ধর্মাধর্ম প্রথম পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ১/১ "
ধর্মাধর্ম দ্বিতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ২/১ "
ধর্মাধর্ম তৃতীয় পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৩/১ "
ধর্মাধর্ম চতুর্থ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৪/১ "
ধর্মাধর্ম শেষ পর্বের শুরু - " ধর্মাধর্ম - ৫/১ "
"ধর্মাধর্ম" গ্রন্থটি কিনতেও পারেন নিম্নলিখিত ঠিকানায় -
গুরুচন্ডা৯, ব্লক ১, স্টল ১৪, সূর্যসেন স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলকাতা ৭০০০১২
(পুঁটিরাম মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের ঠিক উল্টোদিকে)
অথবা
+91 93303 08043 Whatsapp নাম্বারে যোগাযোগ করলে বাড়ি বসেও বইটি হাতে পেয়ে যেতে পারেন।
[এর আগের পর্বাংশ - " ধর্মাধর্ম - ৫/৯ "]
৫.৩.২.২ বিষ্ণু - ভাগবত
হিন্দুধর্মে সব থেকে বর্ণময় এবং জনপ্রিয় দেবতা বিষ্ণু, তিনি অনন্ত লীলাময়।
বিষ্ণু ভক্তদের মতে তিনিই পরমপুরুষ, পুরুষোত্তম। তিনি অক্ষয়, অনাদি, অনন্ত ঐশ্বর্যবান, নির্বিকার ব্রহ্ম। তিনিই
বেদস্বরূপ,
তিনি
চৈতন্যস্বরূপ,
তিনিই এই
বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের কারণ স্বরূপ। তিনি সকল কার্য ও ক্রিয়ার কারণ, কিন্তু তিনি কর্তা নন, কারণ তিনি কখনও কোন
কর্মফল ভোগ করেন না, তিনি
অব্যয় এবং অক্ষর। কর্তা না হয়েও, প্রকৃতির সঙ্গে যখন তাঁর সংশ্লেষ ঘটে, তখনই তাঁর কারণরূপে
কার্যসকল ঘটতে থাকে। প্রকৃতির তিনগুণ, সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ। প্রকৃতির এই তিনগুণের আশ্রয় থেকেই সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশ হতে থাকে।
সত্ত্বগুণের প্রভাবে যখন তিনি বিষ্ণু, তখন তিনি পালন করেন। রজোগুণের প্রভাবে যখন তিনি সৃষ্টি
করেন, তখন তিনিই ব্রহ্মা। আবার
তমোগুণের প্রভাবে যখন তিনি বিনাশ করেন, তখন তিনিই হর।
এতদিন ব্রহ্মলাভ অর্থাৎ মুক্তির উপায় ছিল যজ্ঞ, তপস্যা, ধ্যান। মন থেকে সমস্ত কামনা, বাসনা, ঘৃণা, হিংসা, ঈর্ষা, মোহ, অহংকার মুছে ফেলে নিরন্তর
চিন্তন করতে হবে, এই
দেহ আত্মা নয়। চরাচর বিশ্বে, যা কিছু আমরা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে প্রত্যক্ষ করি, ব্রহ্ম সবকিছুর সঙ্গেই
ওতপ্রোত জড়িত,
কিন্তু
সেগুলির কোনটিই তিনি নন। এই চিন্তা করতে করতে সাধক যখন নিজের আত্মা ও পরমাত্মার
মধ্যে কোন প্রভেদ দেখতে পান না বরং পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মাকে একীভূত করতে পারেন, তখনই সাধকের পরমমোক্ষ লাভ
হয়। সাধনার এই পথকে জ্ঞানযোগ বলে।
ব্রহ্মলাভের আরও একটি পথ কর্মযোগ। কর্মযোগেও জ্ঞানযোগের মতো মনের সমস্ত
বিকার দূর করতে হয়। তারপর ফলের কামনা না করে যজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে হয়। এই যজ্ঞ
শুধুমাত্র অগ্নিতে ঘৃত আহুতি দেওয়া নয়, মনের সকল কামনা, বাসনা ও প্রত্যাশা ত্যাগের অগ্নিতে আহুতি দেওয়া। নিজের
জীবন ধারণের জন্যে নিত্যকর্ম ছাড়া, অন্য সমস্ত কর্মই নিষ্পৃহ চিত্তে ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণ
করতে হয়। এই নিষ্কাম কর্ম সাধনা থেকেও সম্যক জ্ঞান উপলব্ধি হয়, জীবাত্মা ও পরমাত্মার
রহস্য ভেদ করা যায়।
পৌরাণিক বা হিন্দু যুগে আরেকটি পথ এল ভক্তিযোগ। বলা হল, যেহেতু কলিযুগে একদিকে
মানুষের আয়ু স্বল্প, অন্যদিকে
জীবনে রয়েছে বহু বাধা-বিঘ্ন। উপরন্তু তারা বড়ো অলস ও মন্দবুদ্ধি। তাদের পক্ষে বহু
শাস্ত্রের বহু জ্ঞান ও কর্মের উপদেশ মেনে ধর্মাচরণ করা সম্ভব নয়। অতএব তাদের পক্ষে
অনেক সহজ এবং আশু ফলদায়ী পথ হল ভক্তিযোগ। এই ভক্তিযোগই হয়ে উঠল হিন্দু সাধারণ
সমাজের প্রধানতম ধর্মপথ। সে কথায় আসছি একটু পরে।
এখানে খুব সহজ কথায় বলা হল, জীবনের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি ভাবনা-চিন্তা ঈশ্বরে
সমর্পণ করো। সাধনা বা তপস্যা করতে পারলে ভাল, না পারলে পরমভক্ত হও। তাঁর কথা
সর্বদা চিন্তা করো, যখনই
মনে হবে,
তাঁর মহিমার
কথা অন্যকে শোনাও, নিজেও
শোনো। তাঁর চিন্তা ছাড়া অন্য সব চিন্তা পরিত্যাগ কর। তাঁর কথা ছাড়া অন্য সব কথা
বলা বা শোনা,
বিষের মতো
ত্যাগ কর। এভাবেই পরমভক্তিতে তাঁর শ্রীচরণে নিজেকে সমর্পণ করে দিতে পারলে, তিনি নিজেই এসে ধরা দেবেন
ভক্তের হৃদয়ে। যেহেতু তিনি ভক্তপাবন, কোন ভক্তই তাঁর চোখের আড়ালে থাকে না। তিনি ভক্তের ভগবান, ভক্তের জন্যে তিনি
বৈকুণ্ঠলোকের সুখ ও স্বস্তি ছেড়ে বারবার নেমে এসেছেন ধূলিমলিন পৃথিবীতে। ভক্তের
আর্ত প্রাথনায় তিনি বারবার অবতীর্ণ হয়েছেন এই ধরাতলে, অধর্মের বিনাশ করে, প্রতিষ্ঠা করেছেন ধর্ম।
এই সহজ সরল ভক্তিযোগের তত্ত্ব সর্বস্তরের মানুষের মনে অভূতপূর্ব সাড়া
ফেলল। সমাজে নানান বর্ণ থাক, নানান জাতি থাক, কিন্তু নিজের ঘরে বসে ভক্ত হতে তো কোন বাধা নেই। সেখানে
কোন পুরোহিতের দরকার হয় না, যজ্ঞের বেদি বানাতে হয় না, কলসি কলসি ঘি ঢালতে হয় না। শুধু
নাম জপ করতে হয়। সারাদিন যতবার খুশি।
ভক্তি যোগ এবং বিষ্ণু তত্ত্বের উদ্ভব সম্ভবতঃ ভাগবত শাখার জনপ্রিয়তা
থেকে। নচেৎ বৈদিক ইন্দ্র, সূর্য, অগ্নি সকলকে ছাড়িয়ে আদিত্যদের সর্বকনিষ্ঠ বিষ্ণুকে নিয়ে
ধর্ম তত্ত্ব রচনার চিন্তা আসবে কেন? ভাগবত শাখার দেবতার নাম হয়তো বিশদেব>বিশ্ ছিল, যার ফলে বিশ্কে – বৈদিক
বিষ্ণুর সঙ্গে যুক্ত করতে বেগ পেতে হল না। যেভাবেই হোক এই মহিমা প্রচারের সাফল্য
পণ্ডিতদের আরও বেশি উৎসাহী করে তুলল। তাঁরা ভাগবত শাখার বিস্তৃতির জন্যে আরও বহু
অঞ্চলের বিভিন্ন অনার্য দেবতা, দেব-আত্মার প্রতীক (totem), পশু-পূজা (Zoolatry বা theriomorphism), পশু-মানব পূজা (anthropomorphism) এবং তাঁদের কাহিনীগুলি
কিছু কিছু গ্রহণ করলেন, কিছু কিছু সম্পূর্ণ নতুন কাহিনী কল্পনা করে বিষ্ণুর সঙ্গে
জুড়ে ফেললেন। এভাবেই এসে গেল ভগবান বিষ্ণুর অবতার কাহিনী।
আদিম ভারতের বিশেষ একটি অঞ্চলের তিনজন অনার্য দেবদেবীর কাহিনী আমি
অনুমান করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে খুব স্বাভাবিক ভাবেই, বিস্তীর্ণ ভারতের ব্যাপ্ত
অঞ্চলে এই দেবদেবী ও দেব-আত্মাদের সংখ্যা ছিল অজস্র। কারণ এক একটি অঞ্চলের
সমাজগুলি বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছিল। দূর দূর অঞ্চলের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক গড়ে
উঠেছিল বণিকসম্প্রদায় ও তাদের বাণিজ্যের মাধ্যমে। কিন্তু তাতে পারষ্পরিক ধর্মীয়
বিশ্বাস খুব একটা প্রভাবিত হয়নি, তার কারণ সেই যুগে কোন ধর্মপ্রচারক ছিলেন না। আর্যদের
বৈদিক বা ব্রাহ্মণ্য ধর্মও, আর্যাবর্তের বাইরের বিস্তীর্ণ অনার্য সমাজকে তেমন প্রভাবিত
করতে পেরেছিল বলে মনে হয় না। কিন্তু হিন্দুধর্মের বিষ্ণু এবং শিব-তত্ত্ব সেটাই
শুরু করল এবং সাফল্যের সঙ্গে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করল। হিন্দুধর্ম যত দূর দূর
অঞ্চলে প্রসারিত হতে লাগল, সেখানকার সমাজের বিশ্বাস ও আস্থাকে তারা ততই নিজেদের
ধর্মতত্ত্বে অন্তর্ভুক্ত করতে থাকল।
এবার বিষ্ণুর দশ অবতার তত্ত্বের দিকে একবার চোখ রাখা যাক। নিচের
সারণিতে দশাবতারের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলাম, মনে রাখতে সহজ হবে।
অবতার সারণি -
১. বরাহ - মালব, মধ্য প্রদেশ। এরান অঞ্চলে বরাহ মূর্তি পাওয়া গেছে। (সত্য যুগ) - রসাতল থেকে পৃথিবী উদ্ধার।
২. মৎস্য - পূর্বভারতের টোটেম, এই অঞ্চলে আজও মাছ অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য এবং যে কোন শুভ অনুষ্ঠানে মাছ শুভ প্রতীক। (সত্য যুগ) - প্লাবনের সময় বৈবস্বত মনুর নৌকা পরিচালনা।
৩. কূর্ম - সঠিক জানা যায় না, তবে বিশেষজ্ঞরা সিন্ধু সভ্যতায় কচ্ছপের প্রতীক এবং কচ্ছপের ছোট মূর্তি পেয়েছেন, পশ্চিম ভারতের ধর্মীয় প্রতীক হতে পারে। (সত্য যুগ) - সাগর মন্থনের সময় মন্দরপর্বতের আধার।
৪. নৃসিংহ - এ.ডি.-র দ্বিতীয়-চতুর্থ শতাব্দীতে অন্ধ্রর বেশ কিছু নরসিংহ মন্দির থেকে ধারণা করা যায় ওই অঞ্চলে নৃসিংহ অনার্য দেবতা হিসেবেই পূজিত হতেন। যদিও সমসময়ে উত্তর ও মধ্য প্রদেশেও নৃসিংহ মন্দির পাওয়া গেছে। (সত্য যুগ) - দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু বধ।
৫. বামন - ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতার মাতা অদিতির পুত্র। (সত্য যুগ) - বলির দর্প নাশ।
৬. পরশুরাম - মুনি জমদগ্নির পুত্র, মাহিষ্মতী নগরের কাছে আশ্রমবাসী। (সত্য যুগ) - ক্ষত্রিয়দের গর্ব নাশ।
৭. শ্রীরাম - অযোধ্যার রাজা, অনার্য বিজয়। (ত্রেতা যুগ) - রাবণ বধ, সীতা উদ্ধার।
৮. কৃষ্ণ - মথুরা – দ্বারকা। (বিস্তারিত আলোচনা পরে)। (দ্বাপর যুগ) - ভূভারহরণ ও ধর্ম স্থাপন।
৯. বুদ্ধ - সব থেকে গুরুত্বহীন অবতার। (কলিযুগ)
১০. কল্কি - এখনও আসেননি, অতএব মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। (কলিযুগ)
মৎস্য অবতার – ব্রহ্মার দিবাবসানে এক একটি কল্পের অবসান হয় এবং
রাত্রিতে তিনি নিদ্রামগ্ন হন। শ্রীহরি বর্তমান কল্পের শুরুতে ছোট্ট শফরী মাছ হয়ে
আবির্ভূত হলেন রাজর্ষি সত্যব্রতর অঞ্জলিবদ্ধ জলে। সেই শফরী রাজর্ষিকে বললেন, “মাছেরা সাধারণতঃ নিজ নিজ
জ্ঞাতিকে বধ ও ভক্ষণ করে, অতএব আপনি আমাকে আশ্রয় দিন, আমাকে রক্ষা করুন”। দয়ালু রাজর্ষি
সত্যব্রত সেই মাছকে প্রথমে একটি ছোট পাত্রে রাখলেন, কিন্তু একরাত্রের মধ্যেই সেই মাছ
এমনই বেড়ে উঠল সে পাত্রে তার সংকুলান হল না। এরপর রাজর্ষি মাছটিকে বড়ো পাত্র, তারপর সরোবর, বিশাল হ্রদে স্থাপনা
করলেও, সেই মাছ অচিরেই এতটাই
বেড়ে উঠতে লাগল যে সেই সব জলাশয়ও মাছটির পক্ষে সংকীর্ণ হয়ে উঠল। রাজর্ষি সত্যব্রত
বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনি নিশ্চয়ই কোন সাধারণ মৎস্য নন, আপনি কে? আপনিই কী ভগবান শ্রীহরি?”
মৎস্যরূপী শ্রীবিষ্ণু বললেন, “এখন ব্রহ্মার নিদ্রাকাল - আজ থেকে সাতদিন পরে সমস্ত
ত্রিলোক প্রলয় সমুদ্রে ডুবে যাবে। সেই সময় এক বিশাল নৌকা তোমার সামনে উপস্থিত হবে।
সেই নৌকায় তুমি সপ্তর্ষি ও সকল জন্তুদের নিয়ে চড়ে বসবে, সঙ্গে নেবে সমস্ত উদ্ভিদ ও শস্যের
বীজ। প্রলয় সমুদ্রের আলোড়নে তোমার তরণী যখনই চঞ্চল হয়ে উঠবে, বাসুকি[2]-রূপ রজ্জু দিয়ে আমার শৃঙ্গে
বেঁধে নেবে। যতদিন ব্রহ্মার রজনী থাকবে অর্থাৎ তিনি নিদ্রামগ্ন থাকবেন, ততদিন আমি প্রলয় সমুদ্রে
তোমাদের পরিচালনা করব”।
কূর্ম অবতার – সমুদ্রমন্থনের সময় মন্দর পর্বত হয়েছিল মন্থন দণ্ড এবং সর্পরাজ বাসুকি হয়েছিলেন মন্থন রজ্জু। দেব ও অসুরগণের মন্থনে যে প্রবল ঘর্ষণের সৃষ্টি হল, সেই ভার পৃথ্বী বহন করতে পারছিলেন না - মন্দর পর্বত ভূমিতে প্রোথিত হয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ভগবান বিষ্ণু কূর্ম হয়ে সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করলেন এবং মন্দর পর্বতের আধার হয়ে তাকে নিজের পিঠে ধারণ করলেন।
পরের পর্ব - " ধর্মাধর্ম - ৫/১১ "
[1] পৌরাণিক
মতে পাতালের সাতটি বিভাগ আছে – অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল, পাতাল – এই রসাতলেই
পৃথ্বীর পতন ঘটেছিল! পাতাল ছিল দৈত্যদের রাজ্য – হিরণ্যাক্ষ, হিরণ্যকশিপু, প্রহ্লাদ, বিরোচন, বলি ও বাণ এই কয়েকজন
বিখ্যাত দৈত্যরাজার নাম পুরাণে পাওয়া যায়।
[2] বাসুকি
সর্পরাজ বসুকের পুত্র। তাঁর বোনের নাম জরৎকারু (পরবর্তী কালে তিনিই মা মনসা), ভগ্নীপতি মুনি জরৎকারু
এবং ভাগিনেয়র নাম আস্তিক। সর্পযজ্ঞের অনলে সকল সর্পকে বধ করা থেকে রাজা জন্মেজয়কে
বিরত করেছিলেন এই আস্তিক মুনি। সর্পরাজ বাসুকিকে দু’বার রজ্জু হিসেবে ব্যবহার করা
হয়েছিল, একবার রাজা সত্যব্রতর
নৌকা এবং আরেকবার সমুদ্রমন্থনের সময় মন্দর পর্বতকে বাঁধতে।