এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
অন্যান্য সম্পূর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "
আরেকটি ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
এই উপন্যাসের আগের পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১৪"
২১
মারুলা আর ভল্লা রণপা
নিয়ে গভীর জঙ্গলে ঢুকে একটা নির্দিষ্ট বিশাল গাছে উঠে বসল। বিশাল এই মহানিম গাছের
মস্ত মোটা একটা ডালে দুজনে মুখোমুখি বসল, পা ঝুলিয়ে, বেশ আরাম করে। তাদের পায়ের নীচে
এবং মাথার ওপর ঘন পাতার ছাউনি। নীচ থেকে কেউ ওপরে তাকালেও সহজে তাদের কেউ খুঁজে
পাবে না। তার ওপর মধ্যরাতের একটানা হাওয়ায় পাতায় পাতায় যে রকম ঝরঝর শব্দ
হচ্ছে, তাতে গাছের তলা থেকে তাদের কোন কথাই, নীচের থেকে শুনতে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা
নেই। গাছের ডালে রণপা জোড়া ঝুলিয়ে রেখে মারুলা বলল, “কী বলল, তোর কমলিমা?”
ভল্লা খুব চিন্তিত ও
বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল, “খুবই খারাপ বার্তা রে মারু। যে কাজটা করতে আমার মন থেকে একটুও
সায় নেই...সে কাজটাই এখন খুব শিগ্গির আমাকে করতে হবে অথবা কাউকে দিয়ে করাতে হবে”।
অবাক হয়ে মারুলা বলল,
“কী কাজ? কী করতে হবে তোকে?”
ভল্লা উপরের দিকে তাকিয়ে
ঝিলিমিলি পাতার ফাঁক দিয়ে জ্যোৎস্নায় আলোকিত আকাশের দিকে চোখ রেখে বলল, “যে কবিরাজের কথা তোকে তখন বলছিলাম না? সেই
কবিরাজ। হতভাগা বুড়ো বড়ো বেশি বুঝে ফেলেছে। বুঝেছিস তো বুঝেছিস, সে বেশ কথা, নিজের
মনে চুপ করে থাকলে কোন ক্ষতি ছিল না। কিন্তু তা না, বুড়ো সেসব কথা লোককে বলেও
বেড়াচ্ছে। গ্রামপ্রধান জুজাক জানে, জানে কমলিমা...হয়তো আরও অনেকে”।
মারুলা কৌতূহলী হয়ে
জিজ্ঞাসা করল, “কী বুঝে ফেলেছে?”
ভল্লা বলল, “আমি এ গাঁয়ে
আসার পরেই, জানিস নিশ্চয়ই, ওই বুড়োই আমার চিকিৎসা করেছিল। শুনেছি, আমি যখন অজ্ঞান
অবস্থায় ছিলাম – সে সময়েই নাকি বুড়ো বলেছিল, এ ছোকরা, অর্থাৎ আমি, নাকি সাধারণ লোক
নই। বলেছিল, বহুদূর থেকে আসা, ভয়ংকর অসুস্থ এই ছোকরা আমাদের গ্রামে যে আচমকা এসে
পড়েছে – এমনটা হয়তো নয়। হয়তো এখানে আসার পিছনে বড়ো কোন পরিকল্পনা আছে”!
“বলিস কী? এ কথা
শষ্পককে বলেছিলি?”
“না, বলিনি। আসলে সে সময়
বুড়োর কথায় আমি কেন, গাঁয়ের কেউই তেমন কান দেয়নি। কিন্তু আজ জানতে পারলাম, বুড়ো
অসাধারণ বুদ্ধি ধরে। জুজাককে সে বলেছে, গত রাত্রে নোনাপুর গাঁয়ের কেউই নাকি রামকথা
শুনতে যায়নি। তার মানে, এই গাঁয়ের ছোকরারাই যে আস্থানে ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত – সে
ইঙ্গিতও বুড়ো দিয়ে গেছে”।
“কী বলছিস? বুড়ো তো তার
মানে সবটাই বুঝে গেছে”।
“হুঁ। সবটাই। আমার সঙ্গে
রতিকান্তর রাজধানীতে ঘটা সেই ঘটনার দিন থেকে মাত্র তিনরাত-তিনদিনে, কীভাবে আমি
নোনাপুর পৌঁছলাম, বুড়োর মনে সেটাও সন্দেহ জাগিয়েছে। কোন সুস্থ সবল মানুষের পক্ষেও ওই
সময়ে এতটা পথ পায়ে হেঁটে আসা সম্ভব নয়। অতএব, আমি অধিকাংশ পথই যে ঘোড়ায় চড়ে বা
রণপায়ে এসেছি...সেটা এই বুড়ো অনুমান করে নিয়েছে। নির্বাসনে যেতে সুবিধে হবে বলে,
কোন প্রশাসন একজন অপরাধীকে ঘোড়া দিয়ে সাহায্য করে বল তো?”
“অর্থাৎ, তুই হয় অত্যন্ত
ক্ষমতাশালী কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছিস। অথবা
তোকে রাষ্ট্রই পাঠিয়েছে অত্যন্ত গোপন কোন উদ্দেশে”।
“ঠিক তাই। বুড়োর মনে হচ্ছে দ্বিতীয়টা”।
“সর্বনাশ, এসব কথা
পাঁচকান হলে, আমরা সকলেই ফেঁসে যাবো রে...।
তা, তুই এখন কী করতে চাইছিস?”
ভল্লা ম্লান হেসে বলল, “আগেই
বললাম না, যে কাজটা করতে আমি চাইছি না - সেটাই খুব তাড়াতাড়ি করাতে হবে। কবিরাজবুড়োকে
সরাতে হবে”। ভল্লা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “নিজের গ্রাম, প্রতিবেশী গ্রামের
মানুষজন এমনকি এই রাজ্যের সকলের ভালোর জন্যে সারাজীবন চিন্তা করে গেছে যে বুড়ো।
অত্যন্ত বিদ্বান, বুদ্ধিমান কিন্তু বড্ডো সরল এবং একরোখা সেই বুড়োটা মরবার সময়েও বুঝতে পারবে না, ঠিক কী অপরাধে ওর মৃত্যু হল…”। ভল্লা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে চুপ করে রইল অনেকক্ষণ।
মারুলা ভল্লার কাঁধে হাত
রেখে বলল, “ও ব্যাপারটা আমার ওপর ছেড়ে দে ভল্লা। বুড়োর আয়ু ফুরিয়ে গিয়েছে, হয়তো
আগামী দিনটাই তার শেষ...”।
নিজের কাঁধে রাখা মারুলার
হাতটা ধরে ভল্লা বলল, “দেখিস আমার নাম যেন কোনমতেই সামনে না আসে”
“নিশ্চিন্ত থাক, ভল্লা।
তোর নাম সামনে আসবে কেন?”
“প্রশাসনের হাতে বুড়োর মৃত্যু
হলে - আমার কাজটা অবশ্য এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে যাবে”।
মারুলা ভল্লার কাঁধে
চাপড় মেরে বলল, “তোর মতো তিলে খচ্চর আমি আর দুটি দেখিনি ভল্লা। একদিকে তুই বলছিস,
বুড়োকে তুই বেজায় শ্রদ্ধা করিস। অন্যদিকে তুই তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে দিলি। আবার
আমাদের হাতে বুড়ো মরলে, গাঁয়ের ছেলেদের মনে যে ক্রোধ জমবে – সেটাকে ভাঙিয়ে তুই
বিদ্রোহের আগুনটা আরও উস্কে নিবি। এই না হলে, তুই শালা ভল্লা?”।
ভল্লা কিছুটা আবেগপ্রবণ
হয়ে উঠে বলল, “হ্যাঁ, রাজনীতি ব্যাপারটা আদতে খচ্চরদেরই সৃষ্টি। ভালো আর মন্দ, ঔদার্য
আর তঞ্চকতা, সহমর্মীতা আর নিষ্ঠুরতাকে মনের মধ্যে পাশাপাশি বসিয়ে রাজনীতির চর্চা
করতে হয়। তাঁর বিচক্ষণতার জন্যে রাষ্ট্রের অভিনব এই পরিকল্পনাটাই হয়তো ভেস্তে
যাবে। অতএব মরতে তাঁকে হবেই। কবিরাজবুড়োর জন্যে আমি বাইরে শুধু লোক-দেখানে কাঁদব -
তা নয়, মনে মনে সত্যিই কষ্ট পাবো। তবে মনে মনে একথা চিন্তা করেও সান্ত্বনা পাব যে,
উনি নিজের জীবন দিয়ে আমার কাজটাকেই অনেক সহজ করে দিয়ে গেলেন। জীবনে বহুবার দেখেছি,
প্রত্যেক অশুভ কাজের মধ্যেও মঙ্গল লুকিয়ে থাকে, বুঝেছিস মারুলা?” কিছুক্ষণ
চুপ করে বসে থেকে, ভল্লা নিজের আবেগটা সামলে নিল, দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “যাগ্গে এবার ওদিকের সংবাদ বল? শষ্পকের নির্দেশ কী?”
মারুলা বলল, “আস্থানের ডাকাতির
সংবাদ শষ্পক রাজধানীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অনেক তেলমশলা মাখিয়ে বাড়িয়ে-চাড়িয়ে। কিন্তু
ডাকাতির কারণে উনি এখনই কোন গ্রামের ওপরে কোন পদক্ষেপ করতে চাইছেন না। বলছেন যে
তাতে তোর নতুন চেলারা ভয় পেয়ে সিঁটিয়ে যাবে”।
ভল্লা মাথা নাড়ল, “না,
না আমার মনে হয় এটা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। আস্থানের রক্ষীদল গ্রামে এসে আমাকে পাগলের
মতো খুঁজুক। সরাসরি ছেলেদের নয় – বয়স্কমানুষগুলোকে ভয় দেখাক, অপমান করুক। এক কথায় বেশ
গভীর একটা সন্ত্রাসের আবহ পাকিয়ে তুলুক। বাবা-জ্যাঠার অপমান হলে গ্রামের ছেলেগুলো আরও তেতে উঠবে। শুধু এই গ্রামেই নয়, আশেপাশের গ্রামগুলোতেও। এর মধ্যেই তো কবিরাজের
মৃত্যুটা হতে হবে। কীভাবে সেটা
তোরাই ঠিক করে নিস। আর গ্রামপ্রধান জুজাকেরও যেন ভালোরকম
অপমান হয়। তবে না খেলা জমবে”।
মারুলা অবাক হয়ে ভল্লার
কথা শুনছিল, ভল্লার কথা শেষ হলে বলল, “ঠিক আছে তাই বলবো। আর একটা কথা, শষ্পক
বলেছেন চৈত্র মাসের পূর্ণিমাতে তিনি এদিকের আস্থান তুলে উত্তরের দিকে রওনা হবেন।
তোর কথা মতো জায়গাতেই অস্থায়ী শিবির ফেলে পক্ষকাল বিশ্রাম নেবেন”।
“চৈত্রের পূর্ণিমা?
গতকাল মাঘের পূর্ণিমা গেল। তার মানে মোটামুটি মাস দেড়েক। ঠিক আছে, কতদূর কী করা যায়, দেখি! আজ
বিকেলেই পাশের রাজ্যের কিছু ছোকরা এসেছিল। তারাও তাদের রাজার বিরুদ্ধে লড়তে চায় এবং প্রচুর অস্ত্র-শস্ত্র কিনতে চায়। শষ্পককে জিজ্ঞাসা
করিস, কোন অস্ত্রের কত মূল্য ধরা হবে, সেটা যেন তিনি নির্দেশ করে
দেন। অথবা যে বণিক এই অস্ত্র-শস্ত্র বিপণনের দায়িত্ব নিয়েছে সে যদি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়, তাহলে বাকিটা আমি বুঝে নেব”।
“আমার মনে হয় প্রতিবেশী রাজ্যের বিদ্রোহীদের অস্ত্র-শস্ত্র বিক্রির নির্দেশ রাজধানী কখনোই দেবে না। প্রতিবেশী
রাজ্যের সঙ্গে আমাদের হৃদ্যতার সম্পর্ক। তারা যদি জেনে যায়, তাদের রাজ্যের বিদ্রোহীদের
আমরা অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছি, তাতে দু রাজ্যের সম্পর্ক নষ্ট হবে। নষ্ট হবে
বাণিজ্যিক সম্পর্কও”।
ভল্লা একটু বিরক্ত হয়েই
বলল, “না বুঝেই পোঁদপাকামি করিস
না তো, মারুলা। আমাদের প্রশাসন ওদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র তুলে দিচ্ছে নাকি?
দিচ্ছি তো আমি! আমি কে? আমি এ রাজ্যের একজন
বিদ্রোহী রাজরক্ষী। আমার অপরাধের জন্যে রাষ্ট্র
আমাকে অনেক দিন আগেই নির্বাসন দণ্ড দিয়েছে। আমি রয়েছি আমার রাজ্য-সীমানার বাইরে। আমি যদি কাউকে
অস্ত্র-শস্ত্র বিক্রি করি – রাষ্ট্রের দায় কোথায়?”
“তা হয়তো ঠিক। কিন্তু তুই
অস্ত্র পাচ্ছিস কোথা থেকে? তোর তো আর নিজস্ব অস্ত্রের কারখানা নেই”!
মারুলার সরলতায় ভল্লা এবার হেসে ফেলল, বলল, “আমাদের রাষ্ট্রীয় অস্ত্রাগার থেকে পুরোন
অস্ত্র-শস্ত্র বাতিল করে, বিশেষ কয়েকজন বণিককে বিক্রি করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই বণিক
সেই অস্ত্র কিনে কী করবে - মাটির তলায় পুঁতে দেবে। নাকি নদীর জলে ভাসিয়ে দেবে। নাকি
খেলনার মতো ভিন্ন রাজ্যের ছোকরাদের হাতে বেচে দেবে – সে তো বণিকদের মাথাব্যথা। তাতে
রাষ্ট্রের কী করার আছে? আমি, জনৈক নির্বাসিত অপরাধী হলাম, একজন মাধ্যম
– যার কাজ ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেওয়া। সম্পূর্ণ ব্যাপারটার মধ্যে আমাদের রাষ্ট্রের ভূমিকা কোথায়?”
মারুলা তাও ইতস্ততঃ করে বলল, “কী জানি আমার তাও মাথায় ঢুকছে না, ব্যাপারটা এতই সহজ? রাষ্ট্র
এত সহজে দায় এড়াতে পারবে? আমাদের
মন্ত্রী আর প্রশাসনিক কর্তারাই শুধু ধূর্ত – আর ও রাজ্যের প্রশাসন একেবারেই বোকাসোকা-ভোঁদাই
এমন তো হতে পারে না।”
“ছাড় না। আদার ব্যাপারী হয়ে
জাহাজের খোঁজে আমাদের কী প্রয়োজন? রাষ্ট্র কী করবে সেটা রাষ্ট্রকেই বুঝতে দে। আমাদের
দায়িত্ব প্রশাসনের নির্দেশ মতো কাজ করা। ব্যস্। রাত্রি শেষ হতে আর হয়তো দণ্ড তিনেক
বাকি আছে। তুই কেটে পড়। আমার সঙ্গে তোকে কেউ দেখে ফেললে, ভবিষ্যতে অসুবিধেয় পড়তে হবে।
শষ্পককে সব কথা জানাবি। বলবি, তাঁর পরবর্তী
নির্দেশের অপেক্ষায় আমি রইলাম”।
মারুলা গাছে থেকে নেমে আসার
উদ্যোগ করতেই, ভল্লা বলল, “মারুলা, কবিরাজকে মেরে না ফেলে, আমাদের উচিৎ তাঁকে
একটা সুযোগ দেওয়া, তাই না রে?”
মারুলা কিছু বলল না,
ভল্লার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল চুপ করে। ভল্লা বলল, “না মানে বলছিলাম, বুড়োকে
কিছুটা মারধোর করে, আস্থানের বন্দীশালায়
যদি ফেলে রাখা হয়। বিনা বিচারে। এখানে
বিচার করবেই বা কে? বিচার তো হবে সেই রাজধানীতে। অতএব বিনা বিচারে দীর্ঘ দিন
বন্দী। বুড়ো জব্দ হবে, কিন্তু প্রাণে তো
বেঁচে থাকবে। কী বলিস?”
মারুলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভল্লাকে
বলল, “ঠিক আছে, তাহলে শষ্পককে গিয়ে আমি তাই বলি?”
“কাজের সূত্রে আমি বহু মানুষের
প্রাণ নিয়েছি, মারুলা। তারা কোনদিন আমার মনে দাগ কাটেনি। কিন্তু আমাদের হাতে ইনি মারা গেলে, আমার
হাত থেকে ওঁর রক্তের দাগ কোনদিন মুছে উঠতে পারব না। হ্যাঁ শষ্পককে গিয়ে তাই বল, আপাততঃ বিনা বিচারে
দীর্ঘ কারাবাসই হোক ওঁনার ভবিষ্যৎ”।
গাছ থেকে নেমে মারুলা রওনা
হল আস্থানের দিকে। মারুলা নেমে যাওয়ার অনেকক্ষণ পর ভল্লা রণপা জোড়া কাঁধে নিয়ে মাটিতে নামল। ধীরেসুস্থে
হাঁটতে লাগল তার বাসার দিকে। সে এখন গভীর চিন্তায় মগ্ন। ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের
দ্বিধাদ্বন্দ্বে তার মন এখন বিক্ষিপ্ত।
নির্দিষ্ট ঝোপের আড়ালে দুজোড়া রণপা আগে লুকিয়ে রেখে, নিজের বাসার সামনে এসে চমকে উঠল ভল্লা। রামালি! রামালি শুয়ে আছে, তার ঘরের সামনে মাটিতে। অঘোরে ঘুমোচ্ছে ছেলেটা।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন