ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "
ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১ "
ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "
ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "
ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "
"ধর্মাধর্ম" গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -
গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২
(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)
অথবা
+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।
[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/৭ "]
পঞ্চম পর্ব /পর্বাংশ - ৮
৫.৩.১ ব্রাহ্মণ্য ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে রূপান্তর
পশ্চিম ভারতের আঞ্চলিক দেবতা বাসুদেবের নাম প্রথম পাওয়া যায়
খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে। এই সময়েই পশ্চিম ভারতের শাসক রাজা এবং মধ্য এশিয়া
থেকে ভারতে আসা উপজাতি গোষ্ঠী প্রধান এবং রাজারাও দেবতা বাসুদেবের পৃষ্ঠপোষক হয়ে
উঠেছিলেন।
পশ্চিম ভারতের – রাজস্থান ও গুজরাট অঞ্চলে পশুপালক জনগোষ্ঠীর দেবতা ছিলেন কৃষ্ণ। আবার তামিল লোকগাথায় “কৃষ্ণবর্ণের” মায়ণ নামে এক দেবতার নাম পাওয়া যায়, যিনি পশুপালক, বাঁশি বাজাতেন এবং গোপরমণীদের সঙ্গে ক্রীড়া করতেন। তাঁর প্রাচীনতম উল্লেখ পাওয়া যায়, তামিল ভাষার “সঙ্গম” নামক লোকগাথার সংকলনে। তাঁর অন্য আরও নাম ছিল যেমন, “পরিপাতল” এবং “মল”। ভগবান বিষ্ণুর তামিল নাম পেরুমল, পেরুমাল বা থিরুমলকে এই পরিপাতল ও মল নামেরই পরিবর্তিত রূপ বলে অনুমান করা হয়। বিশ্দেব, যাঁর কথা এই গ্রন্থের দ্বিতীয় পর্বে উল্লেখ করেছি, ছিলেন মধ্যভারতের অনার্য গোষ্ঠীর দেবতা। গঙ্গা-যমুনা-গোমতী-শোণ প্রভৃতি নদীর উর্বর অববাহিকা অঞ্চলের মানুষের কাছে দেবতুল্য মহামানব ছিলেন শ্রীরাম। রামায়ণের বহু আগে থেকেই তাঁর বীরত্বের গাথা লোকমুখে প্রচলিত ছিল। বাল্মীকির প্রতিভায় সেই কাহিনীই মহাকাব্যিক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মধ্য এবং দক্ষিণ ভারতের অনার্য জনগোষ্ঠীদের আরও কিছু দেবতা
সাধারণ জনসমাজে,
জনপ্রিয় হয়ে
উঠেছিলেন। যেমন পশুপতি, শিব, মহাদেব, স্কন্দ ও গণপতি, সৃষ্টির প্রতীক লিঙ্গ, নৃসিংহ, বরাহ, সিংহ, নাগ, গরুড়, পেচক, রাজহংস, ময়ূর, মূষিক[1], মৎস্য ইত্যাদি, এবং নদ-নদী - গঙ্গা, নর্মদা, গোদাবরী, পাহাড় – হিমালয়, মন্দর, মৈনাক[2], গাছপালা – বট, অশ্বত্থ, তুলসী, কদম্ব, বিল্ব ইত্যাদি। এখানে একটা খটকা
অবশ্য থেকেই যাচ্ছে, এই
অনার্য দেবতা বা দেব-আত্মাদের অনার্য মানুষরা কী নামে ডাকতেন[3]? সেটা আজ আর জানার কোন উপায় নেই, তার কারণ সংস্কৃতায়নের
প্লাবনে সে ভাষা প্রায় অবলুপ্ত হয়ে গেছে। সিন্ধু সভ্যতার লিপির পাঠোদ্ধার হলে, কিছু আভাস হয়তো মিলতে
পারে।
ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পক্ষে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টিয়
দ্বিতীয় শতাব্দী পর্যন্ত – কমবেশি এই আটশ বছরের পর্যায়টি - মোটেই অনুকূল পরিস্থিতি
ছিল না। তার পরোক্ষ সমর্থন পাওয়া যায় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের যুগ-ধারণা থেকেও।
আমরা আগের পর্বে ব্রাহ্মণ্য যুগ-ধারণায় চারটি যুগের - সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি - আলোচনা
করেছি। এই যুগধর্মের লক্ষণগুলি নিয়ে তখন আলোচনা করিনি। সেই লক্ষণগুলি হল, সত্য যুগে চারপাদ পুণ্য, ত্রেতায় ত্রিপাদ, দ্বাপরে দ্বিপাদ এবং
কলিযুগে একপাদ পুণ্য ও ত্রিপাদ পাপ বা অনাচার। মহাভারত থেকে আমরা জানতে পারি, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নর-দেহ
ত্যাগের দিন থেকে দ্বাপর যুগের শেষ ও কলির শুরু। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ যদি ৯০০
বি.সি.ই-তে ঘটে থাকে, সেক্ষেত্রে
মোটামুটি ৮৫০/৮৪০ বি.সি.ই-তে হতে পারে কলি যুগের সূচনা। অর্থাৎ সেই সময় থেকেই আর্যাবর্তের সমাজে বৈদিক
ও ব্রাহ্মণ্য প্রভাবের বিপরীতে অন্যান্য ভাবনার প্রভাব শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। সেই
শক্তির প্রবল ধাক্কাটা এল ভগবান মহাবীর ও গৌতমবুদ্ধের আবির্ভাবে – অর্থাৎ
খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। আর ব্রাহ্মণ্য মতে বেদ-বিরোধী বা
ব্রাহ্মণ্য-বিদ্বেষী মতবাদ পাপাচার ছাড়া আর কিই বা হতে পারে? অতএব কলিযুগ হয়ে উঠল
ত্রিপাদ পাপের ভারে ভারাক্রান্ত। এই কথাগুলিই আমরা তন্ত্রশাস্ত্রে স্বয়ং ভগবান
মহাদেবের থেকেই শুনব, পরের
পর্বে।
যাই হোক, ব্রাহ্মণ্য-সমাজের
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির অনেকগুলি কারণের মধ্যে কয়েকটি হল,
১. ক্ষত্রিয় ছাড়া রাজা হওয়া যায় না, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মন
থেকে এমন ধারণা মুছে যেতে লাগল। কারণ নন্দবংশ থেকে ভারতজোড়া সাম্রাজ্য গড়ে তোলা
মৌর্যরা কেউই ক্ষত্রিয় ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে অনেকেই এবং পরবর্তী রাজাদের
অধিকাংশই অক্ষত্রিয়, অনেকেই
অনার্য – তাঁরা আর যাই করুন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় আগ্রহী ছিলেন না।
২. দেশের রাজা ক্ষত্রিয় না হওয়ায়, ব্রাহ্মণদের আধিপত্য ও সমৃদ্ধি
অক্ষুণ্ণ থাকছিল না। কারণ ক্ষত্রিয় রাজা না হলে, রাজসূয় কিংবা অশ্বমেধ যজ্ঞের
আয়োজন কে করবে?
আর্য ধনী
সম্প্রদায়ের যজ্ঞ থেকে জীবন ধারণ চলতে পারে, কিন্তু সমৃদ্ধি আসে না।
৩. এই সময় পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুললেন, গ্রীক, পার্থিয়ান, শক, কুষাণ, পহ্লব, গুর্জর ইত্যাদি জাতি ও
গোষ্ঠীর বিদেশী রাজারা। তাঁদের অনেকেই নিজস্ব ধর্ম নিয়ে এসেছিলেন, যাঁদের ছিল না, তাঁরা এ দেশীয় ধর্মের
মধ্যে বৌদ্ধ বা অনার্যদের ধর্ম গ্রহণ করলেন।
৪. ব্রাহ্মণ্যধর্মের অসহিষ্ণু দুর্ভেদ্যতার এতদিন পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছিল বৌদ্ধরা। কিন্তু বৌদ্ধদের ধর্মও পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত জটিল তত্ত্বনির্ভর হয়ে উঠেছিল। ভগবান বুদ্ধের সহজ বাণীতে রাজা বিম্বিসার, অজাতশত্রু বা প্রসেনজিৎ মুগ্ধ হয়েছিলেন। ভগবান বুদ্ধের সরল বাণী ও আচার-আচরণ অনুসরণ করা স্থবিরবাদীনদের কথায় মুগ্ধ হয়েছিলেন সম্রাট অশোক। কিন্তু মহাযানী ধর্মমতের প্রবল উন্নাসিক পাণ্ডিত্যে বৌদ্ধরাও সাধারণ মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করল।
৫. এইরকম সময়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে লাগল দেশীয় অনার্য ধর্মশাখাগুলি, ভাগবত, শৈব, পাশুপত্য, গাণপত্য ইত্যাদি। তাঁদের ধর্মে, মূর্তিপুজো আছে। মন্ত্র উচ্চারণ আছে, কিন্তু সেই মন্ত্রের কোন বাঁধা-ধরা ধর্মতত্ত্ব নেই। এই ধর্ম আচরণের জন্যে মোহ, মায়া, অহংকার, ঈর্ষা, হিংসা, কামনা, বাসনা এবং সংসার ত্যাগ করে নির্জনে তপস্যা, ধ্যান কিছুই করতে হয় না।
এই পুজো প্রকৃত অর্থে যেন উৎসব– যার যেমন সামর্থ্য, যার যেমন ইচ্ছে - একত্রে
পালন করা যায়। ধনীরা মহামূল্য অলংকার ও
পোষাকে সেজে দরিদ্রদের অকাতরে দান করতে পারেন, তাঁদের বৈভবে সমাজের সাধারণ
মানুষকে আশ্চর্য করে দিতে পারেন। সমাজের মানুষ তাঁকে ধন্য ধন্য করবে। বাড়বে তাঁর
যশ – প্রতিপত্তি। সাধারণ মানুষ সকলেই এই উৎসবে মেতে উঠবে। তারা আনন্দ করবে, নানান বাদ্য বাজিয়ে
নাচ-গান,
কোলাহল
করবে। তাদের কেউ যাবে মন্দিরে পুজো দিতে, কেউ যাবে মদ খেতে, কেউ যাবে পতিতাদের কাছে – সারা
বছরের পরিশ্রম থেকে মুক্তি নিয়ে কয়েকটি দিনের উপভোগ।
এই পুজো ও উৎসবের একটি দিনের অনবদ্য এবং নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যায়
তামিল কাব্য “মাদুরাই মালিকা” থেকে। এই কাব্যের রচয়িতার নাম জানা যায় না, কিন্তু তাঁকে সশ্রদ্ধ
প্রণাম জানাই,
এমন সুন্দর
সহজ একটি বর্ণনার জন্য। এই কাব্য খ্রিষ্টিয় দ্বিতীয় শতাব্দীর পাণ্ড্য রাজা
নেড়ুঞ্জেলিয়াণের সম্মানে লেখা হয়েছিল, সম্ভবতঃ আরো এক বা দুশ বছর পরে। এমন বাস্তব উৎসবের চিত্র
উত্তর ভারতের কাব্যে খুব কমই পাওয়া যায়।
“কবি বিশাল তোরণ পথে শহরে ঢুকলেন, তোরণের স্তম্ভে, খোদিত রয়েছে দেবী লক্ষ্মী[4]র মূর্তি। দেবীর সর্বাঙ্গ ঘিয়ে
প্রলিপ্ত। শহরবাসী তাঁকে এই সশ্রদ্ধ নৈবেদ্য দিয়েছে, কারণ এই দেবীই তাদের দিয়েছেন
শহরের নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি। সে দিনটা ছিল উৎসব পালনের দিন। মহান রাজার বিজয় ও
বীরত্বকে স্মরণ করার দিন। শহরের চারদিকে অজস্র বর্ণময় ধ্বজা উড়ছে, সেনাপতিদের গৃহের শিখরেও
ধ্বজা উড়ছে,
এমনকি তড্ডি[5] বিক্রেতাও মহানন্দে তার দোকানে
ধ্বজা ওড়াচ্ছে। প্রশস্ত রাস্তাগুলি দিয়ে আজ যেন মানুষের স্রোত বয়ে চলেছে। সকল
জাতির মানুষ,
বাজারে
বিকিকিনি করছে এবং আশ্চর্য সব বাদ্যযন্ত্রের তালে তারা গানও করছে।
বিশাল ঢাকের বাদ্য বাজিয়ে, একটি রাজকীয় শোভাযাত্রা এগিয়ে চলেছে পথে, সেই শোভাযাত্রায় আছে হাতি
এবং রথ – রথের ঘোড়াগুলি তেজ এবং শক্তিতে টগবগ করছে। তাদের পেছনে চলেছে বিজয়ী
পদাতিকের দল। চারদিকে শঙ্খ ধ্বনিত হচ্ছে।
মনে হচ্ছে,
বহুদিন
বেঁধে রাখা কোন এক অতিকায় পশু হঠাৎ যেন ছাড়া পেয়ে উত্তাল সমুদ্রে নাচিয়ে তুলছে
রণতরী – যতক্ষণ না তাকে আবার বন্দী করা যাবে, এই উদ্দীপনা থামবে না।
এর মধ্যেই পসারীরা মহোৎসাহে বিক্রি করে চলেছে তাদের পণ্য - মিষ্টান্ন, ফুলের মালা, সুগন্ধী রেণু এবং পানের
খিলি। বয়স্কা মহিলারা ঘরে ঘরে মেয়েদের কাছে বিক্রি করছেন পুষ্পস্তবক এবং নানা রঙের
পদক। অভিজাত মানুষেরা রথে চড়ে চলেছেন, তাঁদের পরনে উজ্জ্বল রঙিন বসন এবং অঙ্গে সুগন্ধী ফুলের
মালা। তাঁদের কটিবন্ধে সোনালী
তরবারী-কোষগুলি ঝলমল করছে সূর্যের আলোয়। নানান অলঙ্কারে ভূষিতা সুন্দরী পুরনারীরা
অলিন্দ ও গবাক্ষ থেকে রাজপথের শোভাযাত্রা লক্ষ্য করছেন।
বহু মানুষ মন্দিরে জড়ো হয়েছেন পুজো দিতে, তাঁরা সমবেত সুরে প্রার্থনা করছেন, পুষ্প ও মাল্যের নৈবেদ্য
নিবেদন করছেন দেবদেবীর চরণে, সাধুদের প্রণাম করছেন শ্রদ্ধায়। শিল্পীরা তাদের বিপণিতে
কাজ করছেন,
তাঁরা
শাঁখের বালা বানাচ্ছেন, স্বর্ণকার, তাম্রকার, পটশিল্পী, তন্তুবায় সকলেই এখন ব্যস্ত; ব্যস্ত বস্ত্র, ফুল, চন্দনের ব্যাপারীরাও।
খাবারের বিপণিগুলিতেও ব্যস্ততার বিরাম নেই – টাটকা সবজি, কাঁঠাল, আম, চিনির মঠ, রান্না করা ভাত এবং মাংস, কী নেই সেখানে!
সন্ধ্যায় শহরের বারবনিতারা নৃত্য ও গীতে মনোরঞ্জন করছে, তাদের প্রিয় নাগরদের।
তাদের গান ও বাঁশির সুরে রাজপথও যেন মত্ত হয়ে উঠেছে। মত্ত প্রাকৃতজন অতিরিক্ত পান
করে পথেই গড়াগড়ি দিচ্ছে, অভিজাত মহিলারা এসেছেন মন্দিরের সন্ধ্যারতি দেখতে, তাঁদের হাতে জ্বলন্ত দীপ
ও নৈবেদ্য,
তাঁদের
সঙ্গে রয়েছেন তাঁদের সখীবৃন্দ ও সন্তানেরা। তাঁদের নৃত্য ও মন্ত্রোচ্চারণে গমগম
করছে মন্দিরের নাটমণ্ডপ।
অবশেষে এল রাত্রি, নগর এখন নিদ্রামগ্ন – জেগে আছে শুধু প্রেত ও অশরীরি, আর সাহসী সিঁদকাটারা।
তাদের হাতে দড়ির মই, ছুরি, মাটির দেয়ালে গর্ত করার
ছেনি। কিন্তু নৈশ প্রহরীরাও সকলে সজাগ, নাগরিকরা নিশ্চিন্তেই নিশিযাপন করল নিজ নিজ গৃহে।
ভোর হল ব্রাহ্মণদের পবিত্র মন্ত্র উচ্চারণে। চারণ কবিরা পল্লীতে
পল্লীতে গান গেয়ে নতুন দিনের সূচনা করলেন। ব্যবসায়ীরা তাদের বিপণি খুলে পসরা
সাজাতে ব্যস্ত হয়ে উঠল। ভোরের পিপাসী রসিকদের জন্যে তড্ডি-বিক্রেতাও তার বিপণি
খুলেছে। মত্তজনেরা আবার টলতে লাগল, চিৎকারে ভরে তুলল রাজপথ। নগরের ঘরে ঘরে দরজা খোলার শব্দ।
মহিলারা বাড়ির অঙ্গন থেকে বিগত উৎসবের বাসি ফুল ঝাঁট দিয়ে সরাতে শুরু করলেন।
এভাবেই নগর আবার ফিরে গেল তার প্রাত্যহিক ব্যস্ততায়”। [Wonder that was India – A L
Basham -এর
গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত – অনুবাদ - লেখক।]
[1] রাজস্থানের
বিকানিরে কর্ণি মাতা মন্দিরে অজস্র পবিত্র মূষিক আজও পূজিত হয়।
[2] মৈনাক
হিমালয়ের পুত্র এবং শিব জায়া পার্বতীর ভ্রাতা। ছোট এই পর্বত নাকি উড়তেও
পারতেন।
[3] সারা ভারতে তামিল ভাষাই প্রথম আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাই একমাত্র এই ভাষাতেই প্রাক-আর্য কিছু নাম পাওয়া গিয়েছে।
[4] দেবী লক্ষ্মী আজও আমাদের সমৃদ্ধি দেন, কিন্তু সে সময় তিনি নিরাপত্তাও দিতেন। অতএব অনুমান করা যায়, খ্রিস্টিয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতাব্দীতে দক্ষিণ ভারতে দেবী লক্ষ্মী পূর্ণ দেবী রূপেই পূজিতা হতেন। পরবর্তীকালের হিন্দুধর্মে, তিনি নিরাপত্তার ব্যাপারটা তাঁর মাতা দেবী দুর্গার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।
[5] তড্ডি অর্থাৎ তাড়ি – তাল, খেজুর অথবা নারকেল গাছের রস থেকে বানানো মদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন