মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ৩৫

 এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১

অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "

"অচিনপুরের বালাই"

" সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "

আরেকটি  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "

"বিপ্লবের আগুন" ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "



[প্রাককথাঃ  আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজ হোক কিংবা প্রাচীন রাজতান্ত্রিক সমাজ – বিদ্রোহ, বিপ্লব সর্বদাই প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। নিরীহ, অনুন্নত এবং প্রান্তিক মানুষরা যুগেযুগে সেই বিদ্রোহের পথে যেতে কীভাবে উদ্বুব্ধ হয়েছিলেন এবং হচ্ছেন? কীভাবে তাঁরা অস্ত্র সংগ্রহ করেন? সেই বহুমূল্য অস্ত্রসম্ভার কি তাঁরা বিনামূল্যে সংগ্রহ করেন? কোদাল চালানো কিংবা লাঙ্গল ঠেলার দক্ষতা যাঁদের সম্বল, কে তাঁদের আধুনিক অস্ত্র চালনায় শিক্ষিত করে তোলে? কার শক্তি ও উস্কানি তাঁদের রাষ্ট্রশক্তির চোখে চোখ রাখার স্পর্ধা যোগায়?  হয়তো কখনও তাঁরা পর্যুদস্ত হয়েছেন, কখনও ক্ষণস্থায়ী সাফল্য পেয়েছেন। আবার কখনও কখনও প্রবল প্রতাপ রাষ্ট্রকে তাঁরা পরাস্ত করে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও করেছেন। কিন্তু নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেও পুরোন বিদ্রোহ-বিপ্লবের আগুন নেভে না কেন?  কেনই বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই বিপ্লব চলতে থাকে আবহমান কাল ধরে?]  

এই উপন্যাসের আগের পর্ব  - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ৩৪ 

৪০

 

ভল্লা উঠে গিয়ে প্রদীপটা নিয়ে এসে উঠোনে বসল, বলল, “মারুলা এদিকে আয়”। তারপর মাটিতে কাঠি দিয়ে আস্থানের রেখাচিত্র আঁকতে লাগল। আঁকা শেষ হওয়ার আগেই রামালিও এসে ভল্লার পাশে বসল। মারুলা কিছুক্ষণ মন দিয়ে দেখল, বলল, “আস্থানে তুই দুবার গিয়েছিলি, না? একবার দিনে আরেকবার রাত্রে…নিখুঁত এঁকেছিস। কিন্তু তোর ছেলেদের আক্রমণের পর – শষ্পককে বলে, উপানু চার কোনে চারটে প্রহরী-স্তম্ভ বানিয়ে তুলেছে। কাঠের কাঠামো - বারো হাত উঁচুতে বাঁধা মাচায় একজন করে রক্ষী সারারাত পাহারা দেয়”। মারুলা খিঁকখিঁক করে একটু হাসল, বলল, “অবিশ্যি মাঝরাতে পেচ্ছাপ ফিরতে উঠে – ব্যাটাদের প্রতিদিনই  নিশ্চিন্তে ঝিমোতে দেখেছি…। যাগ্‌গে এবার তোর পরিকল্পনাটা শুনি। ঠিক কিসের জন্যে আক্রমণ করতে চলেছিস”?

ভল্লা মুখ তুলে তাকাল মারুলার দিকে, বলল, “মুখ্য উদ্দেশ্য শোধ নেওয়া – বেশ কিছু রক্ষীকে যমের দুয়োরে পাঠানো – পারলে উপানুকেও!”

মারুলা উত্তেজিত হয়ে বলল, “শালা উপানুকেও? শষ্পক শুনলে তোকে মাথায় করে নাচবে”।

“তার মানে? তার রক্ষী-সর্দারকে মারলে সে খুশি হবে?”

“রক্ষী-সর্দার না, ব্যাঙের মাথা। ওর ধামাধরা জনা আষ্টেক রক্ষী ছাড়া, অন্য রক্ষীরাই সুযোগ পেলে শালাকে মাটিতে পুঁতে দেবে। উপানু কোন ঘরে শোয় জানিস?” ভল্লা রেখাচিত্রের ওপর আঙুল দিয়ে উপানুর ঘরটা দেখাল। মারুলা আবার খিঁক খিঁক করে হাসল খানিকক্ষণ, তারপর বলল, “ঠিকই দেখিয়েছিস…কিন্তু বেজন্মটা একটু রাত হলেই – এই যে এই ঘরে...”, আঙুল দিয়ে ঘরটা দেখিয়ে মারুলা বলল, “এই ঘরে পীরিত করতে যায়?”

ভল্লা এবং রামালি দুজনেই অবাক হয়ে বলল, “তার মানে?” রামালি বলল, “আস্থানে মেয়েরাও থাকে নাকি”?

মারুলা রামালির কাঁধে হাত রেখে বলল, “তোকে এসব কথা বলতে লজ্জা করে, রামালি। কিন্তু না বলারও কোন মানে হয় না। বড়ো হচ্ছিস, নিজের পায়ে দাঁড়াবার মতো একটা জায়গা তৈরি করছিস। জগৎটাকে জানতে এবং চিনতে তো হবেই। জেনে রাখ, ছেলেতে ছেলেতেও পীরিত হয় – বিরল ঘটনা যদিও – কিন্তু হয়। মাস ছয়েক আগে উপানু এই ছেলেটিকে ওর নিজের সহকারী বলেই আস্থানে এনেছিল। দেখতে-শুনতে ভালো, একটু নাদুস-নুদুস ধরনের। কত বয়েস হবে – চোদ্দ-পনের? কিছুদিনের মধ্যেই উপানুর দুর্মতি টের পাওয়া গেল। ওই ঘরটিতেই সে ছেলেটিকে থাকতে দিল এবং রাত্রে নিয়মিত ছেলেটির বিছানায় যাওয়া শুরু করল। প্রথম দিকে ছেলেটি চেঁচামেচি করত, কান্নাকাটি করত। উপানু মারধোর করত। দু’-তিনবার পালাবার চেষ্টাও করেছিল। পারেনি – উপানুর আমড়াগেছো রক্ষীরা তাকে ঘাড় ধরে আস্থানে ফিরিয়ে এনেছে। উপানু মরলে অসহায় ছেলেটাও পিশাচের হাত থেকে পরিত্রাণ পাবে”

ভল্লা বলল, “শষ্পক জানে না? সে কিছু করছে না কেন?”

মারুলা বলল, “তুই তো জানিস, ভল্লা। শষ্পক প্রসাশনের লোক আর উপানুরা হল, নগরকোটালের অধীন। এখানে শষ্পকের নির্দেশ মানতে উপানু বাধ্য – কিন্তু উপানুর ব্যক্তিগত বিষয়ে কিংবা ওর অধীনস্থ কোন কর্মচারীর ব্যাপারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অধিকার শষ্পকের নেই। সেই সুযোগটাই উপানু নিয়ে যাচ্ছে”। মারুলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বলল, “আমার হাতেই উপানুর মৃত্যু লেখা আছে…একবার সুযোগ যদি পাই…”।

“না মারুলাদাদা, উপানু আমার শিকার, আমার হাতেই ও মরবে…”। রামালি দাঁতে দাঁত চেপে মারুলার দিকে তাকিয়ে বলল, “কবে থেকে আমি ওর আয়ু গুনছি…”। মারুলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল রামালির চোখের দিকে, তারপর মুচকি হেসে বলল, “ঠিক আছে, তোকেই দিলাম… পাঁঠাটাকে তুইই বলি দিবি…কিন্তু আমি তোর কাছাকাছি থাকবো…শালা ভয়ানক ঘুঘু…একটু ঊণিশ-বিশ হলেই ফস্কে যাবে”।

অনেকক্ষণ পর ভল্লা বলল, “উপানুর স্থায়ী ব্যবস্থা তো তোরা করেই ফেললি। এবার মূল পরিকল্পনাটা বলছি, শোন মারুলা। আমরা ঢুকবো পূবের দরজা দিয়ে। যতদূর জানি মাঝরাত্রে ওই দরজায় প্রহরা কিছুটা দুর্বল থাকে”।

একদম ঠিক। আমি বলব, পূব দিকের দুই স্তম্ভের দুই প্রহরীকে প্রথমেই টপকে দে। অন্ধকারে বেড়ার বাইরের ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে ভল্ল বা তীর ছুঁড়ে। তারপর তিন থেকে চারজন বন্ধ দরজা টপকে নিঃশব্দে ঢুকে পড়, আর প্রহরীগুলোকে ঝপাঝপ সাবড়ে দে। রাত্রে ওদিকে জনা তিন-চার থাকে সবকটাই ঢ্যাঁড়স, সুযোগ পেলেই ঝিমোয়। তারপর বাঁদিকের রক্ষীদের ঘরের চারটে দরজায় শেকল তুলে দে। ব্যাটারা থাক বন্দী হয়ে, হঠাৎ কেউ বেরিয়ে পড়লেই বিপদ। এবার পশুশালা পার হয়ে পশ্চিমদিকে যেতে যেতে করণিক আর পাকশালার দরজাগুলোও বন্ধ করে দে। তারপর প্রথমে চল উপানুর অভিসার ঘরে। সেখানে উপানুকে শেষ করে, চারজন ছোট পাকশালার ঘুপচিতে গা ঢাকা দিয়ে প্রস্তুত থাক। সুবিধে হল, ওখান থেকে দুটো দিকেই লক্ষ্য রাখা যাবে”।

এইবার আমাদের সব থেকে কঠিন কাজটার জন্যে প্রস্তুত হতে হবে। পাকশালার ঘুপচিতে ঢুকেই বাইরের ছেলেদের সংকেত দিতে হবে। তারা আগের মতোই বাইরে থেকে দুই স্তম্ভের দুই প্রহরীকে শেষ করবে। এবং একই সময়ে পশ্চিমের প্রধান দরজার উল্টোদিকে - রাজপথের ওপাড়ে ঝোপঝাড়ের আড়ালে বসে থাকা ছেলেরা আক্রমণ করবে। ওখানে দরজার সামনে থাকা দু-তিনজন রক্ষীকে মারতে পারলে, বাকি রক্ষীরা পিছিয়ে যেতে যেতে আস্থানের অন্যান্য রক্ষীদের বেরিয়ে আসার সংকেত দেবে...কিন্তু রক্ষীদের ঘর বন্ধ এবং ততক্ষণে উপানু টেঁশে গেছে – আমাদের পেছনে চট করে কেউ আসতে পারবে না। এইসময় আমাদের ছেলেরা ঘুপচি থেকে হঠাৎ বেরিয়ে পিছিয়ে আসা রক্ষীদের আক্রমণ করবে। এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোনের প্রহরা-স্তম্ভে উঠেও আমাদের ছেলেরা রক্ষীদের আক্রমণ করতে পারবে।

এই কাজটা যত অল্প সময়ে যত নিখুঁত আমরা করতে পারবো, ততই আমাদের পক্ষে মঙ্গল”।  

    

   ভল্লা আর রামালি ছবিটার দিকে তাকিয়ে মারুলার পুরো পরিকল্পনাটা নিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে গেল। অনেকক্ষণ কেউ কোন কথা বলল না। বেশ কিছুক্ষণ পর ভল্লা বলল, “আমার তো ভালই লাগছে পরিকল্পনাটা। তুই খেয়ে দেয়ে কেটে পর মারুলা। কালকে দিনের বেলা ছেলেদের সঙ্গে একটু আলোচনা করে, কাল রাত্রে আবার তোর সঙ্গে বসব...। দক্ষতা অনুযায়ী কোন ছেলে কোথায় থাকবে – সেটা আমাদের কালকেই ঠিক করে নিতে হবে”।

রামালি খাবার বাড়তে বসে গেল দেখে, মারুলা বলল, “আমাকেও তোর দলে নিতে পারিস, তবে আমি বাইরে থাকব, আস্থানে ঢুকব না। আমি উত্তরের দুটো প্রহরা-স্তম্ভের প্রহরীকে মেরে পশ্চিমের দরজার উল্টোদিকে ঝোপের আড়ালে থাকবো। সংকেত পেলেই দরজার সামনে থাকা কম করে দুটো রক্ষীকে তো আমি খসাবোই! ভালো কথা সংকেতটা কী হবে? সেটাও ভেবে ঠিক করে নিস”।

“বাঃ তুমি যে বললে, উপানুকে মারার সময় তুমি পাশে থাকবে?” রামালি ভল্লা আর মারুলার হাতে খাবারের থালা দিতে দিতে বলল।

ভল্লা বলল, “না রে, আমাদের সঙ্গে আস্থানের ভেতরে ঢুকলে মারুলাকে ওরা চিনে ফেলবে। তোর পাশে আমি থাকবো রামালি, তোর পাঁঠাকে তুই কাট না – তবে লেজ নয় – ব্যাটার মুড়োটাই কাটিস”।

মারুলা খেতে খেতে বলল, “তোদের ছেলেরা সাদা ধুতি পরলে – অন্ধকারেও কিন্তু বোঝা যাবে ভল্লা, বেশি সময় নেই – তা নাহলে কালো ধুতি যোগাড় করতে বলতাম”। ভল্লা রামালির মুখের দিকে তাকাল, কিছু বলল না। রামালি হেসে বলল, “কালো ধুতি আমরা কিনেছি তো, বীজপুর থেকে”।

মারুলা বলল, “জানি ভল্লাব্যাটার সব দিকেই লক্ষ্য, তবু একবার মনে করালাম। আচ্ছা শোন, তোর জন্যে শষ্পক চার বটুয়া রূপো পাঠিয়েছে…খেয়ে উঠে দিচ্ছি। শষ্পককে বলেছিলাম – তোরা বীজপুর গেছিস, ঘর-টর বানাতে হবে – শুনেই বলল, ভল্লার টাকা চাই তো…নিয়ে যাও… আরও দুটো বটুয়া থাকল আমার কাছে...। তোর ওই গচ্ছিত টাকার জন্যে শষ্পকের রাত্রে ঘুম হয় না, মনে হয়”।     

ভল্লা বলল, “ঠিক আছে, দিয়ে যাকিন্তু মারুলা, আমি ভাবছিলাম, আমাদের একজন কবিরাজ বা বৈদ্যকে দরকার – কিছুদিনের জন্যে। কী করা যায় বল তো?”

“কিসের জন্যে?”

“ধর আমাদের মধ্যে ওই দিন কেউ কেউ আহত হলাম, চিকিৎসার জন্যে কাউকে তো দরকার…”।

মারুলা বলল, “হ্যাঁ দরকার তো বটেই – কিন্তু হুট করে বিশ্বাসযোগ্য পাবি কাকে? যে ব্যাটাকে আনবি সে ব্যাটা হয়তো তোদের ওই শল্কুর মতো আস্থানে চলে গেল… তখন? তাকে ঘুম পাড়াতে আবার এই মারুলার খোঁজ পড়বে!

রামালি বলল, “একজন আছে ভল্লাদাদা, আমাদেরই গ্রামে – নাম বড়্‌বলা।  আমাদের গ্রামে আরেকজন বলা আছে, তাকে আমরা ‘ছোট্‌বলা’ ডাকি। আমাদের কবিরাজমশাইয়ের সঙ্গে বড়্‌বলা দীর্ঘদিন ছিল। কবিরাজ নয় কিন্তু কিছু কিছু শিখেছে - ক্ষত সেলাই, প্রলেপ বানানো, কিছু কিছু জড়িবুটি বানানো...কবিরাজমশাই না থাকাতে, এখন তো তাকেই ডাকছে গ্রামের লোকরা”।

ভল্লা জিজ্ঞাসা করল, “সে করবে?”

“কেন করবে না? এখন আমাদের আর সুকরা গ্রামের সমস্ত লোক আমাদের সাহায্য করার জন্যে মুখিয়ে আছে – করবে না মানে? আরেকজন আছেন সুকরা গ্রামের কুশানকাকা – বলার থেকে কুশানকাকা ভালো কবিরাজি করে – তবে কুশানকাকা, সুরুলের মুখে শুনেছি, একটু বেশি রাজভক্ত। কাজেই কুশানকাকাকে দিয়ে আমাদের চলবে না

“বড়্‌বলাকে কাল একবার ডাক না, কথাবার্তা বলি”। ভল্লা বলল।

সকলেরই খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। রামালি এঁটো বাসন তুলতে তুলতে বলল, “ঠিক আছে”।

রামালি পুকুরের দিকে চলে যেতে ভল্লা মারুলাকে বলল, “ভাবছি, পরশু ছেলেদের নিয়ে একবার অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ঘুরে আসব। কোন সময় যাওয়া ঠিক হবে বল তো”?

“দিনের বেলায় যা – আলো থাকতে থাকতে। কুলিকপ্রধানকে আমি বলে দেব - পরশু কেউ যেন কাজে না আসে। নিশ্চিন্তে ঘুরে আয় – সামনের দরজা নয়, পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকবি। কোন সময় যাবি – আমিও থাকব তাহলে”।

একটু চিন্তা করে ভল্লা বলল, “উঁহু। এখনই ছেলেদের সঙ্গে তোর পরিচয় হওয়াটা ভয়ানক ঝুঁকি হয়ে যাবে। এই দলটার মধ্যে থেকে যদি আরেকজন শল্কু বেরিয়ে পড়ে – তুই এবং শষ্পক দুজনেই বিপদে পড়ে যাবি। এবং আমাদের আস্থান আক্রমণের পরিকল্পনাটাও ভেস্তে যাবে”।

এই সময় রামালি ফিরে এল পুকুর থেকে। ঘরের মধ্যে থালাবাটি হাঁড়িকুড়ি রেখে দিয়ে বাইরে এল।

মারুলাও চিন্তা করে বলল, “ঠিকই বলেছিস”।

ভল্লা তারপর রামালির দিকে তাকিয়ে বলল, “এক কাজ করতে পারিস। দুপুরে খাওয়াদাওয়া করেই পরশুদিন রামালি চলে যাক। ওর সঙ্গে তুই ওখানে দেখা করে নে। আমি ছেলেদের নিয়ে বিকেলের মধ্যে পৌঁছে যাবো”।

“কিন্তু রামালি চেনে না, তো”!

“ধ্যার ব্যাটা। জঙ্গলের পথে সোজা দক্ষিণে – অতখানি জায়গা জুড়ে অস্ত্রভাণ্ডার – রামালি চিনতে পারবে না? কী যে বলিস!”      

“ঠিক আছে, তাহলে ওই কথাই রইল। আমি এবার কেটে পড়ি। এই নে শষ্পকের দেওয়া বটুয়া চারটে রাখ”।

“যা। আমি আর রামালি এখন কমলিমায়ের বাড়ি যাবো”।

চলবে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

বিপ্লবের আগুন - পর্ব ৩৫

  এর আগের ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "  অন্যান্য সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য " ...