সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ধর্মাধর্ম - ৫/১১

 ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "

ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১  "

ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু -  " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "

ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "

ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "

 "ধর্মাধর্ম"  গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -

গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২

(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)

অথবা

+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।  

  

  


[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/১০ "]


৫.৩.২.২ বিষ্ণু - ভাগবত (আগের পর্বের পরে)

বামন অবতার – শ্রীবিষ্ণু বামন অর্থাৎ খর্বকায় ব্রাহ্মণরূপে জন্ম নিয়েছিলেন। তাঁর পিতা ঋষি কশ্যপ এবং মাতা দেবমাতা অদিতি। তিনি দানগর্বী দৈত্যরাজ বলির গর্ব খর্ব করেছিলেন। রাজা বলির গুরু ছিলেন শুক্রাচার্য এবং যজ্ঞের যাজক ঋষিরা ছিলেন ভৃগুবংশীয়। রাজা বলির প্রপিতামহ ছিলেন বিষ্ণু-বিদ্বেষী হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু, পিতামহ ছিলেন বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদ ও পিতা দানবীর বিরোচন। যিনি দেবতা জেনেও ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশী প্রার্থীদের নিজের আয়ু দান করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর প্রতিশোধে, প্রবল পরাক্রান্ত দৈত্যরাজ বলি স্বর্গ জয় করে দেবরাজ ইন্দ্রকে স্বর্গচ্যুত করেন, তারপর নর্মদার উত্তরতটের ভৃগুকচ্ছে অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করছিলেন। সেই অশ্বমেধ যজ্ঞে বামনরূপী বিষ্ণু যখন রাজা বলির থেকে মাত্র তিনপাদ ভূমি প্রার্থনা করলেন, রাজা বলি সানন্দে সেই দানের সম্মতি দিলেন। রাজা বলির সম্মতি পাওয়া মাত্র, শ্রীবিষ্ণু বিশ্বরূপে প্রকট হলেন। প্রথম পদে তিনি সসাগরা ধরিত্রী, দ্বিতীয় পদে স্বর্গলোক থেকে সত্যলোক পর্যন্ত আবৃত করলেন। এরপর, আর কোন স্থান অবশিষ্ট না থাকায়, নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে দৈত্যরাজ বলি নিজের মস্তকে শ্রীবিষ্ণুর তৃতীয় পদ ধারণ করলেন। অর্থাৎ সর্বস্ব হারিয়ে শ্রীবিষ্ণুর বশ্যতা স্বীকার করলেন।      

নৃসিংহ অবতার - নৃসিংহের জন্যে পুরাণকারেরা দুর্দান্ত একটি কাহিনী রচনা করলেন। কারণ ভগবান ব্রহ্মার বরে হিরণ্যকশিপু শর্ত সাপেক্ষে অবধ্য ছিলেন। শর্তগুলি হল, তাঁকে ঘরের ভেতরে বা বাইরে, দিনে বা রাত্রিতে, মাটিতে বা আকাশে কেউ মারতে পারবে না। কোন অস্ত্র বা শস্ত্রে তাঁকে বধ করা যাবে না। কোন নর কিংবা পশু তাঁকে হত্যা করতে পারবে না। উপরন্তু, কোন প্রাণী বা প্রাণহীন এবং সুর, অসুর ও মহাসর্প ইত্যাদিও তাঁকে মারতে পারবে না। এই শর্তগুলি যেন জটিল এক ধাঁধা (puzzle), এই ধাঁধার সমাধান করতে পারলেই, হিরণ্যকশিপুকে বধ করা সম্ভব। যাই হোক অবতার নৃসিংহ, নর নন, পশুও নন, সুর বা অসুরও নন, তিনি নরপশু। তিনি দিন ও রাতের সন্ধি গোধূলি সময়ে, ঘরের ভিতরে বা বাইরে নয়, ঘরের চৌকাঠে, অস্ত্র বা শস্ত্র দিয়ে নয়, সিংহের নখে, মাটিতে বা আকাশে নয়, নিজের উরুতে রেখে হিরণ্যকশিপুর বক্ষ চিরে হত্যা করেছিলেন। অনার্য ভারতীয়দের এক দেবতাকে, হিন্দুধর্মে ইনকরপোরেট করার জন্য, পুরাণকারের যে মাথা খাটিয়ে এই ধাঁধার সৃষ্টি এবং সমাধান করেছিলেন, সে বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই।   

পরশুরাম অবতার – ঋষি জমদগ্নির পুত্র ব্রাহ্মণ পরশুরাম ভয়ংকর বীর যোদ্ধা ছিলেন, তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল পরশু অর্থাৎ কুঠার এবং তির ও ধনুক চালনাতেও ভীষণ পারদর্শী ছিলেন। হৈহয় বংশীয় ক্ষত্রিয় রাজা ও বিষ্ণু ভগবানের অংশাবতার দত্তাত্রেয়র পরমভক্ত কার্তবীর্যাজুন ঋষি জমদগ্নির কামধেনুটি জোর করে হরণ করেছিলেন। সেই ক্রোধে পুত্র পরশুরাম একাই কার্তবীর্যকে বধ করে হৈহয় বংশের বিনাশ সাধন করেন। প্রসঙ্গতঃ কার্তবীর্য ছিলেন নর্মদাতটের মাহিষ্মতীর রাজা – তিনি রাক্ষসরাজ রাবণকে অবহেলায় বন্দী করে আবার মুক্ত করে দিয়েছিলেন, এতটাই বীরত্ব ছিল তাঁর। রাজা কার্তবীর্যার্জুনের পুত্রেরা পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে পরশুরামের পিতাকে হত্যা করায় পরশুরাম মাহিষ্মতী নগরীতে গিয়ে সেখানকার সকল ক্ষত্রিয়কে হত্যা করেছিলেন। এর পরেও ক্ষত্রিয়রা অন্যায়বর্তী হলেই তিনি পিতৃহত্যার প্রতিশোধে পৃথিবীকে মোট একুশবার নিঃক্ষত্রিয় করেছিলেন।  

পরশুরাম সত্যযুগের মানুষ হলেও, ত্রেতা যুগে তাঁর সঙ্গে শ্রীরামচন্দ্রের সাক্ষাতের কথা শোনা যায়, এবং দ্বাপর যুগের কাহিনী মহাভারতেও পরশুরামের কথা বেশ কয়েকবার এসেছে। আচার্য দ্রোণ তাঁর কাছে অস্ত্রশিক্ষা করতে গিয়েছিলেন। মহাবীর কর্ণ ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে পরশুরামের কাছে অস্ত্রশিক্ষা নিতে গিয়েছিলেন, কিছু ঘটনাচক্রে তিনি ধরা পড়ে যান এবং পরশুরাম তাঁর প্রবঞ্চনায় ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দিয়েছিলেন, তাঁর শেখানো সমস্ত বিদ্যাই চরম বিপদের সময় তিনি ভুলে যাবেন। সত্য যুগের মানুষ ত্রেতা যুগ পার করে, দ্বাপরে এসে পড়লেন!

শ্রীরাম অবতার – শ্রীরাম ঐতিহাসিক চরিত্র, তিনি অযোধ্যার রাজা ছিলেন, তাঁর মাতা কৌশল্যা, কোশলের এবং বিমাতা কৈকেয়ী কেকয় রাজকন্যা ছিলেন। তাঁর পত্নী সীতা ছিলেন বিদেহরাজ রাজর্ষি জনকের পালিতা কন্যা। তবে রাবণ রাক্ষসরাজ হলেন কী করে, সেটা বোঝা যায় না। তিনি স্বয়ং ব্রহ্মার প্রপৌত্র, সপ্তর্ষির অন্যতম পুলস্ত্যর পৌত্র এবং মুনি বিশ্রবার পুত্র এবং কুবেরের বৈমাত্রেয় ভাই। যদিচ তাঁর মাতা ছিলেন মুনি বিশ্রবার রাক্ষসী পরিচারিকা কৈকেশী বা পুষ্পোৎকটা। এমন বনেদি পিতৃকূল থাকা সত্ত্বেও, রাক্ষসী মাতার পরিচয়ে তিনি রাক্ষস হয়েছিলেন! কঠোর তপস্যা করে রাবণও ব্রহ্মার থেকে বর পেয়েছিলেন, মানুষ ছাড়া আর কেউ তাঁকে কোনদিন পরাস্ত করতে পারবে না। তিনি মানুষকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেননি, অতএব ভগবান বিষ্ণু নররূপেই শ্রীরাম হয়ে রাবণকে বধ করেছিলেন।

দুর্ধর্ষ এবং দেবতাদের অপরাজেয় রাবণকে বধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ব্রহ্মলোকে। দেবতাদের মুখপাত্র হয়ে হুতাশন অর্থাৎ অগ্নিদেব ব্রহ্মার কাছে গিয়ে বললেন, “ভগবন্‌, বিশ্রবা পুত্র মহাবীর রাবণের জন্যে স্বর্গে তো আর বাস করা যাচ্ছে না, কিছু একটা উপায় স্থির করুন, আমাদের রক্ষা করুন”। পিতামহ ব্রহ্ম বললেন, “ওহে অগ্নি, সে আমি আগেই ঠিক করে রেখেছি। চতুর্ভুজ বিষ্ণু নর রূপে মর্ত্যে অবতীর্ণ হবেন, তাঁর নাম হবে শ্রীরাম। তবে তার আগে তোমরা দেবতারা সবাই মর্ত্যে যাও, সেখানে ঋক্ষী ও বানরীদের গর্ভে মহাবীর পুত্রদের সৃষ্টি করো, যারা রাবণ বধের সময় বিষ্ণুর সহায় হবেন।” দেবতারা নিজেদের মধ্যে যখন মর্তে আসার পরিকল্পনা করছেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা গন্ধর্বী দুন্দুভিকে ডেকে বললেন, “দুন্দুভি, দেবকার্য সুষ্ঠু সম্পাদনের জন্যে তুমিও মর্তে যাও”। (বন/২৭৫)

এই দুন্দুভিই কুব্জা ও কুদর্শনা পরিচারিকা মন্থরা হয়ে, অযোধ্যার রাজা দশরথের অন্তঃপুরে রাণি কৈকেয়ীর  পরিচারিকা হয়েছিলেন। তিনিই রাণি কৈকেয়ীকে কুমন্ত্রণা দিয়ে শ্রীরামকে বনবাসে যেতে বাধ্য করেছিলেন। তা না হলে, শ্রীরামের বনবাস এবং রাবণবধ কোনোটাই হয়তো ঘটতো না। তবে সুদর্শনা গন্ধর্বী দুন্দুভি, পিঠে কুঁজ নিয়ে কেন কুদর্শনা হয়েছিলেন, সেটা জানা যায় না। হয়তো তিনি মর্ত্যের রাজ-অন্তঃপুরের পরিচারিকাদের দুর্গতির কথা জানতেন (অধ্যায় ২.৫.৩), তাই কোনরকম ঝুঁকি নেননি।

দেবতারা মর্ত্যে এসে ঋক্ষী ও বানরীদের গর্ভে প্রচুর পরাক্রমী সন্তান উৎপাদন করলেন। যাঁরা রামচন্দ্রের সহযোগী বানরসেনা ও ভল্লুকসেনা (ঋক্ষ মানে ভালুক) হয়ে, রাবণবধ ও সীতা-উদ্ধারে সহায়তা করেছিলেন। বিজ্ঞানের জেনেটিক কোডের বিধান অনুযায়ী, মানুষ বানরী ও ভল্লুকীর গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে পারে না। অতএব স্পষ্টতঃ এই বানর ও ভল্লুক দুটিই অনার্য জনগোষ্ঠী, যাঁদের টোটেম বা আত্মা-দেবতা যথাক্রমে বানর ও ভল্লুক। প্রসঙ্গতঃ বানর গোষ্ঠীর হনুমান, শ্রীরামচন্দ্রের পরমভক্ত হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অলৌকিক ক্রিয়াকাণ্ডে রামচন্দ্র বহুবার বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছিলেন। এই হনুমান সংকটমোচন দেবতা হিসাবে ভারতবর্ষের সর্বত্র হিন্দুদের পূজা পেয়ে থাকেন। এই প্রসঙ্গে আরও একটি আশ্চর্য ঘটনা হল, আমরা সকলেই জানি রাক্ষসরাজ রাবণের দশটি মুখ বা মাথা ছিল, কিন্তু মূল রামায়ণে সেকথার সমর্থন মেলে না। উপরন্তু তিনি ভগবান শিবের একান্ত ভক্ত ছিলেন; আরও শোনা যায় তিনি সর্ব শাস্ত্রে এবং চার বেদেও পণ্ডিত ছিলেন!   

৫.৩.২.৩ মহাভারতের কৃষ্ণ

দশ অবতারের মধ্যে সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ অবতার কৃষ্ণ। এমন সর্বগুণসম্পন্ন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ভারতীয় শাস্ত্রে আর কেউ নেই। বিষ্ণুর অবতার হয়েও, তাঁর অদ্ভূত ও আশ্চর্য লীলায় তিনি হিন্দুধর্মের স্বয়ংসম্পূর্ণ দেবতা হয়ে ভক্তদের মনে সর্বদাই বিরাজিত।

মহাভারতে কৃষ্ণের উপস্থিতি বেশ কিছুটা পরে, পাঞ্চালরাজ দ্রুপদের কন্যা দ্রৌপদীর স্বয়ংবর সভায়। দ্বারকাধীশ কৃষ্ণ ও তাঁর দাদা বলরাম স্বয়ংবর সভায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে উত্তর ভারতের রাজাদের প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন, এবং পাণ্ডবরাও উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে। ছদ্মবেশে থাকলেও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও বিচক্ষণ কৃষ্ণ, পাণ্ডবদের চিনতে ভুল করলেন না। দুর্যোধনের ষড়যন্ত্রে মাতাকুন্তী সহ পাণ্ডবদের জতুগৃহে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর জনশ্রুতি তাঁর কানে এসেছিল, কিন্তু এভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে সেকথা তিনি বিশ্বাস করেননি। সেদিন স্বয়ংবর সভায় সুস্থ সবল পঞ্চপাণ্ডবদের দেখে তিনি যেমন নিশ্চিন্ত হলেন, তেমনি কিছুটা হতাশও হলেন। কারণ তাঁর মনে ক্ষীণ আশা ছিল কন্যারত্ন দ্রৌপদীকে তিনি হয়তো লাভ করতে পারবেন। কিন্তু এখন সে আশা তিনি ছেড়ে দিলেন, কারণ অর্জুন যেখানে উপস্থিত, সেখানে তাঁর কোন আশাই নেই।

দ্রৌপদীর আশা ত্যাগ করে তিনি যে দুঃখী হলেন, তাও নয়, কারণ শত কষ্টেও তিনি কখনো দুঃখী হন না, উদ্বিগ্ন হন না, তিনি সর্বদাই আস্যমুখ। বরং তিনি দ্রুত ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে শুরু করলেন। পাণ্ডবমাতা কুন্তী তাঁর পিসি, পঞ্চপাণ্ডবেরা তাঁর পিসতুতো ভাই এবং অর্জুন তাঁর সমবয়সী। অতএব তিনি ও বলরাম পাণ্ডবদের স্বাভাবিক আত্মীয় ও মিত্র। অন্যদিকে পাণ্ডবদের জন্ম-শত্রু দুর্যোধন এবং তাঁর নিরানব্বই জন ভাই; উপরন্তু কৃষ্ণের চরম-শত্রু জরাসন্ধ দুর্যোধনের প্রিয়সখা। অর্জুন যদি দ্রৌপদীকে লাভ করতে পারে, প্রতিপত্তিশালী দ্রুপদ ও তাঁর পুত্র বীর ধৃষ্টদ্যুম্ন হবে পাণ্ডবদের আত্মীয়। সেক্ষেত্রে আর্যাবর্তের রাজনীতিতে দুটি শক্তিশালী মেরু গড়ে উঠবে। স্বাভাবিক সম্পর্ক সূত্রে তিনি পাণ্ডবপক্ষেই যাবেন, তখন তাঁর চিরশত্রু, যাঁর জন্যে তাঁদের সবাইকে মথুরা এবং বৃন্দাবন ছেড়ে দ্বারকায় সরে আসতে হয়েছে, সেই জরাসন্ধের বিনাশও তাঁর পক্ষে সহজ হয়ে যাবে। তিনি দূরদর্শী, তিনি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন না, তিনি সুচিন্তিত পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ রচনা করেন। অতএব সেই স্বয়ংবর সভায় দুর্যোধন, জরাসন্ধ, শল্য, শাল্ব প্রমুখ বীর রাজাদের ব্যর্থ প্রয়াস দেখার জন্যে তিনি স্মিতমুখে বসে রইলেন নিশ্চিন্তে!

হিন্দুদের কাছে মহাভারতের ঘটনাবলী অতি পরিচিত, অতএব সে প্রসঙ্গে আর বাক্য বিস্তার করছি না। বরং কৃষ্ণ প্রসঙ্গে অন্য গ্রন্থাদির আলোচনায় যাওয়ার আগে, মহাভারতের ভয়ানক অশুদ্ধির দিকে একটু দৃষ্টি দেওয়া যাক।

চলবে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

ধর্মাধর্ম - ৫/১১

 ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ " ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১   " ধর্মাধর্ম তৃতী...