এর আগের রম্যকথা - " ভাগ্যের পাথর - পর্ব ২ "
শাশুড়িমায়ের জিম্মায় ফুটকিকে রেখে বিজলি আজই স্কুলে জয়েন করলেন। মাসখানেকের একটু বেশি হল তিনি মা হয়েছেন – কন্যাসন্তান। তিনি ও মেয়ের বাবা বিজন আপাততঃ মেয়েকে ফুটকি বলে ডাকছেন। আর শ্বাশুড়িমা ডাকেন “জলি”। জলি নামটা খারাপ নয়, তাঁর মেয়ে খুবই হাসিখুশি – কান্নাকাটি নেই বললেই চলে – হাত-পা ছুঁড়ে যখন হাসে বিজলির মাতৃহৃদয় টইটুম্বুর ভরে ওঠে। শ্বশুরমশাই তাঁর ও বিজনের নামের আদ্যক্ষর দুটি নিয়ে “বিবি” ডাকেন।
কিন্তু এগুলি সবই অস্থায়ী – মেয়ের জন্যে বেশ ভালো
দেখে দুটো নাম ঠিক করতে হবে। তাড়াতাড়ি। তা নাহলে এই নামগুলিই আত্মীয়স্বজন,
বন্ধুবান্ধবের মুখে মুখে বসে যাবে। তখন ভাল নাম যাই রাখা হোক, এই নামগুলিই তাদের
মনে গেঁথে রইবে। বিজনের অফিসের একজন লেখক কলিগ আছেন। ভদ্রলোক ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু
লেখেন। অবিশ্যি বইমেলায় ফিবছর বই ছাপা হলেই যে কেউ লেখক হয়ে যায় – এটা বিজলি
বিশ্বাস করেন না। যদিও প্রতিবার বইমেলা গিয়ে ভদ্রলোকের বই তাঁদের কিনতে হয়, ঘরে
এনে সাজিয়ে রাখতেও হয়। কিন্তু তিনি বা বিজন কেউই এতবছর ধরে ভদ্রলোকের একটা বইও পড়ে
উঠতে পারেননি। সময় কোথায়? তাছাড়াও আছে ধৈর্যের অভাব। অবিশ্যি শ্বশুর-শাশুড়ি
ভদ্রলোকের সব বই পড়েছেন, ওঁনাদের নাকি ভালোই লেগেছে পড়ে। বইমেলা কাছাকাছি এলেই শাশুড়িমা
বিজনকে মনে করিয়ে দেন, হ্যারে তোদের নবীনবাবুর কোন নতুন বই এবার বেরোচ্ছে না?
সেই নবীনবাবুই বিজনের অনুরোধে, বারোটি নামের লিস্ট
পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে জুড়েছে, তাঁর নিজের, বিজনের, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ পূজালি এবং
দেওর সুজনের প্রস্তাবিত নামসমূহ। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত আটত্রিশটা নাম জড়ো হয়েছে।
সুজন বিজলিকে বৌদি বলে না, বলে দিদিমণি। সে বলে, বৌদি ডেকে কানমলা খাওয়ার থেকে,
দিদিমণি ডেকে কানমলা খাওয়া ঢের ভালো। তাতে নিজেকে এখনো স্কুল-বয় টাইপ মনে হয়।
বিজনরা তিন ভাইবোন। বোন পূজালি, তার বিয়ে হয়ে
গেছে। সুজন সবার ছোট, কলেজে পড়ে। খুব পাকা আর ফক্কোর, বিজলির হাতে সত্যিসত্যিই
কানমলা খায় প্রায়ই। এই তো গতকাল রাত্রে খেতে বসে ফুটকির নাম নিয়ে যখন কথা উঠল,
সুজন ফক্কুরি করে বলল, আটত্রিশটা হয়ে গেছে, দাদা, আর মাত্র সত্তরটা হলেই...ব্যস্।
বিজলি প্রথমে বুঝতে পারেনি, জিজ্ঞেস করেছিল, কী হবে, আরও সত্তরটা হলে? বিজন গম্ভীর
মুখে বলেছিল অষ্টোত্তরশত নাম। এ কথায় বিজলির গা জ্বালা করবে না? তিনি কষে কান-মলে
দিয়েছিলেন সুজনের।
স্কুলে ঢুকেই বিজলি হেডমিস্ট্রেস কনকদির ঘরে
গেলেন। বিজলিকে দেখেই কনকদি উঠে দাঁড়িয়ে দু’হাত বাড়িয়ে বিজলিকে জড়িয়ে ধরলেন, বললেন,
“সুকন্যা ভালো আছে তো রে? সাবধানে রাখবি, ঠাণ্ডা-ফাণ্ডা না লেগে যায়। অবিশ্যি তোর
শাশুড়ি-মা আগেকার দিনের মানুষ, নাতনিকে উনি বুকে করে আগলে রাখবেন”। কনকদির আলিঙ্গন
মুক্ত হয়ে বিজলি উল্টোদিকের চেয়ারে বসলেন। কনকদিও চেয়ারে বসে, বেল টিপে বললেন,
“তুই চা খাবি তো? মা হয়ে তোর কেমন লাগছে, চা খেতে খেতে শুনব”।
বেল শুনে মল্লিকা দরজায় এল, কনকদি বললেন, “আমাদের দুজনকে দুটো ফার্স্টক্লাস চা খাওয়াবি,
মল্লিকা?”
মল্লিকা হাসিমুখে বলল, “এক্ষুণি আনছি, বড়দি। ওঃ
বিজলিদি, আজ জয়েন করলে? আহা, কি মিষ্টি মেয়ে গো তোমার। শুধুই হাসে! আমি তো নাম দিয়েছি
“হাসি”। আজ মিষ্টি খাওয়াবে না? না খাওয়ালে, ছাড়ব না কিন্তু।”
বিজলি লাজুক হেসে বললেন, “নিশ্চয়ই খাওয়াবো”।
মল্লিকা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে কনকদি বললেন, “এবার
তুই কেমন আছিস বল। এসময় তোকেও খুব সাবধানে থাকতে হবে”। বিজলি বললেন, “ভালই আছি।
তবে ওই একটু দুর্বল লাগে। তাছাড়া অনেকদিন শুয়ে-বসে কাটালাম তো, একটু...”। কনকদি
গম্ভীর হয়ে বললেন, “হুঁ। মেয়ে পড়ানো নেই। উইকলি টেস্ট নেই, খাতা দেখার চাপ নেই...আমার
বকাঝকা নেই, একটু খালিখালি তো লাগবেই”। বিজলি হেসে ফেলে বললেন, “সত্যিই তাই, বিশেষ
করে আপনার ওই বকুনি...”।
“থাক থাক বুঝে গেছি। সিনিয়র হিসেবে কিছু উপদেশ দিই।
বাইরের খাওয়া এড়িয়ে, ঘরেই ভালোমন্দ পুষ্টিকর খাবার খাবি। আর নিজেও হাসিখুশি থাকবি,
মেয়ের সামনে রাগারাগি, ঝগড়াঝাঁটি করবি না। জেনে রাখিস, নাড়ির যোগ ছিন্ন করেই,
সন্তানগর্বের আহ্লাদে অনেক আনাড়ি মা, যা খুশি শুরু করে দেয়। তারা বোঝে না, শিশু
ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেও বহুকাল মায়ের ওপর নির্ভর করে থাকে। মাকেই অনুসরণ করে। সেটাই
প্রকৃতির নিয়ম। আমাদের শাস্ত্রে মেয়েদের “প্রকৃতি” বলে, জানিস নিশ্চয়ই। শ্যামা
কখনও পুরুষ, কখনও প্রকৃতি...শুনেছিস গানটা? মা আমাদের হৃদয়ে আলো দেন, সব মেয়েরাই,
সব মায়েরাই অলোকসামান্যা আলোকিনী!”
মল্লিকা চা নিয়ে ঘরে আসাতে কনকদির আবেগঘন উপদেশে
ছেদ পড়ল। কনকদির কথায় বিজলি বেশ বোর হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু মেয়ের জন্যে কয়েকটি
সম্ভাব্য নাম পেয়ে যাওয়ায় বেশ উত্তেজিতও হচ্ছিল। হাতে চায়ের কাপ নিয়ে কনকদি নিজের
আবেগ কিছুটা সামলে নিয়ে বললেন, “নে চা খা। তোর ক্লাস কখন থেকে?”
বিজলি বললেন, “সেকেণ্ড পিরিয়ড থেকে। আজ মোট তিনটে
ক্লাস আছে – সিক্স, সেভেন আর এইটের”।
“প্রথম দিনেই বেশি চাপ নিস না। দুটো ক্লাস নে, এইটেরটা
স্নিগ্ধা সামলে নেবে। কিন্তু কী ব্যাপার বল তো, তোকে কিছুটা আনমনা দেখছি যেন? কী
হয়েছে? কোন প্রবলেম?”
“না, না, কোন প্রবলেম নেই”।
“তাহলে? কিছু একটা ভাবছিস মনে হচ্ছে?”
বিজলি একটু ইতস্ততঃ করে বললেন, “না, তেমন কিছু
নয়...মেয়ের কী নাম রাখা যায় সেটাই সারাক্ষণ ভাবছি...”।
কনকদি উচ্চস্বরে হেসে ফেললেন, তারপর বললেন, “এই
সময়ে এর থেকে বড়ো সমস্যা আর কিছু হয় না রে। আমার দুই ছেলেমেয়ের নাম নিয়ে, ওদের
বাবা আর আমি কত বিনিদ্র রজনী যে কাটিয়েছি, তার হিসেব নেই। আমার নামটাই ধর না। আমার
ঠাকুমা জেদ ধরেছিলেন, আমার নাম চাঁপা রাখতে হবে। তার উত্তরে দাদু নাকি বলেছিলেন, ছ্যাঃ,
চাঁপা? হাটে গিয়ে ‘চাঁপারাণি’ হাঁক পাড়লে, শতখানেক মেয়ে এসে সামনে দাঁড়াবে। শেষমেষ
আমার কনকচাঁপা নাম সাব্যস্ত করে, দাদু গৃহযুদ্ধ আটকেছিলেন”।
আরও কিছুক্ষণ কনকদির সঙ্গে কথাবার্তা বলে বিজলি
গেলেন টিচার্স রুমে। টিচার্স রুম ফাঁকা সকলেই ক্লাস নিতে বেরিয়ে গিয়েছে। বিজলি মল্লিকাকে
ডেকে টাকা দিয়ে বললেন, সক্কলের জন্যে মিষ্টি আনবি, কেউ যেন বাদ না পড়ে। গেটের
সুখরামজি, চারজন আয়া, সুষমা, মুকুল, তুই - কেউ যেন ছুটে না যায়। আর একরকমের মিষ্টি
আনবি না, রসগোল্লা আর সন্দেশ। যা দিয়েছি হয়ে যাবে তো?” মল্লিকা বলল, “যথেষ্ট। হয়ে
বেশি হবে - তোমার মিষ্টি মেয়ে আরও মিষ্টি হয়ে উঠুক দিদি”।
বিজলি বললেন, “ঠিক আছে তুই এখন যা। মিনিট দশ পরেই
ঘন্টা পড়বে, আমার ক্লাস আছে। টিফিনের সময় মিষ্টিগুলো সবাইকে ভাগ করে দিবি, কেমন?”
মল্লিকা চলে যেতে ব্যাগ থেকে পেন আর ফুটকির নামের লিস্টিওয়ালা কাগজটা বের করে, বিজলি
কয়েকটা নতুন নাম লিখল। সুকন্যা, প্রকৃতি, আলোকিনী, হাসি, মিষ্টি। লেখার পর পুরো
তেতাল্লিশটা নামের ওপরে চোখ বুলিয়ে নিল একবার। বিজলির চোখ অনেকক্ষণ আটকে রইল, শেষ
পাঁচটা নামে। ফার্স্ট পিরিয়ড শেষের ঘন্টা পড়ল। আজই সন্ধেবেলা বিজন আর সুজন ঘরে
ফিরলে সবার সঙ্গে বসে, ফাইন্যাল করে ফেলতে হবে। আর দেরি করা যাবে না।
রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বিজলিরা সকলে মিলে বসলেন তাঁদের
শোবার ঘরে। শাশুড়ি আর বিজলি বসলেন বিছানায়। বাকি তিনজন সামনের চেয়ারে। ও আরেকজন –
যার জন্যে এই আয়োজন – সেও রয়েছে। ফুটকি। খাটের
ওপরেই গোলাপি বেবি-মশারির মধ্যে হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমোচ্ছে। মুগ্ধ চোখে মেয়ের মুখের
দিকে একবার তাকিয়ে, বিজলি মনে মনে আদর করলেন কন্যাকে – আমার হাসি ছোনাটা, মিষ্টি
ছোনাটা...।
বিজন মেয়ের তেতাল্লিশটা নামের লিস্ট প্রথম থেকে
শেষ অব্দি সবাইকে পড়ে শোনালেন। তারপর বললেন, “এর মধ্যে আমার পছন্দের নাম দুটি হল,
নবীনবাবুর দেওয়া ছন্দা আর কনকদির আলোকিনী”।
বিজলি বললেন, “ছন্দার জায়গায় হাসি হলে খারাপ হয়?
কিংবা মিষ্টি?”
সুজন বলল, “আমার মনে হয় হাসি নামটাই বেটার। কারণ আমার
ভ্রাতুষ্পুত্রীটি এমনিতেই দারুণ মিষ্টি। তারওপর সারাদিন মিষ্টি-মিষ্টি ডাক শুনলে আমাদের
সকলেরই সুগার ধরে যাবে...”।
বিজলি সুজনের দিকে একবার চোখ পাকিয়ে তাকালেন,
তারপর সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, “হাসি, ছন্দা না মিষ্টি?” সকলেই একসঙ্গে হাসিতেই সায়
দিলেন। বিজন বললেন, “গুড। সকলের সম্মতিতে “হাসি” নামটা ডাক নাম হিসেবে ফাইন্যাল
হল। তাহলে ভালো নামটা হোক আলোকিনী”?
বিজলি বললেন, “কেন? প্রকৃতি নামটা খারাপ? কিংবা
সুকন্যা?”
সুজন বলল, “তুমি খেপেছ দিদিমণি। তুমি জানো, বাংলা
ভাষা থেকে আজকাল র-ফলা, ঋ-ফলা সব উধাও হয়ে যাচ্ছে? প্রবলেম হয়ে যাচ্ছে পব্লেম। প্রশাসন
হয়ে উঠেছে পোশাসন। তেমনি প্রকৃতি হয়ে যাবে পোকিতি। ও যদি বড়ো
হয়ে প্রকৃতিপ্রেমিক হয়, লোকে বলবে “পোকিতি পোকিত পোকিতিপেমিক”। অসম্ভব। তার থেকে আলোকিনী অনেক সুন্দর, আন্কমন্”।
কেউ কিছু বললেন না। সকলেই সুজনের কথাগুলো মনে মনে
ভাবছিলেন। সেই সময় সুজন আবার বলল, “তুমি হয়তো রেগে গিয়ে আমার কানমলে দেবে, কিন্তু
তাও আমি বলব। বড়ো হয়ে হাসি যখন জানবে প্রকৃতির ডাকের ইংরিজি ‘নেচার’স
কল’, তখন ও কাউকে ডাকবে? নাকি ওর বন্ধুরা কেউ ওর ডাকে সাড়া দেবে? মানছি প্রকৃতি
শব্দটা ভারতীয় সংস্কৃতিতে অত্যন্ত প্রাচীন এবং মিনিংফুল। আমাদের সনাতন দর্শন মতে প্রকৃতি
সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের মুখ্য কারণ। কিন্তু লালমুখো ব্রিটিশদের জন্যে ওই শব্দটা তুমি
নাম হিসেবে ব্যবহার করতেই পারবে না। আমাদের ময়ূর-সিংহাসন বা কোহিনুর ওরা যেরকম ঝেড়ে
দিয়েছে, তেমনি শেষ করে দিয়েছে প্রকৃতি শব্দটার মাহাত্ম্য”।
সুজনের কথার উত্তরে কেউ কোন কথা বললেন না। কিছুক্ষণ পরে বিজলি
বললেন, “ঠিক আছে প্রকৃতি চলবে না। কিন্তু সুকন্যা নামটা কেমন?”
বিজন বললেন, “বেশ ভালই তো”।
সুজন আবার বলল, “দাদা, তুই সব ভুলে গেছিস। বাবাকে জিজ্ঞেস কর, বাবা জানে। বাবাদের সময়ে শাম্মি কাপুরের বিখ্যাত গান ছিল
সুকু-সুকু। তাই না, বাবা? মনে পড়ছে?”
সুজনের বাবা একটু অস্বস্তি অনুভব করলেও, ইতস্তত
করে বললেন, “মনে নেই আবার – আই আই আ করুঁ ম্যায় কেয়া, সুকুসুকু। সুকু ছিল এক
নর্তকীর নাম। সে গান যা হিট করেছিল! পাড়ায় পাড়ায় পুজো-প্যাণ্ডেলে চোঙা-মাইকে সারাদিন
ওই গান বাজত – কান মাথা ঝাঁঝাঁ করত আমাদের”।
বিজন বললেন, “তার সঙ্গে সুকন্যার কী সম্পর্ক?”
সুজন বলল, “স্কুল-কলেজে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সর্বদাই নাম
ছোট করে ডাকে। তোমাকে ডাকত বিজু। দিদিকে ডাকত পূজা। আমাকে ডাকে সুজি। সেরকম হাসিকে
ওর বন্ধুরা ডাকবে সুকু। তারপর, ওর ডেঁপো বয়ফ্রেণ্ডরা ওই গান গেয়ে নেচে নেচে পেছনে
লাগবে...ইস্, মেয়েটা যে তখন আমাদেরই দুষবে, দাদা”।
সুজনের কথায় সকলেই গম্ভীর হয়ে যাওয়াতে, বিজলি অসহায়ভাবে
জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে আমার মেয়ের ভালো নাম কী হবে?”
সুজন বলল, “কেন? আমাদের ঘর আলো করে এসেছে যে মেয়েটি।
আমাদের সক্কলের মনে যে এনে দিয়েছে খুশি এবং হাসির আলো, তার নাম আলোকিনী ছাড়া আর কী
হতে পারে? বন্ধুরা ওর নাম ছোট করে দেবে? দিক না, সে নামও হবে আলো। আমাদের রবিঠাকুর
আলো নিয়ে গান রচনা করতে কোনদিনই ক্লান্তি অনুভব করেননি। সেই স্নিগ্ধ আলো আমাদের
চোখের সামনেই ফুটে উঠুক না, দিদিমণি”।
বিজলির চোখ ছলছল করে উঠল আবেগে। বিছানা থেকে নেমে
সুজনের কাছে যেতেই, সুজন দুই হাতে কান ঢেকেছিল। কিন্তু না, সুজনকে জড়িয়ে ধরে, তার
মাথায় চুমো দিল বিজলি, অস্ফুট স্বরে বললেন, “সত্যিই তুই সুজন”।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন