বড়োদের বড়োগল্প - " এক দুগুণে শূণ্য "
বড়োদের ছোট উপন্যাস - " অচিনপুরের বালাই "
বড়োদের ছোট উপন্যাস - " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "
বড়োদের নাটক - " চ্যালেঞ্জ - নাটক "
এর আগের রম্যকথা - " ভাগ্যের পাথর - পর্ব ২ "
এর আগের বড়োদের গল্প - " মহীরূহ "
ছোটকা ছাদে এসেছেন একটা সিগারেট খাবেন বলে। নীচেয়
আজ গুরুজনদের সমাবেশ। বৌদি কিংবা বড়দি, ছোড়দিরা ম্যানেজেব্ল্। কিন্তু দাদা, বড়জাঁইবু
ছোটজাঁইবু শুদ্ধ সাত্ত্বিক মানুষ। জীবনে কোনদিন পান-সুপুরিও দাঁতে কাটেননি।
সিগারেট-বিড়ি তো তাঁদের কাছে চরম অধঃপতনের সূত্রপাত। তাঁরা যদি ভাইকে
কিংবা ছোট শালাকে নাক-মুখ থেকে ফুঁ মেরে ধোঁয়া ছাড়তে দেখেন বা গন্ধ পান – ব্যস্। তাঁরা
গহন-গম্ভীর হিমালয় হয়ে যাবেন। হিমালয়ের ঝর্ণাগুলোও থমকে থমকে অশ্রু হয়ে নামবে
নিঃশব্দে।
কিন্তু ছাদে এসেও শান্তি নেই মনে হচ্ছে। ঠোঁটে
সিগারেট নিয়ে ছোটকা সবে দেশলাই জ্বালাতে যাবেন, তাঁর কানে এল ভাইঝি লিলির চাপা
কণ্ঠস্বর। লিলি বড়দার একমাত্র কন্যা, ভাল নাম আনন্দিতা। দেশলাই জ্বালালেন না, পাছে
লিলির আলাপে বিঘ্ন ঘটে। সন্তর্পণে এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, চিলেকোঠা ঘরের বাইরে এককোনায়
দাঁড়িয়ে লিলি ফোনে কথা বলছে। পিছন ফিরে থাকায় ছোটকাকে দেখতে পেল না, ছোটকাও দেখা
দিলেন না। আড়ালে দাঁড়িয়ে উৎকর্ণ হলেন। ফোনে অন্যপ্রান্তের কথা শুনতে পেলেন না, একা
লিলির কথাতেই তিনি মন দিলেন।
“আজ আমাদের বাড়িতে সবাই আসবে তোকে বলিনি? আজ সকালে
তোর ফোন ধরতে পারব না, বলিনি?” “তাহলে? সকাল থেকে তুই চারবার ফোন করেছিস। কেন?
কিসের জন্যে?” “দ্যাখ, তোর ওই আদিখ্যেতার কথা অনেক শুনেছি। একই কথা আবার বলার
জন্যে কেন ফোন করছিস, বারবার?” “কাল সারারাত তোর ঘুম হয়নি তো আমি কী করব? আমি গিয়ে
আম্রুতাঞ্জন মাখিয়ে তোর মাথা টিপে...”। “শোন, ঝাঁপান। সবার আগে একটা চাকরি চাই। মাস-পয়লায়
নিয়মিত কিছু টাকার আমদানি চাই। চাল-ডাল-নুন-তেল-গ্যাস চাই”। “আমি চাকরি করছি, তাতে
তোর কী? তুই কি আমার ঘাড়ে বসে খাবি নাকি?” “দ্যাখ, মায়েরা ঘর সামলাতেন আর বাবারা
রোজগার করতেন সে সব জমানা চলে গেছে”। “হ্যাঁ মায়েরা গৃহিণী – হোম-মেকার হতেন, তো?”
“তুই গৃহস্বামী হয়ে ঘর সামলাবি, আর আমি চাকরি করে... বাঃ অ্যাদ্দিনে তোর চরিত্রটা
বোঝা গেল। তুই ঢ্যাঁড়স একটা, তুই... তুই বুনো ওল একটা। খেতেও অখাদ্য, তার ওপর গলা
চুলকোয়। যাগ্গে অনেকক্ষণ হল, ছাদে এসেছি। আমি নীচেয় যাচ্ছি। মা, পিসিমারা সন্দেহ
করবেন”।
লিলি ফোনটা কেটে দিয়ে পিছন ফিরতেই ছোটকাকে দেখতে
পেল। ধরা পড়ে যাওয়া ফ্যাকাসে মুখে জিগ্গেস করল, “ছোটকা, তুমি? কতক্ষণ এসেছ ছাদে”?
ছোটকা খুব শান্তভাবে সিগারেটটা ধরিয়ে, লিলির
মুখের দিকে তাকিয়ে জিগ্গেস করলেন, “ঝাঁপানের জন্মদিন চৈত্র সংক্রান্তির দিন। তাই
না? এই সব ছেলেপুলেরা হয় শিরে-সংক্রান্তি নিয়ে আসে, নয়তো ক্রান্তিকারী হয়ে ওঠে।”
লিলি প্রায় চিৎকার করে বলে উঠল, “ছোটকা তুমি তার
মানে সব শুনেছ...এম্মা, আমি নীচেয় যাচ্ছি...মা ডাকছেন”।
ছোটকা গম্ভীর গলায় বললেন, “এখান থেকে এক পা নড়ে
দ্যাখ, আগে আমি তোর ঠ্যাং ভাঙবো। বৌদির সঙ্গে বোঝাপড়াটা তার পরে সেরে নেব। কিন্তু ছেলেটি
কে?”
“ছেলে কোথায়? ও তো আমার বান্ধবী”।
“বলিস কী? তার মানে সমকামী প্রেম? তোর বান্ধবী
তোকে বিয়ে করে, তোর গৃহস্বামী হতে চায়? বয়ফ্রেণ্ড হলে ব্যাপারটা ম্যানেজ করতে আমার
অসুবিধে হত না, কিন্তু গার্লফ্রেণ্ড হলে আমাকে অনেক বেশি কাঠ-খড় পোড়াতে হবে, সমাজ
এখনও অতটা, বিশেষ করে তোর বাবা-মা, পিসিমারা এখনও অতটা প্রগ্রেসিভ হয়ে উঠতে পারেননি,
রে...। যাগ্গে গুপ্তকথা যা আছে, এই বেলা বলে ফেল”।
লিলি ছোটকার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। এই
মানুষটাকে সে বাবার মতোই শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে কিন্তু ভয় করে না। আশৈশব এই কাকুর
কাছে কত যে প্রশ্রয় আর আদর পেয়েছে। এককথায় কাকুই তার হিরো। তার মনে হল, তার
পরিবারে কাকুর যে অবস্থান, তাতে এই এক কাকুই তাকে উদ্ধার করতে পারেন এই সঙ্কট
থেকে। কাকু এ বাড়িতে সকলের ছোট হলেও, গুরুজনেরা কাকুকে সমীহ করেন, কিছু বললে না
করতে পারবেন না কেউই। মেঝেতে পায়ের বুড়ো আঙুল ঘষতে ঘষতে, মুখ নামিয়ে লিলি বলল,
“ঝাঁপান আর আমি একই কলেজে পড়ছি। আমার থেকে এক ক্লাসের সিনিয়র”।
“মানে সিনিয়র দিদি?”
“যাঃ, ছেলে... দিদি হবে কেন?”
“অ, তাই বুঝি? একটু আগেই যেন বললি তোর বান্ধবী?
আমি কি ভুল শুনলাম”? সিগারেটটা মেঝেয় ফেলে
চটির তলা দিয়ে নিভিয়ে, লিলির মুখের দিকে ছোটকা এমন তাকালেন, লিলির মনে হল তার
সামনে উত্তমকুমার দাঁড়িয়ে আছেন। সেই ঠোঁটের কোনে হাল্কা হাসি। সেই চাউনি। ছোটকা
জিগ্গেস করলেন, “তা, ওই ইয়ে, মানে বুনো ওল বা ঢ্যাঁড়স বা ঝাঁপান, কী করে?”
এবার লিলি নিশ্চিন্তে ছোটকার কাছে আত্মসমর্পণ করে
বলল, “ওটাই তো সমস্যা - এমএসসি করে বসে আছে, কোন চাকরি পাচ্ছে না।”
“বলিস কী? ইতিহাসে এমএ করে তুই চাকরি পেয়ে গেলি, আর
এদিকে সায়েন্সের এমন দুরবস্থা? কী সাবজেক্ট?”
“কেমিস্ট্রি”।
“কেমিস্ট্রি? আচ্ছা? ভেরিগুড। তা লিলিসোনা তুমি
ঝাঁপানের জীবনে কি সত্যিই ঝাঁপ মারতে চাও? নাকি বুনো ওলের মতো তাকে ত্যাগ করতে
চাও”। লিলির চোখ ছলছল করে উঠল, কাকুর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি তো চাই। তিন
বচ্ছর হয়ে গেল ও চাকরি পাচ্ছে না, এদিকে বাবা-মা আমার বিয়ের জন্যে তাড়া দিচ্ছেন।
ওর কোথাও একটা চাকরি হলে...”।
“হুঁ” বলে ছোটকা হাত বাড়িয়ে লিলির ডান কানটি মলতে
মলতে বললেন, “সবই তো বুঝলাম, মা। কথাগুলো এতদিন বলা হয়নি কেন? আমাকে না পারিস,
কাকিমাকে বলতে কী হয়েছিল? তাহলে আজকের এই ঝামেলাগুলো পাকতেই দিতাম না। যাগ্গে,
তোর ওই ঢ্যাঁড়শটিকে বলে দে, একটা সিভি আর সমস্ত সার্টিফিকেটের কপি নিয়ে, আজই বিকেল
চারটে-সাড়ে চারটে নাগাদ আমার সঙ্গে যেন দেখা করতে আসে। তুই ফোন করেই নীচেয় আয়, আমি
যাচ্ছি”।
ফিক করে হেসে ফেলে লিলি ডান কানে হাত বোলাতে
বোলাতে বলল, “কাকু, ওর ভালো নাম ঋচীক, ঝাঁপানটা ডাক নাম। কিন্তু চোত সংক্রান্তিতে
ওর জন্ম কী করে জানলে?” ছোটকা কোন উত্তর না দিয়ে উত্তমকুমারসুলভ এক টুকরো হাসি নিয়ে
সিঁড়ি বেয়ে নীচেয় নেমে গেলেন।
লিলিদের বাড়িতে আজ এই আত্মীয় সমাগম লিলির কারণেই।
বড়দা-বৌদি অর্থাৎ লিলির বাবা-মা আর দেরি না করে, লিলির বিয়ে দিতে চাইছেন। সেই
সূত্রেই দু’সপ্তাহ আগে রবিবারের কাগজে “পাত্র চাই” কলামে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সেই
বিজ্ঞাপনের উত্তরে গতকাল অব্দি বাহাত্তরটি উত্তর এসেছে। আজ সকাল থেকে পারিবারিক
সমাবেশে তার থেকে মাত্র ছটি বিজ্ঞাপন নির্বাচিত হয়েছে। এবার সেই ছটি চিঠির উত্তর
দেওয়া থেকে পরবর্তী সকল কর্মবিধির দায়িত্ব ন্যস্ত হয়েছে সুতো অর্থাৎ সুতীর্থর ওপর।
এই সুতীর্থই লিলির প্রিয় ছোটকা। কেমিস্ট্রির নামকরা অধ্যাপক, রাসায়নিক শিল্পজগতের
সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ রসায়ন।
মধ্যাহ্ন ভোজের সময় দুই ভাই এবং দুই ভগ্নীপতি একত্রে
খেতে বসেছিলেন। মেয়েরা বসবেন পরে। আহারের শেষ পর্বে বড়ো জাঁইবাবু বললেন, “সামনের
বোশেখেই দিনস্থির করে ফেলুন, দাদা। সেই সুতোর বিয়ের পর অনেকদিন এ বাড়িতে কোন শুভকাজ
হয়নি”।
অমায়িক বড়দা বললেন, “তোমরা সবাই সঙ্গে থাকলে আমার
আর ভাবনা কি?”
সুতো চাটনির বাটি চাঁটতে চাঁটতে বলল, “জাঁইবু, বাহাত্তরটি
থেকে ছটি ছেলেকে আমরা শর্ট-লিস্ট করলাম ঠিকই, কিন্তু মন থেকে যেন সায় পাচ্ছি না।
চেনা নেই, জানা নেই, আজকাল কতরকমের অঘটন হচ্ছে, ভয় লাগে খুব”।
“সে কথা তো একশবার, লিলির এমন কিছু বয়সও হয়নি।
চাকরি করছে। সবদিক বিবেচনার জন্যে আরেকটু সময় আমরা নিতেই পারি”। ছোটজাঁইবু সুতোকে
সমর্থনই করলেন।
সুতো বললেন, “আমাদের পরিচিত-পরিজনদের মধ্যে ভালো
ছেলে কী পাওয়া যাবে না, দাদা?”
লিলির পিতৃদেব বললেন, “দেখ, না। দেখতে তো ক্ষতি
নেই কোন।” সুতো বললেন, “তাহলে এই ছটি ছেলেকে আমি সাত-দশ দিনের জন্যে হোল্ডে রাখছি,
দেখা যাক এর মধ্যে কিছু ঘটে কিনা”। সকলেই সম্মত হলেন, এবং আহার পর্ব সমাধা করে, লিলির
পিতৃদেব বললেন, “বেলা হল অনেক, মেয়েরা এবার বসে যাও”।
চারটে পনেরোতে লিলির ফোনটা বেজে উঠতেই, লিলি
কাকিমাকে বলল, “এসে গেছে, কাকিমা”। লিলি কাকু-কাকিমার ঘরেই ছিল। কাকু গম্ভীর হয়ে বললেন,
“যা গিয়ে নিয়ে আয়। কিন্তু একটা কথা আমি যখন আলাপ করব, কেউ কোন কথা বলতে পারবে না, লিলিও
না। ফিচ-ফিচ নাকে কান্না একদম বরদাস্ত করব না”। লিলি দৌড়ে নীচে গিয়ে, সন্তর্পণে
কাকুর ঘরে নিয়ে এল ঝাঁপানকে।
একটু নার্ভাস, তবে মোটামুটি সপ্রতিভ ছেলেটিকে
কাকুর ভালই লাগল। ঝাঁপান কাকু ও কাকিমাকে প্রণাম করে দাঁড়িয়ে রইল চুপটি করে। লিলি গিয়ে
বসল কাকিমার পাশে। কাকু গম্ভীর গলায় বললেন, “তোমার সিভি আর সার্টিফিকেটগুলো এনেছ?”
ঝাঁপান হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিল কাগজগুলো। কাকু মন দিয়ে দেখলেন তারপর বললেন, “তোমাকে ঠিকানা
দিয়ে একজনের কাছে পাঠাবো। আগামীকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ। আশা করি চাকরিটা তোমার হয়ে
যাবে”।
মাখোমাখো গলায় ঝাঁপান বলল, “থ্যাংকিউ স্যার, আপনার
এই ঋণ শোধ করা যাবে না...অনেক অনেক থ্যাংকিউ”।
উদাস চোখে ঝাঁপানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “উঁহুঁ, ঋণ
শোধ করা যাবে না, এমন নয় – এটুকু ঋণ শোধের অনেক উপায় আছে”।
ঝাঁপান কিছু বলল না। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ছোটকার
দিকে।
ছোটকা গম্ভীর গলায় বললেন, “ছোট্ট একটা শর্ত। চাকরিটি
পেয়ে আমার এই ভাইঝিটির সঙ্গে তোমার সব সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে - ব্যস্ তাহলেই তোমার
ঋণ শোধ”। কাকুর কথায় কাকিমা এবং লিলি চমকে গেল। কিন্তু কিছু বলা যাবে না, কাকু
আগেই বলে দিয়েছিলেন।
কাকু আবার বললেন, “লিলির বিয়ের কথাবার্তা মোটামুটি
পাকা হয়ে গেছে। হয়তো সামনের বোশেখেই...খুব ভালো ছেলে, দুর্দান্ত কেরিয়ার। সে
পাত্রটিকে আমরা কোনভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না”।
কাকু লক্ষ্য করলেন, ঝাঁপানের মুখ বিষণ্ণ হয়ে উঠল।
কিছুক্ষণ পরে উত্তর দিল, “তাহলে স্যার, আপনার দেওয়া চাকরিটি আমি চাই না”।
কাকু রেগে গিয়ে সোজা হয়ে বসলেন, কর্কশ কাকের কণ্ঠে
বললেন, “তুমি জান, তুমি কী বলছো? একটি মেয়ের জন্যে নিজের জীবনটাকে শেষ করে দিতে
চাও”? কাকু এখন আর উত্তমকুমার নন, যেন কমল মিত্র।
ঝাঁপান ম্লান মুখে গভীর আবেগের সঙ্গে বলল, “লিলিকে
না পেলে শুধু আমার জীবন নয়, আমার বাবা-মার জীবনগুলিও ধূলি হয়ে যাবে, স্যার”। স্তম্ভিত
হয়ে কাকু ঝাঁপানের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন, ঝাঁপান আবার বলল, “আগামীকাল সকাল
দশটায় আর দুপুর আড়াইটেতে দুটো ইন্টারভিউ আছে, একটা না একটা লেগে যাবেই, স্যার।
তারপরে আমি আবার আসব। আমার বাবা-মাও আসবেন স্যার”।
কাকু কমল মিত্রর মতোই বললেন, “এর আগে কটা
ইন্টারভিউ দিয়েছ? সেগুলোর মতো এ দুটোও যদি
না হয়?” ঝাঁপান উত্তর দিল, “তা হোক স্যার। কিন্তু লিলির বিনিময়ে কোন চাকরিই আমি
নিতে পারব না”। ঝাঁপান কাগজপত্র গুছিয়ে নিয়ে হাত তুলে নমস্কার করে বলল, “আসছি,
স্যার”।
কাকু কিছু বললেন না, ঝাঁপান পিছন ফিরে দরজার দিকে
এগিয়ে গেল। কাকু কাকিমা আর লিলির অবাক স্তম্ভিত মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
তারপর বললেন, “ওহে বুনো ওল ঝাঁপানচন্দ্র, চললে কোথায়?”
ঝাঁপান অবাক হয়ে কাকুর মুখের দিকে ফিরে তাকাল।
কাকুর মুখে আশ্চর্য হাসি, বললেন, “রাগ করে চললে কোথায়? বসো, বসো, সেই থেকে তো দাঁড়িয়েই
রইলে”। ঝাঁপান অত্যন্ত সংকোচের সঙ্গে বিস্মিত মুখে চেয়ারে বসল, তার নিতম্বের অতি
সামান্য অংশই চেয়ারে ঠেকে রইল, অধিকাংশই ঝুলে রইল বাইরে। কাকু বললেন, “আচ্ছা,
তোমার ওই ঝাঁপান নামটা কে রেখেছিলেন বলো তো?”
ঝাঁপান আরো বিব্রত হয়ে বলল, “আমার ঠাকুমা, স্যার।
চৈত্র সংক্রান্তির দিন জন্মেছিলাম। আমাদের ওদিকে ঝাঁপান বলে, এদিকে বলে গাজন”।
কাকু আবার চোখ ছোট করে মুখ কুঁচকে বললেন, ““আনন্দিতা
ওয়েড্স্ ঝাঁপান”, তোমাদের বিয়েতে এরকম একটা ব্যানার ঝোলালে, লোকের মধ্যে কী রকম
প্রতিক্রিয়া হবে, বুঝতে পারছো? যাদের নিমন্ত্রণ নেই, সেই সব উটকো লোকেই বাড়ি ভরে
উঠবে”।
ঝাঁপান এবং লিলি দুজনেই অভিভূত। লিলি মুখ লুকোলো কাকিমার
পিঠে। কাকিমা লিলিকে টেনে নিলেন বুকে। ঝাঁপান কিছুক্ষণ সময় নিল নিজেকে সামলাতে,
তারপর বলল, “আমার ভালো নাম স্যার ঋচীক”।
কাকু স্মিত মুখে বললেন, “আই নো, ঝাঁপান। তোমার সিভি, সার্টিফিকেট দেখেছি। সকালে লিলিও বলেছিল। বাট আই লাইক ঝাঁপান। একটা ইন্ডিজেনাস উৎসবের স্মৃতি। একটা অরিজিনাল নাম”। কাকু ঝাঁপানের থেকে সিভিটা আরেকবার নিয়ে, তার ওপরে অফিসের নাম ঠিকানা লিখে, সই করে দিলেন। তারপর বললেন, “এই অফিসে গিয়ে এটা দেখাবে। তারপর কী হয় লিলিকে জানাবে, আমি জেনে যাব”।
--00--