড়ুক – অনেক ধকল গেছে। এসো তোমাকে ঘর দেখিয়ে দিই”। পানের প্যাকেট
হাতে নিয়ে সুকন্যা গেষ্ট রুমের দিকে গেল। সুনেত্র অল্প হেসে বলল, “ওকে মিঃ শশাঙ্ক,
আজ তবে গুডনাইট, কাল সকালে দেখা হবে”।
“অগত্যা, গুডনাইট। আপনি কিন্তু
মশাই বেশ বাধ্য এবং লক্ষ্মীছেলে – সোনা ছেলে। আমার মতো লক্ষ্মীছাড়া নন...। যাবার
আগে আরেকখানা সিগারেট ছাড়ুন দেখি”। শশাঙ্ক হাসতে হাসতে বলল।
শোবার ঘরে ঢুকে বেশ স্বস্তি পেল
সুনেত্র। সুন্দর ঘর, বিছানা। স্বল্পালোক। বাতাসে মৃদু সুগন্ধ – দামি রুম ফ্রেশনার।
মাথার কাছে ছোট টেবিলে কাচের জাগে খাবার জল, পাশে ঢাকা দেওয়া কাচের গ্লাস। বিছানার ছত্রিতে মশারি ঝুলছে। বিছানার চাদর টান টান করছিল সুকন্যা, হাল্কা হাতের
চাপড়ি দিয়ে মাথার বালিশদুটোকে ফাঁপিয়ে তুলল। সুনেত্র
মুখে হাল্কা হাসি নিয়ে দেখছিল সুকন্যাকে।
“মশারি নামিয়ে দেব, না তুমি
নামিয়ে নেবে”?
“থাক আমি নামিয়ে নেব”।
“আর এসি? চব্বিশে দেওয়া আছে, আর
কমাতে হবে”?
“নাঃ। ইট্স্ ওকে। রিমোটটা
কোথায় আছে, ওটা বরং হাতের কাছে রাখ”।
“বালিশের পাশে রইল। পায়ের কাছে
চাদরও রাখা থাকল, রাত্রে দরকার পড়লে টেনে নিও। বাথরুমের লাইটটা জ্বলতে দাও, অচেনা
জায়গা, রাত্রে যাবার হলে অসুবিধে হবে। ঠিক আছে”?
“পারফেক্ট”।
“আতিথেয়তার কোন ত্রুটি নেই তো?
পানের প্যাকেট থেকে তিনটে পানই বের করে সুকন্যা সুনেত্রর দিকে বাড়িয়ে দিল।
“মাংস খাবার পর পান খেতে
ভালোবাসি, এখনো মনে রেখেছিস? কিন্তু তিনটে কেন, তোরা খাবি না”?
“খাবো তো, তুমি খাইয়ে দাও”। শেষ কথাটা সুকন্যা অস্ফুটে বলল। স্বল্প আলোভরা নির্জন শীতল ঘরে সুকন্যার কথাগুলো রিনরিনিয়ে সুর তুলল সুনেত্রর শরীরের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে। সুকন্যার চোখের দিকে গভীর চোখ রেখে সুনেত্র পান নিয়ে মুখে পুরল, তারপর বলল, “মনে আছে, তোর? আমার মুখ থেকে কতবার তুই পান খেয়েছিস”? সুকন্যা কিছু বলল না, তার অধরে হাল্কা হাসি, চোখের তারায় প্রশ্রয়ের চিকন আলো। কিছুক্ষণ চিবোনোর পর সুনেত্র কাছে এলো সুকন্যার – খুব কাছে। দুহাতে ধরল সুকন্যার কাঁধ, তারপর চোখে চোখ রেখে সুকন্যর উন্মুখ অধরে নামিয়ে আনল তার ঠোঁট। সুকন্যা আর সুনেত্র নিমগ্ন হল চুম্বনে। একসময় সুকন্যা দুহাতে জড়িয়ে ধরল সুনেত্রকে। ঘনিষ্ঠ আলিঙ্গনে তার অন্তর্বাসহীন শরীরে অনুভব করল সুনেত্রর শরীরের স্পর্শ। সুকন্যার শ্বাস ঘন হয়ে উঠল, তার সমস্ত শরীর উন্মুখ। কাঁপতে লাগল তার নাকের পাটা, অধরোষ্ঠ। সুকন্যা দুই বাহুতে বেঁধে নিল সুনেত্রকে, সেই বন্ধনে অনেকক্ষণ বাঁধা রইল দুজনে। তাদের গভীর নিঃশ্বাসের উষ্ণতা নিঃশব্দে ছেঁকে নিচ্ছিল রুমের এসি।
একসময় সুকন্যা অস্ফুটে
বলল, “ছাড়ো”।
সুনেত্র দ্বিধাভরে সরে এল।
সুনেত্র একবারের জন্যেও ধরেনি সুকন্যাকে, তার দুহাত আলগা রাখা ছিল সুকন্যার কাঁধে।
বরং সুকন্যাই ধরেছিল সুনেত্রকে। সুকন্যা বলল, “শুয়ে পড়ো, সুনুদা, অনেক রাত হল,
গুডনাইট। কাল সকালে কটায় চা দোবো বল তো”?
বিছানার একধারে বসতে বসতে
সুনেত্র নিজেকে সামলে নিল কিছুটা, তারপর বলল, “সাতটা-সাড়ে সাতটায় দিলেই হবে, তোরা
কটায় উঠিস”?
“পেয়ে যাবে, পাক্কা সাড়ে
সাতটায়। গুড নাইট”। সুকন্যা ঘরে ছেড়ে বেরিয়ে গেল দ্রুত, যাবার সময় টেনে দিয়ে
গেল ঘরের দরজাটা।
সুকন্যা শোবার ঘরে এসে দেখল শশাঙ্ক ঘুমোয়নি, টিভিতে নিউজ দেখছে বিছানায় শুয়ে। ঘরের বড়ো লাইট নিভিয়ে সুকন্যা নাইট ল্যাম্প জ্বালালো। তারপর বিছানায় ওঠার আগে খুলে ফেলল পরনের হাউসকোট। মেঝেয় পড়ে রইল সুনেত্রর পরশমাখা বসন, আর বাসনা তপ্ত সুকন্যা উঠে বসল শশাঙ্কর পাশে। শশাঙ্ক অবাক হয়ে গেল খুব। ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসি নিয়ে সুকন্যাকে দেখছিল।
“কী দেখছ কি”?
“নীল ছবি, একদম থ্রি এক্স”।
“তার মানে? আগে কোনদিন দেখনি
নাকি”? শশাঙ্ককে নির্বসন করতে করতে সুকন্যা বলল।
“নির্জন ঘরের এই মায়াবি আলোয়, আজ
কে তোমায় রক্ষা করবে, সুন্দরী, আমার মতো নিষ্ঠুর লম্পটের কামনা থেকে? হু হা হা হা
হা”। যাত্রার খলনায়কের মতো হাসল শশাঙ্ক। তারপর রিমোটে টিভি অফ করে, নিজের নগ্ন
বুকের ওপর টেনে নিল সুকন্যাকে, সুকন্যার অধরে ডুবিয়ে দিল নিজের ঠোঁট। সুকন্যার
শরীরের ভূগোলে শশাঙ্কর হাত সংগ্রহ করে বেড়াতে লাগল ভালোবাসা - বিশুদ্ধ ভালোবাসা।
শশাঙ্ক জানে, সুকন্যার শরীরে এখন এই যে ভালোবাসার জোয়ার – এ উস্কে দিয়েছে সুনেত্র নামের অতি ভদ্র একটি জীব।
সুদীর্ঘ এক ভালোবাসার নিখুঁত
পর্বশেষে সুকন্যা শশাঙ্কর বুকে মাথা রেখে শুল, তার মুখে তৃপ্তির হাসি, অস্ফুট
স্বরে বলল, “অসভ্য, একনম্বরের ডাকাত একটা”।
“এক্স্যাক্টলি, ভালোবাসা আর
প্রেমটেম সাজিয়ে আজ তুমি যে রকম কল্পতরু ভান্ডার মেলে ধরেছ- লুঠ না করে উপায় কি?
আর কথাতেই আছে, কেউ মরে বিল ছেঁচে, কেউ খায় কই...”।
“তার মানে”? চোখ ছোট করে খুব
সন্দিগ্ধভাবে তাকাল সুকন্যা। “কি বলতে চাইছো, তুমি”?
“কিস্সু না, প্রিয়তমে। শুধু বলতে
চাইছি, অনেকদিন পরে আজ তোমাকে মারকাটারি লাগল। এর জন্যে তোমার সুনুদা’কে আমার হয়ে
গুচ্ছের থ্যাংক্স্ দিও”। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সুকন্যা বিঁধে দিল শশাঙ্ককে, “তুমি এত
মিন, আর জেলাস”?
শশাঙ্ক হা হা করে হাসল,
সুকন্যার গালে হাল্কা টোকা দিয়ে বলল, “আই লাইক টু বি মিন, দ্যান টু বি
মিনমিন...অ্যান্ড ইউ শুড অ্যাপ্রিসিয়েট ইট, সুন্দরী”।
সুকন্যা হাত দিয়ে মুখ ঢাকল
শশাঙ্কর, বলল, “এত বাজে কথাও তুমি বলতে পারো, ঘুমোও তো”। ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি
নিয়ে চোখ বুজল সুকন্যা, তার ডান হাত এলিয়ে পড়ে রইল শশাঙ্কর বুকে। শশাঙ্ক কোন
কথা বলল না আর, সুকন্যার হাতে হাত রেখে সেও চোখ বুজল।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন