শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

শুধু _তুই .কম - পর্ব ২০

 প্রথম  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১

দ্বিতীয়  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "

তৃতীয়  ধারাবাহিক উপন্যসের শুরু - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "

পঞ্চম ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " স্বদেশী ডাকাত - পর্ব ১ "

সম্পূর্ণ  উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য ";  "অচিনপুরের বালাই" ; " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "

চতুর্থ ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " @শুধু _তুই .কম - পর্ব ১



এর আগের পর্ব - " শুধু _তুই .কম - পর্ব ১৯ 


২০

 

রাতের খাওয়ার সময় অন্যদিন শম্পাদিদির সঙ্গে তার দু চারটে কথা হয়, নিতান্তই সাংসারিক কথা। যেমন আগামীকাল দাদাবাবুর জন্যে কি কি রান্না করা যাবে, তার পরিকল্পনা। অথবা দাদাবাবু, আজকে নতুন সিলিণ্ডার চালু করলাম, কাল -পরশুর মধ্যে একটা গ্যাস বুক করে দিও। অথবা বাজারে কদিন ধরেই টাটকা মৌরলা উঠছে, কালকে ভাবছি আনব।

আজ সেরকম কোন কথা হল না, কারণ সন্ধ্যার আলাপের পর দুজনেই খুব গম্ভীর। দুজনের কেউই অতি তুচ্ছ সাংসারিক কথা বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই।

অতএব রাতের খাওয়াদাওয়া সাঙ্গ হলে, রান্নাঘরের কাজ সেরে শম্পাদিদি বাড়ি যাওয়ার সময়, “আসছি, দাদাবাবু” বলার পর, সুনেত্র সদর দরজাটা বন্ধ করে বেশ নিশ্চিন্তের শ্বাস ফেলল। ভাবল, শম্পাদিদি তার জীবনের এমন অনেক সংবাদ জানে – যার অনেকটাই সে জানে না। সেই তথ্যগুলি কী, না জানা পর্যন্ত শম্পাদিদির সামনে দাঁড়াতে তার অস্বস্তি তো হবেই।

সুনেত্র টেবিলে বসে ল্যাপটপ চালু করল। কনি কি সারাদিনে আর কোন মেল লেখার সময় পেয়েছে? হ্যাঁ মেল করেছে...অধীর আগ্রহে সুনেত্র মেলটা খুলল –

সুনুদা,

সকাল এগারোটা নাগাদ বাবা-মায়ের সঙ্গে নার্সিংহোম থেকে বাড়ি ফিরলাম। সারাটা পথ মা বুকে করে জড়িয়ে রেখেছিলেন আমার পুত্রকে। খুব সুখী হয়ে ওঠার যথেষ্ট কারণ ছিল, সুনুদা। কিন্তু হইনি। মঞ্জরীম্যাডাম আমাকে মিষ্টি খাওয়ানোর আবদার করেছিলেন, আমার ‘প্রমোশন’ হওয়ার জন্যে। আমার মনে হল, আমার প্রমোশন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা আধাখেঁচড়া ধরনের। কারণ বাম্বাইয়ের বাবা ও তার দিকের সম্পর্কগুলো সূক্ষ্ম সুতোয় ঝুলছে। এবং সেই সময় আমি স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছি, সেই সুতোটুকু আমাকে ছিঁড়তেই হবে।            

 ওই দিন সন্ধের দিকে পিন্টুর বাবা এসেছিলেন। শুনেছি, যে কদিন আমি নার্সিং হোমে ছিলাম, উনি প্রতিদিনই বিকেলের দিকে ওখানে যেতেন। অপেক্ষা করতেন আমার বাবা-মায়ের জন্যে। ওঁদের থেকে আমাদের সব সংবাদ নিয়ে উনি বাড়ি ফিরতেন। ওই প্রথমদিন ছাড়া, উনি আর একদিনও আসেননি আমার সঙ্গে দেখা করতে।

উনি বাড়ি আসাতে, আমি হাল্কা অনুযোগের সুরে জিজ্ঞেস করলাম, “প্রথম দিনের পর, আমাদের দেখতে আর ওপরে যাননি কেন?”

“কোন মুখে যাবো বল দেখি, মা? তোর মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে, তোদের দুজনের সব খবর রোজ নিয়েছি...কিন্তু যেতে পারিনি লজ্জায়। সেদিন পিন্টু আর ওর মা নীচেয় যে কেলেংকারিটা ঘটাল, তাতে তোর এবং তোর পরিবারের মাথাগুলো কতটা হেঁট হয়ে গেল, সে কি আমি বুঝিনি, মা?”

ঘরে বাবা আর আমি ছিলাম বাম্বাইকে নিয়ে। ওঁনার কথার কেউই কোন উত্তর দিতে পারলাম না, আমরা, চুপ করে রইলাম। উনিও অনেকক্ষণ চুপ করে বসেই রইলেন।

একটু পরে মা ঢুকলেন, দুটো সন্দেশ - দুটো সিঙাড়া আর চায়ের কাপ নিয়ে, মুখে হাসি নিয়ে বললেন, “বেয়াই মশাই, একটু চা খান। ওদের নিয়ে আজই বাড়ি এলাম তো...ওদের ঘর গোছগাছ করে, দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সারতেই বেলা গড়িয়ে গেল, তাই আর ঘরে কিছু বানাতে পারিনি। আমি জানি বাইরের তেলেভাজা-টাজা আপনি খান না...তবু আজকে এছাড়া অন্য আর উপায় ছিল না”।

পিন্টুর বাবা, ম্লান হাসলেন, বললেন, “আজ সব খেয়ে নেব, বেয়ান, আপনি নিজে হাতে এনেছেন, আপনাদের ঘর আলো করে এসেছে আপনাদের নাতি...। এই আনন্দের দিনে ওটুকু অনিয়মে কিছু এসে যাবে না”।

মা আমাদের জন্যে এবং নিজের জন্যেও সিঙাড়ার প্লেট আর চায়ের কাপ নিয়ে এসে আমার পাশে বসে বললেন, “ও কথা বলছেন কেন? নাতি তো আপনারও। কিন্তু সিঙাড়াগুলো ঠাণ্ডা হয়ে গেলে, ভালো লাগবে না, বেয়াই মশাই, শুরু করুন”।

খুব সংকোচের সঙ্গে উনি খাওয়া শুরু করলেন। নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন, “নাতি যে আমারও, সে কথা একশবার, বেয়ান। কিন্তু আমার পরিবার তার মাকেই যে সঠিক সম্মানে গ্রহণ করতে পারল না। নিজেকে ওই শিশুটির দাদু বলে দাবি করব, কোন অধিকারে”?

আমরা তিনজনেই কেউ কোন কথা বললাম না, ওঁর কথার উত্তরে। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে উঠে পড়লেন ভদ্রলোক। করজোড়ে আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আজ তবে আসি? আমি কিন্তু মাঝে মধ্যেই তোদের বিরক্ত করতে চলে আসব, সুকু মা, আমার দাদুভাইকে একবার চোখের দেখা দেখতে...”।

উনি চলে গেলেন। আমরা তিনজনেই অনুভব করলাম, ওঁনার অসহায়তা।  

এর পাঁচ-ছদিন পরেই এক সকালবেলা, প্রভাতকাকু, বাবার এক অ্যাডভোকেট বন্ধু আমাদের বাড়ি এলেন। আমার পীড়া-পীড়িতে বাবাই ওঁনাকে ডেকেছিলেন। সাধারণ কথাবার্তার পর তিনি বেশ গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি সত্যিই ডিভোর্স চাইছ, সুকন্যা”।

আমি বললাম, “চাইছি, প্রভাতকাকু”।

“সব দিক ভেবেচিন্তে, মানে তোমার পুত্রের ভবিষ্যৎ, তোমাদের পরিবারের সুনাম, মানসম্মান...”।

“ভেবেছি”।

“কি জানো মা, একটা সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে কয়েক মিনিট লাগে, কিন্তু গড়তে লাগে দীর্ঘ সময়...। আরেকবার চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী, সুকু মা? আজ নয় ছমাস-একবছর পর – দেশে আইন যখন আছে, তখন বিবাহ-বিচ্ছেদ তো যে কোন সময়েই করে ফেলা সম্ভব। কিন্তু একবার ভেঙে গেলে, সেটাকে জোড়া দেওয়া...”।

আমি কিছুটা রূঢ় স্বরেই বলে ফেললাম, “জোড়া দেওয়ার ভাবনা, আমি কোনদিনই ভাবতে যাবো না, কাকু”।

উনি একটু চুপ করে থেকে বললেন, “তোমার বাবার কাছে তোমাদের সব কথাই শুনেছি, মা। এবং একথা সত্যি, এই ঘটনার ভালো-মন্দ ব্যক্তিগতভাবে একলা তোমাকেই ভোগ করতে হয়েছে। আমাদের – এমন কি তোমার বাবা-মাকেও ভোগ করতে হয়নি। এবং একথাও সত্যি, এই জীবনটাও একলা তোমারই – আমরা কেউই তোমার সেই দৈনন্দিন জীবনের অংশীদার হতে পারব না। কিন্তু, তোমার এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে, তুমি কি হাণ্ড্রেড পার্সেন্ট নিশ্চিত, মা?”

“হ্যাঁ কাকু। হাণ্ড্রেড পার্সেন্ট”।

“বারবার আমি জিজ্ঞেস করছি বলে, বিরক্ত হয়ো না, মা। রাগের মাথায় অনেক সময় ডিভোর্স কেস ফাইল তো হয়ে যায় – তারপর কোর্ট যখন উভয়পক্ষকে ডাকে... তখন, আমার অভিজ্ঞতায় বহুবার দেখেছি, কমপ্লেন্যান্টের মন অনেকটাই সফ্‌ট্‌ হয়ে যায়।  কেস চলাকালীন অপোনেন্ট সেটা বুঝতে পারলে, তাদের উকিল ব্যাপারটাকে বিশ্রীভাবে ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে..। তারা তোমার যাবতীয় অভিযোগকে মিথ্যা অপবাদ বলে, মানহানির অভিযোগ করতে পারে...। আমি কী বলতে চাইছি, বুঝতে পারছো মা? কোর্টে কেস যখন চলবে, অনেক আজে-বাজে, অপ্রাসঙ্গিক কুৎসা, তর্কবিতর্ক চলবে, সেসময় দৃঢ় থাকতে পারবে তো? তাতে তুমি এবং তোমার পরিবার হাস্যাস্পদ হয়ে উঠতে পারো...”।

একটু চিন্তা করে আমি বলেছিলাম, “আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে... আমি কোন ভাবেই সফ্‌ট্‌ হবো না, কাকু”।

আমার কথাশুনে প্রভাতকাকু তাঁর ফোল্ডার ফাইল থেকে একগোছা কাগজ বের করে বললেন, “বেশ, তবে তাই হোক। তুমি কি অ্যালিমনি ক্লেম করতে চাও?”

“না”।

“না কেন? এবার একটু ছেলেমানুষি করে ফেলছ, মা। তোমার একটা ভবিষ্যৎ আছে। তার থেকেও বড়ো বিষয় তুমি এখন আর একলাটি নও। তোমার ছেলেকে সুস্থভাবে বড়ো করে তোলা, তার লেখাপড়া...অনেক খরচ মা। তুমি যেখানে কোন ভাবেই আপোস করতে চাইছ না, সেখানে ওদের থেকে অ্যালিমনি ক্লেম করতে আপত্তি কোথায়?”

“আমি চাই না, একজন মাতালের পয়সায় আমি এবং আমার ছেলে বেঁচে থাকি...। ছেলে একটু বড়ো হলেই আমি যে কোন একটা কাজ জুটিয়ে নেব...তাতে আশা করি আমাদের দুজনের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে উঠবে না”।

মৃদু হেসে প্রভাতকাকু বললেন, “বেশ তাই হোক, তোমার যেমন ইচ্ছে...”। 

এভাবেই, সুনুদা, কেস ফাইল হয়ে গেল, এবং মোটামুটি মাস ছয়েকের মাথায় আমি ডিভোর্সও পেয়ে গেলাম নির্বিঘ্নে। আমার শাশুড়ি কিছুটা লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করলেও, জ্যোতিষ এবং আমার শ্বশুরমশাই লড়ার কোনরকম চেষ্টাই করলেন না। আমি স্বস্তির শ্বাস ফেললাম ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে আরেকটা ঘটনা ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠল।

আমরা ডিভোর্স কেস রুজু করার দিন পনের পর, হঠাৎ জ্যোতিষের কোম্পানির মালিক, শশাঙ্ক মিত্র আমাদের বাড়িতে এসে উপস্থিত হলেন। তুমি তো দেখেছ শশাঙ্ককে, যথেষ্ট সুদর্শন, সুপুরুষ, বয়সে জ্যোতিষের তুলনায় চার-পাঁচ বছরের বড়ো। ওর থেকেই জানলাম শশাঙ্ক আর জ্যোতিষ একই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাস আউট, যদিও জ্যোতিষের তুলনায় ও পাঁচ বছরের সিনিয়ার।

শশাঙ্কর কোম্পানিটা ওর পৈতৃক কোম্পানি – কন্সট্রাকশনের ব্যবসা। বাংলা করে বললেন, ঠিকাদারি সংস্থা। ওর বাবা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন না, সাধারণ গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর তীক্ষ্ণ ব্যবসায়িক বুদ্ধির জোরে কোম্পানিটাকে দাঁড় করাতে পেরেছিলেন। অতএব তাঁর ইচ্ছে, তাঁর বানিয়ে তোলা রাজ্যটাকে, তাঁর ইঞ্জিনিয়ার পুত্র সাম্রাজ্য বানিয়ে তুলুক। অতএব কলেজ থেকে বেরিয়ে শশাঙ্ক বাবার কোম্পানিতেই ঢুকেছিল। এবং সে জয়েন করার দশ বছরের মধ্যেই, সে নাকি তার বাবার কোম্পানির টার্নওভার এবং প্রফিট মার্জিন অনেকটাই বাড়াতে পেরেছিল। সে সময় ওদের কোম্পানি নাকি কলকাতা ছাড়াও, দিল্লি এবং চেন্নাইতেও ব্র্যাঞ্চ অফিস খুলে ফেলেছিল। 

সে যাগ্‌গে, মিঃ মিত্র (মিঃ মিত্রই বলি, কারণ আমার জীবনে তার শশাঙ্ক হয়ে উঠতে বেশ কয়েকবছর পার হয়ে গিয়েছিল) একদিন আমাদের বাড়িতে উদয় হয়ে, নিজের পরিচয় দিয়ে, বাবা এবং আমার সঙ্গে আলাপ করলেন। সব কথা বলে তোমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটাবো না, কিন্তু আলাপের শুরুটা তোমার জেনে রাখা ভালো। কেন সেকথা তুমি পরে বুঝতে পারবে। 

পরিচয় পর্ব শেষ হয়ে আলাপের শুরুতেই মিঃ মিত্র বললেন, “কলেজের ক্যাম্পাস ইন্টারভিউতে আমিই জ্যোতিষকে তুলেছিলাম। যেহেতু আমিও ওই কলেজেই পড়েছি, ওই কলেজের ছেলেদের ওপর আমার সর্বদাই একটা সফ্‌ট্‌ কর্নার ছিল, আজও আছে। আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে। কলেজে পড়তে, হস্টেলে থাকতে সকল ছাত্রই, বাড়ির বাইরে এসে কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে, এবং কমবেশি নেশা-ভাংও করে। সেটাকে আমরা খুব একটা  বড়ো ব্যাপার বলে ভাবি না। এবং আমরা এও দেখেছি সব ব্যাচেই কয়েকজন ছেলে অ্যাডিক্টেড হয়ে ওঠে ঠিকই, কিন্তু অধিকাংশ ছেলেই পাস করার পর, কর্মজগতে এসে অনেকটাই শুধরে যায়। জ্যোতিষকে যখন আমি সিলেক্ট করি, ওর মধ্যে অ্যাডিকশনের কোন লক্ষণ আমি বুঝতে পারিনি – অবশ্যই সেটা আমার ভুল।

লাস্ট সেমেস্টার পাস করে গেল জ্যোতিষ। কলেজ থেকে মার্কশীট এবং সার্টিফিকেট পেয়ে আমাদের অফিসে জমা করল এবং নিয়ম-মাফিক আমাদের কোম্পানিতে যথা সময়ে জয়েনও করে গেল। অবশ্য ইন্টারভিউয়ের সময়েই আমার প্রথম খটকা লেগেছিল ওর মার্কশীটের প্যাটার্ন দেখে। ফার্স্ট থেকে সেভেন্থ সেমেস্টার পর্যন্ত ওর নাম্বারগুলো ছিল কনসিস্ট্যান্টলি ডিক্লাইনিং। ইন্টারভিউতে ওকে জিজ্ঞেসও করেছিলাম, এর কারণ কি? ও উত্তরে বলেছিল, ওর বাড়িতে নানান দুর্ঘটনা, মায়ের অসুস্থতা, বাবার চাকরি চলে যাওয়া...ইত্যাদি নানা কারণে ও খুব মানসিক উদ্বেগে ছিল, তাই রেজাল্ট ভালো হয়নি। আমি বিশ্বাস করেছিলাম, এবং সিম্প্যাথেটিক হয়েও উঠেছিলাম। ভেবেছিলাম, পাশ করে বেরিয়েই একটা জব এনশিয়োর করতে পারলে, ওর এই উদ্বেগটা নিশ্চয়ই কমবে। ইন্টারভিউয়ের পরে ওর লাস্ট সেমেস্টার ছিল প্রায় মাস তিনেক পরে। আমি ভেবেছিলাম এবং ওকে বলেওছিলাম, আশা করি তোমার লাস্ট সেমেস্টারের মার্কস যথেষ্ট ভালো হবে। জ্যোতিষ সেদিন কৃতজ্ঞ চোখে আমাকে কথাও দিয়েছিল, “আপনি যেভাবে আমাকে হেল্প করলেন, আমার ফাইন্যাল সেমেস্টারে আমি সবাইকে দেখিয়ে দেব”।

মিঃ মিত্র একটু থেমে মৃদু হেসে বলেছিলেন, “ও কথা রাখেনি। আমাদের কোম্পানিতে ওর জয়েন করার খবর যখন সবাই জেনে গেল। অনেকেই আমাকে বলেছিল, “শশাঙ্কদা, আপনি আর ছেলে পেলেন না, শেষ পর্যন্ত জ্যোতিকে”? ওর থেকে এক, দুই বা তিন বছরের সিনিয়র ছাত্রদের কয়েকজন আমাদের সঙ্গেই রয়েছে, দে আর ফেয়ার এনাফ, অ্যান্ড উই আর রিয়্যালি হ্যাপি হ্যাভিং দেয়ার সিনিসিয়ার সার্ভিসেস টিল দিস ডেট – তারাই বলল। এমনকি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন এবং আমাদের বিজ্‌নেসের ব্যাপারে খুবই সাহায্য করেন, কলেজের এমন কয়েকজন প্রফেসরও আমাকে একই কথা বলেছিলেন। ভুলটা বুঝতে পারছিলাম, কিন্তু তখনই কোন উপায় ছিল না, কারণ একজনকে অ্যাপয়েন্ট করার কয়েকদিনের মধ্যেই, উইদাউট এনি ভ্যালিড রিজ্‌ন্‌, তাকে ডিসমিস করলে, আমার এবং কোম্পানির বদনাম হয়ে যেত। সে সময় ওকে আলাদা ডেকে এই সব কথাই বলেছিলাম। জ্যোতিষ আমাকে কথাও দিয়েছিল, ও শুধরে যাবে। কিন্তু ও কথা রাখেনি। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম ও কথা রাখে না”।

কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন মিঃ মিত্র। আমরা কেউই এতক্ষণ কোন কথা বলিনি। বাবা উদাস চোখে তাকিয়ে ছিলেন জানালার বাইরে, আর আমি মেঝের দিকে। 

চলবে...


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নতুন পোস্টগুলি

শুধু _তুই .কম - পর্ব ২০

 প্রথম   ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব  - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "  দ্বিতীয়  ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন র...