মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ২৮

 এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১

অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "

"অচিনপুরের বালাই"

" সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "

আরেকটি  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "

"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "



[প্রাককথাঃ  আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজ হোক কিংবা প্রাচীন রাজতান্ত্রিক সমাজ – বিদ্রোহ, বিপ্লব সর্বদাই প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। নিরীহ, অনুন্নত এবং প্রান্তিক মানুষরা যুগেযুগে সেই বিদ্রোহের পথে যেতে কীভাবে উদ্বুব্ধ হয়েছিলেন এবং হচ্ছেন? কীভাবে তাঁরা অস্ত্র সংগ্রহ করেন? সেই বহুমূল্য অস্ত্রসম্ভার কি তাঁরা বিনামূল্যে সংগ্রহ করেন? কোদাল চালানো কিংবা লাঙ্গল ঠেলার দক্ষতা যাঁদের সম্বল, কে তাঁদের আধুনিক অস্ত্র চালনায় শিক্ষিত করে তোলে? কার শক্তি ও উস্কানি তাঁদের রাষ্ট্রশক্তির চোখে চোখ রাখার স্পর্ধা যোগায়?  হয়তো কখনও তাঁরা পর্যুদস্ত হয়েছেন, কখনও ক্ষণস্থায়ী সাফল্য পেয়েছেন। আবার কখনও কখনও প্রবল প্রতাপ রাষ্ট্রকে তাঁরা পরাস্ত করে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও করেছেন। কিন্তু নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেও পুরোন বিদ্রোহ-বিপ্লবের আগুন নেভে না কেন?  কেনই বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই বিপ্লব চলতে থাকে আবহমান কাল ধরে?]  

এই উপন্যাসের আগের পর্ব  - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ২৭ 


৩৪

 

ভল্লা আর রামালি ভোরে রওনা হল মহড়ার মাঠের দিকে। গতকাল গ্রামপ্রধানের দাহ সৎকার শেষ হতে প্রায় মধ্যরাত হয়ে গিয়েছিল। ভল্লা ভেবেছিল নোনাপুরের কেউ আজ আর মহড়ায় আসবে না। কিন্তু দাহ শেষে কাল রাত্রেই ছেলেরা বলেছিল, তারা আজ আসবে। অন্যদিনের মতো একই নিয়মে মহড়া করবে। আজ সকালে মহড়ার মাঠে পৌঁছে ছেলেদের মুখের দিকে তাকিয়ে ভল্লা আশ্চর্য হল। প্রত্যেকটি ছেলের মুখ গম্ভীর। তাদের দু চোখে ছেলেমানুষী সরলতা নয়, জেগে উঠেছে দৃঢ় এবং নিষ্ঠুর প্রতিজ্ঞা। একজন শ্রদ্ধেয় মানুষের এমন অসম্মানের মৃত্যু, একরাত্রেই তাদের মনে অদ্ভূত এই রূপান্তর এনে দিয়েছে! ভল্লা কিছু বলল না। এক পাশে বসে, ছেলেদের অনুশীলন দেখতে লাগল, মন দিয়ে। একে একে সকলেরই অনুশীলন দেখে খুশি হল, ভল্লা। উঠে দাঁড়িয়ে ছেলেদের কাছে গেল, সুরুল আর আহোকের কাঁধে হাত রেখে সকলের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, “নাঃ এতদিনে তোরা সত্যিই এক-এক জন যোদ্ধা হয়ে উঠছিস। আমার মনে যেটুকু দ্বিধা ছিল সেটা কেটে যাচ্ছে। তোদের সকলকে নিয়ে প্রকৃত লড়াইয়ে নামার সময় এবার এগিয়ে আসছে। প্রতিশোধ। হ্যাঁ, এই প্রতিশোধের আগুনটা রাজধানী ছাড়ার পর থেকেই আমার বুকের মধ্যে জ্বলছে অহরহ। আজ তোদের মধ্যেও সেই আগুনটা আমি দেখতে পাচ্ছি। আর দশটা দিন এভাবেই তোরা অনুশীলন চালিয়ে যা। তারপরে গভীর রাত্রে আমরা আস্থানে যাব”। ভল্লা এবার গম্ভীর দৃঢ় স্বরে, প্রত্যেকটি কথা শান্ত নিষ্ঠুর উচ্চারণে বলল, “এবারে আর শুধু অস্ত্র-শস্ত্র চুরি নয় – সরাসরি আক্রমণ। আমাদের প্রধান লক্ষ্য থাকবে একটাই। কবিরাজমশাইয়ের মুক্তি। এই লক্ষ্য পূরণের জন্যে কিছু রক্ষীকেও হত্যা করতে হবে। তখন তোদের কারো...একজনেরও হাত যেন না কাঁপে”।

ভল্লার শেষের কথাগুলো ছেলেদের কাঁপিয়ে দিল, একসঙ্গে সকলে গর্জে উঠল, “কাঁপবে না। রক্তের শোধ নেব রক্তেই”। ভল্লা সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল কিছুক্ষণ। বলল, “এই শপথের আগুন সর্বদা জ্বলতে থাকুক তোদের সবার মনে। নে আবার মহড়া শুরু কর। কাল যে রণপা চড়ে ভল্ল ছোঁড়া দেখিয়েছিলাম, সেটাও...। ওটা হয়ে গেলে শুরু হবে আমাদের রাত্রের মহড়া...”।

ছেলেরা আবার অনুশীলন শুরু করতে, রামালিকে ডাকল ভল্লা, বলল, “আমাদের রণপা, ভল্ল, বল্লম কতগুলো আছে বলতো? গুণে দেখেছিস? আমাদের ছেলেদের সবার হয়ে যাবে?”

রামালি বলল, “ছ’জোড়া রণপা বেশি আছে। ভল্ল বেশি আছে দুটো, আর বল্লম বেশি আছে প্রায় দশটা”।

ভল্লা বলল, “মিলাদের ওখানে আপাততঃ কতগুলো দেওয়া যাবে?”

রামালি বলল, “চারজোড়া রণপা, আর ছটা বল্লম দেওয়া যাবে... ভল্ল না দেওয়াই ভালো, ভেঙে-টেঙে গেলে, আমাদেরই অসুবিধে হবে। বালিয়াকে দিয়ে কিছু ভল্ল বানিয়ে নিলে হয় না?”

“তা হয়, কিন্তু সরু ছোটছোট বাঁশের টুকরো পাবি কোত্থেকে, যার মাথায় ভল্লর ফলা জোড়া যাবে?”

“হাত দেড়েক লম্বা টুকরো হলেই তো ভল্ল হয়ে যাবে, সে টুকরো বাঁশ কিন্তু আমাদের আছে”।

“কোথায়?” অবাক হয়ে ভল্লা জিজ্ঞাসা করল রামালিকে।

“আমাদের প্রত্যেকের যে রণপা রয়েছে, ভল্লাদাদা। তার মাথা থেকে হাত দেড়েক যদি কেটে নেওয়া হয়, তাতে কি অসুবিধে হবে?”

ভল্লা উঠে দাঁড়িয়ে নিজের রণপা জোড়া খাড়া করে ধরল, দুটো বাঁশের দৈর্ঘ্যই তার মাথা ছাড়িয়ে গেল। ভল্লা বলল, “বাঃ এটা আমার মাথায় আসেনি তো! সবকটাই কি একইরকম লম্বা?”

“হ্যাঁ ভল্লাদাদা সবকটাই – তার মানে ছত্রিশ জোড়া”।    

“বাঃ, তার মানে ছত্রিশ জোড়া ভল্ল হয়ে যাবে? রাজধানীর অস্ত্র-শস্ত্র আসা অবধি আমাদের চলে যাবে। এখন চল, মিলারা বোধহয় আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। মিলাদের কথা আমাদের ছেলেদের বলেছিস?”

“না ভল্লাদাদা, বলিনি। নিজেদের অঞ্চলে ওরা তো আসলে ডাকাতি করছে…তাই…” একটু ইতস্ততঃ করে রামালি থেমে গেল।

ভল্লা হাসল, বলল, “ধুর বোকা, ওরা ডাকাতি করছে টাকাকড়ির জন্যে, ওদের আসল উদ্দেশ্য তো রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ… আর এতদিনে তুই তো বুঝেই গেছিস, আমাদের পেছনে আছে, আমাদেরই প্রশাসন। অতএব শুরুতে আমাদের ডাকাতি করতে হল না। কিন্তু ওদের তো তা নেই…। আমাদের ছেলেদের সময়মতো বলে দিস। অন্য কারোর মুখে মিলাদের কথা শুনলে ছেলেরা ভুল বুঝতে পারে…”। ভল্লা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি রামালিকে নিয়ে একটা কাজে যাচ্ছি, তোরা কিন্তু মহড়া চালিয়ে যা। রামালি একটু পরেই ফিরবে…আমি আসব বিকেলে”।

ছেলেরা বলল, “ঠিক আছে, ভল্লাদাদা”।

ভল্লা জিজ্ঞাসা করল, “হ্যারে শল্কু আসেনি? কী হয়েছে ওর?”

আহোক বলল, “জানিনা ভল্লাদাদা, আসার সময় ওর সঙ্গে ওর বাড়ির সামনে দেখা হল। জিজ্ঞাসা করলাম, কি রে যাবি না? বলল, তোরা চল, আমি যাচ্ছি একটু পরে… এখনও তো এল না”।

বিনেশ বলল, “শল্কুটা বিগড়ে গেছে, ভল্লাদাদা…ওর হাবভাব ভালো ঠেকছে না”।

ভল্লা আহোক আর বিনেশের মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, কিছু বলল না। তারপর রণপায় চড়ে বলল, “বেরোচ্ছি, রে”।  

*     *     * 

ভল্লা আর রামালি বাসায় পৌঁছে দেখল, মিলা, জনাদের সাতজন ছেলে তাদের ঘরের সামনে উঠোনে বসে হ্যা হ্যা করে হাঁফাচ্ছে। রামালির মনে পড়ল প্রথমদিন রামালিদেরও একই অবস্থা হয়েছিল।

ভল্লা ওদের দেখে হাসল, বলল, “ভালই তো হাঁফাচ্ছিস, কতক্ষণ দৌড়লি? রামালি ওদের জন্যে রণপাগুলো নিয়ে আয়। আর তোরা বসে বসে হাঁফাস না, চল হাঁটি। তোদের মহড়ার মাঠটা দেখিয়ে দিই”।

জনা বলল, “ওফ যা দৌড় করিয়েছ ভল্লাদাদা, একটু জিরোতে দাও”।

“রামালিরা জানে, আমি ওদের জিরোতে দিই না – তোরাও জেনে যাবি - কয়েকটাদিন আমার সঙ্গে থাক”। ভল্লা হাসতে হাসতে বলল, “চল ওঠ, ওই দ্যাখ, রামালি তোদের জন্যে রণপা আর বল্লম নিয়ে চলে এসেছে”।

রামালি ওদের হাতে চার জোড়া রণপার বাঁশ তুলে দিল। তারপর ভল্লা আর রামালি নিজেদের রণপায় চড়ে পড়ে, ভল্লা বলল, “তোরা কি রণপা আগে দেখেছিস? রণপা চড়ে খুব তাড়াতাড়ি হাঁটাচলা করা যায় – আর দৌড়তে পারলে, ঘোড়াকেও টেক্কা দিতে পারবি। চল মাঠে চ, তোদের শেখাবো”।

মাঠ দেখে মিলাদের সকলেরই বেশ ভালো লাগল। চারদিকে ঘন গাছের জঙ্গল ঘেরা অনেকটা ফাঁকা জায়গা। ভল্লা বলল, “আপাততঃ চারটে রণপা জোগাড় করতে পেরেছি, বল্লম আছে গোটা দশেক - বিকেলে পেয়ে যাবি। এই নিয়েই শুরু কর, তারপর দেখছি কত তাড়াতাড়ি তোদের অস্ত্র যোগাড় করতে পারি”।

রামালি চারজন ছেলেকে রণপায় চড়ে হাঁটতে শেখাতে লাগল। ভল্লা মিলা আর জনাকে বলল, “তোদের এখন তো কাজ নেই – চল কিছু কথা সেরে নেই। তিনজনেই মাটিতে বসল। ভল্লা বলল, “দ্যাখ মহড়ার মাঠ তো হল, কিন্তু তোদের একটা বা দুটো বড়ো ঘর তো চাই। যেখানে তোদের এই অস্ত্র-শস্ত্র সব রাখতে হবে। রোজ সন্ধেয় বাড়ি নিয়ে যাবি আর ভোরে সেসব সঙ্গে নিয়ে এখানে আসবি। লোকের বুঝতে কিছু বাকি থাকবে?”

মিলা জনার দিকে তাকাল, বলল, “ঠিক কথা, এদিকটা আমরা ভাবিনি”।

ভল্লা বলল, “এখান থেকে ক্রোশ খানেক দূরে একটা পুকুর আছে, তার পাশে কিছুটা জমি নিয়ে তোরা একটা বা দুটো ঘর বানিয়ে নিতে পারিস। কিন্তু কী দিয়ে বানাবি? ইঁট না কি বাতা?”

মিলা বলল, “ইঁট দিয়ে বানালে ভাল হয় না”?

“ভাল তো হয়ই, কিন্তু খরচ এবং সময় লাগবে বেশি। ইঁট যোগাড় করতে পারবি? তোদের ওদিক থেকে ইঁট আনতে গেলে – সকলেই জেনে যাবে”।

জনা বলল, “রামালিরা যেখান থেকে ইঁট কেনে, সেখান থেকেই নিতে পারি আমরা। ইঁট, চুন, সুরকি – পুকুরের জল তো পেয়েই যাব। তাহলে আমাদের দিকের লোকেরা চট করে বুঝতে পারবে না। কিন্তু টাকাকড়ি?”

ভল্লা বলল, “তোরা তো কাল দিয়েই গেলি – সেখান থেকে এখন নিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করে দে। আর ওই দুটো ঘরের ভেতর একটাতে,  ছোট্ট একটা কুঠরি বানিয়ে তার মধ্যে একটা সিন্দুক বসিয়ে ফেল। তোরা টাকা-কড়ি যা যোগাড় করবি, ওখানেই রাখবি। অস্ত্র কেনার ব্যাপার হলে, আমাকে বা রামালিকে দিবি”।

মিলা বলল, “রামালিকে তুমি এতটা ভরসা করছো ভল্লাদাদা?”

ভল্লা হাসল, “তোরাও করবি, কয়েকটা দিন ওর সঙ্গে ওঠাবসা কর…। ওই দ্যাখ রামালি ওর নিজের রণপাজোড়াও দিয়ে দিল…ভাল করেছে… একসঙ্গে পাঁচজনই শিখতে পারবে। অ্যাই রামালি, এদিকে শোন…”।

রামালি ওদের তিনজনের কাছে এসে বসতে ভল্লা বলল, “রামালি, এদের জন্যে দুটো ঘর বানানোর ব্যবস্থা করতে হবে – ওরা চাইছে ইঁটের দেওয়াল তুলতে, ইঁট-চুন-সুরকি যোগাড় করে দিতে পারবি? এবং কাজের লোক?”

রামালি একটু চিন্তা করে বলল, “বীজপুরের একজন আমাদের এদিকে ঘর বানানোর কাজ করে...তাকে খবর দিতে পারি...তবে দু-তিনদিন সময় লাগবে...ওর কাছে সব পাওয়া যাবে...এমনকি ঘর ছাওয়ার টালি থেকে কাঠের বরগা-কড়ি সব...”।

মিলা বলল, “বাঃ তাহলে তো খুব ভালো হয়...কিন্তু আমরা খবর দেব, সে আসবে...কথাবার্তা হবে...তারপর সে মালপত্র আনবে, লোক পাঠাবে...অনেক দেরি হয়ে যাবে তো!”

ভল্লা বলল, “লোকটাকে তুই চিনিস? কোথায় থাকে জানিস?”

রামালি বলল, “তা চিনি, কিন্তু বীজপুরে ঠিক কোথায় থাকে জানি না। তবে ওখানে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে...”।

ভল্লা একটু চিন্তা করে বলল, “রণপা চড়ে বীজপুর যেতে কতক্ষণ লাগতে পারে...তিন, সাড়ে তিন প্রহর?”

রামালি হেসে ফেলল, বলল, “পায়ে হেঁটেও আমি কোনদিন বীজপুর যাইনি ভল্লাদাদা...। তবে যারা যাওয়া-আসা করে, তাদের মুখে শুনেছি পায়ে হেঁটে প্রায় ছ-সাত প্রহরের পথ”।

ভল্লা বলল, “হুঁ, তার মানে রণপা চড়ে গেলে – দুই-তিন প্রহরের মধ্যে পৌঁছনো সম্ভব। আমরা এখান থেকে যদি আজ মধ্য রাত্রিতে রওনা দিই, আগামীকাল সকাল-সকাল বীজপুর পৌঁছে যাবো...”।

মিলা আর জনা চমকে উঠে বলল, “তুমি যাবে ভল্লাদাদা...কী বলছো?”

ভল্লা মুচকি হেসে বলল, “একসঙ্গে যখন নেমেছি, তখন ক্ষতি কী? অবিশ্যি তোরা যদি না চাস তাহলে যাবো না”।  

মিলা লজ্জা পেয়ে বলল, “যাঃ কী যে বলো না, তা নয়...এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে?”

ভল্লা এবার গম্ভীর মুখে বলল, “আমরা যদি যাই, আগামী কাল হয়তো দুজনেই থাকবো না...তাই বলে তোদের মহড়া যেন বন্ধ না হয়। পরশু এসে দেখতে চাই তোরা সবাই রণপা চড়তে শিখে গিয়েছিস”।

মিলা বলল, “তুমি আমাদের জন্যে এত কিছু করছ...তার পরিবর্তে আমরা তোমায় ফাঁকি দেব? সে কথা মনেও স্থান দিও না ভল্লাদাদা”।

ভল্লা বলল, “উত্তম। আরেকটা কথা – তোরা দুজন ছাড়া এই কথা কেউ যেন জানতে না পারে – এমনকি আমাদের এদিকের ছেলেরাও কেউ না...”।

“জানবে না, ভল্লাদাদা”।

“আমরা এখন উঠছি রে মিলা। আমাদের ও দিকে কী হচ্ছে একবার দেখে আসি। রামালি চল”।

রামালি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “জনা, তোরা ফিরবি কখন?”

“সন্ধের দিকে”।

“তাহলে যাওয়ার সময় রণপাগুলো ভল্লাদাদার বাসার কাছে রেখে দিয়ে আসবি”?

ভল্লা বলল, “হুঁ, যতদিন না তোদের ঘর হচ্ছে, ততদিন ওগুলো আমাদের ওখানে রেখে দেওয়াই নিরাপদ”।

জনা বলল, “ঠিক আছে ভল্লাদাদা। তার মানে তোমাদের সঙ্গে পরশু দিন আবার দেখা হবে...”।

রামালি হেসে বলল, “কেন? আজ সন্ধেতেই আবার দেখা হবে। আমরা যদি নাও থাকি, একটু অপেক্ষা করিস, আমরা চলে আসবো”।    

চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ২৮

  এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "  অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য " ...