বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ভাগবত পুরাণ - পর্ব ২ /৩

 এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১

এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "

এই সূত্র থেকে শুরু - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১




দ্বিতীয় স্কন্ধ - তৃতীয় পর্ব

শ্রী ব্রহ্মার পরমেশ্বরের মহিমা বর্ণন

 শ্রীসূত বললেন, “উত্তরানন্দন রাজা পরীক্ষিৎ, শ্রীশুকদেবের কথা শুনে “শ্রীকৃষ্ণই একমাত্র পথ” নিশ্চয় করলেন। এবং অবিচলিতভাবে প্রাণ ও মন সমর্পণ করে, নিজের দেহ, জায়া, পুত্র, কন্যা, গৃহ, অশ্ব, গজ, গাভি, ধনরত্ন, বন্ধু ও নিরুপদ্রব রাজ্যের সঞ্চিত বাসনা পরিত্যাগ করলেন। হে দ্বিজগণ, মৃত্যু আসন্ন জেনে, সকল বিষয় ও কর্ম ত্যাগ করে, রাজা পরীক্ষিৎ ভগবান বাসুদেবকে অত্যন্ত আপনার জন বলে অনুভব করলেন এবং সেই ভাবনায় জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ব্রহ্মন, আপনি সর্বজ্ঞ ও নির্মলচেতা। আপনার শ্রীমুখে শ্রীহরিকথা শুনে আমার মন থেকে অজ্ঞানের অন্ধকার দূর হয়ে গেল। এখন আপনাকে আরেকটি জানার বিষয় জিজ্ঞাসা করি, কৃপা করে উত্তর দিন। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি এই যে বিশ্ব, এই বিশ্ব লোকপালগণের তর্কের অতীত। পরম পুরুষ ভগবান যে আত্মমায়ায় এই বিশ্বর সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় করে থাকেন। যে যে শক্তিতে সর্বশক্তিমান প্রভু নিজেকে মহত্তত্ত্ব ও অহংকারতত্ত্বরূপে পরিণত করেন। ব্রহ্মা ও মরীচি প্রভৃতি প্রজাপতিদের সঙ্গে খেলার ছলে নিজেকে দেব, মনুষ্য, তির্যক ইত্যাদি রূপে সৃষ্টি করেন, সেই তত্ত্বটি শুনতে ইচ্ছা হয়। অদ্ভূত লীলাবিহারী ভগবানের এই সৃষ্টিলীলা শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিতেরাও জানেন না, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। এই বিষয়ে আমার মহা সংশয় আছে, আপনি বিচারে বেদজ্ঞ এবং অনুভবে পরব্রহ্মের তত্ত্বজ্ঞ, অতএব আপনি কৃপা করে আমার এই সন্দেহ দূর করুন”

[আমরা আশৈশব ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরকেই আমাদের ঈশ্বর বলে জেনে এসেছি। এও জেনেছি ব্রহ্মা হলেন জগৎস্রষ্টা, বিষ্ণু জগন্নিবাস এবং মহেশ্বর জগৎ বিনাশক। কিন্তু বিভিন্ন পুরাণে, বিশেষ করে ভাগবত ও শৈব পুরাণগুলিতে যথাক্রমে বিষ্ণু ও শিবকেই পরমেশ্বর বা পরমপুরুষ রূপে তুলে ধরা হয়েছে। এই ভাগবত পুরাণ যেহেতু বিষ্ণুর মহিমা বর্ণন - সেখানে ব্রহ্মা নিজেই বিষ্ণু বা শ্রীহরিকে পরমেশ্বর প্রমাণে ব্রতী হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, শ্রীহরিই ব্রহ্মারও সৃষ্টিকর্তা, এবং শ্রীহরিই ব্রহ্মাকে ঈশ্বরত্ব প্রদান করেছিলেন। বেশ মজার ব্যাপার না?]       

শ্রীশুকদেব মহারাজের এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে হৃষীকেশের স্মরণে স্তুতি করার পর বললেন, “শ্রীবাসুদেবের অবতার শাস্ত্রকর্তা আমার পিতা শ্রীব্যাসদেবের চরণ বন্দনা করি, কারণ আমার মতো ভক্তগণ তাঁর মুখপদ্মের জ্ঞানময় মধু পান করে পরম তৃপ্তি পেয়েছি। হে রাজন, শ্রীহরি স্বয়ং ব্রহ্মাকে এই বিষয়ে উপদেশ দিয়েছিলেন এবং দেবর্ষি নারদও এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে, বেদগর্ভ ব্রহ্মা তাঁকে এই বিষয়ের যথাযথ সিদ্ধান্ত কীর্তন করেছিলেন”

শ্রীনারদ ব্রহ্মাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে দেবদেব, আপনাকে নমস্কার। আপনি ভূত সকলের স্রষ্টা, এই কারণে আপনি অনাদি। যে সাধনে আত্মতত্ত্বের সম্যক উপলব্ধি হয়, আমাকে সেই উপদেশ দিন। হে প্রভু, যিনি এই বিশ্বকে প্রকাশ করেছেন, যাঁকে আশ্রয় করে এই বিশ্ব অবস্থান করছে, যাঁর থেকে এই বিশ্বের আবির্ভাব, এই বিশ্ব যাঁর মধ্যে লয় পাবে; এই বিশ্ব যাঁর অধীন এবং এই বিশ্বের যিনি প্রকৃত স্বরূপ, এই সমস্ত তত্ত্ব বর্ণনা করুন। আপনি এই বিশ্বের কারণ, অতএব এই বিশ্বের ভূত, ভবিষ্যত ও বর্তমান সবই আপনি জানেন। হাতের মুঠিতে থাকা আমলকির মতো, এই বিশ্ব আপনার কাছে অত্যন্ত পরিচিত

হে পিতা, বিশ্বের তত্ত্ব বলার আগে আপনি নিজের তত্ত্ব প্রথমে বর্ণনা করুন। আপনার জ্ঞানদাতা কে? আপনি কার আশ্রয়ে, কার অধীনে অবস্থান করছেন এবং আপনার স্বরূপই বা কী? আমার মনে হয় আপনিই জগতের স্বতন্ত্র পরমেশ্বর। একা আপনিই মায়ার প্রভাবে ভূতপদার্থ দিয়ে ভূতবিষয়সমূহ সৃষ্টি করে, নিজের মধ্যেই পালন করছেন। মাকড়সা যেমন অনায়াসে নিজের দেহ থেকে তন্তুজাল বিস্তার করে, তেমনি আপনিও নিজের মায়াশক্তির প্রভাবে, নিজের দেহ থেকেই এই ব্রহ্মাণ্ডকে অবলীলাক্রমে প্রকাশ করে চলেছেন। কিন্তু একটি বিষয়ে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আপনি এত শক্তিসম্পন্ন হয়েও কার উদ্দেশে ঘোর তপস্যা করছিলেন? হে সর্বজ্ঞ ও সর্বেশ্বর, এই সমস্ত প্রশ্নের যথার্থ সিদ্ধান্ত যাতে আমার সম্যক উপলব্ধি হয়, আপনি আমাকে সেই ভাবে উপদেশ করুন”

পিতামহ ব্রহ্মা বললেন, “হে বৎস, সন্দেহ করে যে প্রশ্ন তুমি করলে, সে প্রশ্ন সমীচীন। শ্রীভগবানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করার জন্যে তুমি আমাকে প্রবৃত্ত করছো, এই কারণে পুত্র হয়েও আমাকে তুমি দয়াই করলে। তুমি যে আমার ঈশ্বরত্বের প্রশংসা করলে, এই কথা সম্পূর্ণ অসত্য নয়। কারণ, আমার মধ্যে ঈশ্বরত্ব আছে, কিন্তু যে পরমেশ্বরের থেকে আমার এই ঈশ্বরত্ব, তাঁর সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না। তাঁর বিষয়ে তোমাকে বলছি, মন দিয়ে শোন।

সকল জীবের মধ্যে একজন প্রকাশক বিষয় আছেন, তাঁকে চৈতন্য বলে; জ্ঞান তাঁর শক্তি। শ্রীভগবান তাঁর চৈতন্যস্বরূপে প্রথমতঃ যাবতীয় বস্তু প্রকাশ করার পর, চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি, গ্রহ, নক্ষত্র ও তারকাসমূহের প্রকাশ হয়। একই ভাবে তিনি নিখিল বিশ্বকে প্রকাশ করলে, আমি সৃষ্টি দিয়ে তাকে ব্যক্ত করি। অতএব আমি স্বতন্ত্র প্রকাশক নই। যাঁর দুর্জয় মায়ায় মুগ্ধ হয়ে তোমরা আমাকে জগৎকর্তা বলে কীর্তন কর, আমি কিন্তু সেই ভগবান বাসুদেবের ধ্যান ও বন্দনা করি। হে পুত্র, ক্ষিতি, জল প্রভৃতি মহাভূত সকল বিশ্বের উপাদান। কর্ম জীবের বারবার জন্মের কারণ। কালশক্তি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিনগুণের তারতম্যের কারক, এই স্বভাবগুণের পার্থক্যের কারণে জীবের সুখ ও দুঃখের ভোগ হয়ে থাকে। বেদসমূহ শ্রীনারায়ণ থেকেই আবির্ভূত হয়েছে। দেবতাগণ শ্রীনারায়ণের অঙ্গ থেকে সৃষ্টি হয়েছেন। স্বর্গলোক ইত্যাদি তাঁর আনন্দের অংশ এবং যজ্ঞসকল তাঁকে লাভ করার সাধনা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রাণায়াম, যোগ, তপস্যা, একাগ্রচিত্তে প্রকাশিত জ্ঞান এবং জ্ঞানের ফলস্বরূপ মোক্ষ, সব কিছুই শ্রীনারায়ণের অধীন।

তিনি প্রথমতঃ আমাকে সৃষ্টি করেছিলেন। তারপর তাঁর সৃষ্ট বস্তুই, আমি তাঁর আজ্ঞায় প্রকাশ করে থাকি। এই সৃষ্টিও আমি স্বেচ্ছায় বা নিজের প্রভাবে সম্পন্ন করতে সমর্থ নই। তিনি সাক্ষী, নিয়ন্তা ও অন্তর্যামী হয়ে কূটস্থ থাকেন, অর্থাৎ বড়ো ছোট সকল প্রাণীর বুদ্ধিতে বিরাজ করেন বলেই, সৃষ্টির ক্রিয়া সম্ভব হয়। বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় করার জন্য, ভগবান মায়ার সাহায্যে সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিনগুণ গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু এই তিনগুণে তিনি নিজে কখনোই প্রভাবিত হন না, এই কারণে তাঁকে নির্গুণ বলা হয়। এই তিনগুণ থেকেই পৃথিবী ইত্যাদি ভূত, চক্ষু ইত্যাদি ইন্দ্রিয় এবং সূর্য ইত্যাদি ইন্দ্রিয়ের দেবতাসকল সৃষ্ট হয়েছেন। সুতরাং এই তিনটি গুণ মায়ামুগ্ধ জীবকে বন্ধন করে রাখে। তখন জীব, আমিই দেহ, আমিই ইন্দ্রিয়, আমিই দেবতা, কখনো বা আমিই আত্মা, এইরূপ কল্পনা করে এবং নিজেকে কর্তা চিন্তা করে, ভুল করে। এই তিনগুণ জীবকে মোহে আচ্ছন্ন করে রাখে বলে, জীব শ্রীভগবানকে উপলব্ধি করতে পারে না।

প্রলয়ের কালে নিখিল বিশ্ব শ্রীভগবানে লীন থাকে। তারপর যখন তাঁর বহু হবার ইচ্ছা হয়, তখন সৃষ্টির ক্রিয়া আরম্ভ করেন। তাঁর এই ইচ্ছার কেউ নিয়ামক নেই, অর্থাৎ কখন তাঁর ইচ্ছা হবে, এমন নির্দেশ কেউ দিতে পারে না। যখন তাঁর ইচ্ছার উদ্রেক হয়, কালশক্তির প্রয়োগে, তিনি সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ এই তিন গুণের সাম্য অবস্থায় থাকা প্রকৃতিকে সংক্ষুব্ধ অর্থাৎ চঞ্চল করে তোলেন। তার ফলে প্রকৃতিতে এই তিন গুণের সাম্য অবস্থা ভেঙে, কমবেশীর তারতম্য ঘটে যায়। প্রকৃতির মধ্যে এই বৈষম্য ঘটে গেলে, মায়ার অধীশ্বর শ্রীহরি প্রকৃতির স্বভাবশক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। তার ফলে প্রকৃতি মহত্তত্ত্ব, অহংকারতত্ত্ব প্রভৃতি জগতের যাবতীয় উপাদানে পরিণত হয়। প্রলয়ের পূর্বকল্পে যে সকল জীব তাঁর মধ্যে লীন হয়েছিল, তারা নিজেদের ভিন্ন ভিন্ন অদৃষ্ট নিয়েই লীন হয়েছিল। এই অদৃষ্টিকেই জীবের কর্মফল বলে। প্রকৃতি বিশ্বের উপাদানে পরিণত হওয়ার সময়, জীব নিজের নিজের অদৃষ্ট অনুসারেই, ভোগের উপযোগী হয়ে সৃষ্ট হয়। হে বৎস, এই সৃষ্টির মধ্যে রহস্য এই যে, সমস্ত শক্তিই ঈশ্বরের ইচ্ছায় উৎপন্ন হয় এবং  ঈশ্বর নিজেই বহুরূপে প্রকাশ হয়েছেন, এই বিষয় মায়ামাত্র।

আগে যে মহত্তত্ত্বের কথা বললাম, এতে সত্ত্বগুণ ও রজোগুণ বেশি পরিমাণে এবং তমোগুণ কম পরিমাণে থাকে। মহত্তত্ত্ব বিকৃত হয়ে আরেকটি তত্ত্ব উৎপন্ন হয়, তার নাম অহঙ্কারতত্ত্ব, এতে তমোগুণের পরিমাণ বেশি। এই তত্ত্বেই সকল ভূত, ইন্দ্রিয় ও দেবতা সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে। এই তত্ত্ব আবার বিকৃত হয়ে তিন গুণের প্রভাবে তিন রকম হয়ে ওঠে। সাত্ত্বিক অহঙ্কার থেকে দেবতা, রাজস অহঙ্কার থেকে ইন্দ্রিয় এবং তামস অহঙ্কার থেকে সকল ভূতের সৃষ্টি হয়।

প্রথমতঃ এই তামস অহঙ্কার থেকে সূক্ষ্ম শব্দ অনুভূত হয়, তারপর এই শব্দ থেকে সৃষ্টি হয় আকাশ। এই শব্দ আকাশের অসাধারণ ধর্ম। এই শব্দ থেকেই দ্রষ্টা ও দৃশ্য এই উভয় বস্তুর বোধ নিষ্পন্ন হয়। যদি চোখের আড়ালে কেউ “গজ” এই শব্দ বার বার উচ্চারণ করে, তাহলে ওই শব্দে গজদ্রষ্টা পুরুষ ও দৃশ্য গজ – উভয় পদার্থেরই বোধ তৈরি হয়। তারপর আকাশ স্পর্শরূপে বায়ু সৃষ্টি করে। স্পর্শ বায়ুর অসাধারণ ধর্ম। এই বায়ুতে জীব প্রাণধারণ করে এবং এই বায়ু থেকেই ইন্দ্রিয়, মন ও শরীরের দক্ষতা আসে। এইভাবে কাল ও স্বভাবের বশে বায়ু বিকৃত হয়ে রূপ সৃষ্টি করে। এই রূপই তেজের উৎপত্তির কারণ। তেজে নিজের অসাধারণ ধর্ম রূপ এবং শব্দ ও স্পর্শ এই দুই কারণ অনুভব করা যায়। এরপর তেজ থেকে রস জলরূপে পরিণত হয়। রস জলের অসাধারণ গুণ এবং জলে আগেকার কারণ সমূহ বর্তমান থাকায় শব্দ, রূপ ও স্পর্শ অনুভব করা যায়। জল থেকে গন্ধগুণ উৎপন্ন হয়ে পৃথ্বীতত্ত্ব সৃষ্টি করে। গন্ধ পৃথ্বীতত্ত্বের অসাধারণ গুণ, কিন্তু কারণের গুণ সংক্রামিত হয়ে, পৃথ্বীতত্ত্বে শব্দ, স্পর্শ, তেজ ও রস অনুভব হয়ে থাকে।

এইভাবে সাত্ত্বিক অহঙ্কার থেকে মন ও দশ দেবতা প্রকাশ হন। তার মধ্যে দিক কর্ণের, বায়ু ত্বকের, সূর্য চক্ষুর, প্রচেতা রসনার, অশ্বিনীকুমারদ্বয় ঘ্রাণের ইন্দ্রিয় নাসিকার, অগ্নি বাক্য ইন্দ্রিয়ের, ইন্দ্র হাতের, উপেন্দ্র পায়ের, মিত্র গুহ্যের ও প্রজাপতি উপস্থের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। এইভাবে রাজস অহঙ্কার থেকে জ্ঞানশক্তি বুদ্ধি ও ক্রিয়াশক্তি প্রাণ প্রকাশিত হয়ে চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক এই পঞ্চ জ্ঞানের ইন্দ্রিয় এবং বাক, হাত, পা, পায়ু ও উপস্থ এই পাঁচ কর্ম ইন্দ্রিয় উৎপন্ন করে। এইভাবে ভূত, ইন্দ্রিয়, মন ও প্রাণ সৃষ্টি হলেও, তারা পৃথক পৃথক অবস্থান করার জন্যে, দেহ তৈরি করতে পারে না। শেষে শ্রীভগবানের শক্তিতে তারা মিলিত হয় এবং উপাদানের মধ্যে একে অপরের অধীন থেকে এই ব্যষ্টি অর্থাৎ আলাদা আলাদা জীবদেহ এবং সমষ্টি অর্থাৎ ব্রহ্মাণ্ডদেহ নির্মাণ করে”। 

[উপস্থ কথাটির অর্থ জননেন্দ্রিয় - স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে।]


চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

ভাগবত পুরাণ - পর্ব ২ /৩

 এই সূত্রে - "    ঈশোপনিষদ "  এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ " এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও...