শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

@শুধু _তুই .কম - পর্ব ১৩

 এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১

অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "

"অচিনপুরের বালাই"

" সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "

আরেকটি  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "

"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "

এই উপন্যাসের শুরু - " @শুধু _তুই .কম - পর্ব ১



এর আগের পর্ব - " শুধু _তুই .কম - পর্ব ১২ 


১৩  

বেডের পাশে রাখা টুলটায় বসে মা আমার মাথায় মুখে, হাত বোলাতে বোলাতে বললেন, “কেমন আছিস?”

আমি বললাম, “ভালো আছি, মা। বাবা তুমিও বসো না। আরেকটা টুল আছে তো”।

“দাঁড়া, দাঁড়া আমার দাদুভাইকে একবার দেখি, ঘুমোচ্ছে নাকি?” শেষ কথাটি তিনি সিস্টারকে জিজ্ঞেস করলেন। সিস্টার হাসিমুখে উত্তর দিলেন, “ঘুমোনো, খাওয়া ছাড়া, আপনার দাদুভাইয়ের এখন আর কাজ কী?”

বাবা ঝুঁকে পড়ে দৌহিত্রের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “একদম মায়ের মতোই হয়েছ, দাদুভাই, তোমার মাও সারাদিন-রাত ঘুমোত...”।

আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর উপস্থিতি, সিস্টার-ম্যাডামের মনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল, বাবা-মায়ের আলাপ-আলোচনায় সিস্টার বোধহয় অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করলেন। তিনি আমাকে বললেন, “আমি একটু ঘুরে আসছি, ম্যাডাম, কোন দরকার মনে হলেই মাথার পাশে ওই বেলটা টিপে দেবেন, আমি চলে আসব”।

আমি হাসিমুখে সম্মতি দিতেই সিস্টার বেরিয়ে গেলেন। আর আমিও মাকে জিজ্ঞেস করলাম, “কী হয়েছে গো, মা? তোমাদের দুজনেই এমন গোমড়ামুখো হয়ে ঢুকলে কেন”?

“হবে আবার কি? কিছুই হয়নি, দাঁড়া আমিও একটু আদর করে আসি দাদুসোনাকে...” মা উঠে গিয়ে আমার পুত্রের মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন, তারপর হাত বাড়িয়ে আমার পুত্রের গাল, চিবুক আর নাকের ডগাটা স্পর্শ করে বললেন, নাকটা কিন্তু তোর বাবার মতো হয়েছে – বুঁচকু”।

আমি বাবার দিকে তাকালাম, বাবা সামান্য বিরক্তি মিশ্রিত প্রশ্রয়ের সুরে বললেন, “আহাঃ এসময় বাচ্চাদের গায়ে হাত দিতে নেই, আমাদের হাতে-টাতে জার্ম-ফার্ম থাকতে পারে...”।

মা ফিরে এসে আবার টুলেই বসে বললেন, “ঠিকই বলেছ, সুকু ঘরে যাওয়ার আগেই, ওর ঘরটাকেও ঝেড়েমুছে, ফিনাইল-ডেটল দিয়ে সাফ করে রাখতে হবে”।

বাবা বললেন, “কালকে চলো গাড়িটা নিয়ে একবার সুপারমার্কেট থেকে ঘুরে আসি। সুধন্বা-সায়েবের জন্যে ডজনখানেক মনোমত ড্রেস আর কসমেটিক্স নিয়ে আসি। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে বেরোব, ওখান থেকেই সুকুর কাছে চলে আসব”।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “সুধন্বা-সায়েবটা আবার কে?”

বাবা বললেন, “সে আছেন আমার এক সায়েব, এখন থেকেই তিনিই আমার বড়োসায়েব”।

মা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাসলেন কিছুক্ষণ, বললেন, “তোর বাবা, তোর ছেলের নাম রেখেছে, সুধন্বা, আমি নাম রেখেছি, বাম্বাই”।

কথা বলতে বলতে দেখলাম, মা ও বাবার মুখের (এবং আপাততঃ ওঁদের মন থেকেও) বিষণ্ণ-গম্ভীরতা মুছে গিয়েছে, দুজনেই এখন স্নিগ্ধ প্রসন্নতায় বিভোর। ওঁদের আনন্দের কারণ যে আমার পুত্র এবং সে কথা অনুভব করে, আমিও খুব তৃপ্তি অনুভব করছিলাম। অতএব, তীব্র কৌতূহল হলেও, আমার অসাক্ষাতে কী এমন ঘটেছিল, যার জন্যে ওঁনারা গোমড়ামুখে এসে ঘরে ঢুকেছিলেন, সে কথা জিজ্ঞেস করে ওঁদের কোন বিড়ম্বনায় ফেললাম না।

আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “সুধন্যা? ওটা তো মেয়েদের নাম – যে মেয়ে নিজে খুব ভালোভাবে ধন্য হয়েছে, কিংবা অন্যকে ধন্য করেছে...”।

বাবা মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, “কথাটা সুধন্বা, দন্ত্য-সয়ে হ্রস্ব-উ, ধ, দন্ত্য-ন-এ বফলা, আকার। মানে হচ্ছে, যিনি তির-ধনুক চালনায় অত্যন্ত দক্ষ, বীর ধনুর্ধর। অবশ্য এ নামে পৌরাণিক এক রাজাও ছিলেন। উচ্চারণের তফাৎটুকুও লক্ষ্য কর – আমরা লিখি ধন্য, কিন্তু বলি, ধোন্য, লিখি অন্য, বলি ওন্য। কিন্তু অন্ন লিখি, বলি অন্ন, তেমনি ধন্ব লিখব এবং ধন্ব বলব। নিয়মটা হচ্ছে পাশের ব্যঞ্জনবর্ণে য-ফলা ঝোলালেই, আগের বর্ণে একটা ও-কার জুড়ে দিই উচ্চারণের সময়। যেমন, অন্নের জোন্য ওন্যের ভরসায় না থেকে, নিজেই উপার্জন করা উচিৎ...”।

“ব্যস্‌, শুরু হল তোর বাবার কলেজের লেকচার...”, মা বাবাকে খোঁচা দিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর মুখে গর্বমিশ্রিত একটা হাসিও লক্ষ্য করলাম।

আমিও হাসলাম, বললাম, “লেকচার হোক, কিন্তু ব্যাপারটা বেশ ইন্টারেস্টিং তো, নিয়মটা জানতাম না”।

বাবা বললেন, “জ্ঞানের কথা থাক, নামটা পছন্দ হয়েছে তোর? তোর মায়ের তো পছন্দ হয়েছে”। মা “হুঁঃ” বলে তাচ্ছিল্যসূচক একটা শব্দ করলেন ঠিকই, কিন্তু তাতে প্রমাণ হল না যে, মায়ের নামটা পছন্দ হয়নি। আমি হাসি মুখে বললাম, “হয়েছে। তোমরা ভালোবেসে নাতির নাম রেখেছ, আমার পছন্দ না হয়ে পারে”। এ সময়েই করিডরের ওয়ার্নিং বেলটা বেজে উঠল, অর্থাৎ ভিজিটারদের থাকার মেয়াদ ফুরালো।

মা-বাবা দুজনেই উঠে দাঁড়ালেন। বাবা আরেকবার বেবিকটের দিকে গিয়ে কিছুক্ষণ সুধন্বার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কি ঘুম রে বাবা, ঘরে এত লোকের আসা-যাওয়া, আমার এত লেকচার – কোন কিছুতেই দৃকপাত নেই?”

মাও বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন, “সত্যি রে, টালুক-টালুক চোখদুটো, পাতলা দুই ঠোঁটের ভঙ্গি, হাত-পা ছোঁড়ার চেষ্টা দেখলে মনটা জুড়িয়ে যায়...বাম্বাইটা সেই থেকে ঘুমিয়েই চলেছে?”

সিস্টার ঘরে এসে, মায়ের কথা শুনলেন, তারপর হেসে বললেন, “তাই তো, দিদিয়া এল, দাদাই এল, ছেলের ঘুম ভাঙল না?” বেবিকটের কাছে গিয়ে, কাপড়ে জড়ানো সুধন্বাকে সিসটার কোলে তুলে নিল। আর হয়তো এই নড়াচড়াতেই তার ঘুম ভাঙল, চোখ মেলে তাকাল, তার মুঠি করা হাতগুলো ছড়িয়ে দিল”।

বাবা-মা দুজনেই আনন্দে হেসে উঠলেন, মা বললেন, “এই তো আমার বাম্বাই সোনা তাকিয়েছে...”, মায়ের হাত নিসপিস করছিল বাম্বাইকে ধরার জন্যে, বুঝতে পেরে সিস্টার বললেন, “কোলে নেবেন? নিন না”।

মা বাবার দিকে তাকিয়ে ইতস্ততঃ করে বললেন, “ না, ইয়ে... মানে আমার তো বাইরের কাপড়চোপড়...”।

সিস্টার হেসে বললেন, “কিচ্ছু হবে না, আপনারা গেলেই ন্যাপি বদলে দিয়ে, আমি ওকে মায়ের কোলে দেব। ভিজিটিং আওয়ারের শুরুতেই খেয়েছিল, তারপর এতক্ষণ ঘুমোলো এবার ওর খিদে পাবে নিশ্চয়ই...”।

মা সযত্নে বাম্বাইকে কোলে নিলেন, বাম্বাই হাত বাড়াল তার দিম্মার মুখের দিকে। কোলে নিয়ে বার কয়েক দোলা দিয়ে বললেন, “বাম্বা সোনা, চাঁদের কণা... নিজের লোককে ওরা ঠিক চিনতে পারে, নারে? ও বাবা, কি সুন্দর হাসি...ফোকলা দাঁতের হাসি, আমি বড্ডো ভালোবাসি...”, বলে মা আরও কয়েকবার বাম্বাইকে দোলা দিলেন। বাইরে করিডরে থার্ড বেল পড়ে গেল।

সিস্টার বললেন, “এবার কিন্তু আপনাদের যেতে হবে...”। সিস্টার আমার মাথার কাছে ছোট্ট ক্যাবিনেট থেকে,  একটা থলি বের করে বললেন, “ম্যাডামের কাপড়গুলো নিয়ে যাবেন, আর কাল সকালের দিকে বাড়িতে কাচা কিছু ড্রেস দিয়ে যাবেন।

বাবা থলিটা হাত নিয়ে বললেন, “সকালে আমাকে ভেতরে আসতে দেবে?”

“না, মেসোমশাই, তা দেবে না। আপনি নীচের রিসেপশনে ব্যাগটা দিয়ে, কেবিন নম্বর আর পেশেন্টের নাম বলবেন। ওরাই ওপরে পাঠিয়ে দেবে।”

“ঠিক আছে”।

মায়ের কোল থেকে বাম্বাই আবার সিস্টারের কোলে চলে গেল, শুয়ে পড়ল বেবিকটে। বাম্বাই হাত-পা ছুঁড়ে অদ্ভূত আওয়াজ করতে লাগল মুখে।

মা-বাবা বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে, বাবা বললেন, “আমরা কাল আবার আসব, বিকেলে। একটু ইতস্ততঃ করে আবার বললেন, “ওদের ওখান থেকে আর কেউ আসবে বলে মনে হয় না”।

মা বেরিয়ে যেতে যেতে বললেন, “আসছি রে, মন খারাপ করিস না, ভালো থাকিস”।

সিস্টার দ্রুত হাতে বাম্বাইকে ফ্রেশ করে তুলে, আমার কোলে দিয়ে বললেন, “ব্রেস্ট ফিডিংয়ের সময় হয়ে গেছে, ম্যাডাম, উঁহু, ওভাবে নয় এ হাতটা ওর পাছার কাছে ধরুন, আর মাথাটা ধরুন অন্য হাতে...অ্যাই, এবার ঠিক হয়েছে...”। এরপর শিশু নিজেই যেন খুঁজে নিল তার মায়ের স্তন, আমার সমস্ত চেতনা তখন বাম্বাইয়ের মুখের দিকে, তার দুই চোখের দিকে। আমার বৃন্তে ঠোঁট রেখে যখন ও স্তন্যপান শুরু করল, বুকে আশ্চর্য এক তৃপ্তি আর শান্তি অনুভব করলাম, আর বাম্বাইয়ের দু চোখেও লক্ষ্য করলাম অদ্ভূত এক নির্ভরতা। আমার দু চোখ ঝাপসা হয়ে এল অশ্রুতে।

 

 

স্তন্যপান শেষ হতে না হতেই বাম্বাই ঘুমিয়ে পড়ল, গোলাপের পাপড়ির মতো ওর কোমল অধরোষ্ঠ খসে পড়ল আমার বৃন্ত থেকে। সিস্টার আমার কোল থেকে পরমযত্নে তুলে নিল ওকে, তারপর আলতোহাতে শুইয়ে দিল বেবিকটে। এর আগেই ও বেবিকটের বিছানার চাদর-টাদর পালটে, একদম পরিপাটি করে রেখেছিল।

শিশুকে শোয়ানোর পরেও বিছানার চাদর টান-টান করতে সিস্টার বলল, “আপনার শাশুড়ি এখান থেকে যাওয়ার পর নীচেয় কী হয়েছে জানেন? আপনার মা-বাবা কিছু বলেননি?” আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম চুপ করে।

“আপনি বকাবকি করাতে আপনার বর তো ঘর থেকে বেরিয়ে নীচের রিসেপশনের চেয়ারে বসেছিল, ওঁর মায়ের পাশে। ওঁদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছে জানি না, কিন্তু উনি এসে রাগারাগি করে আপনাকে তো নানান কথা শোনালেন এবং বেরিয়েও গেলেন। নীচেয় গিয়ে উনি নাকি ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইছিলেন, কিন্তু আপনার বর যেতে চাইছিলেন না। ছেলেকে অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে একরম জোর করেই তিনি বার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আপনার বর সিঁড়ি দিয়ে নীচেয় নামতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে গড়িয়ে পড়েছিলেন রাস্তায়।

মাথায় এবং হাতে নাকি চোট পেয়েছেন, রক্তও বেরিয়েছিল। কিন্তু তার থেকেও যেটা বিশ্রী ব্যাপার, ফুটপাথে পড়ে গিয়ে গুচ্ছের বমি করেছেন। সে বমিতে নাকি বিশ্রী দুর্গন্ধ। আপনার বাবা-মা এবং নীচের সিকিউরিটির দুজন দৌড়ে গিয়েছিলেন, আপনার বরকে তুলতে... কিন্তু আপনার শাশুড়ি আপনার বাবাকে হাত লাগাতে দেননি, উলটে বিচ্ছিরি গালাগাল দিয়েছেন, পাড়া মাথায় করে। আর হবি তো হ, ঠিক সেই সময়েই ফুটপাথের ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে, ফুটপাথে পা দিয়েছেন আমাদের বড়দি।

বড়দি সিকিউরিটি দুজনকে সঙ্গে সঙ্গেই নির্দেশ দিলেন, আপনার বরকে ফার্স্ট-এড করিয়ে দেওয়ার জন্যে, তারপর রিসেপশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কে এই ছোকরা আর মহিলা?”

রিসেপশনের ম্যাডাম তো তখন ভয়ে তটস্থ, কোন রকমে বলল, “ম্যাডাম, ওঁরা ‘থ্রিই’ কেবিনের সুকন্যা ম্যাডামের বাড়ির লোক”।

“বাড়ির লোক?” রিসেপশনের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা, আপনার মা আর বাবার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকালেন বড়দি।

আপনার বাবা সামনে এসে বললেন, “হ্যাঁ ম্যাডাম, আমাদের জামাই”।

“জামাই? স্ট্রেঞ্জ। লাভ ম্যারেজ, বুঝি?”

“না, ম্যাডাম, দেখে-শুনে আমরাই...”। আপনার বাবা বললেন।

সে কথার কোন উত্তর না দিয়ে বড়দি রিসেপশনে বললেন, “সুইপারকে এখনই বলো সমস্ত জায়গাটা ভালো করে স্যানিটাইজ করতে... আর ওই ছোকরাটির ফার্স্ট-এড হয়ে গেলেই ছেড়ে দিও, কোন বিল চার্জ করবে না”। তারপর আপনার বাবাকে বললেন, “আপনারা ওপরে যাবেন তো? একটু ওয়েট করুন - মিনিট পাঁচেক - আমার ভিজিটটা আগে সেরে নিই”।  বড়দি আজ আপনার কেবিনেই প্রথম এসেছিলেন”।

মা-বাবার উপস্থিতি এবং তারপর বাম্বাইকে নিজের হাতে নাড়াচাড়া করে, আমার মনটা তখন খুশিতে ভরে উঠেছিল, সুনুদা, কিন্তু সিস্টারের বর্ণনা শুনে আবারও ঘৃণা আর বিতৃষ্ণায় মনটা চঞ্চল হয়ে উঠল। এবং তখনই মনে পড়ল পিন্টুর বাবার সহৃদয় পরামর্শ এবং সতর্কবাণী। সেই মুহূর্তেই আমি স্থির করলাম, আমি ডিভোর্স নেব। জীবনটা একান্তই আমার – কে কী ভাবল, কে কী মনে করল। কে সুখী হল, কে দুঃখ পেল, সে আমার মাথাব্যথা নয়। আমি শান্তি চাই আমার জীবনে – তাতে সুখ যদি নাও মেলে ক্ষতি নেই।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “মঞ্জরীম্যাডাম যখন এসব বলছেন, তখন আমার শাশুড়ি কোথায় ছিলেন?”

“তা তো জানি না, ম্যাডাম, নীচের সিকিউরিটি একবার ওপরে এসেছিল, আমাদের মেট্রনদিদিকে সব বলে গেছে। আমি ওই দিদির মুখেই সব শুনলাম। একটা কথা বলবো ম্যাডাম, কিছু যদি মনে না করেন”?

“বলুন, না”।

“আপনার বাবা-মাকে দেখলাম, আপনাকেও সারাক্ষণ দেখছি গতকাল থেকে, ও বাড়ির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক মানায় না। আপনার শ্বশুরমশাই মনে হয়, ভালো মানুষ, তিনি যা বলছিলেন, সে কথাটাই আমাদের মনের কথা”।

“আমাদের মানে?”

“এ নার্সিং হোমে  - একতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত – এখন আপনাকে নিয়েই তো আলোচনা চলছে...ম্যাডাম। এমন মুখরোচক সংবাদ শুনতে, আলোচনা করতে সকলেই ভালোবাসে কিনা!” 

আজ এই পর্যন্তই থাক, সুনুদা। জানি তুমি রাত জেগে এ লেখা পড়ছো। বাকিটা কাল বলব, সময়মতো। অধৈর্য হয়ে আবার ফোন কোর না, বা চলে এস না আমার কাছে।

এটুকু বলতে পারি, সেদিন আমি আমার জীবনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আবার আজও তেমনি দাঁড়িয়েছি আমার জীবনের আরেক সন্ধিক্ষণে। এই সময়টুকু আমাকে নিবিষ্ট থাকতে দাও - আমার জীবনের কথাগুলো আমাকে নিঃশেষে বলতে দাও, প্লিজ। কোনভাবেই বাধা দিও না। 

তোমার কনি।  

চলবে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

@শুধু _তুই .কম - পর্ব ১৩

  এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "  অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য " ...