এই সূত্রে - " ঈশোপনিষদ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কঠোপনিষদ - ১/১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " কেনোপনিষদ - খণ্ড ১ ও ২ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " শ্রীশ্রী চণ্ডী - পর্ব ১ "
এই সূত্র থেকে শুরু - " গীতা - ১ম পর্ব "
এই সূত্র থেকে শুরু - " ভাগবত পুরাণ - পর্ব ১/১ "
দক্ষ হত্যা ও যজ্ঞ বিনাশ
শ্রীমৈত্রেয় বললেন, “মুনি নারদের
কাছে, দক্ষের যজ্ঞস্থলে পত্নী ভবানীর অপমান, সেখানে তাঁর দেহত্যাগ ও ঋভুদের কাছে
তাঁর অনুচরদের পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে ভব ক্রোধে জ্বলে উঠলেন। ঘোর মূর্তি ধারণ করে,
ধূর্জটি তাঁর জটা থেকে একটি জটা উপড়ে নিয়ে মাটিতে নিক্ষেপ করলেন। সেই নিক্ষিপ্ত
জটা থেকে বীরভদ্রর আবির্ভাব হল, তাঁর আকাশছোঁয়া দেহে হাজার বাহু। তাঁর তিন চোখ,
তিনটি সূর্যের মতো উজ্জ্বল। তাঁর
গায়ের রঙ ঘন মেঘের মতো। তাঁর করাল দাঁত, তাঁর কেশরাশি আগুনের মতো জ্বলছে, তাঁর
গলায় নরকপালের মালা, তাঁর হাজার বাহুতে বিচিত্র ও ভয়ংকর অস্ত্রশস্ত্র।
বীরভদ্র জোড়হাতে ভগবান ভূতনাথের
সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, “আদেশ করুন, প্রভু”। মহাদেব ধূর্জটি বললেন, “হে মহাবীর, আমার অংশেই তোমার জন্ম, অতএব আমার
অনুচরদের নেতৃত্ব দিয়ে তুমি যাও, দক্ষের যজ্ঞ বিনাশ করো এবং দক্ষকে বধ করো”। ক্রুদ্ধ রুদ্রের এই নির্দেশ পেয়ে
বীরভদ্র তাঁর প্রভু দেবাদিদেবকে প্রদক্ষিণ করে, ভৈরব গর্জন করতে করতে প্রত্যক্ষ
যমের মতো দৌড়ে চললেন দক্ষের যজ্ঞস্থলের দিকে।
সেইসময় যজ্ঞস্থলে উপস্থিত
যাজ্ঞিকগণ, যজমান, ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণীগণ এবং অন্যান্য সদস্যরা হঠাৎ উত্তরদিকে
প্রচণ্ড ধুলির ঝড় দেখতে পেলেন। তাঁরা আলোচনা করতে লাগলেন, বায়ু এমন কিছু জোরে বইছে
না! রাজ্যে সুশাসন বিরাজিত, অতএব দস্যুদলের আসার সম্ভাবনাও নেই। এই অসময়ে গবাদি
পশুরদেরও চারণভূমি থেকে ফেরার কথা নয়। তাহলে, এই ধুলিঝড়ের কারণ কি? দক্ষপত্নী প্রসূতি ব্যাকুল শোকাহত কণ্ঠে বললেন,
“প্রজাপতি দক্ষ আমার অন্য সকল কন্যাদের সামনে, আমার নিষ্পাপ কন্যা সতীর অপমান
করলেন, সে দেহত্যাগ করল। আমার ভয় হচ্ছে, এ সেই মহাপাপেরই পরিণাম। যে ধূর্জটি প্রলয়কালে নিজের
জটারাশি বিকীর্ণ করে, দিগ্গজদের শূলে বিদ্ধ করে অট্টহাস্য করেন এবং দশদিক উদ্বেল
করে নৃত্য করতে থাকেন। ভ্রূকুটির জন্যে যাঁর চোখের দিকে তাকানো যায় না, যাঁর করাল
দাঁতের আঘাতে নক্ষত্রেরাও চারদিকে ছিটকে পড়ে, সেই রুদ্রকে ক্রুদ্ধ করে তুললে স্বয়ং
ভগবানও নিস্তার পান না। কাজেই তাঁর হাতে দক্ষের যে অমঙ্গল ঘটবে, এতে আমার সন্দেহ
নেই”।
বলতে না বলতে বীরভদ্র তাঁর
অনুচরদের নিয়ে ঝড়ের মতো যজ্ঞস্থলে ঢুকে পড়লেন। তাঁর অনুচরেরা যজ্ঞের সমস্ত আয়োজন
তছনছ করে দিল। যজ্ঞের আগুন নিভিয়ে দিল। যজ্ঞবেদীর সীমাসূচক মেখলা ছিঁড়ে ফেলে দিল।
যজ্ঞের পাত্র ভেঙে চুরমার করে দিল। আতঙ্কে দেবতা, ব্রাহ্মণ ও উপস্থিত সকল সদস্যরা
যজ্ঞস্থল থেকে পালিয়ে গেল। তখন বীরভদ্র প্রজাপতি দক্ষকে, মণিমান মুনি ভৃগুকে,
চণ্ডেশ পূষাকে এবং নন্দীশ্বর ভগকে বেঁধে ফেললেন। শিবকে অপমান করার সময়, যেহেতু
মুনিভৃগু গোঁফদাড়ি নাড়িয়ে খুব হেসেছিলেন, অতএব তিনি উপড়ে ফেললেন তাঁর সব গোঁফদাড়ি।
ভগকে যজ্ঞস্থলের মাটিতে ফেলে তার দুই চোখ তুলে ফেললেন, কারণ তিনি চোখের ইশারায়
দক্ষকে শিবনিন্দায় উৎসাহ দিয়েছিলেন। পূষার দাঁতের পাটি উপড়ে দিলেন, কারণ শিব
নিন্দায় তিনি দাঁত দেখিয়ে খুব হেসেছিলেন। তারপর দক্ষের বুকের উপর চড়ে, কণ্ঠপীড়ন
করে তাঁকে হত্যা করলেন ও তাঁর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। এরপর
রুদ্রমূর্তি বীরভদ্র দক্ষিণদিকের হোমের আগুনে দক্ষের মাথা আহুতি দিয়ে, সমস্ত যজ্ঞস্থল পুড়িয়ে ছাই করে
দিয়ে ফিরে গেলেন কৈলাসে। এই ভয়ংকর কাণ্ডে
ভূত, প্রেত ও পিশাচেরা আনন্দে সাধুবাদ করল, কিন্তু ব্রাহ্মণ ও দেবতারা নিন্দায়
মুখর হলেন। তারপর রুদ্রমূর্তি বীরভদ্র, দক্ষিণ অগ্নিতে দক্ষের মাথা দগ্ধ করে,
যজ্ঞস্থল পুড়িয়ে ছাই করে কৈলাসে ফিরে
গেলেন”।
মহর্ষি মৈত্রেয় বললেন, এই ঘটনার
পর আহত ও ভয়ে ব্যাকুল দেবতা ও ব্রাহ্মণেরা ব্রহ্মার কাছে গিয়ে, তাঁকে প্রণাম
করলেন। তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে এর প্রতিকারের জন্যে প্রার্থনা করলেন।
পদ্মযোনি ব্রহ্মা ও বিশ্বাত্মা নারায়ণ দক্ষযজ্ঞে আমন্ত্রিত হয়েও যজ্ঞে যান নি,
কারণ তাঁরা আগে থেকেই জানতেন এমন ঘটনা ঘটতে চলেছে। সকলের কথা শুনে ব্রহ্মা বললেন, “তোমরা
সকলে চিন্তা করে দেখ, তোমরাই অপরাধী। কারণ মহাদেব সর্বদাই যজ্ঞভাগের অধিকারী,
তোমরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছ। তিনি প্রজাপতি দক্ষের নিন্দাবাক্যে দুঃখিত, প্রিয়
পত্নীর মৃত্যুতে কাতর। তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই। তিনি
আশুতোষ, অল্পেই সন্তুষ্ট হন, যজ্ঞের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রার্থনায় তাঁকে প্রসন্ন করো।
তিনি স্বতন্ত্র প্রভু; আমি, ইন্দ্র, তোমরা, মুনিগণ কেউই তাঁর তত্ত্ব বুঝতে পারি
না, তাঁর বল ও শক্তির কোন সীমা নেই”। ব্রহ্মা
এই কথা বলে সকল প্রজাপতি, পিতৃগণ ও দেবতাদের সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরারির নিবাস
গিরিশ্রেষ্ঠ কৈলাসের দিকে রওনা দিলেন।
কৈলাসধাম জন্মসিদ্ধ, ওষধিসিদ্ধ,
তপঃসিদ্ধ, মন্ত্রসিদ্ধ এবং যোগসিদ্ধ দেবগণের আবাসস্থান, সেখানে অপ্সরা, কিন্নর ও
গন্ধর্বরাও বাস করেন। সেখানে নানান রকমের
গাছপালা, লতা, গুল্ম; নানান ধরনের পশুপাখি আর অজস্র নির্মল জলের ঝর্ণা, নদী
প্রস্রবণ দেখা যায়। সেখানে ময়ুরের কেকা, কোকিলের কুহু, অলির গুঞ্জন আর অন্যান্য
পাখির কাকলিতে চারদিক মুখরিত। দেবতারা নন্দা ও অলকানন্দা নদী বেষ্টিত অলকাপুরী ও
সৌগন্ধিক নামক অপূর্ব কানন দেখে মুগ্ধ হলেন। ঐ দুই নদী ভগবান ভবের চরণস্পর্শে
পবিত্র, এই দুই নদীর মধ্যে নন্দা আরো পবিত্র, কারণ এই নদীতেই দেবীসতী স্নান করতেন।
ঐ অলকাপুরী্তেই কুবেরের নিবাস। সেখানে যক্ষ রমণীরা সোনা, রূপা ও মহামূল্য রত্নে
সর্বদা অলংকৃত থাকেন। সৌগন্ধিক কানন থেকে পুষ্পের সৌরভ বয়ে আনা বাতাস যক্ষ রমণীদের
মন সর্বদা প্রফুল্ল রাখে।
কুবেরপুরী অলকা ও সৌগন্ধক কানন
পার হয়ে দেবতারা অদূরে এক মহাবটবৃক্ষ দেখতে পেলেন। সেই বৃক্ষ যেমন উঁচু, অজস্র
শাখাপ্রশাখা ছড়িয়ে তেমনই বিস্তৃত। এই বটবৃক্ষের নীচে সর্বদাই ছায়াচ্ছন্ন,
নিরুত্তাপ শান্ত ও কোথাও কোন উপদ্রব নেই। দেবতারা দেখলেন মহাযোগময় এই তরুমূলে
দেবাদিদেব প্রশান্তভাবে বসে আছেন। তাঁর অঙ্গ সান্ধ্য মেঘের মতো রক্তবর্ণ, সেই
শ্রী অঙ্গে জটা, ভস্ম ও অজিন, হাতে দণ্ড। তাঁর কপালে চন্দ্রলেখা। দক্ষিণ উরুতে বাম
পাদপদ্ম, বাম জানুদেশে বাম বাহু রেখে, দক্ষিণ হাতের তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠ সংযোগ ও তিন
আঙুল প্রসারিত করে তিনি তর্কমুদ্রায়
বসেছিলেন। তাঁর উপাসনা করছিলেন সনন্দন ও অন্যান্য যোগসিদ্ধ কুমারগণ এবং যক্ষ ও
রক্ষদের রাজা কুবের। আর ছিলেন দেবর্ষি নারদ। তিনি কুশাসনে উপবেশন করে সকলকে
বেদতত্ত্ব উপদেশ করছিলেন।
লোকপালগণের সঙ্গে দেবতা ও
মুনিরাও জোড়হাতে গিরিশকে প্রণাম করলেন। পরমপিতা ব্রহ্মাকে দেখে মহাদেব আসন ছেড়ে
উঠে এলেন এবং নতমস্তকে ব্রহ্মাকে প্রণাম করলেন। তারপর নীললোহিতের চারদিকে
উপস্থিত সকলেই ব্রহ্মাকে প্রণিপাত করলেন। ব্রহ্মা হাসিমুখে বললেন, “হে শশাংকশেখর,
যদিও তুমি আমাকে প্রণাম করলে, কিন্তু আমি তোমাকে এই বিশ্বের ঈশ্বররূপেই জানি। তুমি এই জগতের যোনিরূপা প্রকৃতির
ও বীজস্বরূপ পুরুষের একমাত্র কারণ। বেদের রক্ষণের জন্যে, দক্ষকে নিমিত্ত করে তুমিই
যজ্ঞের সৃষ্টি করেছিলে। তুমিই ইহলোকে বর্ণাশ্রম বিধিবদ্ধ করেছ। হে মঙ্গলময়, যারা
শুভকার্য সুসম্পন্ন করে তুমি তাদের স্বর্গ ও মোক্ষ দান করে থাক এবং পাপাচরণকারীদের
নরক বিধান করে থাক। তাহলে কি কারণে এই নিয়মের এমন বিপর্যয় দেখা যায়? ক্রোধ দক্ষকে
অভিভূত করে ফেলেছিল। তুমি জানো, যারা ভেদদর্শী, তাদের দৃষ্টি শুধু কর্মমার্গেই
আসক্ত থাকে, অন্যের সমৃদ্ধি দেখলে এরা ঈর্ষান্বিত হয় এবং দুর্ব্যবহার ও দুর্বাক্যে
অপরের মর্মপীড়া সৃষ্টি করে। কিন্তু এমন ব্যক্তিও তোমার মতো অনুপম সাধুব্যক্তির
বধ্য নয়। কারণ, নিজের কর্মফল ও মন্দভাগ্যই তাকে বধ করে থাকে। হে দেবাদিদেব, তুমি
সর্বজ্ঞ, পরম পুরুষের মায়ায় তোমার বুদ্ধি আচ্ছন্ন নয়। যারা মায়ায় অভিভূত ও কর্মে
আসক্ত, তারা অপরাধী হলেও তোমার কৃপা ও ক্ষমার যোগ্য।
হে রুদ্র, তুমি প্রজাপতি দক্ষের যজ্ঞ বিনষ্ট করায়, সেই যজ্ঞ অসমাপ্ত রয়েছে। তুমিই যজ্ঞফল বিধান করে থাক, অথচ মূর্খ ও মোহান্ধ যাজ্ঞিকেরা তোমাকেই যজ্ঞভাগ দান করে নি। তুমি ওই যজ্ঞের পুনরুদ্ধার করো। যজমান দক্ষকে আবার প্রাণদান করো, ভগকে তার দুই চোখ, পূষাকে তার দাঁতের পাটি ও ভৃগুর গোঁফদাড়ি তুমি ফিরিয়ে দাও। যে সব যাজ্ঞিক ও দেবতারা আহত হয়েছে, তোমার ক্ষমার প্রসাদে তারাও সকলে আরোগ্য হোক। হে রুদ্র, যজ্ঞ সম্পন্ন হলে, যা কিছু অবশিষ্ট থাকবে, সে সমস্তই তোমার ভাগ, অতএব, তোমার যজ্ঞভাগ গ্রহণ করে, তুমি বিনষ্ট যজ্ঞ সম্পন্ন করাও”।
শ্রীমৈত্রেয় বললেন, “ব্রহ্মার
অনুনয়ে সন্তুষ্ট ভব হাসিমুখে বললেন, “হে প্রজানাথ, দেবমায়ায় আচ্ছন্ন মূঢ়দের অপরাধ
আমি গণ্য করি না কিংবা চিন্তাও করি না। তাদের শিক্ষার জন্যে আমি শাস্তিবিধান করেছি
মাত্র। প্রজাপতি দক্ষের মাথা হোমকুণ্ডে
দগ্ধ হয়েছে, এখন তাঁর ছাগলের মাথা হবে। ভগ, মিত্র নামক দেবতাদের চোখ দিয়ে নিজের
যজ্ঞভাগ দেখতে পাবেন। পূষা যখন একলা যজ্ঞভাগ ভোগ করবেন, তখন পিষ্টখাদ্য ভোজন
করবেন, আর অন্য দেবতাদের সঙ্গে ভোজনের সময়, যজমানের দাঁতে ভোজন করবেন। যে সব
দেবতারা আমার যজ্ঞের অবশিষ্ট ভাগ নির্ধারণ করলেন, তাঁরা অচিরেই সুস্থতা লাভ করুন।
যাঁদের বাহু ও হাত বিনষ্ট হয়েছে, দুই অশ্বিনীকুমারের বাহু তাঁদের বাহু হয়ে উঠুক,
আর পূষার হাত তাঁদের হাত হয়ে উঠুক। এবং ভৃগুর ছাগলের মতো দাড়ি হবে”।
এরপর দেবতাদের প্রার্থনায় মহাদেব
স্বয়ং ব্রহ্মা ও ঋষিদের সঙ্গে দক্ষের যজ্ঞস্থলে উপস্থিত হলেন। সেখানে ভগবান ভবের নির্দেশ
অনুযায়ী দক্ষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে, তাঁর দেহে ছাগলের মুণ্ড জুড়ে দেওয়া হল এবং
ভগবান রুদ্রের কৃপা দৃষ্টিতে প্রজাপতি প্রাণ ফিরে পেয়ে, যেন সদ্য ঘুম ভেঙে জাগ্রত
হলেন। আগে শিবের প্রতি বিদ্বেষের জন্যে প্রজাপতি দক্ষের চিত্ত মলিন ছিল, এখন
মহাদেবকে দেখে তাঁর অন্তর শরতের সরোবরের মতো নির্মল হয়ে উঠল। তিনি ত্রিলোচন শংকরের
স্তব করতে গিয়েও করতে পারলেন না, কারণ তাঁর মনে পড়ে গেল মৃতা কন্যার কথা। কন্যার
প্রতি মমতায় ও শোকে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল। অনেকক্ষণ পর নিজের মনকে সংযত করে
প্রজাপতি দক্ষ বললেন, “হে ভগবান, দেবসভায় আপনার চরম অপমান করেছিলাম বলেই আপনি
কৃপা করে আমার শাস্তি বিধান করেছিলেন। আমার তত্ত্বজ্ঞানের অভাবের জন্যে, আমি
আপনাকে সভার মধ্যে কুবাক্যে নিন্দা করেছিলাম, সেই কারণে আমার অধঃপতন হয়েছিল। আপনি
সে সব অপরাধ ক্ষমা করে, আপনার দয়ার দৃষ্টিতে আমার প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার এই
উপকারের ঋণ আমার পক্ষে শোধ করা সম্ভব নয়। অতএব আপনি নিজের পরোপকারে নিজেই সন্তুষ্ট
হোন”।
চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন