প্রথম ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " সুরক্ষিতা - পর্ব ১ "
দ্বিতীয় ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " এক যে ছিলেন রাজা - ১ম পর্ব "
তৃতীয় ধারাবাহিক উপন্যসের প্রথম পর্ব - " বিপ্লবের আগুন - পর্ব ১ "
চতুর্থ ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রথম পর্ব - " শুধু _তুই .কম - পর্ব ১ "
পঞ্চম ধারাবাহিক উপন্যাস প্রথম পর্ব - "স্বদেশী ডাকাত - পর্ব ১ "
সম্পুর্ণ উপন্যাস - " এক দুগুণে শূণ্য "; "অচিনপুরের বালাই" ; " সৌদামিনীর ঘরে ফেরা "
পঁচিশে জুলাই, ২০২৬, মঙ্গলবার
– বিকেল চারটে
বিকেল চারটে থেকে ভিজিটিং
আওয়ার, অহীনের সঙ্গে নবীনবাবু পৌঁছে গেলেন কেবিনের দরজায়। সন্তর্পণে দরজা ফাঁক করে
নবীনবাবু কেবিনে ঢুকলেন, পিছনে অহীন। অবিনবাবুর বিছানার মাথার দিকটা তুলে দেওয়া, পিছনে
বালিশের ঠেস দিয়ে তিনি বসে আছেন। তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন ঘরে ঢোকা দুই মূর্তির
দিকে।
নবীনবাবু হাসি হাসি মুখে,
একটু ঘাড় নামিয়ে বললেন, “প্রণাম নিও দাদু, আমি তোমার বড়দার একমাত্র ছেলে প্রবীণের পুত্র।
মানে তুমি আমার বাবার ছোটকা”। অবিনদাদু তাকিয়ে রইলেন নবীনবাবুর দিকে, কোন উত্তর
দিলেন না। বাবার দেখাদেখি অহীনও মাথা নামিয়ে বলল, “প্রণাম নিও, দাদু”। নবীনবাবু
পরিচয় করিয়ে দিলেন, “দাদু, এটি আমার ছোট পুত্র – অহীন, তোমার প্রপৌত্র, মানে পুতি।
আমার বড় পুত্র মহীন এখানে নেই – কর্মসূত্রে গুজরাটে আছে”।
অবিনবাবু এবার বিরক্ত হয়ে মুখ
বেঁকালেন, হাত নেড়ে ওদের বসতে ইশারা করলেন, তারপর একটু চাপা স্বরে বললেন, “সবাই
মিলে অ্যাতো দাদু দাদু করচিস কেন? আমাকে দেখে কি দাদু মনে হচ্চে?”
নবীনবাবু এবং অহীন দুজনেই একটু
অপ্রস্তুত হয়ে বিছানার পাশে রাখা টুলে বসল। নবীনবাবু হাত কচলে, অমায়িক হাসিমাখা
মুখে বললেন, “তা তুমি আমার বাবার ছোটকা। তুমি আমার দুই পুত্রের ঠাকুরদাদার ছোটকা। দাদু
বলবে তাতে আর আশ্চর্য কি?”
কড়া চোখে নবীনবাবুর দিকে
তাকিয়ে অবিনবাবু একটু ধমকের সুরে বললেন, “না, বলবি না। অবিনদা বলবি, বা ওরকম কিছু –
দাদু কক্ষণো না। এই বলে রাখলাম”।
“আচ্ছা তাই হবে। কেমন আছ বলো।
দুপুরে মাছের ঝোল ভাত দিয়েছিল, কেমন লাগল?”
মুখ বিকৃত করে অবিনবাবু
বললেন, “ছ্যাঃ মুখে তোলা যায় না। যেমন পিণ্ডি চটকানো ভাত, তেমনি ঝোল। যেন পুকুরের
জলে ভেসে বেড়ানো মাছ ধরে, সেই জলেই একটু নুন আর হলুদ ছেটানো”।
নবীনবাবু আর অহীন এই কথায়
হেসে ফেলল। তাদের হাসি দেখে অবিনবাবু বললেন, “হাসছিস? বড়ো বৌদিদির রান্না তো খাসনি।
বড় বৌদিদি মানে খ্যাঁদার মা। আহা সে স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে”।
কেবিনের দেয়ালে বেশ বড়ো একটা ফটো
টাঙানো ছিল – গভীর অরণ্যের মধ্যে পায়ে চলা পথ বহু দূরে চলে গেছে, বনের আরও গভীরে। সেই
ফটোটার দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অবিনবাবু আবার বললেন, “ওঁনারা আর বেঁচে নেই
না? বড়দা, বড়বৌদিদি? বড়বৌদিদি যখন বিয়ে করে আমাদের বাড়ি এল, ওঃ যেন সাক্ষাৎ মা জগদ্ধাত্রী।
বাড়ির মেয়েরা ওঁনাকে বরণ করল, তারপর নানান মেয়েলি আচার অনুষ্ঠান হল। সে সব সম্পন্ন
হতেই, আমার মা বললেন, বৌমা, যাও নিজের ঘরে গিয়ে কাপড় চোপড় ছেড়ে বিশ্রাম নাও।
পিসিরা, দিদিরা বৌদিদিকে নিয়ে দোতলায় যাচ্ছিল, বৌদিদি বললেন, বিনু কোথায়, বিনু?
সবাই জিজ্ঞাসা করল বিনু কে? বিনু বলে তো কেউ নেই এ বাড়িতে? অনুষ্ঠান বাড়ির ভিড়ের
ভেতর থেকে আমাকে ঠিক লক্ষ্য করেছিলেন। আমার দিকে হাত তুলে ডাকলেন, বললেন, ওই তো
বিনু। আমার কাছে আয়। আমি কাছে যেতে জিজ্ঞাসা করলেন, তোর নাম কী রে? আমি বললাম, অবিন,
সবাই অবু বলে ডাকে। বৌদিদি বললেন, আজ থেকে আমি তোকে বিনু বলে ডাকব। বলে আমার একটা
হাত ধরে ওপরে নিয়ে গেলেন। পরে জেনেছিলাম, বাপের বাড়িতে ওঁনার ছোটভাই ছিল, বিনয়, ডাকনাম
বিনু - আমারই বয়সী। আমার মধ্যে উনি নিজের ছোট ভাইকে খুঁজে...”। অবিনবাবুর কণ্ঠরুদ্ধ
হয়ে এল, তাঁর দুচোখের কোলে জমে উঠল অশ্রু।
নিজেকে সামলে নিয়ে একটু পরে অবিনবাবু
বললেন, “জিজ্ঞেস করতেও ভয় হয়, খ্যাঁদা বেঁচে-বর্তে আছে তো”?
অহীন জিজ্ঞাসা করল, “বিনুদা,
খ্যাঁদা কে?”
এই প্রথম অবিনবাবুর মুখে হাসি
ফুটল, বললেন, “বিনুদা? বাঃ বেশ নাম দিয়েছিস। খ্যাঁদা কে হয় তোর বাপকে জিজ্ঞেস কর
না, ছোঁড়া”। অহীন তার বাবার দিকে তাকাল, নবীনবাবু বললেন, “ঠাম্মা
চলে গেছেন প্রায় বছর কুড়ি হবে। আজ এতদিন পর তোমার মুখে বাবার ডাকনাম শুনে কত কথাই
যে মনে পড়ছে – বাবা ভালই আছেন, মাও আছেন। ওঁনাদের আজকে আসতে আমিই মানা করেছি। কাল
নিয়ে আসব”।
এবার অবিনবাবু গম্ভীরভাবে দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কয়েকটা প্রশ্ন করব, তার সোজাসাপটা
উত্তর দিবি”? ওরা দুজনেই একটু উৎকণ্ঠিত হল, কী প্রশ্ন করবেন,
রে বাবা। কেউই কিছু বলল না, অবিনবাবুর প্রশ্নের অপেক্ষায় তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
অবিনবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, “ডাক্তারবাবুকে সকালে আর দুপুরে দুবার জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উত্তর না দিয়ে বললেন,
সে অনেক কথা, এখন আমার সময় নেই, পরে একসময় বলব। পারুল, যে মেয়েটি আমার সেবা করে, সর্বদা
দেখাশোনা করে, তাকেও জিজ্ঞেস করলাম, সে গম্ভীর মুখে বলল, সবাই
তো তাই বলে, কিন্তু আমি তো তেমন কিছু বুঝি না”। একটু থেমে অবিনবাবু দুজনের
মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “ভারত কি স্বাধীন হয়েছে?”
সর্বজিৎ, মহীন, অহীন আর ডাক্তারকাকু এই
বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আগেই আলোচনা করেছিল। অবিনদাদুর কিছু কিছু প্রশ্নের ধাক্কা
আসবে, যেগুলো খুব সাবধানে সামলাতে হবে। যেমন এই স্বাধীনতা। নেতাজী সুভাষের বিতর্কিত
মৃত্যু। দেশভাগ। সিদ্ধানন্দ ঠাকুরের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠলেই আসবে
সেই সময়কার দুই বাংলা জুড়ে বীভৎস দাঙ্গার ইতিহাস। লক্ষ লক্ষ ছিন্নমূল
নিঃস্ব হিন্দু উদ্বাস্তুদের এদেশে চলে আসার প্রসঙ্গ আসবে। এত লক্ষ মানুষের এদেশে কিভাবে
পুনর্বাসন হয়েছে, সে কথাও উনি জানতে চাইবেন হয়তো। এসব কথা কোন না কোন সময় অবিনদাদুকে
বলতেই হবে। কিন্তু উনি কী ভাবে নেবেন সেটাই দুশ্চিন্তার বিষয়।
নবীনবাবু এই প্রশ্নের জন্যে একেবারেই
প্রস্তুত ছিলেন না, তিনি অহীনের মুখের দিকে তাকালেন। অহীন বলল,
“হ্যাঁ বিনুদা, ভারত ১৯৪৭ সালের পনেরই আগষ্ট মাঝ রাত্তিরে স্বাধীন
হয়েছে। ব্রিটিশরা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেছে”।
“সাতচল্লিশ সালে? আজ থেকে ঊণতিরাশি বছর আগে? বলিস কি? ডমিনিয়ন স্টেটাস না পূর্ণ স্বরাজ?”
অহীন বলল, “না বিনুদা, ডমিনিয়ন স্টেটাস
নয়, পূর্ণ স্বরাজ। আমাদের দেশ এখন গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর
নির্বাচন হয়, আমরা সবাই ভোট দিয়ে, আমাদের সরকারকে নির্বাচিত করি”।
অবিনবাবু খুশি হলেন, অহীনের কথায়। কিন্তু তারপরই জিজ্ঞাসা করলেন, “কিন্তু ওই মেয়েটি, মানে পারুল, কথাবার্তা
বলে বেশ শিক্ষিত মনে হল… সে ওরকম বলল কেন?”
অহীন একটু ইতস্ততঃ করে বলল, “আমাদের দেশটা
কত বড়ো, সে তো তুমি জানোই বিনুদা। এত রকমের মানুষ। এত রকমের ভাষা, জাত, পাত, ধর্ম।
তার ওপর ধনী আছে, মধ্যবিত্ত আছে, দরিদ্র আছে, হত-দরিদ্রও আছে। এদের সকলেরই আশা ছিল
দেশ স্বাধীন হয়েছে, এবার নিশ্চয়ই সকলের সুদিন আসবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সর্বস্তরের
সর্বসাধারণের মধ্যে স্বাধীনতার সুফল পৌঁছনো যায়নি। মেয়েটির ব্যাকগ্রাউণ্ড জানি না,
কাজেই সঠিক বলতে পারব না, কেন সে একথা বলল। আমাদের দেশবাসীদের মধ্যে অনেকের মনেই এমন
ক্ষোভ রয়েছে”।
অবিনবাবু তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে অহীনের
কথা শুনছিলেন, এখন জিজ্ঞাসা করলেন, “তোর মনে কোন ক্ষোভ নেই?”
অহীন এবার হেসে
ফেলল, বলল, “ক্ষোভ বলা যাবে কি না জানি না, তবে কিছু কিছু বিষয়ে আমরাও যে হতাশ হচ্ছি
না, তা নয়”।
“যেমন”?
অহীন আবারও হাসল, বলল, “তুমি কী স্বাধীনতা-উত্তর
ভারতবর্ষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সব পরিস্থিতি আজকেই জেনে ফেলতে চাইছ, বিনুদা?
আরও একটু সুস্থ হও, বাড়ি চলো। তারপর এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে”।
অবিনবাবু অহীনের সপ্রতিভতায় খুশি হলেন। তাঁর মনে পড়ল নিজের পিতা-মাতার কথা। বড়দাদা এবং বড়োবৌদিদির
কথা। ভাইপো খ্যাঁদার কথা। সাত বছরের বালক অবস্থায় যাকে তিনি শেষ দেখেছিলেন। সেই রক্তধারাই
বহন করে চলেছে – এই ছেলেটি, যার নাম অহীন। এতক্ষণে আন্তরিক এক আবেগ অনুভব করলেন ছেলেটির
প্রতি। তাঁর বুকের মধ্যে এখন আশ্চর্য এক আত্মীয়তার অনুভূতি – এই ছেলেটি তাঁর প্রপৌত্র
– যাকে চলিত কথায় বলে পুতি। মানুষ কেন, কোন জীবই চিরকাল বাঁচে না, এ কথাটা পূর্ণ সত্য
নয়। তারা বেঁচে ছিল তাদের পূর্বপুরুষে। তারা বেঁচে থাকে তাদের উত্তরপুরুষে। সৃষ্টির
আদি থেকে এ এক অবিচ্ছিন্ন ধারা। সেই ধারার মধ্যে প্রতিটি সম্পর্কের একটা
প্রাকৃতিক পারম্পর্য থাকে।
সাধারণতঃ একটি মানব শিশুর জন্ম
হয় তার পিতা-মাতার যৌবন অবস্থায়। সে সময় তার পিতামহ এবং পিতামহী থাকে যৌবনের
উপান্তে। সে শিশুর প্রপিতামহ ও প্রপিতামহী, যদি জীবিত থাকে, তারা বৃদ্ধ নির্যৌবন জীবনযাপন
করে। কিন্তু তিনি এই যে মানুষগুলির সামনে বসে কথা বলছেন, তাদের স্বাভাবিক “দাদু”
ডাক শুনে তিনি বিরক্ত হচ্ছেন। কেন? কারণ কোন এক অলৌকিক কারণবশতঃ তিনি ও তাঁর
প্রপৌত্র অহীন সমবয়সী হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেই জীবনের পারম্পর্যহীন প্রকৃতিবিরুদ্ধ
হয়ে উঠেছেন এবং বয়সোচিত স্বাভাবিক আচরণ করতে পারছেন না! এ কথাটা বুঝতে পেরে তিনি
নিজেকে বড়ো অসহায় বোধ করলেন।
অবিনবাবু অহীনের মুখের দিকে তাকিয়ে যতক্ষণ এসব কথা ভাবছিলেন, অহীনের একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। তার শেষ কথায়
অবিনবাবু কি আঘাত পেলেন? এই মানুষটিকে গতকাল পর্যন্ত তার মনে হয়েছিল আশ্চর্য এক জীব
বিশেষ। প্রাগৈতিহাসিক না হোক – এক জীবন্ত প্রত্নতাত্ত্বিক
নিদর্শন। তিরাশি বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা একটি
প্রাণ। যার বয়েস থমকে রয়েছে, থমকে রয়েছে শরীর।
অহীন জানে মৃত্যুতে মানুষের বয়স
এবং শরীর থমকে যায়। অহীনের এক পিসিমা বিয়ের কয়েকবছর পরে এক দুর্ঘটনায় মাত্র চৌত্রিশ
বছর বয়সে মারা যান। তাদের বাড়ির দেয়ালে, ফটো অ্যালবামে ওই পিসিমার সঙ্গে তাদের অনেকগুলি
উজ্জ্বল হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি সযত্নে রাখা আছে। আজ প্রায় দশ বছর বাদে, বেঁচে
থাকলে পিসিমার বয়েস হত চুয়াল্লিশ। অথবা আজ থেকে আরও কুড়ি বছর পরে পিসিমার বয়েস হতে
পারত চৌষট্টি। এই সময়ে অহীনের বয়েস বাড়বে, শরীরে আসবে নানান পরিবর্তন। ছবিতে যে বালকের
সঙ্গে পিসিমার ছবি দেখে সে এখন স্মৃতি ভারাক্রান্ত হয়, সে এখন আর বালক নয়, যুবক। আরও কুড়ি বছর
পরে সে পিসিমার বয়েস পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ওই ছবিগুলির মধ্যে পিসিমা থমকে
রয়েছেন, তাঁর কোন পরিবর্তন হয়নি, হবেও না। কিন্তু সামনে বসে থাকা ওই ভদ্রলোক তো
থমকে নেই, থমকে থাকবেন না। তিনি অনেকটা পথ পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁর সঙ্গী পথিকদের সবাই
এগিয়ে গিয়েছে প্রকৃতির নিয়মে। তিনি কি নিজেকে নির্বান্ধব পথভ্রষ্ট ভাবছেন?
অবিনবাবু হাত বাড়িয়ে অহীনকে ডাকলেন, “এদিকে আয়, আমার পাশে একটু বস তো”...। অহীন টুল ছেড়ে অবিনবাবুর পাশে বিছানায় বসল। অবিনবাবু তাঁর হাতটা বাড়িয়ে অহীনের ডানহাতটা ধরলেন। একটাও কথা না বলে, তাকিয়ে রইলেন ফ্রেমে বাঁধানো অরণ্যের ফটোটির দিকে। তিনি যেন গভীর অরণ্যের রহস্য ভেদ করতে চাইছেন। অহীনের হাত ধরে হাঁটতে চাইছেন, অজানা – অচেনা অরণ্যপথে...। কেউই আর কোন কথা বলল না। অবিনবাবু অহীনের হাতটা ধরে বসেই রইলেন, দেয়ালের ছবিটার দিকে তাকিয়ে।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন