রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

একটি শিশিরবিন্দু....

   

এর আগের রম্যকথা - " ...দেখিতে গিয়েছি সিন্ধু " 


যতদূর মনে পড়ে আমি তখন ক্লাস থ্রী বা ফোরে পড়ি, সাল ১৯৬৮ কিংবা ৬৯, ডোনেশানের জন্যে বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল কমিটির প্রতিনিধিরা এসেছিলেন আমাদের স্কুলেও। পরেরদিন বাবার থেকে টাকা এনে জমা করেছিলাম, কত ঠিক মনে নেই, তবে দশটাকার বেশি বলে মনে হয় না। তখন তের পয়সার ট্রাম ভাড়ায় ধর্মতলা থেকে শ্যামবাজার যাওয়া চলত, আর পাঁঠার মাংসের দর ছিল পঁচিশ-তিরিশ টাকা কিলো। কাজেই দশ টাকাও তখনকার দিনে নেহাত কম ছিল না! স্কুল থেকে আমাদের হাতে দিয়েছিল ভাঁজ করা একটি সুন্দর লিফলেট। তাতে লেখা ছিল কন্যাকুমারীতে কিভাবে গড়ে উঠছে বিবেকানন্দ স্মৃতি মন্দির। আর ছিল মন্দিরের একটি ছবি। নীল আকাশ আর নীল সমুদ্রের পটভূমিকায় গেরুয়া রঙের সেই মন্দির দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্রের মাঝখানে একখানি পাথরের দ্বীপে।

১৯৮২ সালে কন্যাকুমারীর ভারতভূমি থেকে বিবেকানন্দ রকে যাবার লঞ্চে ওঠার মুখে সেই ছবিটিই আবার যেন দেখতে পেলাম। তবে এখন আর ছবি নয় পূর্ণাঙ্গ দৃশ্য। সাধারণতঃ কল্পনার সঙ্গে বাস্তবের মিল কম হয়ে থাকে বলে আমরা মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে থাকি। কিন্তু এবারে যে দৃশ্য দেখলাম, তা কল্পনার চেয়েও অনেকটাই বেশি। তিনদিকে অনন্ত সুনীল সমুদ্র। পিছনে শরতের নীল আকাশ, আকাশে হাল্কা-পুল্কা ছিট-ছাট সাদা মেঘ। মাঝখানে মাটি আর গিরি রঙের সুন্দর স্থাপত্য। জবরজং নকশা নেই, অজস্র মূর্তির কাহিনী নেই, ছিমছাম সুন্দর। সমস্ত পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোত মিশে গেছে। অন্যরকম কিছু হলে চোখে লাগত নির্ঘাৎ।

 গুরুদেব শ্রীরামকৃষ্ণের দেহরক্ষার পর বেশ কিছুদিন পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নরেন্দ্রনাথ দুবছর টানা ভারতভ্রমণ করে ১৮৯২ সালের ডিসেম্বরে কন্যাকুমারী পৌঁছেছিলেন। শোনা যায় কন্যাকুমারী মন্দিরে বসে পূর্বদিকে সমুদ্রের মধ্যে এই পাথর তাঁর চোখে পড়ে। কথিত আছে, ওই পাথরে বসেই কুমারী পার্বতী শিবকে স্বামীরূপে পাবার জন্যে দীর্ঘদিন তপস্যা করেছিলেন। নরেন্দ্রনাথের মনে হয়েছিল ওই পবিত্র পাথরে বসে তিনিও ধ্যান করবেন। কপর্দ্দকহীন নরেন্দ্রনাথকে বিনা পয়সায় পার করে দিতে কোন জেলে নৌকাই তখন রাজি হয়নি। অগত্যা অদম্য নরেন্দ্রনাথ শীতের সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং সাঁতরে পার হয়েছিলেন প্রায় শপাঁচেক মিটার দূরত্ব! তিনদিন ২৫ থেকে ২৭শে ডিসেম্বর তিনি সেই পাথরে বসে ধ্যান করেছিলেন। পর্যালোচনা করেছিলেন তাঁর সমগ্র ভারত ভ্রমণের ফলাফল এবং স্থির করেছিলেন তাঁর পরবর্তী কর্ম পরিকল্পনা। অনেকেই অবিশ্যি এই ঘটনাকে কল্পকাহিনী বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, কারণ বিবেকানন্দের নিজস্ব রচনায় এবং সেই সময়কার কোন চিঠিপত্রেই এমন কোন ঘটনার সমর্থন পাওয়া যায় নি।

 সিমলের নরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে স্বামী বিবেকানন্দে উত্তরণের পথে শ্রী রামকৃষ্ণ ছাড়া আর কোন বাঙালীর তেমন কোন অবদানের কথা শোনা যায় না, বরং শোনা যায় অনেক বিরুদ্ধতার কথা। তাঁর শিকাগো ধর্ম মহা সম্মেলনে যোগদান এবং বিশ্বের দরবারে বেদান্ত দর্শনের কথা তুলে ধরার পিছনে মানসিক এবং ব্যবহারিক সাহায্য ছিল অজস্র অবাঙালী ভারতীয়ের। মাদ্রাজের আলাসিঙ্গা পেরুমল, ক্ষেত্রীর মহারাজা অজিত সিংয়ের মতো ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া তাঁর বিবেকানন্দ হয়ে ওঠা সহজ হত না।

 বিবেকানন্দের মৃত্যুর প্রায় ষাট বছর পরে তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে, বিবেকানন্দের আদর্শে উদ্বুদ্ধ শ্রীযুক্ত একনাথ রানাডের এই উদ্যোগও কম অলৌকিক নয়। একদিকে তিনি গড়ে তুললেন বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়ালের মতো অদ্ভূত স্মারক, যা আজ ভারতের অন্যতম দর্শনীয় তীর্থস্থান। অন্যদিকে গড়ে তুললেন বিবেকানন্দ কেন্দ্র, যেখানে বিবেকানন্দের আদর্শে গড়ে উঠবে আধুনিক যুব সমাজ, বড়ো হয়ে তারা গড়ে তুলবে বিবেকানন্দের স্বপ্নের ভারতবর্ষ।

 বিবেকানন্দ রকে দাঁড়ালাম, আমাদের পিছনে পড়ে রয়েছে আমাদের বিশাল দেশ ভারতবর্ষ। ওখান থেকে চাক্ষুষ করলাম, তিন সমুদ্রের অদ্ভূত সঙ্গম। বাঁদিকে বঙ্গোপসাগরের সবুজাভ জলরাশি, ডানদিকে ফিকে নীল আরব সাগর আর সামনে গভীর নীল ভারত মহাসাগর। এই প্রশস্ত প্রস্তরদ্বীপের গায়ে এসে অনবরত আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের বড়ো বড়ো ঢেউ। এই ঢেউগুলি কোন সাগরের? তারা কি জানে আমরা তাদের কি নাম দিয়েছি?  আরেকবার উপলব্ধি হল এই বিশাল পৃথিবীতে কি সামান্য আর ক্ষুদ্র আমাদের অস্তিত্ব!

 বিশাল প্রান্তরে, পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখেছিলাম, দেখেছিলাম সূর্যাস্তও। কিন্তু একই জায়গায় দাঁড়িয়ে এমনটা আর কোথাও দেখিনি। বঙ্গোপসাগরে স্নান সেরে যে শিশু সূর্যের উদয় হয়েছিল, দিনান্তে সেই সূর্যই ক্লান্ত হয়ে ডুব দিলেন আরব সাগরের জলে।

 পরদিন ভোরে আরেকবার সূর্যোদয় দেখে আমরা সকালের ট্রেনে রওনা হলাম ত্রিবান্দ্রম। ঘন্টা তিনেকের জার্নি শেষে আমরা ত্রিবান্দ্রম পৌঁছে বিকেলের দিকে দেখতে গেলাম কোবালাম বীচ। কন্যাকুমারীতে যে সূর্যোদয় দেখেছিলাম, এখানে এসে দেখলাম সেই সূর্যাস্ত। অজস্র নারকেল গাছের সবুজ, সোনালী বালুর চর, সুনীল আরব সাগরের জল, বিকেলের আকাশে অস্তগামী সূর্যের বিচিত্র রঙের খেলা। সাগরের বেলাভূমি নিয়ে এতদিন যে রোমান্টিক সব বর্ণনা পড়েছি বা সিনেমার পর্দায় দেখেছি, তার নিখুঁত দৃশ্য এই কোবালাম বীচ। পণ্ডিচেরী, রামেশ্বরম, কন্যাকুমারীতে সমুদ্রতট আছে, নেই এমন স্বর্গতুল্য বেলাভূমি। লবণাম্বু সাগরের মধ্যম ঢেউয়ে সমুদ্রস্নান সেরে আরো নমকীন হলাম কিনা জানিনা, তবে সম্পূর্ণ হল আমার সমুদ্রপাঠ। মনের মধ্যে পাহাড়ের প্রতি যে পক্ষপাতিত্ব ছিল, সেটা আর রইল না, প্রকৃত প্রকৃতিপ্রেমিকের মতো দুজনকেই ভাগ করে দিলাম আমার মুগ্ধতা।

 ত্রিবান্দ্রম থেকে বাসে সারা রাতের জার্নি শেষে কোয়েমবাতোর হয়ে আমরা পৌঁছে গেলাম নীলগিরির রাণী উডাগামন্ডলম, যার আদুরে নাম উটি। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার অংশ নীলগিরি পাহাড়ের চোখ জুড়োনো সবুজ ইউক্যালিপটাস, পাইনের জঙ্গল, চা বাগান, নীল জলের লেক, সব মিলিয়ে সুন্দর শহর। সবচেয়ে উঁচু পর্বত চূড়া দোদাবেতা ২৬২৩ মি, দারজিলিংযের পথে ঘুমের উচ্চতা ২২৫৭ মি আর দারজিলিং ২০৪৫ মি, উচ্চতায় অনেকটাই বেশিএতসব সৌন্দর্য থাকলেও অজস্র পাহাড়ের অনন্ত বিস্তার নেই, নেই কাঞ্চনজঙ্ঘার রাজসিক সিংহাসন।  চারদিন উটিতে ভালোই লাগল, কিন্তু কোন নতুনত্ব মনে ধরা দিল না।

 উটি থেকে আমরা এবার গাড়িতে নেমে এলাম মাইশোর। ঘন্টা পাঁচেকের পথে মাঝে পড়ল বান্দিপুর রিজার্ভ ফরেস্ট। মুদুমালাই চেকপোস্টের ফরেস্ট গার্ডদের কাছে খবর পাওয়া গেল এই ফরেস্টে বাঘ আছে, আছে চিতা। ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলতেও পারে। আমাদের গাড়ির সারথিও চেষ্টার কসুর করল না, কিন্তু দেখা মিলল না কোন বাঘের। বাঘেরা নিশ্চয়ই জাতীয় সড়কের চেয়ে ঘন জঙ্গলের রাস্তাই বেশি পছন্দ করে। তবে চিতল হরিণের দল, সম্বর আর অনেক ময়ুর দেখা দিল পথের দুপাশে।

মাইশোর শহরের রাজবাড়ির জাঁকজমক, চামুণ্ডি হিলসে চামুণ্ডি দেবীর মন্দির দর্শন ও শহর দর্শনের পর মাইশোর আর্ট গ্যালারিতে ঘনিষ্ঠ জানাশোনা হল রাজা রবি বর্মার ছবির সঙ্গে। ত্রিবান্দ্রাম আর্ট গ্যালারিতেও বেশ কয়েকখানি ছবি দেখেছিলাম, কিন্তু এখানে অনেক। রামায়ণ, মহাভারত, পৌরাণিক নানান কাহিনীর ছবি ছাড়াও, এখানে বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে সাধারণ জীবনের নারী। আজও মনে আছে একটি ছবি। এক মহিলার বুকের কাছে বাঁহাতে ধরে থাকা প্রদীপের শিখাটি ডান হাতে আড়াল করা। মহিলার মুখে আর বুকের ওপর এবং পিছনের দেয়ালে সেই দীপের আলো আর ছায়ার অদ্ভূত মিশ্রণ। অসাধারণ সেই ছবিতে রাজা রবি বর্মার অবিশ্বাস্য রং আর তুলির দক্ষতা ভোলা যায় না। মনে থাকবে সারা জীবন।

 বৃন্দাবন গার্ডেনের মিউজিক্যাল ফাউন্টেন দেখতে আমরা যেদিন গেছিলাম, সেদিন ছিল মাইশোরের দশেরা উৎসব। অজস্র জনসমাগম এবং চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সে ছিল এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।

 মাইশোর দর্শনের পর সকালের ট্রেন ধরে আমরা রওনা হলাম ব্যাঙ্গালোর। ট্রেনের রিজার্ভ কামরাতেও শান্তি পাওয়া গেল না এত ভিড়। মাইশোরের দশেরা উৎসব দেখে ঘরে ফেরা দেহাতি লোকের ভিড়ে অসহায় টিকিট চেকারও রণে ভঙ্গ দিল। রিজার্ভড আসনে বসার আশা ত্যাগ করে বাবা মা কোনমতে একটু বসার জায়গা পেলেন, আমাদের দুই ভাই দাঁড়ানোর মতো আশ্রয় পেলাম টয়লেটের সামনে প্যাসেজে। প্রায় চার ঘন্টার এই ট্রেন জার্নিতে নড়া চড়া করাও বিড়ম্বনা, এমনই নিশ্ছিদ্র সেই ভিড়।

 ট্রেনের যাত্রা পথে অনেক স্টেশন পার হল – মান্ড্য, মাড্ডুর, চানাপটনা, রামনগর, বিরডি। সেদিন এই সব স্টেশনের কোন গুরুত্ব ছিল না আমার কাছে। তখন কে আর জানত আমাকে আবার কর্মসূত্রে এই অঞ্চলে ফিরে আসতে হবে। বেশ কিছুদিন থাকতেও হবে ছোট্ট শহর এই চানাপটনায়। সে সব সুদূর ভবিষ্যতের কথা। সেদিন আমাদের ট্রেন ব্যাঙ্গালোর শহরে ঢুকল প্রায় ঘন্টা দুয়েক লেট করে।

 ব্যাঙ্গালোর শহর দেখা হল। আর সিনেমা দেখা হল। সেই সময়ে ব্যাঙ্গালোরের সুনাম ছিল সিনেমাহলের প্রাচুর্যের জন্যে। একই বাড়ির তিনটে ফ্লোরে তিনটে হল অনেকগুলি ছিল এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশই অত্যাধুনিক। আমাদের কলকাতায় ওই রকম হল ছিল না বললেই চলে, আর আধুনিক হল বলতে ধর্মতলার সাকুল্যে তিনটে কি মেরে কেটে চারটে হল। ব্যাঙ্গালোর সাঙ্গ করে আমরা ঘরে ফেরার দিকে রওনা হলাম – আবার ম্যাড্রাস।

মাদ্রাজের প্রায় তের কিমি লম্বা বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম মেরিনা বীচ দেখে তেমন মজা পেলাম না। হয়তো এর আগে অনেক ধরণের সমুদ্র দেখা হয়ে গেছে এবং কোবালাম বীচের সৌন্দর্যের ধারে কাছে আসতে পারে না বলে। যাবার সময় দেখলে প্রথম দেখা সমুদ্রতট হিসেবে নিশ্চয়ই মুগ্ধ হতাম, অবাক হতাম।

 টলেমি এবং পেরিপ্লাসের বর্ণনা থেকে জানা যায় সে কালে মামল্লপুরম বন্দরের খুব রমরমা ছিল। আমাদের তাম্রলিপ্তি বন্দরও তো প্রায় সমসাময়িক। কে জানে কত বাঙালি নাবিক এবং তামিল নাবিক যাওয়া আসা করেছে এই দুই বন্দরে! আজ সমুদ্রের লোনা হাওয়ায় ক্ষয়ে যেতে থাকা পরিত্যক্ত মামল্লপুরমের মন্দির, পঞ্চরথ, এবং পাথরে খোদাই অজস্র শিল্প দেখে কিছুটা আঁচ করা যায়, সেই সব দিনের গৌরব।

 একদিন খুব ভোরে আমরা রওনা দিলাম পূর্বঘাট পর্বতমালার ছোট্ট তিরুমালা পাহাড়ের চূড়ায় বিশ্বের ব্যস্ততম ও ধনীতম বালাজি তিরুপতি ভেংকটেশ্বরস্বামী মন্দির দর্শনে। তিরুপতি শহর তিরুমালা পাহাড়ের ঠিক নীচে, সেখান থেকে “তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম” –এর ছোট ছোট বাস অনবরত নিয়ে চলেছে ৮৫৩ মি উঁচু পাহাড়ের ওপর। পাহাড়ের মাথায় বিস্তীর্ণ সমতল। মাঝখানে ঈপ্সিত মন্দির, চারদিকে দোকানপাট জমজমাট। গৃহস্থ সরঞ্জাম থেকে খাবার দাবার কি না পাওয়া যায় সে সব দোকানে।

 মন্দিরের দরজা সামনে হলেও সে পথে যাওয়া যাবে না। সে পথে যেতে গেলে হয় ভি আই পি হতে হবে অথবা মাথাপিছু একশ টাকার টিকিট কাটতে হবে। বিনি পয়সায় দর্শনও সম্ভব, সেক্ষেত্রে লোহার খাঁচায় ঘুরে ঘুরে আসতে হবে মানুষের সুদীর্ঘ লাইনের পিছনে। মাত্র একশ টাকার বিনিময়ে ভি আই পি হতে মা কিছুতেই রাজি হলেন না, অগত্যা আমরা আম জনতার লাইনে সামিল হলাম। প্রায় ঘন্টা তিনেক লোহার খাঁচার নানান গোলকধাঁধায় ঘুরে আমরা দর্শন পেলাম বাবা তিরুপতির। সামান্য কয়েক মূহুর্তের দর্শন, পিছনের এবং আশেপাশের মন্দির সঞ্চালকদের নিরন্তর ধাক্কায় তার বেশী দাঁড়াবার জো নেই।

 বাবা তিরুপতির মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ ও প্রসাদী লাড্ডু নিয়ে আমরা ফিরে এলাম মাদ্রাজ। এখান থেকেই আমাদের আগামীকাল ঘরে ফেরার ট্রেন। দীর্ঘ একুশদিনের যাত্রা শেষ, এবার ঘরে ফেরার জন্যে মন অস্থির। বাড়ি গিয়ে নিজের ঘরে পা ছড়িয়ে বসা আর ভাতের সঙ্গে বিউলিডাল আর আলুপোস্ত মেখে খাওয়ার শান্তি ফিরে পাওয়া।


যা দেখলাম, যা পেলাম তার হিসেব করার সময় এখন নয়। তার হিসেব করতে হবে অনেক দূরে অনেক দিনের পর। ততদিনে মন থেকে মুছে যাবে পথ চলার ছোটখাটো বাধা-বিঘ্ন, দুঃখ-কষ্টের স্মৃতি। মনে থাকবে শুধু বিচিত্র প্রকৃতি, যুগ যুগ ধরে গড়ে ওঠা মহিমময় ইতিহাস নিয়ে তীর্থস্থান, মানুষের গড়ে তোলা অসাধারণ শিল্পসৃজন। আর সবার ওপরে মনে থাকবে চলার পথে মনে থাকা আর মনে না থাকা অগণিত মানুষ।

চলবে...



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১৬

  এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - "  সুরক্ষিতা - পর্ব ১  "  অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - "  এক দুগুণে শূণ্য   ...