বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

ভাগবত পুরাণ - পর্ব ৩/৩

  এই সূত্রে - "  ঈশোপনিষদ

এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "

এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২

এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১

এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "

এই সূত্র থেকে শুরু - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১


  আগের পর্ব - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ৩/২ "


  তৃতীয় স্কন্ধ - তৃতীয় পর্ব

 সৃজনেচ্ছায় শ্রীব্রহ্মার বিষ্ণুস্তব

শ্রীব্রহ্মা স্তব করতে করতে বললেন, “হে ভগবান, দীর্ঘ উপাসনার পর আপনার দর্শন পেয়ে আমি ধন্য হলাম। হে প্রভু, আপনি ছাড়া এই জগতে কোন বস্তুর অস্তিত্বই নেই। জীবের ধারণায় এই জগতের যা কিছু আছে বলে মনে হয়, সে সবই ভ্রম; আসলে আপনিই আপনার মায়ার প্রভাবে সর্বরূপে প্রকাশ হয়েছেন। আপনি আমার মতো ভক্তজনের প্রতি করুণা করে প্রথম যে রূপে প্রকাশিত হলেন, সেই রূপই শুদ্ধসত্ত্বময় অনন্ত অবতারের বীজস্বরূপ। এই রূপের নাভিকমলভবন থেকেই আমার আবির্ভাব হয়েছে। আপনার এই মূর্তিই আপনার উপাস্য সকল মূর্তির মধ্যে মুখ্য। আপনার এই রূপ থেকেই বিশ্বের সৃষ্টি হয়ে থাকে, সুতরাং আপনার এই রূপ সমগ্র জগতের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং সমস্ত ভূত ও ইন্দ্রিয়সমূহের কারণস্বরূপ। অতএব আমি আপনার এই মূর্তির আশ্রয় নিলাম।

হে ভগবান, আপনার এই রূপ সচ্চিদানন্দস্বরূপ। আপনাকে আমি বারবার প্রণাম করি। যারা আপনার এই রূপের অসম্মান করে, তারা ঈশ্বরহীন নাস্তিক, তারা কুতর্কে সময় নষ্ট করে এবং পরিণতিতে নরকে যায়। বেদরূপ বাতাস আপনার চরণকমলের গন্ধ বহন করে থাকে, যে ভক্ত বেদ শোনার সময় তার কানে এই গন্ধ অনুভব করতে পারে সেই ধন্য; সেই ভক্তরাই পরাভক্তিতে আপনার শ্রীচরণে আশ্রয় পায়। হে প্রভু, আপনি আপনার এই ভক্তদের অন্তরে সর্বদা বিরাজ করতে থাকুন। জীব যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার চরণে আশ্রয় না নেয়, তার মন ধন, জন ও মৃত্যুর ভয়ে আচ্ছন্ন থাকে। সাধারণ জীবের কথা তো বলাই বাহুল্য, আপনার প্রতি ভক্তিহীন হলে, জ্ঞানী ঋষিরাও সংসারের  সকল কষ্ট ভোগ করে থাকে।

হে ভগবান, জীব যজ্ঞ, দান, তপস্যা ও সেবা দিয়েই আপনার প্রীতিলাভের চেষ্টা করবে, কারণ আপনার প্রীতিলাভই জীবের সবচেয়ে কাম্য ফল। আপনি পরমেশ্বর, যে মায়ায় এই নিখিল বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় ঘটে চলেছে, সে সবই আপনার লীলা। আমি আপনাকেই প্রণাম করি। হে প্রভু, আপনিই কালস্বরূপ, আপনাকে প্রণাম করি। অন্যের কথা আর কি বলব, আমি নিজে সত্যলোকে বাস করেও কালকে ভয় পাই আর সেই ভয় থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়, আপনার প্রীতি লাভের জন্যে বহু তপস্যা ও যজ্ঞের অনুষ্ঠান করি

হে পুরুষোত্তম, আপনাকে প্রণাম করি। অজ্ঞান, দেহাত্মজ্ঞান, বিষয়াসক্তি, দ্বেষ ও মৃত্যুভয় এই পাঁচটি অবিদ্যার বৃত্তি। এই বৃত্তিই জীবকে মোহে আচ্ছন্ন করে রাখে। আপনি নিজে এই পাঁচটি বৃত্তি থেকেই মুক্তকিন্তু পূর্বকল্পের সমস্ত জীবের বিশ্রামের জন্যে, এই ভীষণ তরঙ্গসংকুল কারণ সমুদ্রে নাগশয্যায় আপনি যোগনিদ্রায় শুয়ে ছিলেন, আপনার অন্তরে লীন হয়েছিল সমস্ত জগতের লোক পরম্পরা। এখন তিন লোকের আরও একবার সৃষ্টির জন্যেই আমি আপনার নাভিকমল থেকে আবির্ভূত হয়েছিআপনি যে জ্ঞান ও ঐশ্বর্য দিয়ে জগতের সুখ বিধান করছেন, আমার প্রজ্ঞাকেও তার সঙ্গে যুক্ত করুন। আগের অন্যান্য কল্পের মতোই আমার মধ্যে সৃষ্টির শক্তি সঞ্চার করুন”

ব্রহ্মার এই অনুরোধ শুনে, শ্রী নারায়ণ বললেন, “হে বেদগর্ভ ব্রহ্মা, সৃষ্টির জন্যে উদ্যোগী হও। তুমি আমার কাছে এখন যা প্রার্থনা করেছ, তা আমি আগে থেকেই সম্পূর্ণ করে রেখেছি। তুমি আবার আমার বিষয়ে তপস্যা ও উপাসনা করো। এই তপস্যায় তুমি নিজের অন্তরেই সমস্ত লোক খুব স্পষ্ট দেখতে পাবে। তোমার ভক্তিযুক্ত হৃদয়ের মধ্যেই তুমি দেখতে পাবে তোমার অন্তরে এবং এই নিখিল বিশ্বের সর্বত্র আমিই ব্যাপ্ত আছি। আর সমস্ত জগত ও সমস্ত জীবও আমার মধ্যেই অবস্থান করে থাকেহে ব্রহ্মা, তোমার প্রতি আমার অশেষ করুণা, এই করুণা প্রভাবে প্রজা সৃষ্টির সময় তোমার মন কোন সময়েই অবসন্ন হবে না। তুমিই জগতের আদ্য ঋষি। রজোগুণের প্রভাবে তুমি প্রজাসৃষ্টিতে ব্যস্ত থাকলেও, তোমার মন সর্বদা আমাতেই নিযুক্ত থাকবে, অতএব রজোগুণে তোমার মন বিক্ষিপ্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। তুমি আজ যে আমাকে ভূত, ইন্দ্রিয় ও সত্ত্ব ইত্যাদি তিনগুণ রহিত এবং অহংকার শূণ্য বললে, তুমি সত্যিই আমার স্বরূপ বুঝতে পেরেছ। আমার প্রতি তোমার এই উপলব্ধি, দেহী জীবের পক্ষে অত্যন্ত দুর্বোধ্য।

যখন তুমি পদ্মের অবস্থান সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পদ্মনালের মধ্যে ব্যর্থ অনুসন্ধান করে নিরস্ত হলে, সেই সময়েই আমি তোমার অন্তরে আমার স্বরূপ তোমাকে দেখালাম। হে পদ্মাসন ব্রহ্মা, একমাত্র আমার চিন্তাই অভ্যুদয়, সকল মঙ্গলের একমাত্র উপায়। আমি লোক সৃষ্টির জন্যে আমার যে রূপ তোমার কাছে আজ প্রকাশ করলাম, সে রূপ রজোগুণের মায়া। কিন্তু আমি যে আসলে নির্গুণ এবং ত্রিগুণের অতীত, তোমার সেই উপলব্ধিতে আমি খুশি হয়েছি, তোমার মঙ্গল হোক। যে ব্যক্তি আমার স্তুতি করে, নিত্য আমার ভজনা করে, আমি তার উপর প্রীত হয়ে থাকি। জ্ঞানীরা বলেন, সমস্ত সৎকর্ম সাধন করলে যে ফল লাভ হয়, তার মধ্যে আমার প্রীতি লাভই সর্বশ্রেষ্ঠ ফল। আমার প্রীতিলাভ ছাড়া সমস্ত ফলই ব্যর্থ হয়ে যায়।

হে ব্রহ্মা, সমস্ত জীবের আমিই আত্মা। অতএব আমি সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ এবং জীবের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। জীবের কাছে দেহ, আত্মার জন্যেই প্রিয় হয়ে থাকে  অতএব, আমার প্রতি অনুরক্ত হওয়া প্রত্যেকটি জীবের পক্ষেই মঙ্গলকর। আমার থেকেই তুমি সৃষ্টি হয়েছ, তুমি সর্ববেদময়, তুমি অসীম ক্রিয়াশক্তি ও জ্ঞানশক্তির আধার। আর কোন উপদেশ বা নির্দেশের তোমার কোন প্রয়োজন হবে না। তুমি স্বাধীনভাবে, নিরপেক্ষ থেকে এই ত্রিলোক এবং আমার মধ্যে যে সকল জীব লীন হয়ে আছে, তাদের সকলকে আগেকার কল্পের মতোই আবার জীবন দান করো। এই আমার ইচ্ছা”

[ভাগবত পুরাণের বিশ্বসৃষ্টি তত্ত্বে ব্রহ্মা হলেন বিষ্ণুর অধীনস্থ সৃজন কর্তা, কিন্তু এখানে শিবঠাকুরের কোন ভূমিকাই নেই। কারণ এটি শ্রীবিষ্ণুর মহিমা কীর্তনের গ্রন্থ। এর পরেও এই গ্রন্থে আমরা দেখব, স্থানে স্থানে শিবঠাকুরকে বেশ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যই করা হয়েছে। 

আবার শিবঠাকুরের পুরাণগুলিতে দেখতে পাওয়া যায় উল্টো চিত্র। সেখানে বিশ্বসৃজনের মুখ্য দেবতা শ্রী মহাদেব এবং শ্রীবিষ্ণু ও ব্রহ্মা তাঁর অধীনস্থ সৃজনকর্তা। বেশ মজার ব্যাপার না? জনগণের মনে নিজ নিজ গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠার জন্যে ভক্তরা কত না মজাদার গল্প মাথা খাটিয়ে রচনা করেছিলেন!!]          


ব্রহ্মার বিশ্ব সৃজন  

শ্রীমৈত্রেয় বললেন, “ভগবান শ্রীনারায়ণ ব্রহ্মার কাছে সৃজনের সকল বিষয় প্রকাশ করে অন্তর্হিত হলেন। শ্রীনারায়ণের নির্দেশে, ব্রহ্মা শ্রীবিষ্ণুতেই চিন্তা নিযুক্ত হয়ে আবার শত বছরের তপস্যায় ডুবে গেলেন। সুদীর্ঘ তপস্যার পর তিনি চোখ মেলে দেখলেন তিনি যে পদ্মের উপর বসে রয়েছেন তার চারপাশের জল বাতাসের স্পর্শে তরঙ্গ সংকুল। তিনি চিন্তা করলেন, আগেকার কল্পের মতোই আমি তিন লোক সৃষ্টি করবো। তিনি বেড়ে ওঠা জলকে শোষণ করে নিলেন, বাতাসকে সংযত করলেন। জল শুধুমাত্র সমুদ্রের মধ্যেই সীমিত হয়ে রইল, প্রকাশ পেল স্থলভাগ। তারপর তিনি দেখলেন, যে পদ্মে তিনি বসে রয়েছেন, সেই পদ্ম বিপুল আকার নিয়ে আকাশময় ব্যাপ্ত রয়েছে। ব্রহ্মা সেই পদ্মকোষে প্রবেশ করে চিন্তা করলেন, এই পদ্মকোষকেই আমি তিন লোকে বিভক্ত করে নেব। সেই পদ্মকোষের আকার এতই বিপুল যে, সেই পদ্মকোষ থেকে চোদ্দ ভুবন, সূর্য্য, চন্দ্র, নক্ষত্র সকলই সৃষ্টি করা সম্ভব। এই ত্রিলোক জীবের কর্ম ও ফল ভোগের স্থান, প্রতি কল্পে এই তিন লোক ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রতি কল্পের শুরুতে এই তিন লোকের সৃষ্টি হয়, আবার কল্পান্তে এই তিন লোকের বিনাশ ঘটে। কিন্তু মহঃ, জন, তপঃ ও সত্য নামে আরও চারটি লোকে বাস করেন নিষ্কাম কর্মের ফলভাগী ব্যক্তিরা। এই চার লোকের বিনাশ হয় না, এই লোকবাসীরা কল্পান্তে মুক্তি লাভ করেন।

 ভিন্ন ভিন্ন কালে ভিন্ন ভিন্ন সৃষ্টি ঘটে থাকে। এই সৃষ্টির পিছনে কালের অসীম প্রভাবঈশ্বর স্বয়ং সৃষ্টির কর্তা হলেও, এই কালকে অবলম্বন করেই তিনি বিশ্বরূপে সৃষ্টি করে থাকেন। এই কালের কোন মূর্তি নেই, শুরু নেই, শেষ নেই। এই বিশ্বের প্রবাহ কালেরই কার্য্য, এই কাল আগে যেমন ছিল ভবিষ্যতেও তেমন থাকবে।

এই বিশ্বের সৃষ্টি নয় প্রকার। এই নয় রকম সৃষ্টি ছাড়াও আরেক রকম সৃষ্টি আছে, তাকে দশম সৃষ্টি বলে। এই দশম সৃষ্টিও প্রাকৃত ও বৈকৃতভাবে দু রকমের হয়। আবার প্রলয় তিন ধরনের হয়। কালের নিয়মে যে প্রলয় ঘটে থাকে, তাকে নিত্য প্রলয় বলে। বিষয়ের জন্য যে প্রলয় ঘটে তাকে বলে নৈমিত্তিক প্রলয়। আর সত্ত্ব, রজঃ ও তম তিনগুণ যখন নিজেদের কার্যকে গ্রাস করে, সেই প্রলয়কে বলে প্রাকৃতিক।

তিনগুণের অতীত শ্রীভগবান, প্রথম যখন তিনগুণের সংশ্লেষ করেন, তাকেই আদ্য সৃষ্টি বলে। দ্রব্য, জ্ঞান ও ক্রিয়ার প্রকাশ ঘটে দ্বিতীয় সৃষ্টিতে, এই সৃষ্টির সঙ্গেই অহংকারতত্ত্বের শুরু। তৃতীয়ে সূক্ষ্মভূতের সৃষ্টি হয়, এই সূক্ষ্মভূত থেকেই মহাভূতের উৎপত্তি ঘটে থাকে। চতুর্থে সৃষ্টি হয় জ্ঞান ও কর্মের ইন্দ্রিয়সমূহ। পঞ্চম সৃষ্টিতে সাত্ত্বিক অহংকার থেকে ইন্দ্রিয়ের সঞ্চালক মনের আবির্ভাব হয়। ঈশ্বরের মায়ায় জীবের মনে মোহ ও বিক্ষেপ সৃষ্টি করে যে অবিদ্যা, এই অবিদ্যাই ষষ্ঠ সৃষ্টি। এই ছয়টি সৃষ্টিকে বলে প্রাকৃত সৃষ্টি।

বৈকৃত সৃষ্টির মধ্যে ছয় প্রকার স্থাবর সৃষ্টি হয়, এই সৃষ্টিই সপ্তম। ছটি স্থাবরের বর্ণনা এই রকম – যাদের ফুল হয় না কিন্তু ফল হয়, তাদের বলে বনষ্পতি। যাদের ফল পরিণত হবার পর বিনাশ হয়, তাদের নাম ওষধি। যাদের সার শুধুমাত্র ত্বকে তাদের বলে বেণু। যারা অন্য বৃক্ষতে আশ্রয় নেয়, তারা লতা। যারা অন্য বৃক্ষে আরোহণ করে না, তারা বীরুধ। যাদের ফুল থেকে ফলের সৃষ্টি হয় তারা দ্রুম। এ ছয়টি স্থাবরের আহার সঞ্চার হয় উপরিভাগে। এদের চৈতন্য অব্যক্ত থাকে, এরা বাইরে নয়, অন্তরে স্পর্শ অনুভব করতে পারে।

 অষ্টম সৃষ্টি হল তির্য্যক জাতি। এই জাতীয় প্রাণীগণের ভবিষ্যৎ জ্ঞান থাকে না। এদের বর্তমান ব্যস্ততা শুধু আহার সংগ্রহে এবং আহারের সন্ধানে ঘ্রাণশক্তির উপরই সর্বদা নির্ভর করে। এই প্রাণীদের আঠাশটি প্রকার আছে। দুই ক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণী, যেমন গরু, ছাগল, মোষ, হরিণ, শুয়োর, গবয়, রুরু, মেষ, উট ইত্যাদি। এক ক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণী, যেমন ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, নীলগাই, চমরী, হরিণ ইত্যাদিপঞ্চনখ প্রাণী, যেমন কুকুর, শৃগাল, নেকড়ে, বাঘ, বিড়াল, খরগোশ, (শল্লক) ভালুক , সিংহ, বাঁদর, হাতি, কচ্ছপ, গোধা। যে প্রাণিরা স্থলে বাস করে না, জলে বাস করে, যেমন মকর, মৎস্য ইত্যাদি। যারা আকাশে উড়তে পারে, যেমন শকুন, বক, চিল, ভাস, ময়ূর, হাঁস, সারস, কাক, পেঁচা ইত্যাদি।

নবম সৃষ্টি হল মানুষ। মানুষের নীচের দিকে আহার সঞ্চার হয় তাই মানুষকে অর্বাকস্রোতা বলে। মানুষের রজঃগুণ প্রধান, এরা দুঃখকে সুখ বলে মনে করে।

দশম সৃষ্টির দুই ভাগ, প্রাকৃত ও বৈকৃত। প্রাকৃত সৃষ্টি দেবতারা, যাঁরা দেবতত্ত্বসমূহের অধিষ্ঠাত্রী। আর যে দেবতারা, এঁদের চেয়ে কম, তাদের বৈকৃত সৃষ্টি বলা হয়ে থাকে। আবার কেউ কেউ প্রাকৃত ও বৈকৃত উভয় প্রকারের মধ্যেই রয়েছেন, যেমন সনককুমারগণ। এঁদের মধ্যে দেব ও মানুষের উভয় ধর্মই বর্তমানবৈকৃত দেবসৃষ্টিও আট প্রকারের। তার মধ্যে বিবুধ, পিতৃ ও অসুর এই তিন প্রকার। গন্ধর্ব ও অপ্সরা অন্য এক প্রকার। আর তিন প্রকারের মধ্যে, যক্ষ, রক্ষঃ; সিদ্ধ, চারণ, বিদ্যাধর ও ভূত, প্রেত, পিশাচ। কিন্নর ও কিম্পুরুষ হল আরেক প্রকার।

এই ভাবেই ভগবান শ্রীহরি প্রত্যেক কল্পে রজঃগুণ অবলম্বন করে, নিজেই স্বয়ম্ভূ ব্রহ্মারূপে নিজের স্বরূপের অনন্ত বিভাগে এই বিশ্বের সৃষ্টি করেন ও সর্বত্র ব্যাপ্ত থাকেন”

চলবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

ভাগবত পুরাণ - পর্ব ৩/৩

  এই সূত্রে - "    ঈশোপনিষদ "  এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ " এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ...