এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
আরেকটি ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১৮ "
২৫
খাওয়াদাওয়ার পাট চুকিয়ে
ভল্লা আর রামালি পুকুরে গেল মুখ-হাত ধুতে আর বাসন-থালা পরিষ্কার করতে। কিছু শুকনো
পাতাতে মাটি নিয়ে ঘষে ঘষে মালসা আর সরার তলায় লেগে থাকা উনুনের যত কালি মেজে পরিষ্কার
করে ফেলল রামালি। ভল্লা কিছু বলল না, কিন্তু রামালির প্রতি তার মুগ্ধতা আরও বাড়ল। ভল্লা
নিজে বড়ো হয়েছে মাতৃস্নেহে। বাবার কাছে অনেক শিক্ষাই সে পেয়েছে, কিন্তু সে সবই
বাইরের কাজ। লাঠি খেলা, কুস্তি লড়া, বল্লম চালানো, নৌকা বাওয়া, রণপায়ে চেপে দৌড়ে
বেড়ানো। কিন্তু ঘরের কাজ সে কিছুই জানত না। কাজের জন্যে বাইরে থাকতে থাকতে নিজের
জন্যে একটু ভাত কিংবা ভুট্টা ফুটিয়ে নেওয়া...ব্যস্ ওইটুকুই সে বাধ্য হয়ে শিখেছে।
কিন্তু শৈশবেই মা-বাপ
হারানো রামালিকে হাতে ধরে কেউ কিচ্ছু শেখায়নি। অতএব বেঁচে থাকার তাগিদেই তাকে অনেক
কিছু শিখতে হয়েছে, যে শিক্ষা আর পাঁচটা শিশুকে না শিখলেও চলে। ভল্লা এখানে আসার পর
থেকে এ গ্রামের এবং পড়শী গ্রামের অনেক ছেলেই তার কাছে নতুন নতুন বিদ্যা শিখছে। সে
শিক্ষা গ্রহণেও রামালি যে বেশ আন্তরিক ও তৎপর, সেটা ভল্লা অনেকবারই লক্ষ্য করেছিল।
কিন্ত হানো, শল্কু, আহোকদের তুলনায় রামালিকে ভল্লা অতটা মনোযোগ দেয়নি। তার কারণ
রামালি বড়ো মুখচোরা। অনেকের মধ্যে নিজের বক্তব্য নিয়ে সোচ্চার হওয়া তার ধাতে নেই। কিন্তু
আশ্চর্য হল, মুখচোরা সেই ছেলেটিই আজ শেষ রাত থেকে তার গভীর ভাবনা-চিন্তার কথা
প্রকাশ করে, ভল্লাকে অবাক করে দিয়েছে। এমন স্বচ্ছ অথচ গভীর ভাবনা-চিন্তা করার
সাধ্য হানোর ছিল না। শল্কু এবং আহোকের নেই। সত্যি
বলতে খুব কম ছেলের মধ্যেই এই ক্ষমতা মিলবে। ভল্লা রামালির মধ্যে এখন একজন সম্পূর্ণ
মানুষকে দেখতে পাচ্ছে। যার হাতে তার বানিয়ে তোলা বিদ্রোহের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া
যেতে পারে।
পুকুর থেকে একসঙ্গে ফেরার
পথে ভল্লা রামালিকে বলল, “শল্কুরা এখনই এসে যাবে হয়তো। কথাবার্তার সময় চুপ করে পুতুলের মতো বসে থাকবি না – তোর কী মতামত, তুই কী ভাবছিস বলবি। যুদ্ধের দক্ষতা নিয়ে ভাল সৈনিক হওয়া যায়। কিন্তু
দক্ষতার সঙ্গে যার নিজস্ব বুদ্ধি আর ভাবনাচিন্তা থাকে সে সেনাপতি হয়ে উঠতে পারে”।
রামালি অবাক হয়ে ভল্লার দিকে
তাকাল, কিছু বলল না। দুজন কিছুক্ষণ চুপচাপ হাঁটার পর ভল্লা আবার বলল, “দেখলি, এটাই
তোর বড়ো দোষ। আমি যে তোকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বললাম, তার কোন উত্তরই দিলি না।
আমি বুঝতেই পারলাম না, রে গর্দভ, আমার কথাটা তোর মগজে ঢুকল, কি ঢুকল না”।
রামালি হাসল, বলল, “শুধু
ঢুকেছে নয় ভল্লাদাদা, একেবারে বিঁধে গিয়েছে। যে উত্তরটা মনে এসেছিল, তোমাকে বললে
বলবে, আমি নাকে কাঁদছি। তবুও বলছি, কারণ তুমিই বলতে আদেশ করলে। ছোটবেলা থেকেই এমন পারিবারিক
পরিবেশে আমি বড়ো হয়েছি, আমার যে কোন আচরণ বা কথার, অদ্ভূত-অদ্ভূত বিকৃত মানে করা হয়েছে।
এবং তার ফলে আমাকে প্রায়ই গালাগাল শুনতে হয়েছে। কখনও কখনও শাস্তিও পেতে হয়েছে। জীবনের
সেই পর্যায় থেকে বেরিয়ে আসতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু আমি পারব, কথা দিলাম, ভল্লাদাদা”।
ভল্লা রামালির কাঁধে হাত
রাখল, বলল, “জীবনের কোন অভিজ্ঞতাই ফেলনা নয়,
রামালি। কাকা-কাকির সংসারে তোর এত বছরের অনাথ জীবন তোকে এমন কিছু বিরল শিক্ষা
দিয়েছে, যে শিক্ষা বাবা-মার আদরে, ভালোবাসায় বড়ো হলে, কোনদিন টেরই পেতিস না। আমিও
পাইনি – কারণ আমি বাবা-মাকে পেয়েছি, আমার মাথার ওপর আমার মা এখনও রয়েছেন। ওই শিক্ষাটাই
তোকে অনেকদূর চালিত করবে...পিছনের সব কথা
ভুলে, শুধু অভিজ্ঞতাটা মনে রাখ, রামালি। তুই পারবি”।
ভল্লারা ঘরে ফিরে দেখল, শল্কুরা এসে গেছে। ওরা ছ’ জন। ঘরের সামনে মাটিতেই বসে আছে যে যার সুবিধে মত। শল্কু জিজ্ঞাসা করল, “তোমাদের এখনও খাওয়া হয়নি, ভল্লাদাদা?”
ভল্লা বলল, “হয়ে গেছে, এই
তো পুকুর থেকে আঁচিয়ে ফিরছি”।
আহোক বলল, “তোমার ঘরে দেখলাম
একটা সরায় বেশ কিছুটা খিচুড়ি আর কুঁদরি ভাজা ঢাকা দিয়ে রাখা রয়েছে, তাই ভাবলাম, এখনও
খাওনি”। রামালি ঘরে ঢুকে ধোয়া বাসন-থালাগুলো সাজিয়ে রাখতে গেল, ভল্লা বাইরেই বসল, বলল,
“আজ রামালিই রান্না করল। হতভাগা যে দারুণ রান্না করে, সে কথা তোরা জানতিস? ব্যাটা মেয়েদেরকেও
হার মানাবে। শুধু একটাই ভুল করেছে, ও ভেবেছিল আমি বুঝি বকরাক্ষস। তাই অনেকটাই বেশি
হয়ে গেল, খিচুড়িটা। ইচ্ছে হলে তোরা খেতে পারিস”।
“শল্কু বলল, আমরা এই মাত্র
খেয়ে এলাম ভল্লাদাদা। ঠিক আছে, যাওয়ার সময় রামালির রান্না চেখে দেখব”।
ভল্লা বলল, “তোদের কী ব্যাপার
কি? আজ সকালে ভেবেছিলাম তোরা আসবি। আগের মতো মহড়া শুরু করবি…। নাকি একবার ডাকাতি করেই
শখ মিটে গেল?”
আহোক বলল, “চোখের সামনে হানোটা
মরে গেল। ওর মা আর তিনবোন এখনো খুব কান্নাকাটি করছে, ভল্লাদাদা। তাদের চোখের
সামনে দিয়ে মহড়ায় আসতে – একটু সংকোচ হচ্ছিল। আমাদের আসতে দেখলেই ওদের তো হানোর কথা
মনে পড়ে যাবে…”।
ভল্লা কিছুক্ষণ মাথা নীচু
করে বসে রইল, তারপর বলল, “প্রচণ্ড একটা ঝড় আসছে… সেটা কি টের পাচ্ছিস?”
শল্কু জিজ্ঞাসা করল, “কিসের
ঝড়, ভল্লাদাদা? আস্থানের রক্ষীরা আমাদের গ্রামে আসবে, সে কথাই বলছো তো? রামালি
আমাদের বলল। রামালির কথা মতো আমাদের ঘরে ঘরে যার যা একটা-দুটো জংধরা অস্ত্র-শস্ত্র
ছিল সব পুকুরের জলে লুকিয়ে ফেলেছি। বাড়িতে খুঁজলে নরুন আর হাতা-খুন্তি ছাড়া কিচ্ছু
পাবে না।”
ভল্লা এই সংবাদটা জানত না,
রামালির বুদ্ধিতে সে আরও একবার অবাক হল। ভল্লা বলল, “সে না হয় হল, কিন্তু রক্ষীরা হয়তো
জিজ্ঞাসা করবে লুঠ করা অস্ত্রগুলো কোথায় রেখেছিস … সেটা জানার জন্যেই গ্রামের সকলের
ওপর অত্যাচার করবে। আমাদের ছেলেরা কি তখন চুপ করে বসে থাকতে পারবে? আমাদের ছেলেরা কি
চোখের সামনে সব অত্যাচার দেখেও বলতে পারবে – আমরা ডাকাতি নয় রামকথা শুনতে গিয়েছিলাম?”
“রক্ষীরা এলে, তোমার নির্দেশ
মতো আমাদের দলের কেউই তো সামনে যাবে না, বরং গ্রামের বাইরে গা ঢাকা দেবে। বাকি রইল
বড়োরা আর বাচ্চারা – তাদের ওপর নিশ্চয়ই খুব একটা অত্যাচার করবে না”।
ভল্লা হাসল, “রক্ষীরা কি
ধরনের অমানুষ আর নিষ্ঠুর হয়, তোদের কোন ধারণা নেই। কিন্তু সে কথা চিন্তা
করে লাভ নেই। তোদের বাড়ির লোকজন বা পরিবারের কেউ কি জানে – তোরা সেদিন ডাকাতি করতে
গিয়েছিলি? এবং আমাদের লুঠ করে আনা আস্ত্র-শস্ত্র কোথায় রাখা আছে?”
শল্কু বলল, “আমাদের কেউই
এ ব্যাপারে কাউকে একটা কথাও বলিনি, এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, ভল্লাদাদা – সেদিন আমরা
হানোর চিতার সামনেই সবাই শপথ নিয়েছিলাম…”।
ভল্লা খুব চিন্তিত মুখে বলল,
“ওরা কবে যে আসবে সেটা তো জানা যাচ্ছে না…হয়তো আজ, নয়তো কাল বা পরশু…কিন্তু তোরা মনে
মনে কী ঠিক করেছিস? মহড়া চালিয়ে যাবি এবং লড়াইয়ের জন্যে প্রস্তুত হবি? নাকি সব ছেড়ে-ছুড়ে
দিয়ে আগের মতোই শান্ত নিরুপদ্রব জীবনে ফিরে যাবি?”
আহোক জিজ্ঞাসা করল, “এ কথা
কেন বলছো, ভল্লাদাদা? তোমার কী মনে হয়, আমরা ভয় পাচ্ছি? রক্ষীদের আক্রমণের ভয়? আমরা
কিন্তু…”।
রামালি শল্কুর পাশেই বসেছিল, হঠাৎ উঠে দাঁড়াল – ইশারায় সকলকে চুপ করতে বলে, কান পাতল কোন শব্দ শোনার জন্যে। ফিসফিস করে বলল, “কেউ একজন ছুটতে ছুটতে আসছে, ভল্লাদাদা…তবে কি রক্ষীরা গ্রামে এসে গেছে?” রামালির কথায় সকলেই উঠে দাঁড়াল, রামালি কিছুটা এগিয়ে গেল শব্দ লক্ষ্য করে, বলল, “আরে এ তো সুকরা গাঁয়ের সুরুল…” রামালি ডাকল “সুরুল, অ্যাই সুরুল, এদিকে…এদিকে আয়…কী হয়েছে?”
রামালিকে দেখে সুরুল বলল, “ওঃ তোরা
এখানে আছিস? ভল্লাদাদা?”
“আছে সবাই আছে, একটু বোস…বড্ডো
হাঁফাচ্ছিস তুই, জিরিয়ে নে একটু”।
সুরুল ভল্লার সামনে এসে বসে পড়ল মাটিতে, বলল, “ভল্লাদাদা, ওরা ভীলককাকাকে
বিচ্ছিরিভাবে মেরেছে…চাবুক মেরেছে আমাদের সবাইকে…এই দ্যাখো” গায়ের ফতুয়াটা খুলে নিজের
পিঠ দেখাল সুরুল।
রামালি বলল, “ওরা মানে? আস্থানের
রক্ষীরা?” রামালি ঘরের ভেতর থেকে এক ঘটি জল এনে সুকুলের হাতে তুলে দিল। সুরুল রামালির চোখের
দিকে তাকিয়ে ঘটিটা হাতে নিল, ঘটির জল নিঃশেষ করে স্বস্তির শ্বাস ফেলল। খালি ঘটিটা হাতে
নিয়ে রামালি বলল, “দুপুরে কিছু খেয়েছিস? মনে তো হচ্ছে না…”। রামালি ঘরে ঢুকে খালি ঘটি
রেখে, খিচড়ি আর ভাজির সরাটা আনল। সুকুলের হাতে তুলে দিয়ে বলল, “এটা খেতে থাক…খেতে খেতে
বল, কী হয়েছে? কিসের জন্যে তুই এভাবে দৌড়ে এলি?”
সুরুল কৃতজ্ঞ চোখে ভল্লার দিকে তাকিয়ে খাওয়া শুরু করল। খেতে
খেতে সব কথা বলল। আজকেই একটু আগে ভল্লাদাদার বানানো বাঁধের ধারে যা যা ঘটেছিল। সুরুল আরো বলল, “আমাদেরকে
রগড়ে, কুত্তার বাচ্চারা তোদের গ্রামের দিকে রওনা হল, শল্কু, রামালি। দেখলাম তোদের গ্রামের
ওপরেই ওদের যত আক্রোশ…”।
ভল্লা শল্কুদের দিকে তাকিয়ে
বলল, “যে ভয়টা পাচ্ছিলাম, সেটা আজ এখনই ঘটে চলেছে তোদের গ্রামে”।
আহোক হঠাৎ গম্ভীর গলায় বলে
উঠল, “ভীলককাকার মতো মানুষকে যারা অকারণে এমন নিষ্ঠুর আঘাত করতে পারে, তারা আমাদের
গ্রামেও একই রকম অত্যাচার করবে, বুঝতে পারছি। এই প্রতিটি রক্তবিন্দুর শোধ আমরা নেবই
ভল্লাদাদা, তুমি
আমাদের শক্তি দাও…”।
সুরুল বলল, “আমরাও…ভীলককাকার সামনেই আমি শপথ করেছি। এরকম মার
খেয়েও তিনি এতটুকু ভয় পাননি…আমার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছেন…”।
ভল্লা সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে
বলল, “পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, আমাদের এখন আবেগ নয়, বিবেচনার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
শল্কু, আহোক তোরা ফিরে যা। রক্ষীরা আশাকরি সন্ধের অনেক আগেই আস্থানে ফিরে যাবে। তবে
তোরা কিন্তু হুট করে গ্রামে ঢুকবি না। রাজরক্ষীরা গ্রাম ছেড়ে গিয়েছে, নিশ্চিত হয়েই তারপর
গ্রামে ঢুকবি। তোদের এখন প্রথম কাজ নিজের নিজের পরিবারের পাশে থাকা… ভরসা দেওয়া। তোদের
বাবা-মা, গ্রামের বয়স্ক মানুষরা এমনকি ছোটরাও - আজকের ঘটনায় মানসিকভাবে হয়তো ভেঙে পড়বেন।
তাঁদের মনের শক্তি ফিরিয়ে আনতে হবে…সেটাই এখন প্রধান কাজ…”।
একটু চুপ করে থেকে ভল্লা
আবার বলল, “রক্ষীরা আমার খোঁজে হয়তো এখানেও চলে আসবে…এখানে আমার সঙ্গে তোদের এতজনকে দেখলে…তোদের
বিপদ আরও বাড়বে…। তোরা এখনই বেরিয়ে পড়…যে ভাবে বললাম, গ্রামের সীমানার বাইরে জঙ্গলে
গা ঢাকা দিয়ে অপেক্ষা করবি। এখান থেকে আমিও গা ঢাকা দেব… গোঁয়ার্তুমি করে রক্ষীদের
হাতে ধরা পড়ার কোন মানে হয় না। সুরুল তুইও গ্রামে ফিরে যা। আমি কাল থেকেই মহড়া শুরু করতে চাই।
কিন্তু তার আগে গ্রামের পরিস্থিতি কীরকম সেটা জানতে হবে, বুঝতে হবে। রাত্রের দিকে আমি
একবার দুটো গ্রামেই যাব…আমার সঙ্গে থাকবে রামালি… এখন তোরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়…”।
উদ্বিগ্ন মুখে শল্কুরা সবাই
উঠে দাঁড়াল। ভল্লা শল্কু আর সুরুলের কাঁধে হাত রেখে বলল, “প্রকৃত লড়াই এবার শুরু হল
বলে। আজ রাত্রেই ঠিক করে ফ্যাল, লড়াইতে নামবি, নাকি শত্রুপক্ষের হাতে নিজেদের সমর্পণ
করে দিবি? আচ্ছা রামালি, তুই কোন পাখির ডাক-টাক নকল করতে পারিস?”
রামালি অবাক হয়ে বলল, “পাখির
ডাক? হ্যাঁ পারি, মোরগের ডাক”।
“ধুর ব্যাটা, রাতের দুই প্রহরে কখনও
মোরগ ডাকে? অন্য কিছু?”
রামালি এবার বুঝতে পারল,
বলল, “কুকুরের ডাক, কুকুরের কান্না…”।
ভল্লা হাসল, বলল, “বাঃ চলবে। রাত্রি দুই প্রহরের মাঝামাঝি পরপর তিনবার কুকুরের কান্না শুনলে বুঝবি ওটা রামালির সংকেত। চুপচাপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে রামালির সঙ্গে চলে আসবি, আমি গ্রামের বাইরেই থাকব। সুরুল, তোদের গ্রামে যেতে আমাদের আরও একটু দেরি হবে… হয়তো দুই প্রহরের শেষে অথবা তিন প্রহরের শুরুতে। শুধু তুই না, তোর সঙ্গে তোর বিশ্বস্ত আরো কিছু লড়াকু ছেলেকেও সঙ্গে আনতে পারিস”।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন